জাতীয়

বই আছে শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে গারোদের ‘আচিক ভাষা’

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বই আছে শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে গারোদের ‘আচিক ভাষা’
বই আছে শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে গারোদের ‘আচিক ভাষা’

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের বন ও জনবসতির পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে গারো সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রাও। বন উজাড় করে আনারস-কলা চাষ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নতুন বসতি বাড়ায় ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে গারোদের নিজস্ব ‘আচিক ভাষা’ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। এতে অস্তিত্ব সংকটের দিকে যাচ্ছে তাদের আদি ইতিহাস-ঐতিহ্য।

শিক্ষক সংকটে পাঠদানের সুযোগ কম

সম্প্রতি সরকার গারো আচিক ভাষার বই বিদ্যালয়ে দিলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদানের সুযোগ কম। তাই মায়ের কাছ থেকে শেখা পদ্ধতিই শিশুদের শেখার মাধ্যম। তাদের ভাষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নতুন প্রজন্ম টিকে থাকতে পারবে।

জানা গেছে, জীবন-জীবিকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য গারো সন্তানরা আশপাশের বাঙালিপ্রধান এলাকায় আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে আদিবাসী জনপদেও বাঙালিরা এসে বসতি স্থাপন করায় মূল অধিবাসীরা আজ নিজ ভূমিতেই বিপাকে পড়েছেন।

‘গারোদের ভাষায় পাঠদান করা বেশ কঠিন। ইংরেজি উচ্চারণে পাঠদান করে বোঝানো সাধারণ শিক্ষকদের জন্য মোটেই সহজ নয়।’

আদিবাসী নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, আগের তুলনায় আদিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। মধপুরে গড় অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার আদিবাসীর বসবাস।

নেই ‘আচিক’ ভাষার কোনো লিখিত বর্ণমালা

জানা গেছে, গারোদের ‘আচিক’ ভাষার কোনো লিখিত বর্ণমালা নেই। বহুকাল আগে তিব্বত এলাকা থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করার সময় গারোরা তাদের ভাষার বর্ণমালা হারিয়ে ফেলে। বসতি স্থাপনে এলাকা বাছাইসহ নানা প্রতিকূলতায় ভাষার প্রতি আর যত্নবান হতে পারেননি তারা। ফলে স্থায়ীভাবে ভাষা, ভাষার বর্ণ তারা চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। তাই তখন থেকে তাদের মুখে মুখে নিজেদের ভাষার যেটুকু ব্যবহার ছিল তার ছিটেফোঁটা আচিক (মান্দি ভাষা) রূপে এখনো টিকে আছে মাত্র। ‘কোচ’ ভাষার (বর্মণদের ভাষা) ব্যবহারতো হারিয়েই গেছে।

গারো সম্প্রসায়ের আচিক ভাষা ও মান্দি ভাষা মূলত একই। মান্দি ভাষাকেই আচিক ভাষা ধরে নেওয়া হয়। গারোরা নিজেদেরকে ‘মান্দি’ (যার অর্থ মানুষ) বলে পরিচয় দেন। স্থানীয়ভাবে তাদের ভাষাকে অনেক সময় মান্দি বা মান্দি খুসিক বলা হয়। অন্যদিকে গারো জাতির নাম হচ্ছে আচিক। আচিক শব্দের অর্থ গারো ও পাহাড়।

‘গারো শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে সম্পূর্ণ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয়। কর্মজীবনে এসেও অফিস-আদালতসহ সব সব ক্ষেত্রেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবে পরিবার ও সমাজে আচিক ভাষার চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে।’

বই থাকলেও শিক্ষক নেই

ভাষা আন্দোলনের চেতনায় আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল দর্শনে ২০১০ সালে সরকারের শিক্ষানীতিতে ভাষা রক্ষা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের হাতে তাদের নিজ নিজ ভাষার পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৪ সালে এ নিয়ে কাজ শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রথম পর্যায়ে ২০১৭ সাল থেকে চাকমা, ত্রিপুরা, সাদরি, মারমা ও গারো এই পাঁচটি ভাষার শিশুদের জন্য প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বই ও শিখন সামগ্রী তৈরি করেছে। তবে এতে ভাষা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা কমলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষক সংকট রয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ গারোরা জাগো নিউজকে বলেন, অতীতে এ অঞ্চলের গারো আদিবাসীরা আচিক ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানতেন না বা ব্যবহার করতেন না। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। শহরমুখী এবং চর্চার অভাবে আচিক ভাষার এখন ব্যবহার কম হচ্ছে।

