রাজশাহীর একটি তিনতলা বাড়ির ছাদ। সেখানে সারি সারি টব, বাহারি ফুল, বনসাই, ক্যাকটাস, অর্কিড, সাকুলেন্ট, অ্যাডেনিয়াম—কী নেই সেখানে! গাছের সংখ্যা এত বেশি যে জায়গা বাঁচাতে বানানো হয়েছে একাধিক স্তরের কাঠামো। ছাদ ছাড়িয়ে এখন বাড়ির সীমানা ছড়িয়ে পড়ছে এই বাগান।
এই বাগানের মালিক শারমিন আক্তার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় বিবিএ ও এমবিএ করেছেন তিনি। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পেশায় ব্যাংকার। দুজনের মিলিত শখ এখন ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। ‘নেসারস টাচ’ নামে তাঁদের গাছের ব্যবসা চলছে। শারমিন জানান, মাসে গড়ে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়। কোনো কোনো মাসে বিক্রি হয় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। তাঁদের বাড়ি রাজশাহী নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায়।
গাছের প্রতি শারমিনের ভালোবাসা শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারেই তাঁর বিয়ে হয়। তখন থাকতেন হলে। হলের বারান্দায় কয়েকটি গাছ রাখতেন। বিভাগ ও হলের আশপাশে থাকা মানিপ্ল্যান্ট কিংবা অন্য গাছের ডাল-চারা এনে লাগাতেন।
প্রথম সন্তান হওয়ার সময় স্বামীর সঙ্গে ভাড়া বাসায় ওঠেন। গাছের সঙ্গে সম্পর্কটা তখন আরও গভীর হয়। এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যাওয়ার সময় কাপড়চোপড়ের সঙ্গে গাছও যেতে থাকে। শারমিন জানালেন, একপর্যায়ে গাছ রাখাকে কেন্দ্র করে ভাড়া বাসায় অশান্তিও হয়েছে। কোনো বাড়ির মালিক বলেছেন, বাসায় থাকা যাবে, কিন্তু ছাদে গাছ রাখা যাবে না।
শারমিন জানালেন, একসময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে গাছের জন্যই নতুন বাসা খোঁজা শুরু করতে হয়। কয়েকটি বাসা দেখেও শেষ পর্যন্ত পছন্দমতো জায়গা মেলেনি। গাছের সংখ্যা তখন এত বেড়ে গিয়েছিল যে সাধারণ ভাড়া বাসার ছাদে সেগুলো রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখনই সিদ্ধান্ত—নিজেদের বাড়ি করতে হবে। আর সেই বাড়ির নকশায় গাছের জায়গা থাকতেই হবে।
২০২১ সালের শেষ দিকে গাছগুলো নতুন বাড়ির ছাদে ওঠানো শুরু হয়। ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁরা নতুন বাড়িতে ওঠেন। তবে বাড়ি পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ছাদে গাছ চলে আসে।
শারমিন জানালেন, স্বামী তাঁকে বাজারের জন্য টাকা দিলে তিনি অনেক সময় তার বড় একটি অংশ গাছ কিনতে খরচ করতেন। গাছ কেনার এই প্রবণতা এমন পর্যায়ে যায় যে বাসা ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার দিনও শারমিন একটি গাছ কিনে বাসায় ফিরেছিলেন। সেটি আবার ছিল স্বামীর অপছন্দের সাকুলেন্ট।
সেদিনের কথা বলতে গিয়ে জাহাঙ্গীর হাসতে হাসতে বলেন, বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে বলেছেন, নতুন বাসা খুঁজতে হবে, অথচ স্ত্রী সেই সময়ও গাছ নিয়ে হাজির।
এই দম্পতি জানালেন, একটি ভাড়া বাসায় প্রায় ৯ বছর থাকার পর বাড়ির মালিক তাঁদের বাসা ছাড়তে বলেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, বাসা ভাড়া দেওয়া হলেও ছাদ ভাড়া দেওয়া হয়নি; সেখানে এত গাছ রাখা যাবে না। এরপর গাছের জন্য নতুন বাসা খোঁজা শুরু হয়। একটি বাসা পছন্দ হলেও প্রায় ১০০টি গোলাপের টব রাখা হবে শুনে বাড়ির মালিক ভাড়া দেননি।
তত দিনে শারমিনের গাছের সংখ্যা এত বেড়েছে যে সাধারণ বাসার ছাদে সেগুলো রাখা সম্ভব নয়। গাছগুলো কোথায় যাবে, এ নিয়ে পরিবারকে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের বাড়ি করার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়। বাড়ির কাজ চলার সময় অগ্রাধিকার পায় ছাদ। শারমিন বলেন, দ্রুত ছাদ ঢালাই করে গাছগুলো সেখানে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। বাড়ি পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ছাদে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গাছগুলো একে একে সেখানে তোলা হয়। জায়গা কমে গেলে গাছ রাখার জন্য তৈরি হয় কাঠামো। একটির ওপর আরেকটি স্তর তৈরি করে জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়। এখন তিনতলা বাড়ির ছাদজুড়ে সেই বাগান।
