জাতীয়

আত্মহত্যা নয়—জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
আত্মহত্যা নয়—জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম
আত্মহত্যা নয়—জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম

সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। নানা বয়সের মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে আত্মহত্যা করেছেন ৭৬ হাজার ৩৬১ জন। অর্থাৎ বছরে গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বে প্রতিবছর আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছেন ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, কিশোর, যুবক-যুবতীরা আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছেন বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি প্রতিবেদনে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর জন্য আত্মহত্যাকে তৃতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আত্মহত্যার মনোতত্ত্বগত দিক নিয়ে কাজ করেছেন সিগমন্ড ফ্রয়েড ও ড. ইগোর গালেনকা। ডেভিড এমিল ডুরখেইম আত্মহত্যার সমাজতাত্ত্বিক দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন।

ফ্রয়েডের মতে, আত্মহত্যা মূলত নিজের ভেতরের অবদমিত ক্ষোভ, আগ্রাসন বা অন্যের প্রতি থাকা তীব্র রাগ নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চরম বহিঃপ্রকাশ। ফ্রয়েড মনে করতেন, কোনো মানুষ সরাসরি নিজেকে শেষ করার মানসিক শক্তি পান না, যদি না এর পেছনে গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব জড়িয়ে থাকে।

আমেরিকান মনোরোগবিশেষজ্ঞ ও মাউন্ট সিনাই সুইসাইড প্রিভেনশন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরিচালক ড. ইগোর গালেনকার মতে, আত্মহত্যা কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে হঠাৎ করে ঘটে না। এটি মূলত একজন মানুষের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক দুর্বলতা ও তীব্র মানসিক সংকটের এক জটিল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ফল। ড. গালেনকা ও তাঁর গবেষক দল দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় গবেষণার পর আত্মহত্যার মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে ‘ন্যারেটিভ-ক্রাইসিস মডেল’ নামে চার ধাপের একটি থিওরি দাঁড় করিয়েছেন। দুনিয়াজুড়ে আত্মহত্যাকেন্দ্রিক আলোচনায় এ থিওরি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই থিওরি অনুযায়ী, আত্মহত্যার কারণগুলো হলো—১। ক্রনিক যার পেছনে রয়েছে মূলত শৈশবের কোনো ট্রমা বা মানসিক আঘাত। ২। তীব্র মানসিক চাপযুক্ত জীবন। ৩) সাব-অ্যাকিউট সুইসাইডাল ন্যারেটিভ—যেখানে ব্যক্তি নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মনে মনে একটি নেতিবাচক গল্প বা ধারণা তৈরি করে।

জীবন রঙিন সুন্দর। তাই সব সময় ইতিবাচক ভাবনা ভাবুন। মডেল: ছবি: অধুনা

ড. গালেনকার মতে, সুইসাইডাল ন্যারেটিভ বা আত্মহত্যার নেতিবাচক মানসিক গল্পটি ব্যক্তির ভেতর তার সত্তা সম্পর্কে অর্থহীন ধারণা তৈরি করে। এই পর্যায়ে ব্যক্তি তার জীবনের কোনো সমাধান খুঁজে পায় না এবং ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত মনে করে। ৪) সুইসাইড ক্রাইসিস সিনড্রোম হলো আত্মহত্যার চূড়ান্ত এবং সবচেয়ে তীব্র ধাপ, যা মানুষকে সরাসরি হননের দিকে ঠেলে দেয়।

