জাতীয়

সারে সর্বনাশ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সারে সর্বনাশ
সারে সর্বনাশ

ধানের চারা মাটিতে বসানোর পর কৃষকের সবচেয়ে বড় ভরসা থাকে আকাশের বৃষ্টি আর মাটির উর্বরতার ওপর। কিন্তু সেই ভরসার সঙ্গে যখন সারের বস্তাটি অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে ওঠে, তখন সংকটটি আর শুধু কৃষকের থাকে না; তা ধীরে ধীরে খাদ্যনিরাপত্তা, বাজার, মূল্যস্ফীতি এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রশ্নে পরিণত হয়। বাংলাদেশের কৃষকের কাছে সার কোনো বিলাসপণ্য নয়। এটি ফসলের প্রাণ। অথচ সেই সার নিয়েই এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে পুরোনো এক দুঃস্বপ্নের কথা মনে পড়ে যায়।

সরকার বলছে, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের সম্ভাব্য চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন; এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ হিসাবের খাতায় উদ্বৃত্ত থাকার কথা প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন। কিন্তু কৃষকের প্রশ্ন খুব সরল: যদি সার থাকে, তাহলে সেটি আমার হাতে নেই কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ গুদামে সার থাকা আর কৃষকের জমিতে সময়মতো সার পৌঁছানো এক কথা নয়। রাষ্ট্রের সাফল্য গুদামের হিসাব দিয়ে মাপা যায় না; কৃষকের মাঠে সঠিক সময়ে, নির্ধারিত দামে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণে সার পৌঁছেছে কি না, সেটিই আসল পরীক্ষা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ, বেশি দামে সার কেনা, সড়ক অবরোধ, ডিলারের গুদামে ভাঙচুর কিংবা জোর করে সার নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রামে কৃষকেরা ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে; রাজশাহীতে প্রায় ৩০০ কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

সরকারের বক্তব্য, সংকট মূলত সরবরাহব্যবস্থার কিছু ত্রুটি, কোথাও কোথাও মজুত ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে। কৃষকেরা আবার বলছেন, নির্ধারিত ডিলারের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না; বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় ৫০ কেজির বস্তায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অর্থাৎ সমস্যাটি হয়তো জাতীয় পর্যায়ে মোট সারের পরিমাণের ঘাটতি নয়; বরং কোথায় কত সার আছে, কার কাছে আছে, কখন আছে এবং কোন দামে কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে—সেখানেই বড় প্রশ্ন। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা যখন কৃষকের ক্ষেতে উৎপাদনের সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তখন কাগজের উদ্বৃত্তও মাঠের ঘাটতিতে পরিণত হয়।

কৃষি কোনো অপেক্ষার শিল্প নয়। ধানের চারা কৃষকের সঙ্গে আলোচনা করে বেড়ে ওঠে না। নির্দিষ্ট সময়ে সার দিতে হয়, সেচ দিতে হয়, আগাছা দমন করতে হয়। একটি সপ্তাহের বিলম্বও অনেক সময় ফলনের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে কৃষক যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিলারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পান না, তখন তাঁর কাছে ‘দেশে পর্যাপ্ত মজুত আছে’—এই সরকারি বক্তব্যের কোনো বাস্তব অর্থ থাকে না।

কৃষককে সার দিতে হবে সময়মতো, ন্যায্যমূল্যে, সম্মানের সঙ্গে। কারণ কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো মানে শুধু একটি বস্তা রাসায়নিক উপকরণ পৌঁছানো নয়; এর অর্থ একটি পরিবারের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা, একটি ফসলকে বাঁচানো, একটি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং শেষ পর্যন্ত একটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা।

এখানেই ইতিহাসের সতর্কবার্তাটি মনে রাখা দরকার। বাংলাদেশে সার নিয়ে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট নতুন নয়। ১৯৯৪ সালের শেষ ভাগ থেকে ১৯৯৫ সালের শুরুতে দেশে ভয়াবহ সার-সংকট দেখা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, তখন ইউরিয়ার সরবরাহ ঘাটতির সঙ্গে বিতরণব্যবস্থায় সরকারের ভুল হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে সংকটে ঠেলে দেয়। একই সময়ে বোরো আবাদে চাহিদা বেড়ে যায়। উৎপাদন কমার পাশাপাশি ইউরিয়া রপ্তানিও বেড়েছিল, ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়।