‘গারো সম্প্রদায়ের লোকজন বাঙালিদের কাছাকাছি এসেছে। আমাদের সন্তানদের সঙ্গে তারা খেলাধুলা করছে। আমাদের লেখাপড়াসহ সকল কার্যক্রম বাংলাতেই করতে হয়। অনেকেই নিজেরাই উৎসাহিত হয়ে বাংলা ভাষা কথা বলে। আমাদের ভাষার চর্চার সুযোগও কম।’

গারোরা জাগো নিউজকে বলেন, গারো শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে সম্পূর্ণ বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করতে হয়। কর্মজীবনে এসেও অফিস-আদালতসহ সব সব ক্ষেত্রেই তাদের বাংলা ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের অভাবে পরিবার ও সমাজে আচিক ভাষার চর্চা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিশুরা তাদের মাতৃভাষা ভালোভাবে বলতেই পারে না। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে মা-বাবার মুখে শুনে এই ভাষা কিছুটা বুঝতে শিখলেও তারা নিজেরা আচিক ভাষায় কোনো উত্তর দিতে পারে না। মা-বাবা নিজের ভাষায় ডাকলেও উত্তর আসে বাংলায়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাগো নিউজকে বলেন, গারোদের ভাষায় পাঠদান করা বেশ কঠিন। ইংরেজি উচ্চারণে পাঠদান করে বোঝানো সাধারণ শিক্ষকদের জন্য মোটেই সহজ নয়।

আরও পড়ুন

মুণ্ডা সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র দেখতে ঘুরে আসুন

এদিকে মধুপুরের ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ভুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন ও শোলাকুড়ি, আমলীতলা, ইদিলপুর, বেরিবাইদ, হাগুড়াকুড়ি ও মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে গারো শিক্ষক কর্মরত। মিশনারি স্কুল ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আট শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য এ কয়েকজন শিক্ষক যথেষ্ট নয়। ভাষা রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ সফলে সংশ্লিষ্ট ভাষার এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত শিক্ষকের বিকল্প নেই।

গারো সম্প্রদায়ের লোকজন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দাদু ও দাদিরা যে পোশাক পরতেন, যে পোশাকগুলো এখন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব আদিবাসী ভাষা ধরে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসবাস করায় আমাদের ছেলে মেয়েরা তাদের কাছ থেকে ভাষা শিখে কথা বলে। যার কারণে আমাদের এ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারপরও আমরা আমাদের ভাষা টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছি।

স্থানীয় সুলেখা ম্রং জাগো নিউজকে বলেন, গারো ভাষা বিলুপ্ত হওয়ার মূল কারণ আমাদের শিক্ষা ও চর্চা নেই। ছোট ছোট বাচ্চাদের শেখানো হচ্ছে না। তাদের বাবা-মাও বাংলা ভাষা দিয়ে কথা বলে। ভাষা হারিয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের নিজস্ব অস্তিত্ব সংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে। গারো যারা স্কুলে লেখাপড়া করে তারা বাংলাও ভালো পারে না। এরজন্য বাচ্চারা স্কুলে যেতেও অনীহা প্রকাশ করে এবং স্কুলের ফলাফল ভালো না করলে ঝরে পড়ে।

ভুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মার্জিনা চিসিম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের মাতৃভাষা হচ্ছে গারো আচিক ভাষা। এই ভাষায় পড়াশোনা করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু শিশুরা সেভাবে শিখতে পারছে না। কারণ আমাদের সেরকম শিক্ষক নেই। পাঠ্য বই সেভাবে শেখাতে পারছি না।

আরও পড়ুন

মুণ্ডা সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র দেখতে ঘুরে আসুন

ভুটিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এপ্রিল ম্রি জাগো নিউজকে বলেন, এখন বিভিন্ন কারণে ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। সব সময়ই বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। বাংলা ভাষা দিয়েই পড়াশুনা করতে হচ্ছে। আমাদের ভাষা দিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ কম হচ্ছে। প্রাইমারি স্কুলগুলোতে গারোদের ভাষায় বই থাকলেও সব জায়গায় গারো শিক্ষক নেই। যেসব জায়গায় গারো শিক্ষক রয়েছে, সেসব জায়গায় পড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজেন নকরেক জাগো নিউজকে বলেন, গারো সম্প্রদায়ের লোকজন বাঙালিদের কাছাকাছি এসেছে। আমাদের সন্তানদের সঙ্গে তারা খেলাধুলা করছে। আমাদের লেখাপড়াসহ সকল কার্যক্রম বাংলাতেই করতে হয়। অনেকেই নিজেরাই উৎসাহিত হয়ে বাংলা ভাষা কথা বলে। আমাদের ভাষার চর্চার সুযোগও কম। এছাড়া আমাদের লোকজন জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হওয়ায় বিলুপ্তির পথে এ ভাষা ও সংস্কৃতি।

