জাতীয়

সূর্য হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে পৃথিবীতে জীবন কত দিন টিকবে

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
সূর্য হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে পৃথিবীতে জীবন কত দিন টিকবে
সূর্য হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে পৃথিবীতে জীবন কত দিন টিকবে

সকালের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছ। মিষ্টি রোদ এসে গায়ে পড়ার কথা। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা সকাল আটটা ছুঁলেও চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার! না, কোনো সূর্যগ্রহণ নয়। আকাশে কোনো সূর্যেরই অস্তিত্ব নেই! সৌরজগতের প্রাণভোমরা, আমাদের চিরচেনা সূর্যটা হঠাৎ করেই যেন জাদুর মতো হাওয়া হয়ে গেছে। আলো নেই, উত্তাপ নেই, চারদিকে শুধু ভয়ংকর, হাড়হিম করা নিস্তব্ধতা। এটা কোনো গল্পের প্লট নয়, শুধু কল্পনা। সূর্য হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, তা কল্পনা করলাম মাত্র।

সূর্য ছাড়া আমাদের এই সাধের পৃথিবী ঠিক কতক্ষণ টিকবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি এবং হলিউডের থ্রিলার মুভি যেন এক বিন্দুতে এসে মেলে। কেন বলছি এ কথা?

সূর্য ‘হাওয়া হয়ে যাওয়া’ বলতে দুটি জিনিস বোঝাতে পারে। প্রথমত, কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে যদি সূর্যের পুরো অস্তিত্বই মুছে যায়, তবে ঘটনাটা হবে সবচেয়ে ভয়ংকর। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। আলোর এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মতো। অর্থাৎ সূর্য গায়েব হওয়ার ঠিক আট মিনিট পর আমরা বুঝতে পারব, সর্বনাশ হয়ে গেছে।

সূর্যের বিশাল মহাকর্ষ বলের কারণেই পৃথিবী তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। ভর গায়েব হওয়ার আট মিনিট পর সেই মহাকর্ষের দড়িটা হঠাৎ ছিঁড়ে যাবে। পৃথিবী ঘণ্টায় এক লাখ সাত হাজার কিলোমিটার বেগে সৌরজগতের সীমানার দিকে সোজা ছিটকে বেরিয়ে যাবে! ঠিক যেন গুলতি থেকে ছোড়া পাথর।

ঘণ্টায় ৪৭ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটতে থাকা বিশাল গ্রহ বৃহস্পতিকে হয়তো একসময় আমরা ধরে ফেলব। হয়তো পৃথিবী নামে গ্রহটা দৈত্যাকার বৃহস্পতির আরেকটা নতুন চাঁদ হয়েই ঘুরতে থাকবে! তবে অত দূর যাওয়ার আগেই, গ্রহাণু বলয়ের বিপদের মুখে পড়ার অনেক আগেই পৃথিবীর সব প্রাণ ঠান্ডায় জমে বরফ হয়ে যাবে।

এ ছাড়া আরেকটা সম্ভাবনা আছে। এটি একটু অন্য রকম। ধরো, সূর্যের ভর ঠিকই আছে; কিন্তু হঠাৎ করে এর আলো আর উত্তাপ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল। আট মিনিট পর পৃথিবীর সব উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মজার ব্যাপার হলো, সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু আমরা মারা পড়ব না। কারণ, রাতের অন্ধকারের সঙ্গে আমাদের বেশ ভালোই পরিচয় আছে।

আসল বিপদটা শুরু হবে কয়েক দিন পর। পৃথিবীর পৃষ্ঠ দ্রুত তাপ হারাতে শুরু করবে। এক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীর উপরিভাগের সব পানি জমে বরফ হতে শুরু করবে। গাছপালা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে। শীতে জমতে শুরু করবে ভূপৃষ্ঠের সব প্রাণী। তবে আমরা সহজে হার মানব না।