এ প্রবণতা কাউকে পেয়ে বসলে মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে অতিরিক্ত উত্তেজনা ও তাৎক্ষণিকতার মধ্যে পড়ে সামাজিকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করতে থাকে এবং নিজেকে শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ড. গালেনকার মনে করেন, আত্মহত্যা একটি চিকিৎসাগত সমস্যা। উপযুক্ত সময়ে সঠিক চিকিৎসা করা গেলে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুরখেইম মনস্তাত্ত্বিক দিকের চেয়ে সামাজিক দিককে আত্মহত্যার অগ্রগণ্য দিক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর সুইসাইড–সম্পর্কিত গবেষণার মূল বিষয় হলো আত্মহত্যা কেবল আবেগ বা মনস্তাত্ত্বিক ডিসঅর্ডারের কারণে ঘটে না বরং এর গভীরে রয়েছে সামাজিক বাস্তবতা। তিনি গবেষণায় দেখিয়েছেন, দুটি সূচক মূলত আত্মহত্যার প্রবণতাকে নির্ধারণ করে—১. সামাজিক সংযুক্তির সংকট (ব্যক্তি কতটা সমাজের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে) এবং ২. নৈতিক নিয়ন্ত্রণ (সমাজ ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ কতটা নিয়ন্ত্রণ করে)।

ফ্রয়েড, গালেনকা ও ডুরখেইমের তত্ত্ব বাংলাদেশ পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে পাঠ করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা লক্ষ করা যাবে। এক. দীর্ঘ অপশাসন নির্যাস যা জাতীয় হতাশা তৈরি করেছে। যেসব দেশে দীর্ঘ অপশাসন, স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিস্ট শাসন চলেছে, সেসব দেশগুলোতে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সম্পর্ক বা বন্ধন শিথিল হয়েছে। অর্থাৎ সামাজিক পরিসর থেকে ব্যক্তি ক্রমেই নিঃসঙ্গ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ব্যক্তি সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারায় তার প্রান্তিকীকরণ চরম মাত্রায় পৌঁছে।

তবে অপশাসনে অভিঘাতে সব ব্যক্তি সমানভাবে প্রান্তিক হয় না। স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিস্ট শাসকেরা দেশব্যাপী তাঁদের শাসনের উপযোগী একটি শ্রেণি তৈরি করেন, যারা সুবিধাভোগী শ্রেণি। ফ্যাসিস্ট শাসকদের ইকো চেম্বারের সঙ্গে তাদের সংযোগ থাকে। তাদের সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর সম্পর্ক ক্লায়েন্ট-প্যাট্রোনের মতো। এটি একটি বিস্তৃত অনুগত জনমানস। তাদের ভেতর হতাশা নেই, আত্মহত্যার প্রবণতাও নেই। বৃহৎ অর্থে তাদের মনস্তত্ত্ব স্বার্থনির্ভর ও কলুষিত মনস্তত্ত্ব।

জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম

একটি ফ্যাসিস্ট শাসনের সঙ্গে সবাই অভিযোজন করতে পারে না। এ কারণে সমাজে সুবিধাভোগী ও অধিকারহীন দুটি শ্রেণি তৈরি হয়। এ অধিকারহীন শ্রেণি হলো হতাশা আর প্রতিরোধের আধার। যতক্ষণ জীবনীশক্তি থাকে, ততক্ষণ তারা প্রতিরোধে থাকে। আর জীবনীশক্তি শেষ হলে হতাশায় নিমজ্জিত হয়।

ডুরখেইম যেটাকে বলেছেন সামাজিক সংযুক্তির সংকট, আজ সে সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ব্যক্তি সামাজিক বলয় থেকে ক্রমেই ছিটকে পড়ে একা হয়ে উঠছে। এ একাকিত্ব তাকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত জীবন ও জীবিকার সংকট ক্রমেই কঠিন পড়ছে। জীবিকার সংকট যেখানে তীব্র, সেখানে জীবনের অস্তিত্ব স্বাভাবিক হতে পারে না। এ পরিস্থিতি আত্মহত্যার উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে।

বর্তমান ঢিলেঢালা শাসন তরুণ বা বয়স্ক কেউ নিতে পারছেন না। তাঁদের সামনে কোনো উন্নত বিকল্পও নেই। আত্মহত্যা কেবল মানসিক, আবেগীয় বা নিছক সামাজিক বিষয় নয়। এর গভীরে রয়েছে রাজনীতি, একে রাজনৈতিক লেন্স দিয়েই দেখতে হবে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় আত্মহত্যা প্রবণতার সঙ্গে বিদ্যমান অপরাজনীতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ, অপরাজনীতি মানেই অপশাসন। অপশাসন মানেই অব্যবস্থাপনা, অন্যায্য, ক্লেদ, ঘৃণা আর হতাশা—যেগুলো হলো আত্মহত্যার দুহিতা।

