ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তারা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হুথিদের এই অগ্রগতির খবর সামনে আসে।
মোখা দখল, হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, হুথিরা মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়েছে। তারা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও পৌঁছেছে।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রের ভাষ্য, এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর হুথিদের প্রভাব আরও বেড়েছে।
বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। লোহিত সাগরের সঙ্গে এ প্রণালি এডেন উপসাগর ও পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরের যোগাযোগ তৈরি করে।
বাব আল-মান্দাব নিয়ন্ত্রণে এলে কী হবে?
হুথিরা যদি বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে তা ইরানের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরব উপদ্বীপের অন্য পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালীর মতো বাব আল-মান্দাবও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যেত।
হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব তার তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের পথের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে। ফলে বাব আল-মান্দাবেও বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সৌদি তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নতুন সংকটে পড়তে পারে।
এতে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ট্রাম্প যে পথ খুঁজছেন, সেটিও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব রিপাবলিকান পার্টির জন্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্যদের জন্য নিরাপদ?
হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লোহিত সাগরে সব নৌযানের চলাচল নিরাপদ। তবে সৌদি আরবের জাহাজগুলো এর বাইরে থাকবে বলে তারা জানিয়েছে।
অর্থাৎ সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা বা হামলার হুমকি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে হুথিরা।
সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ। ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীর নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের পথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বাব আল-মান্দাবের দিকে সরকারি বাহিনীর পাল্টা অগ্রসরতা
হুথিদের অগ্রগতির মধ্যে ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্ররাও লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণে সরে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে ধুবাবের দিকে যাচ্ছে বলে সরকারি সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
ধুবাবের অবস্থান বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে এবং এর বিপরীতে রয়েছে পেরিম দ্বীপ।
সরকারি বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের যুদ্ধে এখন ‘আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়’ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
মোখার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান জাতিসংঘের বিশেষ দূত।
হুথিদের ইরানের ‘এজেন্ট’ বলল যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুথিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
তিনি বলেন, হুথিদের এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই কর্মকাণ্ডকে সক্ষম করে তুলছে, তাদের এর পরিণতির দায় বহন করতে হবে।
ইরানের বক্তব্য
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হুথিদের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনের সংঘাতের সমাধান করা সম্ভব নয়।
তেহরান এই সংকট সমাধানে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিবৃতিতে ইয়েমেনের হুথিদের কর্মকাণ্ডে ইরানের নিজেদের ভূমিকার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তা, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের উপকূল ধরে হুথিদের অগ্রগতির পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সরাসরি নির্দেশনা ছিল।
তবে হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম এসব অভিযোগ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। তিনি বলেছেন, তাদের অভিযান প্রতিরক্ষামূলক এবং ইয়েমেনের ওপর হামলা বন্ধ হলে এসব অভিযানও বন্ধ হয়ে যাবে।
তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল
হুথিদের অগ্রগতির খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। সরবরাহপথে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডি।
সৌদির বিরুদ্ধে হুথিদের অবরোধ
মার্চে ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার পর জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। চলতি মাসে তারা হামলা আরও জোরদার করেছে।
এর ফলে সৌদি আরব ও আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো সেখানে এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান পাকিস্তানের
সংকট আরও বড় আকার নেওয়া ঠেকাতে পাকিস্তান ইরানের কাছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বলে সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
পাকিস্তান সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানকে এই সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
তবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এর জবাবে বলেছেন, ‘ইরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।’
উপসাগরীয় নৌপথে বড় সংঘাতের আশঙ্কা
ইয়েমেন উপকূলে হুথিদের এই অগ্রগতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে পাল্টাপাল্টি হামলার সবচেয়ে বড় ঢেউ চলছে।
হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগরের নৌপথও এখন সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের যুদ্ধ তহবিলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