শারমিন বলেন, ‘আমরা গাছের জন্যই বাড়ি করেছি। ভাড়া বাড়িতে কত কষ্ট করেছি। কত কটু কথা শুনতে হয়েছে। হয়তো গাছের জন্যই বাড়ি করার সাহস দেখেছিলাম। আর বাড়ি করার আগে থেকেই ভাবছিলাম, গাছগুলো কোথায় রাখব।’
বাগানটিতে গাছের বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। অ্যাডেনিয়ামের ২০০-এর বেশি ভ্যারাইটি, অ্যাগলোনিমার ৬০-এর বেশি, অর্কিডের ৬৫-এর বেশি, সাকুলেন্টের প্রায় ১০০, স্নেক প্ল্যান্টের ১০০-এর বেশি এবং ক্যাকটাসের ৫০-এর বেশি ভ্যারাইটি রয়েছে বলে জানান এই দম্পতি।
এ ছাড়া আছে বিভিন্ন ধরনের বনসাই, মনস্টেরা, জিজি প্ল্যান্ট, জেড প্ল্যান্ট, ক্যালাথিয়া, সিঙ্গোনিয়াম, পিস লিলি, পাথোস, অ্যান্থুরিয়াম, ফিটোনিয়া, হাওয়ারথিয়া, ইউফরবিয়া, বাগানবিলাসসহ নানা ধরনের ফুল ও পাতাবাহার গাছ।
ফল ও সবজির গাছও আছে এই দম্পতির ছাদে। আনার, আম, সফেদা, থাই সফেদা, পেয়ারা, ম্যান্ডারিন, অ্যাভোকাডো, অ্যাপ্রিকট, আপেল, আঙুর, পেঁপে, কলা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন গাছ রয়েছে।
বাগানে শুধু সৌন্দর্যের জন্য গাছ নয়, পরিবারের খাবারের জন্যও সবজি উৎপাদন করা হয়। শারমিন বলেন, এসব সবজিতে তাঁরা কীটনাশক ব্যবহার করেন না।
বাগানের সব গাছের দাম এক নয়। কোনো চারা পাওয়া যায় ২০০-৩০০ টাকায়, আবার কোনো গাছের দাম প্রায় লাখ টাকা পর্যন্ত। শারমিন জানান, অ্যাডেনিয়ামের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাঁর বাগানের একটি ক্যাকটাস ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। কিছু বড় ও বিরল গাছের দাম কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা।
বাগানের কিছু গাছ আবার ১৭ বছর ধরে তাঁদের কাছে রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী ক্যাকটাসও আছে। সবচেয়ে দামি গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল অ্যাডেনিয়াম।
শারমিনের এই বাগানের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি এসেছে জাতীয় পর্যায়ে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এ ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদবাগান’ ক্যাটাগরিতে সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পুরস্কার নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। শারমিনের কাছে এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, বহু বছরের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
শারমিন জানালেন, গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ে তাঁর পরামর্শ নিতে আসেন অনেকেই। কারও গাছের পাতা কুঁকড়ে গেলে, পাতা হলুদ হয়ে গেলে, ফল ঝরে পড়লে কিংবা গাছের পরিচর্যায় সমস্যা হলে তাঁকে ছবি পাঠানো হয়।
শারমিন জানালেন, অনেকে মজা করে তাঁকে ‘গাছের ডাক্তার’ বলে ডাকেন। নামটি দিয়েছেন তাঁর নানিশাশুড়ি। পরিচিতদের মধ্যেও নামটি এখন বেশ জনপ্রিয়। তাঁর ভাষ্য, ছবি দেখেই অনেক সময় পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজন হলে নিজেও গিয়ে গাছ দেখে আসেন।
এই পথচলায় স্বামীর সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন শারমিন। গাছ কেনা, পরিচর্যার লোক ঠিক করা, কাঠামো তৈরি থেকে গাছ সরানো—সবকিছুতেই পাশে থাকেন জাহাঙ্গীর।
আগস্টে প্রায় তিন লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে শারমিনের। গড়ে মাসে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়।
শারমিন বলেন, ‘গাছের প্রতি আমার এই ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি আমার স্বামীর কাছ থেকে। তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে সব সময় পাশে থেকেছেন। তাঁর সহযোগিতা না থাকলে এত বড় বাগান করা সম্ভব হতো না।’