আত্মহত্যা একধরনের অসুস্থতাজনিত চয়েস। যাঁদের ভেতর এ প্রবণতা দেখা যাবে, তাঁদের প্রতি বাড়তি মনোযোগী হতে হবে। এখানে যেহেতু সেই অর্থে প্রতিষ্ঠান বা কাঠামো দাঁড়ায়নি, তাই প্রতিবেশী, পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুত্বদের এগিয়ে আসতে হবে। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির মনে আশার ছবি টাঙিয়ে দিতে হবে। একগুচ্ছ মানবিক হাত পারে একটি সংকটাপন্ন জীবন রক্ষা করতে। জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম।

আজ নাগরিকদের মধ্যে অধিকারহীনবোধ তীব্র হতাশা তৈরি করছে। বিশেষ সিস্টেম বা অভিভাবকত্ব কোনোটিই এখানে যথাযথভাবে কাজ করছে না। যার কারণে ব্যক্তির ওপর বিশেষ চাপ তৈরি হয়েছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের উৎপাদনব্যবস্থা ও চাকরির ধরনে ব্যাপক পরিবর্তনে এসেছে।

এ পরিবর্তনের সঙ্গে সবাই সমানভাবে খাপ খাওয়াতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে দক্ষতার সংকট, রয়েছে মামা-চাচা বা খালু না থাকার সংকট। সিস্টেম যথাযথভাবে চললে এবং মানুষ ন্যায্য ট্রিটমেন্ট ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা পেলে অবশ্যই তা উপভোগ করবে। জীবন মহামূল্যবান তা ছেড়ে দেওয়ার বা ত্যাগের বিষয় নয়। মনে রাখতে হবে, ব্যক্তি যা সৃষ্টি করে না, তা ছেড়ে দিতে পারে না।

অভিভাবকত্ব প্রসঙ্গ যেটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার পর প্রতিবছর দেখা যায় ফেল করার কারণে বা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে না পারায় কিছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। এত ঠুনকো কারণে আত্মহত্যা মানা যায় না। এখানে শিক্ষার্থীদের ওপর যে বাড়তি চাপ, তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার থেকেই তৈরি করা হয়। একজন শিক্ষার্থীর ফেল বা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে না পারার কারণ কেবল শিক্ষার্থী নয়, এর পেছনে রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সার্বিক সীমাবদ্ধতা।

ডুরখেইম আত্মহত্যার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে যেটা উল্লেখ করেছেন, তা আমাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাজুয্যময়। কথা হলো, সমাজে নৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে।

একটি জাজ মেন্টাল সমাজের ভেতর আমরা প্রবেশ করেছি। পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিচারালয় হয়ে উঠেছে। শুদ্ধ–অশুদ্ধ, সত্য-অসত্য, ঠিক-ভুল এ তীব্র প্রবাহ চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরে। পরিশুদ্ধ কনটেন্টের চেয়ে ক্লেদ বা ঘৃণাঘন কনটেন্টের আধিক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। গালিগালাজ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, হেয়করণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ভার্চ্যুয়াল এসব ক্লেদ ও সহিংসতা ভার্চ্যুয়াল থাকছে না, রিয়েল জগতে নেমে পড়ছে, তৈরি করছে হানাহানি ও সহিংসতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও ভিন্নমতের মানুষদের হেয় বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে উঠছে, যা ব্যক্তির আত্মমর্যাদা সংকটাপন্ন করে তুলছে। ব্যক্তি যখন অনুভব করছে তার মর্যাদা বা ভাবমূর্তি সুরক্ষিত নয়, তখন সে শূন্যতা অনুভব করছে, হননের পথ বেছে নিচ্ছে।