আরও পড়ুন

বাঁশ-বেতের শিল্পে পাহাড়ের প্রাণ, টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম লাকি চাকমার

তিনি আরও বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই ভাষার কথা বলতেন। তখন থেকেই ভাষার প্রচলন ছিল ব্যাপক। আমাদের প্রত্যেকটি গ্রামে মিশনারি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে গারো শিক্ষক থাকলেও যথাযথভাবে পড়ানোর দিকনির্দেশনা নেই। এই জাতিগোষ্ঠীর ওপর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, গারো কোচসহ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে সরকারের নজর রয়েছে। পিছিয়ে থাকা নারী ও শিক্ষার্থীদের সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও উপবৃত্তিসহ ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিচয় ও অস্তিত্ব। টিকে থাকার লড়াই নয়, সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই টিকে থাকবে তাদের ভাষা শিক্ষা সংস্কৃতি।

এফএ/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে নগদ, থাকছে না বয়সসীমা
ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে নগদ, থাকছে না বয়সসীমা

অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেড ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে নগদ লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম নগদ লিমিটেড বিভাগের নাম বিজনেস সেলস পদের নাম কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ২-৪ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা নির্ধারিত নয় সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন নগদ লিমিটেড। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনপুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ১১২ টাকা১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
এবার কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

এবার কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

৯/১১ পৃথিবীকে কতটা বদলে দিয়েছে

৯/১১ পৃথিবীকে কতটা বদলে দিয়েছে

শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের মৃত্যু, মায়ের কবরে সমাহিত হবেন

শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের মৃত্যু, মায়ের কবরে সমাহিত হবেন

‘অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করবেন না’
‘অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করবেন না’

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮০ তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জোবায়ের মিয়া। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের মন বোঝার উপায়।’ অনুষ্ঠানটি সাক্ষাৎকার আকারে তুলে ধরা হলো। উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।অভিভাবকদের কোন ধরনের ভুল আচরণগুলো সন্তানদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করে?এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জোবায়ের মিয়া বলেন, ‘আমাদের সমাজে সবচেয়ে বড় ভুল হলো সন্তানদের অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা বা ‘গরু-গাধা’ জাতীয় অপমানসূচক শব্দ ব্যবহার করা। সন্তান যখন দেখে ভালো করলেও প্রশংসা মিলছে না, তখন তার ভালো করার আগ্রহ কমে যায়। সন্তানের ছোট ছোট সাফল্যকেও মূল্যায়ন করতে হবে এবং পুরস্কৃত করতে হবে। তা ছাড়া অভিভাবকেরা নিজেরা সারাক্ষণ ডিভাইসে আসক্ত থেকে সন্তানকে রাতে দ্রুত ঘুমাতে বা ডিভাইস ছাড়তে বললে সন্তান কখনোই তা শুনবে না। সুতরাং এই বিষয়গুলোর প্রতি অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এগুলো সন্তানের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।’

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নাটোরে অবৈধভাবে সার মজুত, দুই ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোরে অবৈধভাবে সার মজুত, দুই ব্যবসায়ীকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুরে ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

চাঁদপুরে ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর বাঁধনের আবেগঘন বার্তা

ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর বাঁধনের আবেগঘন বার্তা

নগরে আত্মীয়ের বাসায় দুই শিশু, গ্রামে মায়ের দাফন
নগরে আত্মীয়ের বাসায় দুই শিশু, গ্রামে মায়ের দাফন