জাহাঙ্গীরও এখন গাছের নাম মনে রাখেন, বনসাই তৈরি করেন। সন্তানদের মধ্যেও গাছের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজ ছেলে বৃত্তির টাকা দিয়ে মাকে গাছ কিনে দিয়েছে।
গাছের শখ এখন শারমিনদের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ‘নেসারস টাচ’ নামে তাঁদের ফেসবুক পেজ আছে। অফলাইন–অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। শারমিন জানান, গত মাসে প্রায় তিন লাখ টাকার গাছ বিক্রি হয়েছে। মাসভেদে বিক্রি কমবেশি হয়। গড়ে মাসে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়।
বাগানের পরিচর্যার বিভিন্ন সময়ে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ যুক্ত থাকেন। কেউ কমিশনভিত্তিতে গাছ বিক্রি করেন। দুজনকে নিয়মিত বেতন দিতে হয়। তাঁদের একজনকে ১২ হাজার এবং অন্যজনকে ১৮ হাজার টাকা।
তবে শারমিন ও তাঁর স্বামী নিজেদের শ্রমের কোনো মূল্য হিসাব করেন না। শারমিনের ভাষায়, ‘আমাদের শ্রমটা ফ্রি। কিন্তু এই বাগান থেকে যে মানসিক শান্তি পাই, সেটার দাম তো হিসাব করা যায় না।’
ছাদবাগানেই থেমে থাকতে চান না শারমিন। এখন বাগানকে আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে তাঁর। বাড়ির সীমানার জায়গাও ফাঁকা রাখেননি তাঁরা। সেখানে লাউ, কলা, পেঁপে, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। সামনে শীতের সবজির চাষও করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে রাস্তার পাশে একটি বিক্রয়কেন্দ্র করার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে সাধারণ গাছের পাশাপাশি টব, সার ও অন্যান্য বাগানসংশ্লিষ্ট উপকরণ পাওয়া যাবে। শারমিনের লক্ষ্য, ক্রেতারা যেন শুধু একটি গাছ কিনতে না এসে গাছের পরিচর্যা সম্পর্কেও ধারণা পান।
শারমিনের স্বপ্ন এখন আরও বড়—ছাদবাগানকে একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সারি ও প্ল্যান্ট সেন্টারে রূপ দেওয়া।
গাছের জন্য একসময় এক বাসা থেকে আরেক বাসায় ছুটতে হয়েছিল শারমিনকে। গাছের জন্যই শেষ পর্যন্ত বানিয়েছেন তিনতলা বাড়ি। সেই ছাদের বাগানই এখন তাঁর পরিচয়, শখ ও আয়ের উৎস। শারমিনের কথা, গাছের প্রতি যে ভালোবাসা একসময় পরিবারের কাছে ছিল বিরক্তির কারণ। সেটিই এখন তাঁদের পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, তিনি যেন আরও অনেকের মধ্যে গাছের প্রতি এই ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মুক্তির দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ইতিহাস গড়ল ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দ্য ওডিসি’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ৫৭ দিনেই সিনেমাটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ১১৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের রেকর্ড গড়েছে। আরও পড়ুন হঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া ইউনিভার্সাল পিকচার্সের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৫৭ দিন শেষে বিশ্বজুড়ে ‘দ্য ওডিসি’র মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে এসেছে ৬০ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ইউনিভার্সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর ১৬৭ কোটি ডলারের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘দ্য ওডিসি’। গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে নোলানের এই ছবি। শুধু ইউনিভার্সালের ইতিহাসেই নয়, আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে ‘দ্য ওডিসি’। ২০০৯ সালের পর কোনো সিকুয়েল বা পুনর্নির্মাণ নয় এমন সিনেমা হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করা প্রথম চলচ্চিত্র এটি। পাশাপাশি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত শ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা এবং আইম্যাক্স