জাতীয়

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি, ফল তৈরিতে ‘জালিয়াতি’

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি, ফল তৈরিতে ‘জালিয়াতি’
এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি, ফল তৈরিতে ‘জালিয়াতি’
  • ফল পরিবর্তনে রেকর্ড, নেপথ্যে মূল্যায়নে গাফিলতি
  • চট্টগ্রাম বোর্ডে একের পর এক ফলাফল ‘জালিয়াতি’
  • সন্দেহের তীর প্রোগ্রামার-সিস্টেম এনালিস্টদের দিকে
  • মধ্যরাতে শিক্ষক ডেকে ফল বাড়ানোর অভিযোগ
  • জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ঘোষণা শিক্ষা বোর্ডের

এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার উত্তরপত্র বা খাতা মূল্যায়ন থেকে শুরু করে ফল তৈরির প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠছে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে ১০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী। এ পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। আর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন।

শুধু তা-ই নয়, পুনর্নিরীক্ষণে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফল তৈরিতে নজিরবিহীন জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। একজন শিক্ষার্থী মাত্র এক বিষয়ে পাস করে জিপিএ-৪.৯৪ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও বোর্ডের দাবি, ওই শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। পরে তার ফল স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মধ্যরাতে শিক্ষকদের ডেকে খাতা মূল্যায়ন ও ফল বাড়িয়ে দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র বা খাতা মূল্যায়ন ও ফল তৈরির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে।

আরও পড়ুন

এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থী

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যায়নের এমন অসঙ্গতি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থার সংকট তৈরি করছে। তারা মনে করেন, রাষ্ট্রের শিক্ষানীতি ও শিক্ষা দর্শন ঠিক না করে বিক্ষিপ্তভাবে ব্যবস্থা পরিচালনা করলে এমন ঘটনা আরও ঘটবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে একের পর এক ‘জালিয়াতি’

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট পুনর্নিরীক্ষণ কার্যক্রমের সময় একজন পরীক্ষক পদার্থবিজ্ঞানের একটি উত্তরপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান, খাতায় প্রাপ্ত নম্বর শূন্য। অথচ প্রকাশিত ফলাফলে ওই খাতায় ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল মান্নান কম্পিউটার সেন্টারের ডাটার সঙ্গে উত্তরপত্রের নম্বর মিলিয়ে দেখেন। সেখানেও অমিল পাওয়া যায়।

এসএসসি ও এইচএসসির ফল তৈরির প্রক্রিয়ায় ওএমআর শিট স্ক্যানিং এবং নম্বর এন্ট্রির পর তা লক হয়ে যায়। বোর্ডের অত্যন্ত সুরক্ষিত সার্ভারে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তন করা আইটি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

অভিযোগ ওঠা বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষার্থী প্রকাশিত ফলে জিপিএ-৪.৯৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তিনি পদার্থবিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বোর্ডে আবেদন করেছিলেন। পুনর্নিরীক্ষণে তিন বিষয়ের নম্বরে অমিল ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর অন্য উত্তরপত্রগুলোও তলব করা হয়। তদন্তে সেগুলোতেও নম্বরের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

বোর্ড সূত্র জানায়, প্রকাশিত ফলাফলে বাংলায় (দুই পত্রে ২০০ নম্বর) ‘এ মাইনাস’ পেয়ে ১২০, রসায়নে ‘এ’ পেয়ে ৭৮ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ‘এ’ পেয়ে ৩৭ নম্বর দেখানো হয়। অন্য অধিকাংশ বিষয়ে ছিল ‘এ প্লাস’।

শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা প্রকাশিত ফলকে চ্যালেঞ্জ করে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেননি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রেকর্ড থেকে জালিয়াতি চক্র বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়।

আরও পড়ুন

এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড ৫৬ হাজার শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন

যদিও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল মান্নান দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। এরপরও কেন ওই শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত করা হলো- এ বিষয়ে তিনি পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারেননি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