পরিণতি হয়েছিল ভয়াবহ। ১৯৯৫ সালের মার্চে সার-সংকট ও উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও সরকারি গুদাম থেকে সার নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কোথাও সড়ক অবরোধ হয়েছে, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। সমকালীন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৮ কৃষক নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অন্য একটি মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চের ঘটনায় পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ১৯ জন নিহত হন। আবার পরবর্তী বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রতিবেদনে ১৭ বা ১৮ কৃষকের মৃত্যুর কথা এসেছে।

সংখ্যার এই পার্থক্য ইতিহাসের মূল বেদনাটিকে বদলে দেয় না। সত্য হলো, সার চেয়েছিলেন কৃষক, আর সেই দাবির আন্দোলনে কৃষকের রক্ত ঝরেছিল। একটি রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে লজ্জাজনক দৃশ্য আর কী হতে পারে—যে কৃষক নিজের জমিতে খাদ্য উৎপাদন করবেন, তাঁর হাতে সার তুলে দেওয়ার বদলে তাঁর দিকে বন্দুক তাক করতে হবে?

সেই ঘটনার প্রায় তিন দশক পর আজকের বাংলাদেশে একই ইতিহাস যেন অন্য ভাষায় ফিরে আসছে। এখনই পরিস্থিতিকে ১৯৯৫ সালের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। আজ জাতীয় পর্যায়ে সারের মজুত সম্পর্কে সরকার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে, তাতে মোট সরবরাহের ঘাটতির চিত্র নেই। কিন্তু ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, সংকট কেবল উৎপাদনের ঘাটতি থেকে তৈরি হয় না; প্রশাসনিক ব্যর্থতা, ভুল পূর্বাভাস, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ডিলারদের অনিয়ম এবং মজুতদারিও একটি পর্যায়ে গিয়ে সংকটকে বিস্ফোরক করে তুলতে পারে। তাই ‘সার আছে’—এই বক্তব্যের সঙ্গে ‘কৃষক সার পাচ্ছেন কি না’—এই প্রশ্নটিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষকের সার পাওয়ার অধিকারকে কেবল বাজারের একটি লেনদেন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার অংশ। একজন কৃষক যদি নির্ধারিত দামে সার না পান এবং বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন, তাহলে তাঁর উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লে ধানের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে। খাদ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। অর্থাৎ ডিলারের দোকানের সামনে শুরু হওয়া একটি ছোট সংকট শেষ পর্যন্ত শহরের ভোক্তার রান্নাঘরেও পৌঁছাতে পারে।

এখন দরকার অভিযোগের পাল্টাপাল্টি নয়, সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা। প্রতিটি উপজেলায় কত সার বরাদ্দ হয়েছে, কোন ডিলার কত পেয়েছেন, কত বিক্রি করেছেন এবং কত মজুত আছে—এই তথ্য জনসম্মুখে নিয়মিত প্রকাশ করা যেতে পারে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় ডিলারভিত্তিক মজুত ও বিক্রির তথ্য কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা কৃষি-কার্ডভিত্তিক সীমিত ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে বিক্রির হিসাবও রাখা সম্ভব। এতে একজন ডিলার একই সার একাধিকবার কাগজে বিক্রি দেখিয়ে বাজারে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ কমবে।

একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে আকস্মিক পরিদর্শন, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে বলেছে, অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিতরণব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ চলছে। কিন্তু ঘোষণা যথেষ্ট নয়; কৃষককে তার ফল দেখতে হবে।

আর একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কৃষককে কখনোই সন্দেহের চোখে দেখা যাবে না। কৃষক কেন বেশি সার চাইছেন, তিনি কেন দোকানের সামনে ভিড় করছেন, কেন ক্ষুব্ধ হচ্ছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে তাঁর বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির মধ্যে। কোথাও অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। কিন্তু সার না দিয়ে কৃষককে ‘আতঙ্কিত’ বা ‘মজুতদার’ বলে দায়ী করা সমস্যার সমাধান নয়।