আসলে মানুষ কিন্তু সহজে হার মানার পাত্র নয়। আমাদের আছে জীবাশ্ম জ্বালানি ও পারমাণবিক শক্তির এক বিশাল ভান্ডার। মহাকাশ থেকে দেখলে হয়তো তখনো পৃথিবীর বড় শহরগুলোকে জ্বলজ্বল করতে দেখা যাবে। আমরা আমাদের ঘরবাড়ি গরম রাখব, বিশাল সব কৃত্রিম গ্রিনহাউস তৈরি করে সেখানে নিজেদের প্রয়োজনীয় খাবার ও গবাদিপশুর জন্য ঘাস জন্মাব।

তবে এই বেঁচে থাকার লড়াইটা কি সবার জন্য হবে? একদমই না। পারমাণবিক শক্তি ও কৃত্রিম আলোয় বেঁচে থাকার এই বিলাসবহুল টিকিট পাবে শুধু বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষেরা। সাধারণ মানুষ, যাদের সেই অর্থ বা ক্ষমতা নেই, তারা এই ভয়ংকর ঠান্ডায় শুধু না খেয়ে এবং বরফে জমে মারা পড়বে।

মানুষ না থাকলে পৃথিবীর চেহারা কেমন হবে? এক বছরের মধ্যে গভীর মহাসাগরগুলো ছাড়া পৃথিবীর সব জলাশয় পুরোপুরি বরফে পরিণত হবে। সব সামুদ্রিক প্রাণী মারা পড়বে।

দুই বছর পর ঘটবে সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা। তাপমাত্রা কমতে কমতে যখন মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামবে, তখন বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন গ্যাস তরল হয়ে বৃষ্টির মতো ঝরতে শুরু করবে! আর মাইনাস ১৮৩ ডিগ্রিতে নামার পর আকাশ থেকে ঝরবে নীল রঙের অক্সিজেনের তুষার! ভূপৃষ্ঠের সব প্রাণ এবং মাটির ব্যাকটেরিয়া তত দিনে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

তবে মহাসাগরগুলোর একদম তলদেশে, যেখানে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ এখনো পৌঁছায়, সেখানকার সেই হাইড্রোথার্মাল ভেন্টগুলোতে বেঁচে থাকবে কিছু টিউবওয়ার্ম বা নল-কৃমি। সেগুলো অবশ্য পৃথিবীর মোট প্রাণের ০.০০১ শতাংশেরও কম। পৃথিবীর উপরিভাগে যখন ধ্বংসলীলা চলছে, এরা হয়তো সে খবর টেরও পাবে না। লাখো বছর ধরে হয়তো এরা দিব্যি বেঁচে থাকবে। তবে পানি বরফ হয়ে যাওয়ার কারণে টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়া করার পিচ্ছিলকারক পদার্থ, মানে লুব্রিকেন্ট আর থাকবে না। ফলে পৃথিবীর প্লেটগুলো আটকে গিয়ে শুরু হবে ভয়ংকর সব ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

ধরো, সূর্য নিভে যাওয়ার এক বছর আগে আমরা একটা সতর্কবার্তা পেলাম। কী করব আমরা তখন? বিজ্ঞানীদের মতে, আমরা হয়তো চরম একটা পাগলামি করে বসব। পৃথিবীর সব বনজঙ্গল, যা এমনিতেই মারা যাবে, সেগুলোতে আমরা আগুন লাগিয়ে দেব। উদ্দেশ্য একটাই—বিশাল এক মেগা-গ্রিনহাউস ইফেক্ট তৈরি করে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে অন্তত শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি ধরে রাখা।

মাটির নিচে হয়তো কোটি মানুষের জন্য বিশাল বাংকার বানানো হবে। কিন্তু এই বাংকারে জায়গা পাওয়া নিয়ে শুরু হবে এক ভয়ংকর বিশ্বযুদ্ধ। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষেরা মরিয়া হয়ে উন্নত দেশগুলোতে আক্রমণ চালাবে। মানুষ প্রকৃতির ছোঁয়া ছাড়া, একনায়কতন্ত্রের কঠিন শাসনে মাটির নিচে থাকতে থাকতে চরম মানসিক অবসাদে ভুগবে।