সন্দেহে তীর সিস্টেম এনালিস্ট-প্রোগ্রামারদের দিকে

ফল তৈরির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শিক্ষা বোর্ডে কর্মরত প্রোগ্রামার ও সিস্টেম এনালিস্টরা। কিন্তু ফল জালিয়াতির ঘটনাগুলো তাদের দিকে আঙুল তুলছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেন্টারের সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও প্রোগ্রামার শাখার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি প্রশ্নের মুখে।

বোর্ড সূত্র জানায়, এসএসসি ও এইচএসসির ফল তৈরির প্রক্রিয়ায় ওএমআর শিট স্ক্যানিং এবং নম্বর এন্ট্রির পর তা লক হয়ে যায়। বোর্ডের অত্যন্ত সুরক্ষিত সার্ভারে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তন করা আইটি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বোর্ডে ফল জালিয়াতচক্রের শক্তিশালী সিন্ডিকেটও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাতা মূল্যায়নে দৃশ্যমান গাফলতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যেসব শিক্ষক গাফলতি করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই। এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে তাদের ধরা হবে।—অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান

এর আগে ২০২৩ সালেও এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফল জালিয়াতির ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলা ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মধ্যরাতে শিক্ষক ডেকে ফল বাড়ানোর অভিযোগ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডেও এসএসসির খাতা মূল্যায়ন নিয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর একই ‍উত্তরপত্র বা খাতা ফের মূল্যায়ন করিয়ে নম্বর বাড়িয়ে দিতে পরীক্ষকদের চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের খাতা মূল্যায়ন শেষ হয়। অথচ পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে ২৭ জন শিক্ষককে বোর্ডে ডেকে এনে বিভিন্ন বিষয়ের খাতা পুনরায় যাচাই করানো হয়। সেসময় কিছু খাতায় ফলাফল বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

আরও পড়ুন

খাতা চ্যালেঞ্জের পরও ফেল, ফাঁস নিলো শিক্ষার্থী

জানতে চাইলে রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ফলাফল পরিবর্তনের জন্য শিক্ষক বা পরীক্ষকদের ডাকা হয়নি। পুনর্নিরীক্ষণের পর বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী ফেল করায় বিষয় দুটি আবার যাচাই করতে বলা হয়েছিল। দ্রুত কাজ শেষ করার প্রয়োজন থাকায় রাতে শিক্ষকদের বোর্ডে আনা হয়েছিল।

ফল পরিবর্তনে রেকর্ড, নেপথ্যে মূল্যায়নে গাফলতি

এবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর প্রায ১৩ লাখ উত্তরপত্র বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। আর জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে। তাই পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সামান্য গাফিলতিও একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ঘোষণা শিক্ষা বোর্ডের

খাতা মূল্যায়নে গাফলতি করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘খাতা মূল্যায়নে দৃশ্যমান গাফলতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যেসব শিক্ষক গাফলতি করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই। এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে তাদের ধরা হবে।’

রাষ্ট্রের শিক্ষানীতি ও শিক্ষা দর্শন ঠিক না করে বিক্ষিপ্তভাবে চালালে এমন ঘটনা অহরহ ঘটবে। আমাদের দেশে পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কীভাবে হবে, সেটি মন্ত্রী বা সচিব বলে দেন। এটা বিশ্বে অন্য কোথাও নেই। অথচ এগুলো শিক্ষা এক্সপার্টদের বলার কথা।—অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান

বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, যেসব পরীক্ষকের খাতায় ১০ নম্বরের বেশি বা কম দেওয়া হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফল জালিয়াতির ঘটনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বোর্ডে এমন কোনো ঘটনা নেই। অন্য যে বোর্ডগুলোতে এমন ঘটনা সামনে এসেছে, সেখানে তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাষ্ট্রের শিক্ষাদর্শন ঠিক করার তাগিদ শিক্ষাবিদের

শিক্ষাব্যবস্থা বিক্ষিপ্তভাবে চলায় এমন পরিস্থিতির তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।

আরও পড়ুন

এসএসসি পরীক্ষা / ফল পুনর্নিরীক্ষণে অসন্তুষ্ট হলে আবারও কি আবেদন করা যাবে?