একই সঙ্গে কৃষকদেরও আইন হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। কারণ এতে শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলাই বাড়বে এবং প্রকৃত কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কৃষককে সার না দিয়ে, পরে তাঁর ক্ষোভকে অপরাধ হিসেবে দেখলে রাষ্ট্র সমস্যার মূল কারণটি আড়াল করতে পারবে না।

সবচেয়ে বড় কথা, সারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উপকরণ বানানো যাবে না। অতীতের ভুলের দায় বর্তমান সরকারের নয়—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়ার দায় বর্তমানের। ১৯৯৫ সালের রক্তাক্ত অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কৃষকের ক্ষোভকে অবহেলা করার মূল্য ভয়াবহ হতে পারে। সেই ইতিহাস কোনো দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সতর্কবার্তা।

বাংলাদেশের কৃষক বহুবার এই দেশকে খাদ্যসংকট থেকে টেনে তুলেছেন। বন্যা এসেছে, খরা এসেছে, ঘূর্ণিঝড় এসেছে, মহামারি এসেছে—তবু কৃষক মাঠ ছাড়েননি। সেই কৃষকের হাতে যখন সার নেই, তখন রাষ্ট্রের হাতে শুধু পরিসংখ্যান থাকলে চলবে না। গুদামের হিসাব আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটি দ্রুত কমাতে হবে।

সার নিয়ে সংকটকে ছোট করে দেখার সময় নেই। কারণ সারের সংকট শুধু সারের সংকট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের আয়, খাদ্যের দাম, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা। আজ ডিলারের দোকানের সামনে যে উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছে, কাল তা বাজারের চালের বস্তায় প্রতিফলিত হতে পারে।

তাই এখনই একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—সার যেন কৃষকের জন্য অভিশাপ না হয়, সার যেন রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ না হয়, সার যেন রাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষকের দূরত্বের প্রতীক না হয়। সবচেয়ে বড় কথা, সার যেন আর কখনো কৃষকের রক্তের কারণ না হয়।

১৯৯৫ সালের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে: খাদ্য উৎপাদনকারী মানুষের দাবির জবাব কি প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও শক্তি প্রয়োগ দিয়ে দেওয়া হবে, নাকি তার আগেই রাষ্ট্র কৃষকের পাশে দাঁড়াবে? উত্তরটি শুধু সরকারের নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

কৃষককে সার দিতে হবে সময়মতো, ন্যায্যমূল্যে, সম্মানের সঙ্গে। কারণ কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো মানে শুধু একটি বস্তা রাসায়নিক উপকরণ পৌঁছানো নয়; এর অর্থ একটি পরিবারের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা, একটি ফসলকে বাঁচানো, একটি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং শেষ পর্যন্ত একটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা। সার থাকবে গুদামে নয়, কৃষকের হাতে—এটাই হওয়া উচিত এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্টডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ
drharun.press@gmail.com

এইচআর/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবক নিহত
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবক নিহত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌদি প্রবাসী হৃদয় (২৭) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরেক মোটরসাইকেল আরোহী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এক্সপ্রেসওয়েতে ঢাকামুখী লেনে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মোটরসাইকেলটি সড়কের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনায় ঘটে। মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল গিয়ে নিহত মোটরসাইকেল চালক হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক আরোহী সাজ্জাদ (২৪)। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। আরও পড়ুন গাজীপুর / অটোরিকশায় চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো ২ জনের নিহত হৃদয় রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চার মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহত ব্যক্তি গতকাল রাতে মাওয়ায় ঘুরতে এসেছিল পরে সকালে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহত মোটরসাইকেল চালকের মরদেহ উদ্ধার করে হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে, পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলটির মাত্রা অতিরিক্ত গতি থাকার কারণে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শুভ ঘোষ/এনএইচআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশ নেবে শাবিপ্রবির ১২ প্রজেক্ট

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশ নেবে শাবিপ্রবির ১২ প্রজেক্ট

সব ইবাদত কি আল্লাহর দরবারে পৌঁছায়? জেনে নিন ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত

সব ইবাদত কি আল্লাহর দরবারে পৌঁছায়? জেনে নিন ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত

পুরোনো মোটরের নতুন ঠিকানা

পুরোনো মোটরের নতুন ঠিকানা

দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেকের জাগরণ
দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেকের জাগরণ

ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। দশকের পর দশক ধরে চলা বিচারহীনতার প্রাচীরে এবার ফাটল ধরেছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে ব্রিটেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্র সচিব এড মিলিব্যান্ডের ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে একটি বাঁকবদল। তিনি ঘোষণা করেছেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হবে এবং ইসরায়েলের পুরো দখলদারিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। এবার ব্রিটেন নিন্দা থেকে পদক্ষেপের দিকে গেল। পার্লামেন্টে মিলিব্যান্ডের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত কঠোর: “So I can announce today that we will introduce an import ban on goods from illegal settlements in the occupied territories,” এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে তিনটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ: ক) অবৈধ বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা: দখলকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। খ) ডাবল লক নীতি: দখলদারিত্বে সহায়তা করে এমন কোনো সামরিক ও যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স না দেওয়া। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষায়, “if you are a British citizen or business, you should not conduct any economic and financial activities in illegal Israeli settlements” গ) দখলদারিত্বের অবৈধতার স্বীকৃতি: ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক আদালতের (ICJ) রায়কে স্বীকৃতি দিয়ে ব্রিটেন প্রথমবারের মতো বলেছে যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কার্যত অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়ারই নামান্তর। ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিশ্ব বিবেক জেগে ওঠে। এই জাগরণকে ভিত্তি করেই ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের একসুরে সোচ্চার থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাঁর মূল্যায়ন। তিনি পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তাকে সরাসরি “ethnic cleansing” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এই পদক্ষেপগুলো “ethnic cleansing in the West Bank”-এর শামিল। তাঁর এই বক্তব্যের সময় পাশে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, যিনি বলেন, ব্রিটেন “continue to act in support of our values”। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে যথার্থই বলেছেন, “আজ ব্রিটেন নিন্দা থেকে পরিণত ফলাফলের দিকে, শব্দ থেকে কাজের দিকে এগোতে শুরু করেছে।” ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি বৈশ্বিক জাগরণের অংশ। ব্রিটেনের সঙ্গে ফ্রান্স ও কানাডা যৌথভাবে এই নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, “UK, France among 12 states backing sanctions on illegal Israeli settlements.” যৌথ বিবৃতিতে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনও একই পথে হাঁটার অঙ্গীকার করেছে। এই দেশগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দখলদারিত্ব ও সহিংসতা আর কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল-জাজিরার বিশ্লেষক যেমন বলেছেন, এটি “strongest condemnation ever issued by the UK government on Israeli occupation”। এই পরিবর্তনকে ব্রিটেনের মানবতাকামী মানুষ প্রথম ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানাবেই। কিন্তু গাজায় প্রতিদিন শিশু, নারী ও নিরীহ মানুষের ওপর যে বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও জাতিগত নিধন চলছে, তা কেবল আংশিক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় থামবে না। তাই বিশ্ব বিবেকের কাছে কয়েকটি আহ্বান করা যায়— ক) পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা: দখলদারদের হাতে অস্ত্র, অর্থায়ন ও কৌশলগত সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। “We believe that violent settler groups should not be profiting from the land that they have seized”—এই নীতিকে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় রূপ দিতে হবে। খ) আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ: জাতিসংঘের প্রস্তাব ও ICJ-এর নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের একযোগে সোচ্চার হতে হবে। অপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দাঁড় করাতে হবে। গ) দ্বিমুখী নীতির অবসান: ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কার্যত অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়ারই নামান্তর। ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিশ্ব বিবেক জেগে ওঠে। এই জাগরণকে ভিত্তি করেই ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের একসুরে সোচ্চার থাকতে হবে। রক্তপাত বন্ধ হোক, জয় হোক সত্য ও মানবতার। লেখক : ব্রিটেনপ্রবাসী কলামিস্ট। এইচআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সোনার গহনার দাম আরও কমলো

সোনার গহনার দাম আরও কমলো

প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী হয়?

প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী হয়?