প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের রেকর্ডও গড়েছে এটি। ‘দ্য ওডিসি’ নোলানের ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে সফল সিনেমা। এর আগে তার সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা ছিল ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’, যা বিশ্বজুড়ে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ছেড়ে ইউনিভার্সাল পিকচার্সে যোগ দেওয়ার পর নোলানের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় সাফল্য। এর আগে ২০২৩ সালে একই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘ওপেনহাইমার’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেছিল এবং সাতটি বিভাগে অস্কার জিতেছিল। আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে ‘দ্য ওডিসি’র অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভর করে ২০২৬ সালে বক্স অফিসে চারশ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকটি সিনেমা সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অ্যানিমেশনভিত্তিক ‘দ্য সুপার মারিও ব্রাদার্স মুভি ২’ এবং ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টারস’। এলআইএ
ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, ক্রীড়ার উন্নয়নে তার কাছে ‘না’ বলে কোনো শব্দ নেই। এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) প্রয়োজনীয় অর্থ পর্যায়ক্রমে ছাড় এবং তাদের সব বিল পরিশোধ করা হবে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসব-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল হক বলেন, এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের জন্য এরইমধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এশিয়ান গেমস থেকে ফিরে বিল জমা দিলে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী তাদের সব বিল পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের একটি পলিসি। সেই পলিসির মধ্য থেকেই আমাদের সব কার্যক্রম করতে হয়। তাই এ ধরনের বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রীড়ার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, সবগুলোই ইনশাল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে করা হবে। ক্রীড়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই হয়তো এসব বিষয় নিয়ে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করেন বা বিভ্রান্তি তৈরি করেন। তবে যেকোনো সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি। আমিনুল হক বলেন, যেখানে আমি বসে আছি, আপনারা যেকোনো বিষয় আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবেই চেষ্টা করি সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে। আর আমার কাছে স্পোর্টসের উন্নয়নের জন্য কোনো ‘না’ বলে কোনো শব্দ নেই। ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্যও সরকারের সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদ ও ফেডারেশনগুলোর জন্য সরকার যে ‘সিড মানি’ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে, সেখান থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকেও সহযোগিতা করার চিন্তা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা বছরব্যাপী বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করেন উল্লেখ করে তাদের জন্য সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ক্রীড়া সাংবাদিকদের বসার জায়গার বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেডারেশনগুলোকে ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামমুখী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিভিন্ন স্টেডিয়ামে তাদের প্রয়োজনীয় কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়া সাংবাদিকদের যেখানে কক্ষ রয়েছে, সেখানে আরও কোথাও কক্ষের প্রয়োজন হলে তাকে জানালে সর্বোচ্চভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন। ক্রীড়াঙ্গনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, সরকার একা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন করতে চায় না। বিভিন্ন ফেডারেশনে করপোরেট হাউসগুলোর ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্রীড়ার উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা স্পোর্টসের জন্য কাজ করুক, তারা স্পোর্টসে ইনভেস্ট করুক। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার, সেটাও আমরা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ জাবেরের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ফেডারেশনে করপোরেট হাউসের কর্ণধারদের সম্পৃক্ত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই ক্রীড়াঙ্গনকে ভালোবাসেন এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্রীড়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়বে। এমএএস/এসএনআর
‘সবকিছুই সম্ভব’—স্পষ্ট কণ্ঠে ঘোষণা করেছে অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষের রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার পর উগ্র ডানপন্থী এই দলটি কেবল জার্মানি নয়, পুরো অঞ্চলে জোর কম্পন সৃষ্টি করেছে।বিগত দশকজুড়ে দাপট দেখানো অন্যান্য জনতুষ্টিবাদী আন্দোলনের মতোই এএফডিও তাদের আসল রূপ লুকিয়ে রাখার কোনো চেষ্টা করেনি। স্যাক্সনি-আনহাল্টে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই এএফডি ২৫৮ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার প্রকাশ করে, যার মূল স্লোগান ছিল: ‘সবার আগে দেশ’। এই ইশতেহারে প্রাকৃতিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিসহ বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বিশেষত যাদের দেখতে বা শুনতে ঠিক ‘জার্মানদের মতো’ মনে হয় না।ইশতেহারটিতে স্কুলের ইতিহাস পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ‘হিটলারের পাঠ কমিয়ে বিসমার্কের ইতিহাস বেশি পড়ানো হয়’। এর মূল উদ্দেশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জার্মানির নাৎসিবাদ ও হলোকস্ট স্মরণের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তাকে ছোট করে সাম্রাজ্যবাদী অর্জন ও জাতীয় শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।জার্মানি কেন ‘আরেকটি ইসরায়েল’ হয়ে উঠছেএএফডির এই ইশতেহারে ‘স্বাভাবিক’ বা প্রথাগত বিষমকামী পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এলজিবিটিকিউ পরিবারসহ তাদের চোখে ‘পথভ্রষ্ট’ গোষ্ঠীগুলোর আইনি স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।দলটি ইউক্রেনে জার্মানির সামরিক সহায়তার কঠোর বিরোধিতা করে এবং দাবি করে যে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলেই কেবল জার্মানদের জন্য সস্তা জ্বালানি ও পণ্যের কম দাম নিশ্চিত করা সম্ভব।উগ্র ডানপন্থী এই দলটির ইশতেহার পুরোটা পড়ার মতো। কোনো সন্দেহ নেই যে স্যাক্সনি-আনহাল্ট এবং পাশের একটি রাজ্যে এএফডির শাখাগুলোকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা কেন ‘ডানপন্থী চরমপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে এটি স্বীকার করতেই হবে যে জার্মানির এক বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে এই চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গিই বেশ প্রলুব্ধকর মনে হচ্ছে।নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে এএফডির বিলবোর্ড এএফডির প্রলোভনময় প্রতিশ্রুতিবার্লিনের একের পর এক জোট সরকারের নীতি ছিল আমলাতান্ত্রিক ও ধীরগতির—যেখানে কঠিন বাস্তবতার মুখে অগ্রগতি হতো অত্যন্ত ধীরগতিতে, যদি আদৌ কোনো অগ্রগতি হতো। এর বিপরীতে এএফডির এই চোখধাঁধানো ও সরলীকৃত প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের সহজে আকৃষ্ট করছে।