এরপর আমাদের দরকার হবে একটা আশার আলো। আমরা হয়তো ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করব এক বিশাল মহাকাশযান। ১০০ কোটিরও কম মানুষ এবং পৃথিবীর সব প্রজাতির ডিএনএ নিয়ে সেই মহাকাশযান পাড়ি দেবে অসীম মহাকাশে। গন্তব্য অজানা। হয়তো কয়েক শ প্রজন্ম সেই মহাকাশযানেই জন্মাবে এবং মারা যাবে, শুধু নতুন একটা বাসযোগ্য গ্রহের আশায়।

এ সবই আসলে অলীক কল্পনা। হঠাৎ সূর্যের উধাও হতে বয়েই গেছে!

সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বটগাছ যেভাবে ‘হাঁটে'
বটগাছ যেভাবে ‘হাঁটে'

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হিরনাল এলাকায় একটি বিশাল বটগাছ আছে। প্রায় তিন বিঘা জমিজুড়ে ছড়িয়ে আছে এই গাছ। গাছটা দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন।হিরনালের এই বটগাছটি কয়েক শ বছরের পুরোনো। কারও মতে, বয়স ৩০০ থেকে ৪০০ বছর। আবার কেউ কেউ বলেন, ৫০০ বছরেরও বেশি। তবে গাছটির বয়স নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রবীণদের কথাতেও এর বয়স কয়েক শ বছর বলেই উঠে আসে।গাছটির বিস্তৃত ডালপালা। গাছটি একের পর এক ঝুরি নামিয়ে নিজের পরিধি বাড়িয়েছে। এসব ঝুরি মাটিতে পৌঁছে ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে নতুন কাণ্ডের মতো দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এখানে অনেকগুলো গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। আসলে সবগুলোই একই বটগাছের অংশ।বটগাছ কীভাবে ‘হাঁটে’?বটগাছের এই অদ্ভুত বেড়ে ওঠার পেছনে আছে এর শিকড়। বটগাছের ডালপালা থেকে লম্বা ঝুরি বা বায়বীয় শিকড় নিচের দিকে নামতে থাকে। একসময় সেগুলো মাটিতে পৌঁছায়। মাটিতে পৌঁছানোর পর শিকড় পানি ও পুষ্টি সংগ্রহ করতে থাকে। ধীরে ধীরে শিকড়গুলো মোটা ও শক্ত হয়ে নতুন কাণ্ডের মতো হয়ে যায়। এরপর সেই কাণ্ড থেকেও ডালপালা ছড়িয়ে পড়ে এবং আবার নতুন শিকড় তৈরি হয়।এভাবে একটি বটগাছ ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই বটগাছকে অনেক সময় ‘হাঁটতে থাকা গাছ’ বলা হয়। অবশ্য গাছটি সত্যি সত্যি হাঁটে না। নতুন শিকড় তৈরি করে নিজের বিস্তৃতি বাড়ায়। বহু বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে একটি বটগাছ বিশাল এলাকা দখল করতে পারে। হিরনালের বটগাছও এভাবেই বিশাল আকার ধারণ করেছে বলে ধারণা করা যায়।সূর্য হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে পৃথিবীতে জীবন কত দিন টিকবেভারতের গ্রেট বটকলকাতায় একটি জায়গায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। দূর থেকে দেখলে জায়গাটিকে মনে হয় বিশাল কোনো বন। চারদিকে সবুজ পাতায় ঢাকা ডালপালা। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়, এটি আসলে কোনো বন নয়। এটি একটি মাত্র গাছ!গাছটির নাম ‘গ্রেট বটগাছ’। কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনে থাকা এই গাছটি প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে। গাছটির বয়স ২৫০ বছরের বেশি। এর ডালপালা প্রায় ২৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়েছে।