জার্মানির এক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে অতি ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর ডয়চল্যান্ড (এএফডি) অল্পের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে এতে স্বস্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাখসেন-আনহাল্ট রাজ্যে তারা এক বিশাল জয় ঝুলিতে পুরেছে।
কয়েক দশক ধরে অতি ডানপন্থীদের এমন ক্রমাগত উত্থান বিষয়টিকে এতটাই স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছে যে বিশাল কোনো জয় ছাড়া এখন আর তা সংবাদের শিরোনামই হয় না। কিন্তু যে দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উগ্র চরমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই দলের ৪৪ শতাংশ ভোট পাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। জার্মানির ক্ষুদ্র এক রাজ্যে হলেও এটি ইউরোপীয় গণতন্ত্রের জন্য এক অশনিসংকেতের দিন।
সাখসেন-আনহাল্টে (এবং সার্বিকভাবে জার্মানি) হয়তো সাময়িকভাবে পরিস্থিতি চরম অবনতির হাত থেকে বেঁচে গেছে; কারণ, এএফডি নাৎসি আমলের পর জার্মানির প্রথম উগ্র ডানপন্থী রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্য সরাসরি পূরণ করতে পারছে না। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনেও যে তাদের ভাগ্যের এমন জোর থাকবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই।
দুই সপ্তাহ পর মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যের নির্বাচন কিংবা আগামী বছর ফ্রান্সের নির্বাচনে পরিস্থিতি কী হবে, তা-ও নিশ্চিত নয়। কোনো দেশই এখন অতি ডানপন্থার চোখরাঙানি থেকে মুক্ত নয়।
আর তার চেয়েও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কোনো উগ্র ডানপন্থী দল বা রাজনৈতিক নেতাই এখন আর রাজনৈতিক সাফল্যের দৌড়ে পিছিয়ে নেই (আমেরিকা যার বড় প্রমাণ)। সুতরাং আমাদের বিশ্লেষণ ও কৌশলগুলো এখন নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে।
সাখসেন-আনহাল্ট তথা পূর্ব জার্মানির এই চিত্র এক চরম বাস্তবতা হলেও এটি পুরো ইউরোপের সাধারণ প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করে। পুরোনো মূলধারার প্রধান দলগুলো ধসে পড়ছে, রাজনীতি খণ্ডিত হয়ে পড়েছে এবং অতি ডানপন্থী দলগুলো দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে।
ফলস্বরূপ জোট সরকার গঠন করা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে; বিশেষ করে যদি অতি ডানপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে হয়। অনেক দেশ, রাজ্য ও শহরেই চরম ডানপন্থীদের আটকাতে সব গণতান্ত্রিক দলকে বাধ্য হয়ে একসঙ্গে সরকার গড়তে হচ্ছে।
এর ফলে তৈরি হচ্ছে অকার্যকর ও অস্থির জোট সরকার, যা জনগণের রাজনৈতিক অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং দিন শেষে উগ্র ডানপন্থীদের সমর্থন বাড়াতে সাহায্য করছে।
গণতান্ত্রিক দলগুলো যদি সরকার পরিচালনায় অনুপ্রেরণাদায়ক কোনো ইশতেহার তৈরি করতে না পারে, তবে উদারপন্থীরা একসময় ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়া বন্ধ করে দেবে। আর তখন অতি ডানপন্থীরা পুরো জনসংখ্যার সংখ্যালঘু অংশ হয়েও ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে।
গত রোববারের এই ফলাফল জার্মানির ‘ব্র্যান্ডমাউয়ার’ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দেবে। এই নীতি অনুযায়ী, মূলধারার দলগুলো এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে যায় না। বলতে গেলে পুরো ইউরোপের মধ্যে জার্মানিই এখন অন্যতম ব্যতিক্রম, যারা অতি ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে এমন রাজনৈতিক বর্জন বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে ইতালি থেকে সুইডেন—ইউরোপের প্রায় সর্বত্রই অতি ডানপন্থী দলগুলোকে স্বাভাবিকীকরণ করা হয়েছে এবং মূলধারার রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়েছে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, ডানপন্থী দলগুলো এই উগ্রপন্থীদের সঙ্গে জোট বাঁধার