বাজেটঘাটতি মেটাতে কাটছাঁট, চীনের তীব্র প্রতিযোগিতায় চাকরি হারানো, আর নতুন করে অস্ত্রসজ্জায় শতকোটি ইউরো খরচ করা দলগুলোকে কেন ভোট দেবে মানুষ— যখন তারা নিশ্চিন্তে অতীত জীবনের সেই নিরাপদ সময়েই ফিরে যেতে পারছে?মূলধারার সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষেরই ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়েছে এএফডি। এমনকি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) প্রায় ৮২ হাজার ভোটারকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে তারা।তবে ৬ সেপ্টেম্বরের স্যাক্সনি-আনহাল্ট নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল হলো এএফডি এমন সব মানুষকে ভোটের মাঠে ফিরিয়ে এনেছে, যারা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এলাকার মোট ভোটারের প্রায় ১০ ভাগের ১ ভাগ—প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নিষ্ক্রিয় মানুষকে তারা আবার ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড় করিয়েছে।জার্মান রাজনীতিতে এখন যা ঘটছে তার কিছুটা কেবল এই দেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত—বিশেষ করে ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির একত্রকরণের পর থেকে পূর্ব জার্মানির মানুষের মনে নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে, তা অনস্বীকার্য।এরা মূলত সেই শ্রেণির মানুষ, যারা রাজনীতির ওপর থেকে আশা ছেড়ে দিয়ে এত দিন এক সমান্তরাল জগতে বাস করছিল। এই ভোটারদের অনেকেই জার্মানির নাৎসি অতীতকে ‘বড় করে দেখানো হয়েছে’ বলে মনে করে এবং অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টানতে নারাজ।উপরন্তু, তারা মধ্যপন্থী রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের মূল্যবোধ ধ্বংস করার কাজে নিয়োজিত একটি ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ব্যবস্থার অস্ত্র হিসেবে দেখে।স্যাক্সনি-আনহাল্ট থেকে রিপোর্টিং করার সময় অতিমারির আগের একটি ছোট ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। সাবেক কমিউনিস্টশাসিত পূর্ব জার্মানির প্রধান শহরগুলোর একটি লাইপজিগের রাস্তা দিয়ে আমি হাঁটছিলাম এক স্থানীয় পরিচিত সাহায্যকারীর সঙ্গে। স্মার্ট ও বুদ্ধিমতী সেই নারী অ্যাকটিভিস্ট একসময় গ্রিন পার্টির হয়ে কাজ করতেন।আঞ্চলিক পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘এমডিআর’-এর কার্যালয় অতিক্রম করার সময়, কোনো উসকানি ছাড়াই তিনি হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন—‘মিথ্যাবাদী সংবাদমাধ্যম’ বা ‘ফেক নিউজ’। চমকে উঠে আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই চ্যানেলটি তাঁর এমন ক্ষোভের কারণ কী করল?‘ওরা আমার মতো সাধারণ মানুষের কথা শোনে না,’ ব্যস, এটুকুই ছিল তাঁর উত্তর। যখনই তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা বলতে বললাম, তিনি আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠলেন।জার্মান রাজনীতিতে এখন যা ঘটছে তার কিছুটা কেবল এই দেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত—বিশেষ করে ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির একত্রকরণের পর থেকে পূর্ব জার্মানির মানুষের মনে নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে, তা অনস্বীকার্য। তবে এর একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বাইরে ছড়িয়ে পড়া উগ্র ডানপন্থীদের সামগ্রিক উত্থান।এএফডির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন মাগার প্রতিধ্বনিস্যাক্সনি-আনহাল্টে জয়ী এএফডি প্রার্থী ৩৫ বছর বয়সী উলরিখ সিগমুন্ড ছিলেন সুগন্ধি বিক্রির একজন সাবেক সেলসম্যান, যিনি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁতভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই তাঁর ‘আদর্শ’।নীতি এবং যোগাযোগ কৌশল—উভয় ক্ষেত্রেই এএফডি হলো ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মিত্র।