ডুরখেইম তাঁর তত্ত্বে আরও উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তি যখন মনে করে তার স্বাধীনতা অবধারিত বা লিমিটলেস (ভোগের আর কিছু নেই), তখন সেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়; অন্যদিকে, যখন সে আবার মনে করে তার স্বাধীনতা বলে কিছু নেই, তখন সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যক্তির স্বাধীনতার সংকোচন আত্মহত্যার পথ তৈরি করে।

ফ্রয়েড, গালেনকা ও ডুরখেইমের তত্ত্বে আবেগ, মনস্তত্ত্ব ও সামাজিক কারণ তুলে ধরা হলেও যোগাযোগ কলার বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি। আত্মহত্যা হলো যোগাযোগের এক শূন্য পয়েন্ট। জনসমাজ থেকে ক্রমেই সরতে সরতে ব্যক্তির একক হয়ে পড়ার শেষ বিন্দু। মূলত যোগাযোগ শূন্যতা আত্মহত্যার এক বিশেষ পরিস্থিতি।

অন্যদিকে হতাশা, বিক্ষুদ্ধতা, ক্ষোভ, ভয়, আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তা আত্মহত্যার বিশেষ রসায়ন। এ রসায়ন তৈরি হয় অসম ও অস্বাভাবিক যোগাযোগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। যিনি যোগাযোগের স্বাভাবিক প্রবাহের ভেতর থাকেন, তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ হতে পারেন না।

আত্মহত্যা একধরনের অসুস্থতাজনিত চয়েস। যাঁদের ভেতর এ প্রবণতা দেখা যাবে, তাঁদের প্রতি বাড়তি মনোযোগী হতে হবে। এখানে যেহেতু সেই অর্থে প্রতিষ্ঠান বা কাঠামো দাঁড়ায়নি, তাই প্রতিবেশী, পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুত্বদের এগিয়ে আসতে হবে। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির মনে আশার ছবি টাঙিয়ে দিতে হবে। একগুচ্ছ মানবিক হাত পারে একটি সংকটাপন্ন জীবন রক্ষা করতে। জীবন সুন্দর, জীবনের স্বাদ সুন্দরতম।