সময় দাবি করে যে এরা নাকি এখন অনেক ‘নরম’ বা ‘রক্ষণশীল’ হয়েছে। যদিও এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তবু সাধারণ ভোটার, দলীয় কর্মী ও গণমাধ্যমের একাংশের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তবে জার্মানির ক্ষেত্রে এই অজুহাত দাঁড় করানো প্রায় অসম্ভব। ইউরোপের সবচেয়ে চরমপন্থী দলগুলোর অন্যতম এএফডি, আর সাখসেন-আনহাল্টসহ যেসব অঞ্চলে এরা বেশি সফল, সেগুলো এএফডির সবচেয়ে উগ্র শাখা হিসেবে পরিচিত। অবশ্য এতেও কিছু ডানপন্থী রাজনীতিক থেমে থাকছেন না; তাঁরা দাবি করছেন যে বামপন্থীদের চেয়ে এএফডি কম ক্ষতিকর।

এমনকি আশঙ্কা করা হচ্ছে, সাখসেন-আনহাল্টে এএফডিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে কনজারভেটিভ সিডিইউ পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা দল পরিবর্তনও করতে পারেন। রাজনীতির অন্য মেরুতে এএফডিকে নিষিদ্ধ করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। আইনিভাবে এটি সম্ভব হলেও সাখসেন-আনহাল্টের বাইরেও এটি এক বিশাল গণ–অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।
দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিই মূল সমস্যাটিকে খুব সংকীর্ণভাবে দেখে। ব্র্যান্ডমাউয়ার বজায় রাখার পেছনের মূল ধারণাটি হলো—একমাত্র বা মূল সমস্যাটি ব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মূল রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি নিজেই ভেঙে পড়ছে।
এটা সত্য যে এএফডি (এবং সামগ্রিকভাবে অতি ডানপন্থা) উদার গণতন্ত্রের জন্য এক অস্তিত্ব সংকট, কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও সত্যি যে দেশের এক বিশাল ও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী মনে করে, মূলধারার নেতারা আর তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। বহু মানুষ এখনো গণতন্ত্র রক্ষা করতে ভোট দিচ্ছেন ঠিকই, তবে তা কোনো দলের পক্ষে নয়, বরং নির্দিষ্ট একটি দলকে আটকানোর জন্য।
পরিস্থিতি আরও শোচনীয়; কারণ, মূলধারার অধিকাংশ রাজনীতিক মেনে নিয়েছেন যে তাঁরা জনগণের কাছে অজনপ্রিয়। তাই তাঁরা নিজেদের ‘কম ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং অতি ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে মানুষকে ভোট দিতে উৎসাহিত করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত এই কৌশল টেকসই হতে পারে না।
গণতান্ত্রিক দলগুলো যদি সরকার পরিচালনায় অনুপ্রেরণাদায়ক কোনো ইশতেহার তৈরি করতে না পারে, তবে উদারপন্থীরা একসময় ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়া বন্ধ করে দেবে। আর তখন অতি ডানপন্থীরা পুরো জনসংখ্যার সংখ্যালঘু অংশ হয়েও ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে।
এমন ইশতেহার তৈরির জন্য রাজনীতিক, গণমাধ্যম ও ভোটার—সব পক্ষকেই বাস্তবমুখী হতে হবে। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় বড় অতি ডানপন্থী দলের উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে কোনো একক দলের পক্ষে তাদের পছন্দসই নীতি শতভাগ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।
সোশাল ডেমোক্র্যাট, ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট কিংবা গ্রিন পার্টি—কারোরই নিজস্ব একক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
তবে এই মুহূর্তে সেটি মূল চিন্তার বিষয় হওয়াও উচিত নয়। অতি ডানপন্থীরা যখন একা বা জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগতভাবে উদার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে সব গণতান্ত্রিক দল একমত হতে পারে।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিকদের উপলব্ধি করতে হবে যে আজকের মূল লড়াইটি ক্ষমতা বা দলীয় স্বার্থের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। এর জন্য একদিকে যেমন অতি ডানপন্থার বিরুদ্ধে লড়তে হবে, অন্যদিকে তেমনি গণতন্ত্রকে ভেতরে থেকে শক্ত করতে হবে।