বিষয়টি ট্রাম্পের নজর এড়ায়নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপজুড়ে ‘দেশপ্রেমিক’ আন্দোলনগুলোকে সমর্থন করার কথা বলা হয়েছিল, যাতে তাদের ভাষায় ‘সভ্যতার বিলুপ্তি’ রোধ করা যায়।নির্বাচনের ফলাফল আসার পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এএফডির নাম না নিলেও লেখেন, ‘ওয়াও, জার্মানির জনতুষ্টিবাদী দলটির জন্য খুব বড় ঘটনা।’ তিনি তাঁর পোস্টের শেষে যোগ করেন—মাগার আদলেই লেখেন এমজিজিএ!—যা ‘মেক জার্মানি গ্রেট এগেইন’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।এরা মূলত সেই শ্রেণির মানুষ, যারা রাজনীতির ওপর থেকে আশা ছেড়ে দিয়ে এত দিন এক সমান্তরাল জগতে বাস করছিল। এই ভোটারদের অনেকেই জার্মানির নাৎসি অতীতকে ‘বড় করে দেখানো হয়েছে’ বলে মনে করে এবং অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টানতে নারাজ।উচ্চপর্যায়ে ট্রাম্পই এএফডির একমাত্র বন্ধু নন। ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি নিজেদের অনুরাগের কথা কখনোই গোপন করেনি দলটি। ইউক্রেনসহ অন্যান্য নানা ইস্যুতে তারা মূল রুশ প্রেসিডেন্টের সুরেই কথা বলে। ক্রেমলিনের শর্ত মেনেই অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘শান্তি’ আলোচনার দাবি জানায় তারা।এই দলের বিশ্বাস, রাশিয়াকে পুনরায় ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনলে তাদের সামাজিক রক্ষণশীল এজেন্ডাকে ত্বরান্বিত করা যাবে, সস্তা তেল ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরবে।তবে এই সবকিছুর পেছনে এখনো একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত জার্মান সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পর্যায় সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—ক্ষমতা যেন একক কোনো দলের হাতে পুঞ্জীভূত না হতে পারে। ৮৩ আসনের রাজ্য সংসদে সরকার গঠনে মাত্র ৩টি আসন দূরে থেকে এএফডির এভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি চলে আসাটাই এক অভাবনীয় ঘটনা।নাৎসিদের পর জার্মানিতে অতি ডানপন্থীদের প্রথম জয়, কেনএখন মোটরসাইকেল র্যালি আর বর্ণিল নির্বাচনী প্রচারণায় নজরকাড়া এএফডি নেতা সিগমুন্ডকে সরকার গঠনের কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে। এর জন্য তাঁকে হয় অন্য কোনো দলকে রাজি করাতে হবে, না হয় দু-একজন বিদ্রোহী আইন প্রণেতাকে নিজেদের দিকে টানতে হবে।কিন্তু কোনোটিই সহজ হবে না; বিশেষ করে তথাকথিত ‘ফায়ারওয়াল’–এর কারণে। এটা মূলত মূলধারার দলগুলোর এএফডির সঙ্গে কাজ না করার এক যৌথ অঙ্গীকার। সেই দেয়াল হয়তো কিছুটা দুর্বল হয়ে আসছে, তবে এবারও হয়তো তা কোনোমতে টিকে যেতে পারে।অক্টোবরের শুরুতে সংসদ অধিবেশন বসার আগে এই রাজনৈতিক দর–কষাকষি একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গড়াবে। সিগমুন্ড যদি মুখ্যমন্ত্রী হনও, তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বিল পাস করানোর জন্য এএফডির মূলনীতিতে কোনো আপস তিনি করবেন না।যুদ্ধ–উত্তর জার্মান রাজনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল সমঝোতা ও ঐকমত্য—যা কয়েক দশক ধরে গুণ হিসেবে বিবেচিত হতো। অথচ আজকের অনেক ভোটার সেটিকেই দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া দেশ ও বিশ্বের সব জটিল সমস্যার তাৎক্ষণিক এবং ব্যথাহীন সমাধানের দাবিকে কেবল আরও উসকে দিচ্ছে।'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' লেখা ক্যাপ পরিহিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার্লিনের গোধূলিলগ্ন৯ সেপ্টেম্বর বার্লিনে বার্ষিক বাজেট ভাষণ দেওয়ার সময় চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জকে অত্যন্ত বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। তাঁর নেতৃত্ব এখন গুরুতর সংকটের মুখে। পূর্বের আরেকটি রাজ্য মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্ন এবং রাজধানী বার্লিনে আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস এক বড় ধরনের পরাজয়ের আশঙ্কা করছে।