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের শিক্ষানীতি ও শিক্ষা দর্শন ঠিক না করে বিক্ষিপ্তভাবে চালালে এমন ঘটনা অহরহ ঘটবে। আমাদের দেশে পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কীভাবে হবে, সেটি মন্ত্রী বা সচিব বলে দেন। এটা বিশ্বে অন্য কোথাও নেই। অথচ এগুলো শিক্ষা এক্সপার্টদের বলার কথা।’

এসএসসির মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মূল্যায়নের এমন চিত্রে দায়িত্বের অবহেলা স্পষ্ট। বোর্ডের খাতা যারা দেখবেন, তারাও লবিং করেন। এমন ঘটনা চলতে থাকলে কোনো পরিবর্তন হবে না।’

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে করণীয় কী এমন প্রশ্নে অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, দেশে শিক্ষা কমিশন দরকার। তবে সেটি যেন দলীয় কমিশন না হয়। কারণ শিক্ষা সবার। এটি বিএনপি, জামায়াত বা আওয়ামী লীগের নয়। একটি যুগোপযোগী শিক্ষা কমিশন, শিক্ষা আইনই বিপর্যয় থেকে আমাদের বাঁচাতে পারবে।

এএএইচ/এমকেআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‎জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার আশা শেষ হকির যুবাদের
‎জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার আশা শেষ হকির যুবাদের

আগামী বছর হকির জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলতে হলে আজ ছেলেদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জাপানকে হারাতেই হতো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে। সেই ম্যাচে জাপানের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি যুবারা। ৬-২ গোলের বড় হারে শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার আশা।জাপান জেতায় আগামীকাল তাঁরা পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ হওয়ার লড়াইয়ে চীনের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচের জয়ী দল হবে টুর্নামেন্টে পঞ্চম আর পরাজিত দল ষষ্ঠ।‎‎বাংলাদেশের এখন আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি। আগামীকাল সপ্তম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চায়নিজ তাইপের মুখোমুখি হবে তারা। জিতলে সপ্তম হবে বাংলাদেশ, আর হারলে অষ্টম। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ হারানো বাংলাদেশ এখন টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় অন্তত সপ্তম হয়ে।আগামীকাল সপ্তম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চায়নিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশচীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আজ জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। মাত্র দুই মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে যুবারা। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও দুটি গোল করে জাপান। তাতে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে হার মেয়েদেরতৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে মেহেদী একটি গোল করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জাপানের আক্রমণ থামেনি। এই কোয়ার্টারেই আরও তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় জাপান।‎‎চতুর্থ কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে মুন্না বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি করেন। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।গ্রুপ পর্বে খুব একটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। চার ম্যাচে একমাত্র জয়টি এসেছে কাজাখস্তানের বিপক্ষে। বাকি ম্যাচগুলোর ফল আশানুরূপ না হওয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালের পর স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে।জুনিয়র এশিয়া কাপ থেকে শীর্ষ ছয়টি দল আগামী বছর জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। গতবারের আসরে ষষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।পাকিস্তানের কাছে ছেলেদের হার, বিশ্বকাপের টিকিট পেতে সামনে জাপান-চ্যালেঞ্জ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
চাকরির ভাইভায় ৫০% নম্বর মানে দলীয় লোকদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার কৌশল

চাকরির ভাইভায় ৫০% নম্বর মানে দলীয় লোকদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার কৌশল

পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

আ’লীগকে রিফাইন করে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: গোলাম পরওয়ার

আ’লীগকে রিফাইন করে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: গোলাম পরওয়ার

নটর ডেমে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকের উপচেপড়া ভিড়
নটর ডেমে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকের উপচেপড়া ভিড়