ঢাকার ধামরাইয়ের ষাইট্টা গ্রামে প্রাচীন বটগাছবটগাছের ইতিহাসবটগাছের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বটগাছের একটি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis। বহুকাল ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের ব্যবসায়ীরা এই গাছের ছায়ায় বসে ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই ‘বটগাছ’ নামটির প্রচলন হয়। এখন অবশ্য বটগাছ বলতে ফাইকাস গোত্রের বেশ কয়েকটি প্রজাতিকে বোঝানো হয়।বটগাছের অনেক প্রজাতি আছে। এ ধরনের গাছকে ‘স্ট্র্যাংলার ফিগ’ বা ‘গলা পেঁচিয়ে ধরা ডুমুরগাছ’ও বলা হয়। কারণ, এদের জীবন শুরু হয় অন্য কোনো গাছের ওপর। বীজ অন্য গাছের ডালে বা কাণ্ডে অঙ্কুরিত হওয়ার পর শিকড় মাটিতে নেমে আসে।জায়গা দখলের দিক থেকে বটগাছ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাছগুলোর একটি। তবে পুরো গাছের আয়তন বা ঘনত্বের হিসাবে এটি সবচেয়ে বড় নয়। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিকোয়া ন্যাশনাল পার্কে থাকা ‘জেনারেল শেরম্যান’ নামের একটি জায়ান্ট সিকোয়া গাছ। এর বয়স প্রায় ২ হাজার বছর এবং আয়তন প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ ঘনমিটার।বটগাছের সঙ্গে ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ সালে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ও তাঁর সৈন্যরা ভারতে এসে প্রথম বটগাছ দেখেছিলেন। পরে ব্রিটিশ শাসনামলে এই গাছের ব্যবহার ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহীদের শাস্তি দিতে অনেক সময় বটগাছের ডালকে ফাঁসির মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৮৫০-এর দশকের মধ্যে শত শত মানুষকে বটগাছের ডালে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বটগাছ আবার মানুষের কাছে সম্মানের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং ভারতের জাতীয় গাছের মর্যাদা দেওয়া হয়।কী কাজে লাগেবটগাছ শুধু বিশাল আর সুন্দর বলেই গুরুত্বপূর্ণ না। এর শিকড় মানুষের কাজেও লাগে। ভারতে মেঘালয়ের ছোট ছোট পাহাড়ি নদী পার হওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষ রাবার গাছের (Ficus elastica) ছোট শিকড় একসঙ্গে বুনে সেতু তৈরি করেন। শিকড়গুলো ধীরে ধীরে বড় ও শক্ত হয়ে যায়। এমন জীবন্ত শিকড়ের সেতু ৫০০ বছর বা তারও বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।বটগাছের আরেকটি বিখ্যাত উদাহরণ রয়েছে হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে। ‘লাহাইনা বটগাছ’ নামের এই গাছটি ১৮৭৩ সালে রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে গাছটির উচ্চতা প্রায় ১২ মিটার এবং এর ছায়া ছড়ানো অংশের পরিধি প্রায় ৪০০ মিটার।দক্ষিণ চীন সাগরে মিলল উল্টা সাঁতার কাটা অদ্ভুত মাছআঁকাবাঁকা গ্রামীণ জনপদের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বটগাছ। ছবিটি নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে তোলাবাড়িতে কি বটগাছ লাগানো যায়?বটগাছের এমন বিস্ময়কর রূপ দেখে নিজের বাড়িতেও একটি বটগাছ লাগাতে ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু সাধারণ বাড়ির বাগানে এটি লাগানো বেশ কঠিন। কারণ বটগাছের বেড়ে ওঠার জন্য অনেক জায়গা দরকার। উষ্ণ, ভেজা ও আর্দ্র আবহাওয়াও প্রয়োজন।কিছু প্রজাতির বটগাছ ঘরের ভেতরেও বড় করা যায়। তবে সেখানে পর্যাপ্ত আলো ও নিয়মিত পানি দিতে হয়। তারপরও বন্য পরিবেশে বেড়ে ওঠা বটগাছের মতো সেগুলো দীর্ঘজীবী বা বিশাল আকৃতির হয় না।পারমাণবিক বিপর্যয় হলে কেন সূর্যমুখীর গাছ লাগানো হয়