ঘরের একটি সোফায় নির্বাক হয়ে বসে রয়েছেন আমীরুল হোসাইন (৩৮)। কিছুক্ষণ পরপর স্বজনেরা এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, দিচ্ছেন সান্ত্বনা। ঘরের ভেতর থেকেও স্বজনদের বিলাপের শব্দ ভেসে আসছে। এর মধ্যেই ডাক আসে—‘জানাজার সময় হয়েছে’। এরপর জানাজা শেষে লাশ দাফনের মাধ্যমে স্ত্রীকে শেষবিদায় জানান আমীরুল। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে দোস্ত মোহাম্মদের বাড়িতে দেখা যায় এই দৃশ্য। এর আগে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই এলাকার বাসিন্দা আমীরুলের স্ত্রী রাশেদা বেগমের (২৯)। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। আমীরুল-রাশেদা দম্পতির দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। দুই সন্তানকে চট্টগ্রাম নগরে এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে স্ত্রীর লাশ দাফনের জন্য সন্দ্বীপ নিয়ে যান আমীরুল।নগরের চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাশেদা বেগম। তিনি সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাশেদার দুই সন্তানের মধ্যে আতেফ আমীরুল বয়স সাড়ে চার বছর। দ্বিতীয় সন্তানের নাম আদিয়ান আমীরুল। এক মাস আগে শিশুটির জন্ম হয়।নগরের চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাশেদা বেগম। তিনি সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাশেদার দুই সন্তানের মধ্যে আতেফ আমীরুল বয়স সাড়ে চার বছর। দ্বিতীয় সন্তানের নাম আদিয়ান আমীরুল। এক মাস আগে শিশুটির জন্ম হয়।স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাশেদা বেগমের ডেঙ্গু শনাক্তের পর গত শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে গুরুতর ডেঙ্গুর কারণে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে স্ত্রী রাশেদা বেগমের (২৯) লাশ নিয়ে সন্দ্বীপের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আমীরুল। বেলা তিনটার দিকে রাশেদার লাশ পৌঁছায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে তখন স্বজন-প্রতিবেশীদের ভিড়। রাশেদার মা-বাবাসহ স্বজনেরাও ছুটে আসেন সেখানে।রাশেদা বেগমসন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পারিবারিক কবরস্থানে রাশেদাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে স্বজনেরা বারবার রাশেদার দুই সন্তানের কথা বলে বিলাপ করছিলেন। বিশেষ করে ছোট সন্তানটি মাকে ছাড়া কীভাবে বেড়ে উঠবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় স্বজনদের।আমীরুল জানান, স্ত্রী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি ও তাঁর মা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠলেও রাশেদার অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। আমীরুল বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের পর শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন রাশেদা। হয়তো তাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা কমে গিয়েছিল তাঁর।’-আমীরুল হোসাইন, রাশেদার স্বামী।ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এমন মৃত্যু আর কারও না হোক। আমার চাওয়া, ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঠেকাতে সরকার যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।রাশেদার স্বজন ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি দুধের বাচ্চা রেখে রাশেদার এমন বিদায় মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাঁর শিশুসন্তান দুটিকে সঙ্গে আনাও সম্ভব হয়নি। তারা এত ছোট যে জানেও না তাদের মা আর বেঁচে নেই।’আমীরুল হোসাইন চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী আলহাজ মোস্তফা হাকিম ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশেদার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।আমীরুল জানান, কর্মসূত্রে তিনি চট্টগ্রাম নগরে থাকেন। তাঁর স্ত্রী চাকরির কারণে বেশির ভাগ সময় সন্দ্বীপে থাকলেও সাপ্তাহিক বন্ধে নগরে আসেন। নগরের দক্ষিণ কাট্টলি সধু চৌধুরী লেনে একটি ভাড়া বাসা রয়েছে তাঁদের। নগরের ওই এলাকাটিতে মশার উপদ্রব বেশি। তাঁর ধারণা, নগরেই রাশেদা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।শোকে ভেঙে পড়া আমীরুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এমন মৃত্যু আর কারও না হোক। আমার চাওয়া, ডেঙ্গুতে মৃত্যু ঠেকাতে সরকার যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’২০২৪ সালে রাশেদা স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ পান। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ‘রাশেদা বেগমের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। একজন সহকর্মীকে এভাবে হারানো বেদনাদায়ক। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’এক স্বজনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন আমীরুল। গতকাল বিকেলেচট্টগ্রামে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫৩ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৪ জন। গত বুধবার নগরের বেসরকারি হাসপাতালে রুজাইনা মাজিদ নামের ৪ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুজাইনা মাজিদ ঢাকার তেজগাঁওয়ের মণিপুরিপাড়ার বাসিন্দা। গত ৬ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু নিয়ে তাকে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার তার মৃত্যু হয়। চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬৮৯ জন।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর মৌসুমে দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হৃদরোগীদের কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?

হৃদরোগীদের কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?

বিগ বাজেটে সাত পর্বের সিনেমা, পোস্টারে শ্রীকৃষ্ণের হাত

বিগ বাজেটে সাত পর্বের সিনেমা, পোস্টারে শ্রীকৃষ্ণের হাত

নারায়ণগঞ্জে ধর্মান্তরিত বিল্লালকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জে ধর্মান্তরিত বিল্লালকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ

0 Comments