এর মানে শুধু বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করা, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা নয়। এর অর্থ হলো উগ্র ডানপন্থীদের ভোট না দেওয়া অধিকাংশ ভোটারের নানা উদ্বেগ ও চাহিদার কথা শোনা।
অর্থাৎ মূলধারার রাজনীতিকদের কেবল অপরাধ ও অভিবাসন নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না; আবাসন সংকট নিরসন, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় সংহতি জোরদার করার মতো বিষয়গুলোতেও নজর দিতে হবে; পাশাপাশি এই মুহূর্তে বা অদূর ভবিষ্যতে নিজের সব দাবি পূরণ হবে না—এ বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে।
অবশ্য অনেক দেশেই সাখসেন-আনহাল্টের মতো অতি ডানপন্থীরা সরকার গঠনের এত কাছাকাছি পৌঁছায়নি। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে ২০২১ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে এএফডির ভোট ছিল ‘মাত্র’ ২০ শতাংশ, যেখানে এখন পুরো ইউরোপে অতি ডানপন্থীদের গড় সমর্থন প্রায় ২৫ শতাংশ।
সহজ কথায়, হাতে আর বেশি সময় নেই। হাঙ্গেরি বা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকালে বোঝা যায়, অতি ডানপন্থীরা একবার ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইটা কত কঠিন ও অসম হয়ে পড়ে।
অতএব গণতান্ত্রিক রাজনীতিকদের উপলব্ধি করতে হবে যে আজকের মূল লড়াইটি ক্ষমতা বা দলীয় স্বার্থের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। এর জন্য একদিকে যেমন অতি ডানপন্থার বিরুদ্ধে লড়তে হবে, অন্যদিকে তেমনি গণতন্ত্রকে ভেতরে থেকে শক্ত করতে হবে।
অতি ডানপন্থীদের নিষিদ্ধ করে কিংবা তাদের স্বাভাবিকীকরণ করে—কোনোভাবেই এই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। ভয় দেখিয়ে বা বিচ্ছিন্ন রেখে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা যায় না।
এর জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক নেতা, সাধারণ নাগরিক এবং সাংবাদিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা; যেখানে সবাইকে প্রদর্শন করতে হবে বাস্তবতা, সংযম ও দৃঢ়তা। আর সেই লড়াইয়ের সঠিক সময় এখনই।
ক্যাস মুডে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না। আর আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না।’ চিরকুটে লেখা এসব কথাই এখন বারবার কাঁদাচ্ছে ১৬ বছরের কিশোর আরিফুল ইসলামের পরিবারকে। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রেজিস্ট্রেশন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর কেটে গেছে ১৫ দিন। কিন্তু এখনো বাড়ি ফেরেনি এই শিক্ষার্থী। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি। আরিফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের গোপালপুর ভাদুটিয়া এলাকার মো. শামসুল হকের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রেজিস্ট্রেশন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় আরিফুল। এরপর আর সে বাড়িতে ফেরেনি। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতে খোঁজ নেন। পরিচিত বিভিন্ন স্থানেও সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না পাওয়ায় ধীরে ধীরে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আরিফুলের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মধ্যে একটি চিরকুট খুঁজে পান পরিবারের সদস্যরা। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না। আর আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না।’ এই চিরকুট পাওয়ার পর পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। কারণ, নিখোঁজ হওয়ার আগে আরিফুলের আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ বা ঝগড়াঝাঁটির কথাও তারা জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ছোটবেলা থেকেই আরিফুল অত্যন্ত মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি তার ব্যবহারও ছিল সবার সঙ্গে ভালো। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দিশেহারা আরিফুলের বাবা মো. শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান পাইনি। আমার ছেলে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, কিছুই জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আরিফুলের নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অবস্থান শনাক্তে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। মো. সজল আলী/এফএ