রাজধানীর নটর ডেম কলেজে দ্বিতীয়দিনের মতো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চলছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এদিন শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কয়েক শিফটে এতে অংশ নিচ্ছে সারা দেশের লাখো শিক্ষার্থী। এদিকে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকরাও। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে কলেজে প্রবেশ করলেও বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এদিন সকাল থেকেই আরামবাগ থেকে মতিঝিল ও কাকরাইল অভিমুখী সড়কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে সড়কে যান চলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। গাজীপুর থেকে ছেলেকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছেন আসলাম হোসাইন। তিনি বলেন, ছেলের আগে থেকে ইচ্ছে ছিল ও নটর ডেমে পড়বে। আমরাও উৎসাহ জুগিয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার আগে থেকেই ও নটর ডেমের ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ করতো। পরীক্ষার পর ওর অন্য বন্ধুরা যখন ট্যুরে গেছে, ঘুরে বেড়িয়েছে; ও তখনো পড়ার টেবিলে ছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছেলেটা চান্স পাবে। কারণ ও কষ্ট করেছে। আরও পড়ুন এসএসসিতে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের নটর ডেমে ভর্তির বিশেষ সুযোগ এদিকে, কলেজ সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও দুদিনব্যাপী একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রথম দিনে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের আবেদনকারীদের পরীক্ষা হয়েছে। শুক্রবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই আরামবাগ থেকে মতিঝিল ও কাকরাইল অভিমুখী সড়কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে/ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া নটর ডেম কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে কলেজের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ভর্তি আবেদন নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হওয়া আবেদন ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। তবে নির্ধারিত সময়ে কতসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, মিশনারি পরিচালিত কলেজ নটর ডেম ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে না। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কত শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তাও জানায় না কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র সফলভাবে আবেদন করা শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রবেশপত্র পেয়েছে। তাদের প্রবেশপত্রে পরীক্ষার সময়সহ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সে তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়াদের বিশেষ সুযোগ এদিকে, বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফলাফল বা গ্রেড পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নটর ডেম কলেজ। আরও পড়ুন ‘নটর ডেম আমার স্বপ্ন, চান্স পেলে জীবনটাই বদলে যেতো’ কলেজের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে ফল পরিবর্তন হয়ে ভর্তির আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ফলাফল পরিবর্তনের সব প্রকার প্রমাণপত্রসহ সরাসরি কলেজ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আসনসংখ্যা কত বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা মাধ্যমে ১ হাজার ৮১০টি এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৩২০টি আসন রয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৫০টি এবং মানবিক বিভাগে ৪১০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন ৩ হাজার ২৯০টি। এএএইচ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে

মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে

ফোন-ল্যাপটপ বা গ্যাজেটে ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্ন কেন থাকে জানেন?

ফোন-ল্যাপটপ বা গ্যাজেটে ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্ন কেন থাকে জানেন?

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার রাত্রিযাপন, দুজনই কারাগারে

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার রাত্রিযাপন, দুজনই কারাগারে

কাজ না করেই চার প্রকল্পের পুরো টাকা লোপাট
কাজ না করেই চার প্রকল্পের পুরো টাকা লোপাট