  • খান মো. রবিউল আলম যোগাযোগ পেশাজীবী ও শিক্ষক

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সারে সর্বনাশ
সারে সর্বনাশ

ধানের চারা মাটিতে বসানোর পর কৃষকের সবচেয়ে বড় ভরসা থাকে আকাশের বৃষ্টি আর মাটির উর্বরতার ওপর। কিন্তু সেই ভরসার সঙ্গে যখন সারের বস্তাটি অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে ওঠে, তখন সংকটটি আর শুধু কৃষকের থাকে না; তা ধীরে ধীরে খাদ্যনিরাপত্তা, বাজার, মূল্যস্ফীতি এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্নে পরিণত হয়। বাংলাদেশের কৃষকের কাছে সার কোনো বিলাসপণ্য নয়। এটি ফসলের প্রাণ। অথচ সেই সার নিয়েই এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে পুরোনো এক দুঃস্বপ্নের কথা মনে পড়ে যায়। সরকার বলছে, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন; এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ হিসাবের খাতায় উদ্বৃত্ত থাকার কথা প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন। কিন্তু কৃষকের প্রশ্ন খুব সরল: যদি সার থাকে, তাহলে সেটি আমার হাতে নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ গুদামে সার থাকা আর কৃষকের জমিতে সময়মতো সার পৌঁছানো এক কথা নয়। রাষ্ট্রের সাফল্য গুদামের হিসাব দিয়ে মাপা যায় না; কৃষকের মাঠে সঠিক সময়ে, নির্ধারিত দামে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণে সার পৌঁছেছে কি না, সেটিই আসল পরীক্ষা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ, বেশি দামে সার কেনা, সড়ক অবরোধ, ডিলারের গুদামে ভাঙচুর কিংবা জোর করে সার নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রামে কৃষকেরা ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে; রাজশাহীতে প্রায় ৩০০ কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। সরকারের বক্তব্য, সংকট মূলত সরবরাহব্যবস্থার কিছু ত্রুটি, কোথাও কোথাও মজুত ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে। কৃষকেরা আবার বলছেন, নির্ধারিত ডিলারের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না; বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় ৫০ কেজির বস্তায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অর্থাৎ সমস্যাটি হয়তো জাতীয় পর্যায়ে মোট সারের পরিমাণের ঘাটতি নয়; বরং কোথায় কত সার আছে, কার কাছে আছে, কখন আছে এবং কোন দামে কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে—সেখানেই বড় প্রশ্ন। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা যখন কৃষকের ক্ষেতে উৎপাদনের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন কাগজের উদ্বৃত্তও মাঠের ঘাটতিতে পরিণত হয়। কৃষি কোনো অপেক্ষার শিল্প নয়। ধানের চারা কৃষকের সঙ্গে আলোচনা করে বেড়ে ওঠে না। নির্দিষ্ট সময়ে সার দিতে হয়, সেচ দিতে হয়, আগাছা দমন করতে হয়। একটি সপ্তাহের বিলম্বও অনেক সময় ফলনের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে কৃষক যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিলারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পান না, তখন তাঁর কাছে ‘দেশে পর্যাপ্ত মজুত আছে’—এই সরকারি বক্তব্যের কোনো বাস্তব অর্থ থাকে না। কৃষককে সার দিতে হবে সময়মতো, ন্যায্যমূল্যে, সম্মানের সঙ্গে। কারণ কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো মানে শুধু একটি বস্তা রাসায়নিক উপকরণ পৌঁছানো নয়; এর অর্থ একটি পরিবারের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা, একটি ফসলকে বাঁচানো, একটি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং শেষ পর্যন্ত একটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা। এখানেই ইতিহাসের সতর্কবার্তাটি মনে রাখা দরকার। বাংলাদেশে সার নিয়ে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট নতুন নয়। ১৯৯৪ সালের শেষ ভাগ থেকে ১৯৯৫ সালের শুরুতে দেশে ভয়াবহ সার-সংকট দেখা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, তখন ইউরিয়ার সরবরাহ ঘাটতির সঙ্গে বিতরণব্যবস্থায় সরকারের ভুল হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে সংকটে ঠেলে দেয়। একই সময়ে বোরো আবাদে চাহিদা বেড়ে যায়। উৎপাদন কমার পাশাপাশি ইউরিয়া রপ্তানিও বেড়েছিল, ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়। পরিণতি হয়েছিল ভয়াবহ। ১৯৯৫ সালের মার্চে সার-সংকট ও উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও সরকারি গুদাম থেকে সার নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কোথাও সড়ক অবরোধ হয়েছে, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। সমকালীন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৮ কৃষক নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অন্য একটি মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চের ঘটনায় পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ১৯ জন নিহত হন। আবার পরবর্তী বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রতিবেদনে ১৭ বা ১৮ কৃষকের মৃত্যুর কথা এসেছে। সংখ্যার এই পার্থক্য ইতিহাসের মূল বেদনাটিকে বদলে দেয় না। সত্য হলো, সার চেয়েছিলেন কৃষক, আর সেই দাবির আন্দোলনে কৃষকের রক্ত ঝরেছিল। একটি রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে লজ্জাজনক দৃশ্য আর কী হতে পারে—যে কৃষক নিজের জমিতে খাদ্য উৎপাদন করবেন, তাঁর হাতে সার তুলে দেওয়ার বদলে তাঁর দিকে বন্দুক তাক করতে হবে? সেই ঘটনার প্রায় তিন দশক পর আজকের বাংলাদেশে একই ইতিহাস যেন অন্য ভাষায় ফিরে আসছে। এখনই পরিস্থিতিকে ১৯৯৫ সালের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। আজ জাতীয় পর্যায়ে সারের মজুত সম্পর্কে সরকার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে, তাতে