একটি দৌড় কখনো শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর গল্প নয়; প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজের সীমাকে ছুঁয়ে দেখার সাহস, অর্জনের স্মৃতি আর নতুন মাইলস্টোন তৈরির প্রত্যয়। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাকসু রান ২০২৬: দ্য ফেয়ারওয়েল অ্যান্ড মাইলস্টোনস’। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনের অফিশিয়াল ইভেন্ট পার্টনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা।আগামী ২ অক্টোবর, শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই দৌড়। এতে থাকছে ৫ কিলোমিটার রান ও ১০ কিলোমিটার মিনি ম্যারাথন। ৫ কিলোমিটার দৌড় থেকে শুরু করে ১০ কিলোমিটারের চ্যালেঞ্জ; সব বয়স ও অভিজ্ঞতার দৌড়প্রেমীদের জন্যই থাকছে নিজেদের সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ।জাকসু রানকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভাও যুক্ত হয়েছে আয়োজনটির সঙ্গে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ জীবনযাপন, ক্রীড়াচর্চা ও ইতিবাচক জীবনধারার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য, বন্ধুত্ব ও উদ্যমকে একত্রিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। জাকসুর উদ্যোগের সঙ্গে বন্ধুসভার অংশীদারত্ব তাই একটি ক্রীড়া আয়োজনকে আরও বৃহত্তর সামাজিক ও তারুণ্যনির্ভর উদ্যাপনে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে অফিশিয়াল ইভেন্ট জার্সি, রেস বিব, ফিনিশার মেডেল ও সনদ, কিট ব্যাগসহ সারপ্রাইজ উপহার। দৌড়ের পথে থাকবে একাধিক হাইড্রেশন স্টেশন, চিকিৎসা ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, ট্র্যাকিং সিস্টেম, রেস-পরবর্তী খাবার এবং ওয়াশরুমের সুবিধা। পাশাপাশি থাকছে ইভেন্ট ফটোগ্রাফি ও মিডিয়া কাভারেজ। ঢাকার উত্তরা, গুলশান ও বঙ্গবাজার থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছে শাটল বাস সার্ভিস।সেরা দৌড়বিদদের জন্যও থাকছে বিশেষ স্বীকৃতি। ১০ কিলোমিটার ও ৫ কিলোমিটার বিভাগে পুরুষ ও নারী দৌড়বিদদের মধ্যে সেরা তিনজন পাবেন ক্রেস্ট। তবে ৫ কিলোমিটার বিভাগে নারীদের জন্য প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে।জাকসু রান ২০২৬।দৌড়ের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারীদের বয়স কমপক্ষে ১৫ বছর হতে হবে। ৫ কিলোমিটার রানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৯০ মিনিট এবং ১০ কিলোমিটারের জন্য ১২০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিনিশ করতে না পারলে অফিশিয়াল টাইমিং ও ফিনিশার মেডেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করা হবে। অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নির্ধারিত রুট ও চেকপয়েন্ট অনুসরণ করতে হবে এবং দৌড় শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টার্টিং লাইনে উপস্থিত থাকতে হবে।জাকসু রান ২০২৬-এর নিবন্ধনের শেষ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর। ফলে যাঁরা দৌড়ের মাধ্যমে নিজেদের একটি নতুন মাইলস্টোন তৈরি করতে চান, তাঁদের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণে তারুণ্যের শক্তি, বন্ধুত্ব ও অর্জনের গল্পকে এক সুতোয় বাঁধতেই এই আয়োজন। জাকসুর উদ্যোগ ও জাবি বন্ধুসভার অংশীদারত্বে ‘জাকসু রান ২০২৬’ ক্যাম্পাসে তারুণ্যের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।প্রচার সম্পাদক, জাবি বন্ধুসভা
অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে তিনি। সায়মা ওয়াজেদ গতকাল বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই পদত্যাগপত্র দেখেছে।