নবম হিজরিকে বলা হয় প্রতিনিধিদলের বছর। এ বছর আরবের নানা অঞ্চল থেকে দলে দলে মানুষ এসে ইসলাম গ্রহণ করছিলেন। তাঁদের ইসলামের বিধান শেখানোর জন্য রাসুল (সা.) বিভিন্ন সাহাবিকে শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
এই ধারাবাহিকতায় বিশিষ্ট সাহাবি মুয়াজ ইবনে জাবালকেও রাসুল (সা.) ইয়েমেনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নবীজির খুব কাছের একজন সাহাবি। মদিনা থেকে সুদূর ইয়েমেনের পথে তাঁকে বিদায় জানানোর সময় নবীজি এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যেন এ-ই তাঁদের শেষ দেখা। তাঁর এই প্রিয় সাহাবি হয়তো ফিরে এসে আর তাঁকে দেখতে পাবেন না।
সেদিনের দৃশ্যের বর্ণনা আমরা হাদিসের মাধ্যমে জানতে পারি।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) ইয়েমেনের পথে রওনা হচ্ছেন। সওয়ারির ওপর বসে আছেন। আর আল্লাহর রাসুল (সা.) পায়ে হেঁটে তাঁকে কিছুটা পথ এগিয়ে দিচ্ছেন। বিদায়ের মুহূর্তে তিনি বললেন, ‘হে মুয়াজ, হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। হয়তো তুমি আমার এই মসজিদ আর আমার কবরের পাশ দিয়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২০৫২)
আরও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছিল সুরা আন-নাসরে। এই সুরার ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, এটি নবীজির আয়ু শেষ হয়ে আসার সংবাদ; আল্লাহ তাঁকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। ওমরও তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেছেন।
আসলে সাহাবিদের গোটা জীবন গড়ে উঠেছিল ওহির ওপর ভিত্তি করে। সে সময় নবীজির কাছে ওহি আসত। কোরআনের আয়াতের পাশাপাশি তাঁর মুখে তাঁরা শুনতেন ধর্মের শিক্ষা ও নির্দেশনা।
কোনো বিষয়ে সংশয় জাগলে তাঁরা তাঁকেই জিজ্ঞেস করতেন। কখনো তাঁদের প্রশ্নের উত্তর নেমে আসত আসমান থেকে। উত্তরাধিকার কীভাবে ভাগ হবে, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ কীভাবে মিটবে, যুদ্ধের গনিমত কীভাবে বণ্টিত হবে—জীবনের এসব প্রশ্নের সমাধান তাঁরা পেয়েছেন তাঁদের মাঝে থাকা নবির কাছ থেকে
তাঁদের জন্য এ কথা ভাবা কঠিন ছিল যে একদিন এ মানুষটি থাকবেন না। আসমান থেকে তাঁর কাছে ওহি আসার এই ধারাও থেমে যাবে। সেই কষ্টের গভীরতা বোঝা যায় ইন্তেকালের দিনের ঘটনায়। ওমর (রা.) দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেননি।
আবু বকর (রা.) এসে নবীজির চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে চুমু খেলেন। তারপর মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে পাঠ করলেন, ‘মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে বহু রাসুল অতিবাহিত হয়েছেন। যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?’ (সুরা আলে ইমরান: ১৪৪)। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৬৭–৩৬৬৮)
মানুষের যেন মনে হলো, আয়াতটি তাঁরা আগে কখনো শোনেননি। আয়াতটি শুনে ওমর (রা.) স্থির থাকতে পারেন নি, মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। বুঝলেন, নবীজি সত্যিই ইন্তেকাল করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৪৫২–৪৪৫৪)
কোরআনে নবীজির ইন্তেকালের কথা আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৩০)
যিনি আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁকেও একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে। আল্লাহর রাসুল হলেও দুনিয়ার জীবন তাঁর জন্য চিরস্থায়ী নয়।
আরেক আয়াতে এসেছে, ‘আপনার পূর্বে আমি কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দিইনি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৪)
আগের নবীরাও পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। শেষ নবীকেও একদিন চলে যেতে হবে। সাহাবিদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় মানুষটি তাঁদের মাঝে চিরদিন থাকবেন না—এ বিষয়টি কোরআনে আগেই নাজিল হয়েছিল।