মোট সরবরাহের ঘাটতির চিত্র নেই। কিন্তু ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, সংকট কেবল উৎপাদনের ঘাটতি থেকে তৈরি হয় না; প্রশাসনিক ব্যর্থতা, ভুল পূর্বাভাস, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ডিলারদের অনিয়ম এবং মজুতদারিও একটি পর্যায়ে গিয়ে সংকটকে বিস্ফোরক করে তুলতে পারে। তাই ‘সার আছে’—এই বক্তব্যের সঙ্গে ‘কৃষক সার পাচ্ছেন কি না’—এই প্রশ্নটিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকের সার পাওয়ার অধিকারকে কেবল বাজারের একটি লেনদেন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার অংশ। একজন কৃষক যদি নির্ধারিত দামে সার না পান এবং বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন, তাহলে তাঁর উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে ধানের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে। খাদ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। অর্থাৎ ডিলারের দোকানের সামনে শুরু হওয়া একটি ছোট সংকট শেষ পর্যন্ত শহরের ভোক্তার রান্নাঘরেও পৌঁছাতে পারে। এখন দরকার অভিযোগের পাল্টাপাল্টি নয়, সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা। প্রতিটি উপজেলায় কত সার বরাদ্দ হয়েছে, কোন ডিলার কত পেয়েছেন, কত বিক্রি করেছেন এবং কত মজুত আছে—এই তথ্য জনসম্মুখে নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় ডিলারভিত্তিক মজুত ও বিক্রির তথ্য কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা কৃষি-কার্ডভিত্তিক সীমিত ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে বিক্রির হিসাবও রাখা সম্ভব। এতে একজন ডিলার একই সার একাধিকবার কাগজে বিক্রি দেখিয়ে বাজারে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে আকস্মিক পরিদর্শন, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে বলেছে, অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিতরণব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ চলছে। কিন্তু ঘোষণা যথেষ্ট নয়; কৃষককে তার ফল দেখতে হবে। আর একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কৃষককে কখনোই সন্দেহের চোখে দেখা যাবে না। কৃষক কেন বেশি সার চাইছেন, তিনি কেন দোকানের সামনে ভিড় করছেন, কেন ক্ষুব্ধ হচ্ছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে তাঁর বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির মধ্যে। কোথাও অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। কিন্তু সার না দিয়ে কৃষককে ‘আতঙ্কিত’ বা ‘মজুতদার’ বলে দায়ী করা সমস্যার সমাধান নয়। একই সঙ্গে কৃষকদেরও আইন হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। কারণ এতে শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলাই বাড়বে এবং প্রকৃত কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কৃষককে সার না দিয়ে, পরে তাঁর ক্ষোভকে অপরাধ হিসেবে দেখলে রাষ্ট্র সমস্যার মূল কারণটি আড়াল করতে পারবে না। সবচেয়ে বড় কথা, সারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উপকরণ বানানো যাবে না। অতীতের ভুলের দায় বর্তমান সরকারের নয়—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়ার দায় বর্তমানের। ১৯৯৫ সালের রক্তাক্ত অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কৃষকের ক্ষোভকে অবহেলা করার মূল্য ভয়াবহ হতে পারে। সেই ইতিহাস কোনো দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সতর্কবার্তা। বাংলাদেশের কৃষক বহুবার এই দেশকে খাদ্যসংকট থেকে টেনে তুলেছেন। বন্যা এসেছে, খরা এসেছে, ঘূর্ণিঝড় এসেছে, মহামারি এসেছে—তবু কৃষক মাঠ ছাড়েননি। সেই কৃষকের হাতে যখন সার নেই, তখন রাষ্ট্রের হাতে শুধু পরিসংখ্যান থাকলে চলবে না। গুদামের হিসাব আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটি দ্রুত কমাতে হবে। সার নিয়ে সংকটকে ছোট করে দেখার সময় নেই। কারণ সারের সংকট শুধু সারের সংকট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের আয়, খাদ্যের দাম, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা। আজ ডিলারের দোকানের সামনে যে উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছে, কাল তা বাজারের চালের বস্তায় প্রতিফলিত হতে পারে। তাই এখনই একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—সার যেন কৃষকের জন্য অভিশাপ না হয়, সার যেন রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ না হয়, সার যেন রাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষকের দূরত্বের প্রতীক না হয়। সবচেয়ে বড় কথা, সার যেন আর কখনো কৃষকের রক্তের কারণ না হয়। ১৯৯৫ সালের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে: খাদ্য উৎপাদনকারী মানুষের দাবির জবাব কি প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও শক্তি প্রয়োগ দিয়ে দেওয়া হবে, নাকি তার আগেই রাষ্ট্র কৃষকের পাশে দাঁড়াবে? উত্তরটি শুধু সরকারের নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কৃষককে সার দিতে হবে সময়মতো, ন্যায্যমূল্যে, সম্মানের সঙ্গে। কারণ কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো মানে শুধু একটি বস্তা রাসায়নিক উপকরণ পৌঁছানো নয়; এর অর্থ একটি পরিবারের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা, একটি ফসলকে বাঁচানো, একটি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং শেষ পর্যন্ত একটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা। সার থাকবে গুদামে নয়, কৃষকের হাতে—এটাই হওয়া উচিত এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com এইচআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সাবাহকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলো ইউনাইটেড

সাবাহকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলো ইউনাইটেড

এআই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে পানি-বিদ্যুৎ অপচয় করছেন না তো?

এআই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে পানি-বিদ্যুৎ অপচয় করছেন না তো?

ফেনীতে মলম পার্টি-ডাকাত চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেফতার

ফেনীতে মলম পার্টি-ডাকাত চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেফতার

৯/১১: এক পরিবর্তিত বিশ্বের আখ্যান
৯/১১: এক পরিবর্তিত বিশ্বের আখ্যান

সময়টা তখন সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট। এর আগমুহূর্ত পর্যন্তও নিউইয়র্ক ছিল আর দশটা দিনের মতোই। কেউ জানতেন না, পরের কয়েক মিনিটেই ইতিহাসের গতিপথ চিরকালের জন্য বদলে যাবে। কেউ কল্পনাও করেননি, এ সকালটাই খোদাই হয়ে যাবে মানুষের স্মৃতিতে একটিমাত্র নাম হয়ে—৯/১১। ২৫ বছর আগে ২০০১ সালের আজকের দিনের সেই ভয়াবহ সকালের রেশ এখনো টাটকা। আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলে ঘটনার আড়ালে চাপাপড়া সত্যিটা নিয়ে। প্রশ্ন একটাই—সেদিন আসলেই কী ঘটেছিল?

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ঢাবিতে শিক্ষক মূল্যায়নে ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ ওয়েবসাইট চালু

ঢাবিতে শিক্ষক মূল্যায়নে ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ ওয়েবসাইট চালু

ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলো ফ্রান্স

ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলো ফ্রান্স

আমরা বৈষম্যের শিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

আমরা বৈষম্যের শিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে ১৫০ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের
ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে ১৫০ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের

নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার পথে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ৬ উইকেটে ১৪৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ভারত। অর্থাৎ জিততে হলে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে করতে হবে ১৫০। টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। শেফালি ভার্মা ছাড়া ভারতের আর কোনো ব্যাটার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াননি। কিন্তু ভুরি ভুরি ফিল্ডিং মিসের সুযোগ নিয়ে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ফেলে ভারত। শেফালি ভার্মা ৪০ বলে ৭ চার আর ৩ ছক্কায় করেন ৬৪ রান। এছাড়া প্রতিকা রাওয়াল ২৪ বলে ২০, রিচা ঘোষ ১৬ বলে ২৪ আর অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর ২৮ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের সুলতানা খাতুন ২টি, মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার এবং রাবেয়া খান নেন ১টি করে উইকেট। এমএমআর

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
মেসি-রোনালদোরা বিনিয়োগ করছেন স্পেনে, যা বললেন লা লিগা সভাপতি

মেসি-রোনালদোরা বিনিয়োগ করছেন স্পেনে, যা বললেন লা লিগা সভাপতি

বোয়ালখালীতে বালু ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

বোয়ালখালীতে বালু ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

রাবিতে যুক্ত হলো ২ আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স

রাবিতে যুক্ত হলো ২ আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স

0 Comments