ভোলা পৌরসভার চারটি ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দ ১২ লাখ ৫৯২ টাকা। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের জন্য বাস্তবায়ন কমিটিও আছে, বরাদ্দের টাকাও উত্তোলন হয়েছে। কিন্তু মাঠে গিয়ে মিলছে না প্রকল্পের কাজের কোনো চিহ্ন। উল্টো বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকা পৌরসভার পাঁচ কর্মচারী বলছেন, এসব প্রকল্পের কাজ সম্পর্কেই তারা জানেন না। ফলে কাজ ছাড়াই সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে। ভোলা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকার ড্রেন নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য চারটি প্রকল্পে মোট ১২ লাখ ৫৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর রোডের বরিশাল দালানসংলগ্ন সংযোগ ড্রেন নির্মাণে ৩ লাখ টাকা, সদর রোডের ঘোষপট্টি সংলগ্ন সংযোগ ড্রেন নির্মাণ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরুল ইসলামের বাসার সীমানা ড্রেন থেকে আবহাওয়া অফিসের বাউন্ডারি সংলগ্ন ড্রেন মেরামত ও নির্মাণে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আরও পড়ুন মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে ভোলা শহর এ ছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপট্টি সড়কের ড্রেন সংস্কার ও মেরামতে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫৯২ টাকা এবং কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ড্রেন সংস্কার ও মেরামতে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা জানতে সরেজমিনে গিয়ে কোনো ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার বা মেরামতের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ‘পৌরসভায় চাকরি করা ব্যক্তিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখে ‘সমাজসেবক’ দেখানো হয়েছে। এখন বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করছেন’ বরিশাল দালান এলাকার ব্যবসায়ী কিরণ ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে বরিশাল দালানসংলগ্ন সংযোগ ড্রেনের কোনো কাজ হয়নি। কয়েক মাস আগে বরিশাল দালানের সামনে মাটি খোঁড়া হয়েছিল। দুই দিন পর আবার বালু দিয়ে সেটি ভরাট করা হয়। তারা বলেন, ওই সময় জানতে চাইলে তাদের বলা হয়েছিল সেখানে ড্রেনের কাজ হবে। কিন্তু এরপর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ড্রেনের কোনো কাজ হয়নি। ‘সাত-আট বছর আগে কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ড্রেনের কাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সংস্কার বা মেরামতের কাজও হয়নি’ অন্যদিকে খাদ্য গুদামসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. ইবাদুর রহমান ও মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, সাত-আট বছর আগে কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ড্রেনের কাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সংস্কার বা মেরামতের কাজও হয়নি। আরও পড়ুন নাক চেপে পথ চলার দুই দশক, তবুও হয়নি সমাধান তাদের ভাষ্য, এ বছর ওই ড্রেন সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা তারা শুনেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার বা মেরামতের কাজ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাহিম ইসলাম বলেন, চারটি প্রকল্পে মোট ১২ লাখ ৫৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি বলে তারা দেখেছেন। তার অভিযোগ, কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। ‘প্রকল্পের টাকা ফেরত যাতে না যায়, সে জন্য টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বর্ষা ও তার বদলির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ হবে’- ভোলা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান তিনি বলেন, পৌরসভায় চাকরি করা ব্যক্তিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখে ‘সমাজসেবক’ দেখানো হয়েছে। এখন বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করছেন। রাহিম ইসলাম আরও বলেন, সরকারি অর্থের অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি। চার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পৌরসভার পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি করা হয়। এতে মো. আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি, মো. ফারুককে সম্পাদক এবং জাকীর হোসেন, মো. হাসান ও ইয়াকুবকে সদস্য করা হয়। কমিটির নথিতে তাদের সবাইকে সমাজসেবক হিসেবে দেখানো হয়েছে। টিআর যাচাই-বাছাই উপকমিটির সভাপতি ছিলেন ভোলা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। আরও পড়ুন ৪০ বছরেও পাকা হলো না ভোলার এক কাঁচা সড়ক বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. জাকীর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে আমি বা কমিটির অন্য সদস্যরা কিছুই জানেন না। সাবেক প্রশাসক মিজানুর রহমানের কথায় তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করেছেন। জাকীর হোসেন জানান, তাকে কাগজপত্র জমা দিতে বলায় তিনি ভেবেছিলেন পৌরসভা থেকে কোনো অনুদান বা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কারণে কোনো প্রশ্ন না করেই কাগজপত্র জমা ও স্বাক্ষর করেছেন। প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ উত্তোলন এবং বাস্তবায়ন কমিটিতে পৌরসভার কর্মচারীদের ‘সমাজসেবক’ হিসেবে দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার পাঁচ কর্মচারী পৌরসভার নাগরিক হওয়ায় তাদের বাস্তবায়ন কমিটি বা সিপিপি সদস্য করা হয়েছে। এতে কোনো অপরাধ নেই। বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হলেই কাজ কোথায় হবে, তা তাদের জানা থাকবে—এমন নয়। আরও পড়ুন এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার! প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্পের টাকা ফেরত যাতে না যায়, সে জন্য টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বর্ষা ও তার বদলির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যে কাজ হবে। অভিযোগের বিষয়ে ভোলা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘নথিপত্র ও সরেজমিনে গিয়ে আমরা বিষয়টি দেখছি। বৃষ্টির কারণে হয়তো কাজটি হয়নি। তবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।’ নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা এবং বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় বা উত্তোলন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেএইচকে/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
চটপটি খেতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে হাত-পা হারালেন রাহাত

চটপটি খেতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে হাত-পা হারালেন রাহাত

তোমার কাজল চোখের কাছে

তোমার কাজল চোখের কাছে

সিডনি মাতাবেন জেমস, সঙ্গে রূপম

সিডনি মাতাবেন জেমস, সঙ্গে রূপম

0 Comments