আরও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছিল সুরা আন-নাসরে। এই সুরার ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, এটি নবীজির আয়ু শেষ হয়ে আসার সংবাদ; আল্লাহ তাঁকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। ওমরও তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৭০)
বিদায় হজের ময়দানে যখন নাজিল হলো, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম পূর্ণ করে দিলাম।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)
যে ধর্ম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর আগমন, তার পূর্ণতার ঘোষণা এল তাঁর জীবনের শেষ হজে।
জীবনের শেষ দিকে নবীজি (সা.) এক ভাষণে বলেছিলেন, আল্লাহ এক বান্দাকে দুনিয়া আর তাঁর কাছে যা আছে—এই দুইয়ের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন; বান্দা আল্লাহর কাছে যা আছে, সেটিই বেছে নিয়েছেন। উপস্থিত অনেকে বুঝতে পারেননি, কিন্তু আবু বকর (রা.) কেঁদে ফেলেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, সেই বান্দা আর কেউ নন, তাঁদের প্রিয় নবীজি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৫৪)
শেষ রমজানের ঘটনাতেও ছিল বিদায়ের ইঙ্গিত। ফাতিমাকে নবীজি বলেছিলেন, জিবরাইল (আ.) প্রতিবছর একবার আমার সঙ্গে কোরআনে দাওর (পরস্পরকে শোনানো) করতেন, এ বছর দুবার করেছেন। আমি মনে করি, আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬২৩–৩৬২৪)
সেই বছর তিনি ইতিকাফও করেছিলেন দশ দিনের বদলে বিশ দিন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৯৮)
ওহুদের শহীদদের জন্য তিনি এমনভাবে প্রার্থনা করেছিলেন, যেন জীবিত ও মৃত—উভয়ের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০৪২)
আর বিদায় হজের ভাষণে সমবেত সাহাবিদের সামনে তিনি সাক্ষ্য নিয়েছিলেন, ‘আমার সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা তখন কী বলবে?’ সবাই বললেন, ‘আমরা সাক্ষ্য দেব যে আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কল্যাণ কামনা করেছেন।’ তিনি আকাশের দিকে আঙুল তুলে, তারপর মানুষের দিকে নির্দেশ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)
মুয়াজ (রা.) ছিলেন আকাবার বাইআতে অংশ নেওয়া একজন তরুণ আনসারি সাহাবি। বদরসহ বিভিন্ন অভিযানে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। নবীজি (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘হালাল-হারাম সম্পর্কে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী মুয়াজ ইবনে জাবাল।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৭৯১)
একদিন তাঁর হাত ধরে তিনি বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ এরপর প্রতিটি নামাজের শেষে পড়ার জন্য তাঁকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২২)
ইয়েমেনে পাঠানোর সময়ও তাঁকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেখানকার মানুষ ছিল আহলে কিতাব, তাই কীভাবে দাওয়াত দিতে হবে, কীভাবে জাকাত নিতে হবে, সব তাকে বলে দিয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৯৬)
সেদিন এমন একজন প্রিয় মানুষকে বিদায় দিতে গিয়ে নবীজি (সা.) নিজেই তাঁর ইন্তেকালের কথা বলেছিলেন। সাহাবিরা তাঁকে কতটা ভালোবাসতেন, তা তিনি জানতেন। তাঁর অনুপস্থিতি তাঁদের জন্য কত কঠিন হবে, সেদিনের বিদায়ের দৃশ্যেই তার আভাস পাওয়া যায়। তাঁর কথাগুলো যেন সেই কঠিন বিচ্ছেদের জন্য আগাম প্রস্তুতির বার্তা ছিল।
তিনি যখন বলছিলেন হে মুয়াজ, ‘হয়তো এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না’—কথাটি শুনে মুয়াজ (রা.) নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। প্রাণের চেয়ে প্রিয় রাসুলের সঙ্গে আর দেখা হবে না এই ভেবে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। তখন নবীজি (সা.) মদিনার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ তারাই, যারা মুত্তাকি—তারা যে-ই হোক না কেন, আর যেখানেই থাকুক না কেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২০৫২)
এই হাদিসে আমাদের জন্য গভীর একটি শিক্ষা রয়েছে। নবীজির নৈকট্য যদি শুধু ভৌগোলিক দূরত্ব দিয়ে নির্ধারিত হতো, তাহলে মুয়াজের জন্য ইয়েমেনের পথে সেই যাত্রা কঠিন হতো!