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
খেলা শেষেই কোচের পদত্যাগ, ক্লাব সভাপতি বললেন, যত দিন আছি তিনিই কোচ

খেলা শেষেই কোচের পদত্যাগ, ক্লাব সভাপতি বললেন, যত দিন আছি তিনিই কোচ

পাজামা পার্টি ফিরিয়ে আনতে পারে আপনার কৈশোরের আনন্দ

পাজামা পার্টি ফিরিয়ে আনতে পারে আপনার কৈশোরের আনন্দ

ছিনতাই!

ছিনতাই!

বন্যার পর নীরব স্কুল, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিশুদের স্মৃতি
বন্যার পর নীরব স্কুল, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিশুদের স্মৃতি

নেপালের নুয়াকোট জেলায় ভয়াবহ বন্যার দুই সপ্তাহ পরও ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে উত্তরগয়া পাবলিক ইংলিশ সেকেন্ডারি স্কুল। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে ক্ষুদ্রঋণ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে ক্ষুদ্রঋণ

সম্পদ পুঞ্জিভূত হওয়া ঠেকাতে ইসলামের রূপরেখা কী

সম্পদ পুঞ্জিভূত হওয়া ঠেকাতে ইসলামের রূপরেখা কী

সারে সর্বনাশ

সারে সর্বনাশ

সাবাহকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলো ইউনাইটেড
সাবাহকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলো ইউনাইটেড

প্রায় তিন বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রথম গোলটি করেছেন মাথেউস কুনহা। বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা ফিরেছে ওল্ড ট্রাফোর্ডে। মাথেউস কুনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও বেঞ্জামিন সেস্কোর গোলে বিরতির আগেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়নস লিগে কোচ হিসেবে এটাই ক্যারিকের প্রথম অভিযান। চলতি মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে খুব একটা সন্তোষজনক ফর্মে না থাকলেও তার দল ইউরোপের মঞ্চে শুরুটা করেছে দুর্দান্তভাবে। ২৭তম মিনিটে কাছ থেকে গোল করেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। আজারবাইজানের সাবাহর বিপক্ষে প্রথমার্ধেই গোলের বন্যা বইয়ে দেয় ইউনাইটেড, শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জেতে ৪-০ গোলে। ২০২৩ সালের পর এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সেবার সাবেক কোচ এরিক টেন হাগের অধীনে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় হয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করে নেয় ইউনাইটেড। কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ফল হিসেবেই স্থায়ীভাবে কোচের দায়িত্ব পান তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ঝড় তোলে ইউনাইটেড। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে ফার্নান্দেজ ও সেস্কোর দুই গোলে জয়ের ভিত শক্ত করে তারা। টিলেমান্সের বাড়ানো বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক ফার্নান্দেজ। এরপর এমবেউমোর পাসে সাবাহ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন সেস্কো। বিরতির পর মাঠে ফিরেই বিপদ ডেকে আনে সাবাহ। ফ্রি-কিক থেকে জিরকজির তৈরি আক্রমণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোলরক্ষক পকাতিলেভের ভুলে বল পেয়ে যান লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। সামনে ফাঁকা জাল পেয়ে কোনো ভুল করেননি আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার, বাড়ান ইউনাইটেডের ব্যবধান। সিটির বিপক্ষে রবিবারের ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে সহজ এক জয়ে নিজেদের প্রস্তুত করে নিলো ক্যারিকের শিষ্যরা। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
এআই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে পানি-বিদ্যুৎ অপচয় করছেন না তো?

এআই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে পানি-বিদ্যুৎ অপচয় করছেন না তো?

ফেনীতে মলম পার্টি-ডাকাত চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেফতার

ফেনীতে মলম পার্টি-ডাকাত চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেফতার

৯/১১: এক পরিবর্তিত বিশ্বের আখ্যান

৯/১১: এক পরিবর্তিত বিশ্বের আখ্যান

0 Comments