হারামাইনে আজ যারা জুমার নামাজ পড়াবেন

হারামাইনে আজ যারা জুমার নামাজ পড়াবেন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৬ প্রতিশ্রুতির  ১৩টি বাস্তবায়িত, বিতর্কে নেতারা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৬ প্রতিশ্রুতির ১৩টি বাস্তবায়িত, বিতর্কে নেতারা

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এক বছর পর এসে তা অনেকটাই ম্লান। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেওয়া ইশতেহারের বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। জাকসু নেতাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনের পর দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচিত সদস্যদের এক বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি পাঁচটি পদের মধ্যে দুটি পদে জাতীয় ছাত্রশক্তি, দুটি স্বতন্ত্র এবং সহসভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু জয়ী হন। আওয়ামী লীগের শেষ সময়েও তিনি ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকালে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর জিতু বিএনপিতে যোগ দেন।প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে ডাকসু, নেতারা জড়িয়েছেন বিতর্কেপ্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়নজাকসু নির্বাচনে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ও তিনটি আংশিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়ী হওয়া সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট ৯ দফা ইশতেহার দিয়েছিল। এতে ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্ট ৪৬টি বিষয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে ১৩টি বাস্তবায়িত হয়েছে আর ৩০টি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং দুটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। বাকি একটি প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যবিমা আগেই চালু হয়েছে। যে ৩০টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো মূলত কমিটি গঠন ও কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেটে উত্থাপনের অপেক্ষা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আর কোনো কোনো প্রতিশ্রুতি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রতিবেশগত মহাপরিকল্পনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং জোরদারের প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি।শিবির-সমর্থিত প্যানেলের যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি সেগুলো হলো শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিল গঠন, সম্পূরক বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি, সেশনজট নিরসন ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা সফটওয়্যার সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি। তবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভাষা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মশালা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রতিবেশগত মহাপরিকল্পনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং জোরদারের প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি।জাকসুর নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডাইনিংয়ে ভর্তুকি ও ছাত্রী হলের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়নি। আধুনিক ডিসপেনসারি ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে শুধু কর্মশালা হয়েছে। খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম উন্নয়ন হয়নি। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা খেলার মাঠের কাজ আগেই শুরু হয়েছিল, জাকসু নির্বাচনের পর তা চালু হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ চলছে। গেস্টরুম কালচার বন্ধে জাকসুকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আগেও ছিল। ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স-সেবা চালুর পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্রে ওষুধের আইটেম বেড়েছে। ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন চালু করা হলেও কার্যকর সেবা পান না শিক্ষার্থীরা।এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হয়নি। যৌন নিপীড়ন অভিযোগ সেল আগের মতোই আছে। ডে-কেয়ার, নারী কমন রুম, লিফট চালু হয়নি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল-সুবিধা চালু হয়েছে। বাসের সংখ্যা, ট্রিপ ও রুট বাড়ানো হয়েছে, চালু হয়েছে লাইভ ট্র্যাকিং অ্যাপ। সাইকেল লেন ও সাইকেল স্ট্যান্ড স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। আন্তহল ও আন্তবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রশংসা পেয়েছে।জাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইশতেহারে দেওয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কিছু কাজ হতে বিলম্ব হয়েছে।মাজহারুল ইসলাম, জিএস, জাকসুইশতেহারে দেওয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কিছু কাজ হতে বিলম্ব হয়েছে।রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে একমাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত হন ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। নির্বাচনে তাঁর প্যানেল ১১ দফা ইশতেহার দেয়। প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, তাঁরা নিরপেক্ষ থাকবেন এবং আবাসিক হলগুলোয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করবেন। তবে জেতার পর ভিপি নিজেই কয়েকটি হল সংসদের নেতাকে নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত। আমি কোনো দলের ভিপি নই, আমি শিক্ষার্থীদের ভিপি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরাই বিচার করবেন, আমি তাঁদের আস্থার মর্যাদা রাখতে পেরেছি কি না।’ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে বলা হয়েছিল, তারা মূল দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি করে না। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না। তবে নির্বাচনের জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামকে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিষয়টিকে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সদরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের নির্দলীয় হিসেবে বেশি প্রচারের প্রবণতা দেখেছি। কিন্তু জেতার পর তাঁদের কেউ কেউ দলীয় রাজনৈতিক কাজকর্মে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা।এ বিষয়ে মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে জামায়াত ইসলামীর কোনো কর্মসূচি আমরা করিনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আদর্শিক জায়গা থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, তবে সেটা জাকসুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।’ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে বলা হয়েছিল, তারা মূল দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি করে না। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না। তবে নির্বাচনের জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামকে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।বিতর্কে নেতারাজাকসুর নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে বছরজুড়ে আলোচনায় ছিলেন স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক এবং কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি। মেডিকেলের বিভিন্ন অনিয়ম এবং বটতলাসহ বিভিন্ন খাবারের হোটেলে পচা-বাসি খাবার নিয়ে তাঁদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এ জন্য তাঁরা মাঝেমধ্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন।গত ২২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় একটি দোকানে হালিমে মাছি পাওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানের কর্মচারীর গায়ে হালিমের বাটি ছুড়ে মারেন হোসনে মোবারক। এর প্রতিবাদে ওই দিন কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখা হয়। দোকানদারদের সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়ে হোসনে মোবারকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় মোহাম্মদ আলী চিশতি কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে পাল্টা স্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।গত ৮ এপ্রিল ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে জাকসু। সেমিনার শুরুর আগে ভিপি আব্দুর রশিদ আপত্তি জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেমিনার বন্ধ হয়ে যায়।একটি অডিও কথোপকথনে মনিরকে বলতে শোনা যায়, প্রয়োজন হলে রিকশাচালকেরা যেন বলেন, ‘জিতু ভাই আমাদের নম্বর করে দিছে।’গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের একটি খেলা দেখানোর সময় কথা-কাটাকাটির জেরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসানসহ (কিরণ) কয়েকজনের বিরুদ্ধে।গত ২৩ জুলাই ক্যাম্পাসে অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদনের নামে রিকশাপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে শহীদ সালাম বরকত হলের কর্মচারী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মনিরের পাশাপাশি ভিপি আব্দুর রশিদ এবং ওই হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেনের নাম আলোচনায় আসে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনে মনিরকে বলতে শোনা যায়, প্রয়োজন হলে রিকশাচালকেরা যেন বলেন, ‘জিতু ভাই আমাদের নম্বর করে দিছে।’এদিকে ভিপি আব্দুর রশিদের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি আবাসিক হলে থাকেন—এটা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় গত জুলাই মাসে। এরপর ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলে অবস্থান করতে পারবেন। এতে জাকসুর অন্য সদস্যরা আপত্তি জানান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে অবশ্য সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রশাসন। তারপরও তিনি হলেই থাকছেন।গত ৫ আগস্ট আল-বেরুনী হল থেকে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক এক শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভিপির বিরুদ্ধে। ওই দিন রাতেই হলের ক্যানটিনে তিনি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক সমন্বয়ক মেহরাব সিফাত প্রশ্ন করলে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।গত বছরের ২৭ অক্টোবর ছাত্রলীগ নেতা খন্দকার আল মামুন রেজা পরিচালিত একটি কোচিং প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা এনে লালন সন্ধ্যা আয়োজনের অভিযোগ ওঠে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মহিবুল্লাহ শেখ ওরফে জিসানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও অনুষ্ঠান হয়েছে। গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ছাত্রদলের কিছু নেতার নাম ঘোষণা করা না-করা নিয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে রাতেই ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জিসান।সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম গতবারের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল দীর্ঘ বিরতির পর একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবং দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছিল। এবার সেই নতুনত্ব ও প্রত্যাশার তীব্রতা নেই।আস্থা হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরাজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি। পরের বছরই জাকসু নির্বাচন হয়। তখন থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে নির্বাচন হয়েছে ৯ বার। তারপর দীর্ঘ ৩৩ বছর জাকসু নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় গত বছর দশম জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়।তবে দশম শিক্ষার্থী সংসদের মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচনের জন্য ক্যাম্পাসে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের দাবিতে আগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেভাবে সোচ্চার ছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে আলোচনা করতেন, এবার তা দেখা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল দীর্ঘ বিরতির পর একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবং দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছিল। এবার সেই নতুনত্ব ও প্রত্যাশার তীব্রতা নেই। কারণ, গতবারের নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ম্যাচের পরই ফেনারবাচের কোচের পদত্যাগ

ম্যাচের পরই ফেনারবাচের কোচের পদত্যাগ

বই আছে শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে গারোদের ‘আচিক ভাষা’

বই আছে শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে গারোদের ‘আচিক ভাষা’

তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

তেলের সংকট কাটেনি, বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

0 Comments