তিনি নিশ্চয় চাইতেন আরও কিছুদিন মদিনায় রাসুলের সান্নিধ্যে থেকে যেতে। ঠিক সেই মুহূর্তেই নবীজি তাঁকে জানিয়ে দিলেন, দূরে গেলেই তিনি দূরের হয়ে যাবেন না।
পরে মুয়াজ (রা.) মদিনায় ফিরেছিলেন আবু বকরের খেলাফতকালে। তত দিনে নবীজির ইন্তেকাল হয়ে গেছে। মদিনায় তাঁর মসজিদ ছিল, তাঁর কবর ছিল; তিনি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।
নাজমুস সাকিব : এম ফিল গবেষক, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইংল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই ঘটে গেল অদ্ভুত এক ঘটনা। দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী ভেবে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের থাকার হোটেলের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। পরে জানা যায়, যাদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তারা আসলে পাকিস্তানের কিশোর ক্রিকেটার। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ শহরে। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা তখন শহরের কসামের একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হোটেলের সামনে প্রায় ৩০ জন অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি কোচে একদল তরুণ এশীয় ব্যক্তিকে ওই হোটেলের কাছে দেখা যাওয়ার খবর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিক্ষোভকারীরা সেখানে জড়ো হন। তাদের ধারণা ছিল, ওই ব্যক্তিরা সম্ভবত আশ্রয়প্রার্থী বা অভিবাসী। পরে ঘটনাস্থলে যান অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের একজন কাউন্সিলর। বিষয়টি যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন, হোটেলে থাকা তরুণরা কোনো আশ্রয়প্রার্থী নন; তারা পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের সদস্য। এরপর তিনি বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে চলে যেতে সহায়তা করেন। হ্যাম্পশায়ার পুলিশও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে। তবে পুলিশ সরাসরি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু বলা হয়নি বলে উল্লেখ করেছে। পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোটেলের কাছে একদল মানুষ জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজন একটি কোচকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানায়, তাদের আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। পরে প্রায় ৩০ জনের ওই দলটি অল্প সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে চলে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তীব্র। ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে ছোট নৌকায় করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে, যার কয়েকটিতে সহিংসতাও দেখা গেছে। পোর্টসমাউথেও মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে অভিবাসীদের একটি দল শহরের কাছে পৌঁছানোর পর তাদের নামতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছিল। এর মধ্যেই পাকিস্তানের কিশোর ক্রিকেটারদের আশ্রয়প্রার্থী ভেবে হোটেলের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজমের জাতীয় সংগঠক মাইকেল ব্র্যাডলি ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, শরণার্থী ও অভিবাসীদের ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর প্রবণতা সমাজে কতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ। ব্র্যাডলি বলেন, পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের মতো একটি দলকে শুধুমাত্র তারা অভিবাসী হতে পারে- এমন ধারণা থেকে বিক্ষোভের মুখে পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার আশঙ্কা, এর ফলে যুক্তরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় জনগোষ্ঠীর যে কোনো মানুষই উগ্র ডানপন্থীদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। তার ভাষায়, এই ধরনের পরিস্থিতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত বর্ণবাদী হামলা ও আরও সহিংসতার দিকে যেতে পারে। ঘটনাটির আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো, একই সময়ে পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলও ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে। পাকিস্তানের সিনিয়র দল তখন বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলছিল। অন্যদিকে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ইংল্যান্ড সফরে নিজেদের ক্রিকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। ফলে ক্রিকেটের কারণে ইংল্যান্ডে থাকা পাকিস্তানি তরুণদের এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে শুধু তাদের চেহারা ও পরিচয় নিয়ে তৈরি ভুল ধারণার কারণে। আইএইচএস/
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, এই সংসদে ডিসেন্ট ওয়েজ নেই। গতকাল (বুধবার) সংসদে যে আচরণ লক্ষ করেছি তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রীতি হতে পারে না। তিনি বলেন, আমার বক্তব্য শেষে কেউ পাল্টা বক্তব্য দিতে পারেন। কিন্তু গতকাল সংসদে আমার আশপাশ থেকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। এটা সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আরও পড়ুন রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ রুমিন ফারহানা বলেন, একটা সংসদে সরকারি দল, বিরোধীদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকেন। একেক জনের এক ধরনের মত থাকবে। এই সংসদে যখন আমি একা দাঁড়িয়ে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলেছি তখন আমি জঘন্যভাবে মুখোমুখি হয়েছি। সংসদে শুধু না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিরোধীদল সেজে বসে থাকার কোনো মানে দেখছি না। রুমিন ফারহানা গতকালে বলেছেন, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে।’ এমওএস/এমআইএইচএস/
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট জেতার অন্যতম কারিগর ছিলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬টিসহ ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন। এবার ডারউইনের পারফরম্যান্সের জন্য আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন হাসান। তাঁর সঙ্গে আগস্ট মাসের সেরা হওয়ার দৌড়ে আছেন শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশা ও ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন।গত ১৩ আগস্ট শুরু ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন হাসান। তাঁর এমন আগুন ঝরানো বোলিংয়ের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে পরের টেস্টে এক ইনিংস বোলিং করে অবশ্য উইকেট পাননি হাসান। তবে দুই টেস্টের সিরিজ শেষ করেছেন ১৯.৭৭ গড়ে মোট ৯ উইকেট নিয়ে।আগস্টে দুর্দান্ত খেলেছেন শ্রীলঙ্কার দিনুশাও। গলে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮৪ রান। কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে ছিলেন আরও দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৩ রানে অপরাজিত থেকে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ ড্র করতে সাহায্য করেন।ওদিকে ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন ছিলেন ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতানোর নায়ক। হেডিংলি ও লর্ডস দুই টেস্টেই নেন ৮টি করে মোট ১৬ উইকেট। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে আগস্টে মাত্র ৭.১৮ গড়ে ১৬টি উইকেট নেন রবিনসন।অ্যামিস থেকে হারমান, ওয়ানডে অভিষেকের ২০ সেঞ্চুরিয়ান