এদিকে হুথিদের অগ্রগতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।
হিজবুল্লাহ ও ইরানের অন্যান্য প্রক্সিকে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এর লক্ষ্য ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস বন্ধ করা।
সব মিলিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের দ্রুত অগ্রগতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। মোখা ও কৌশলগত দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর প্রভাব বাড়াতে পারলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধি ও নৌপথের নিরাপত্তা সংকট নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। তবে ভবিষ্যতের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে এমনভাবে প্রস্তুত ও সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ‘ভিন্ন অবস্থান থেকে শত্রুর সঙ্গে আলোচনা করতে বাধ্য’ হতে না হয়। দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের (উপাচার্য) সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ। একই সঙ্গে অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি, সাহিত্যসহ সব ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানো জরুরি। তার বক্তব্যে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বদলে এমন একটি অবস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইরানকে দুর্বল অবস্থান থেকে কোনো আলোচনায় বসতে না হয়। দেশটির তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেন জি শিক্ষার্থীদেরও সরকারের কাজে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, তরুণদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন বিক্ষোভে জড়িত হওয়ার পরিবর্তে সমস্যার সমাধানে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তরুণদের অসন্তোষকে সংঘাতের দিকে না নিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় কাজে লাগাতে চান তিনি। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কারও সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই। যে ব্যক্তি যে রাজনৈতিক মতাদর্শই ধারণ করুন না কেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করলে তিনি তাকে গ্রহণ করবেন। তার ভাষায়, যে-ই আমাদের দেশের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে, তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা-ই হোক, আমি তাকে গ্রহণ করি। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়িত নন- বামপন্থি বা ডানপন্থি, ধার্মিক কিংবা অধার্মিক- কারও সঙ্গেই নয়। দেশের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি মানুষের বিশ্বাস বা রাজনৈতিক-আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সমস্যার সমাধান হওয়ার পরিবর্তে এসব পদক্ষেপ উল্টো নেতিবাচক ফল ও ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে তরুণদের অসন্তোষ এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যারও মুখোমুখি। ফলে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে দেশের সক্ষমতা বাড়ানো, তরুণদের কাজে যুক্ত করা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর তার জোর দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা এসএএইচ
আকাশযাত্রায় ব্যক্তিগত পরিসর ও আরাম বাড়াতে নতুন সুবিধা এনেছে এমিরেটস। বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রিমিয়াম ইকোনমি আসনে যুক্ত হয়েছে পূর্ণ উচ্চতার সমন্বয়যোগ্য প্রাইভেসি স্ক্রিন।প্রিমিয়াম ইকোনমি অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজে প্রথমবারের মতো নতুন এই আসন সংযুক্ত করেছে এমিরেটস। এর মাধ্যমে যাত্রীরা পাবেন আরও আরাম, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ।আছে প্রাইভেসির সুবিধাআসনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাহায্যে প্রাইভেসি স্ক্রিন ওপরে তোলা, নিচে নামানো এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে লক করা যাবে। ফলে বিশ্রাম, খাবার গ্রহণ কিংবা কাজের সময় তৈরি করা যাবে আরও ব্যক্তিগত পরিবেশ।সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত আসনটিও একটি বোতাম চেপে পছন্দমতো অবস্থানে সমন্বয় করা যাবে। পাশাপাশি লাউঞ্জ ও মিল—দুই ধরনের মোডেও আসনটি সমন্বয়ের সুযোগ থাকছে।২৮টি আসনে বাড়তি আরামমিলবে বাড়তি আরামনতুন প্রিমিয়াম ইকোনমি কেবিনে রয়েছে ২৮টি আসন। প্রতিটি আসনের প্রস্থ ২০ ইঞ্চি এবং সিট পিচ সর্বোচ্চ ৩৯ ইঞ্চি। আসনটি এমনভাবে ক্র্যাডল পজিশনে হেলানো যায়, যাতে পেছনের সারির যাত্রীর ব্যক্তিগত পরিসরে ব্যাঘাত না ঘটে।এর সঙ্গে থাকছে এমিরেটসের ‘ইউ-ড্রিম’ হেডরেস্ট। ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী মাথা ও ঘাড়ের জন্য এতে রয়েছে সমন্বয়যোগ্য লেদার উইং। অতিরিক্ত আরামের জন্য থাকছে হাতে নিয়ন্ত্রণযোগ্য লেদার ফুটরেস্ট।প্রথমবার ওয়্যারলেস চার্জিংআছে নানা ধরণের পোর্ট ও ওয়্যারলেস চার্জিং ব্যবস্থাএমিরেটসের প্রিমিয়াম ইকোনমি শ্রেণিতে প্রথমবারের মতো যাত্রীরা পাবেন ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা। পাশাপাশি থাকবে ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট এবং সমন্বিত ফোন হোল্ডারসহ ট্রে টেবিল।২০২২ সাল থেকে এমিরেটসের ক্রমবর্ধমান এয়ারবাস এ৩৮০ বহরে ধারাবাহিকভাবে প্রিমিয়াম ইকোনমি সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।ছবি: এমিরেটস
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গ্রেফতার দুজন থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। গ্রেফতাররা হলেন আরাফাত (২০) ও আব্দুর রহিম (৪৯)।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি দাউদ হোসেন বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন গলিতে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে জানান ওসি। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া আরাফাত ও আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেআর/জেএইচ ছবি - থানা সূত্র