এমনিতেই কিছুটা কড়া মেজাজের মানুষ মার্জ মাসের পর মাস ধরে জনমত জরিপে ইতিহাসের সর্বনিম্ন রেটিং নিয়ে চলছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের এক বড় অংশ তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছে এবং তাঁর ব্যাকফায়ার করা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।তিনি বড়াই করে বলেছিলেন এএফডির সমর্থন অর্ধেক কমিয়ে আনবেন, অথচ দেখলেন তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মার্জ চ্যান্সেলর পদের জন্য বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে ম্যার্কেল দলকে অতিরিক্ত মধ্যপন্থার দিকে নিয়ে গেছেন, কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় করেছেন এবং অভিবাসীদের খুব বেশি প্রশ্রয় দিয়েছেন।তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে জার্মানদের সামনে খাঁটি রক্ষণশীলতার বিকল্প থাকা উচিত। সাধারণ মানুষ তাঁর সেই কথা শুনেছে ঠিকই, তবে তাঁর দেখানো পথে হাঁটেনি; হেঁটেছে আরও চরমপন্থার দিকে। কেবল মার্জের দলই যে সংকটে আছে তা নয়। ক্ষমতাসীন জোটের জুনিয়র শরিক মধ্য-বামপন্থী সোস্যাল ডেমোক্র্যাটদের (এসপিডি) অবস্থাও করুণ, তাদের ভোটব্যাংক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।যুক্তরাজ্য কি ডানপন্থী কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকছেএসপিডির তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হলো বামপন্থীদের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের নীতিতে ফিরে যাওয়া। অন্যদিকে সিডিইউ কর্মীরা চান সরকার যেন ব্যয় আরও কমায় এবং অভিবাসীদের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।অর্থাৎ একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করতে হলেও দুটি দল প্রতিদিন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে টান দিচ্ছে।মস্কো এবং ওয়াশিংটন—দুই পক্ষই যখন এএফডিকে উৎসাহ দিচ্ছে, তখন জার্মানির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে তার পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে। মার্জ হয়তো তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তবে জার্মানির সামরিক অবস্থান পুনর্গঠনে তিনি যথেষ্ট সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।তবে এই নীতি ঝুঁকিমুক্ত নয়, যা স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনের পর চ্যান্সেলর নিজেও স্বীকার করেছেন। তিনি মেনে নিয়েছেন যে ওই রাজ্যের ৫৭.৭ শতাংশ ভোটার এমন দলগুলোকে সমর্থন করেছে ‘যারা ইউক্রেনের প্রতি জার্মানির নিরঙ্কুশ সমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’ এএফডির জয় দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জকে তবুও তিনি যোগ করেছেন যে তিনি তাঁর অবস্থান থেকে ‘এক মিলিমিটারও সরবেন না।’ সংসদে মার্জ এএফডিকে মস্কোর সঙ্গে ‘অদ্ভুত আঁতাত’ এবং ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা’ প্রদর্শনের জন্য অভিযুক্ত করেন।মার্জ যখন নিজের বক্তব্য শোনাতে এবং আশাবাদী শোনাতে লড়াই করছিলেন, তখন এএফডির সহনেত্রী অ্যালিস ওয়াইডেল পুরো সংসদ মাতিয়ে রেখেছিলেন। জার্মান অর্থনীতির একমাত্র বর্ধনশীল খাত হিসেবে ‘সরকারি খাত এবং আশ্রয়শিল্পকে’ খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর দল তাদের পথে দাঁড়ানো সবাইকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।এটি ছিল ক্ষোভের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। আর সামনের অন্ধকার দিন ও মাসগুলোতে এমন দৃশ্য যে আরও দেখতে হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।জন ক্যাম্পফনার সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। হোয়াই দ্য জার্মানস ডু ইট বেটার–এর লেখক।টাইম থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।