দুই যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর পোস্টার লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। ১১ সদস্যের এই জোটের সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মতপার্থক্য এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।
এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ছয় বছর পর ভারতে শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ছয় বছর পর ভারত সফরে এসেছেন। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে শীতল ছিল। ওই সংঘর্ষে কতজন চীনা সেনা নিহত হয়, তা নিয়ে সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্ক আবারও উষ্ণ হতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, ভিসা ব্যবস্থা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
কী এই ব্রিকস?
ব্রিকস ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পশ্চিমা শক্তির প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যেই বড় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে নিয়ে এই জোট গড়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে জোটটির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে এতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ নিয়ে এই তিন দেশের অবস্থানও একে অপরের থেকে যথেষ্ট ভিন্ন।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। এ কারণে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ‘আউটরিচ ইনভাইটিজ’ বা আমন্ত্রিত দেশ ও প্রতিনিধিদেরও সম্মেলনে যুক্ত করছে নয়াদিল্লি।
সম্মেলনে কী আলোচনা হবে?
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিকসের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নেতারা মতবিনিময় করবেন।
এ ছাড়া পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দিনের সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে এবং তা বৈশ্বিক কল্যাণের আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেবে।
তিনি একটি বক্তব্যে বলেন, সৎ ও গুণী মানুষের সঙ্গেই কথা বলা, তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা এবং তাদের সঙ্গেই বিতর্ক ও বন্ধুত্ব করা উচিত।
রাশিয়া, চীন ও ইরানের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা
ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার দিল্লি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী এবং ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল আয়োজন হবে ভারত মণ্ডপমে।
বন্ধ হচ্ছে না দিল্লি, থাকছে সাময়িক যান নিয়ন্ত্রণ
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সম্মেলনের কারণে পুরো শহর বন্ধ থাকবে না। তবে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের গাড়িবহর চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ, ঘুরিয়ে দেওয়া এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের অবস্থার ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
বিদেশি অতিথিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যতটা সম্ভব কম রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষের যাতে কম সমস্যা হয়, সেভাবেই বিস্তারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল সম্পর্কে আগাম নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে সম্মেলনস্থল পর্যন্ত নজরদারি
দিল্লি পুলিশ বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কগুলোতে ব্যাপক পরিদর্শন চালিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকও করা হয়েছে।
নিরাপত্তার আওতায় থাকবে বিমানবন্দর, অতিথিদের থাকার হোটেল, ভারত মণ্ডপম এবং বিশ্বনেতারা যেসব স্থানে যাবেন সেসব জায়গা।
নয়াদিল্লি এলাকায় ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চক্ষমতার ক্যামেরা, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করার ক্যামেরাও রয়েছে। একটি বিশেষ মনিটরিং রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা এসব নজরদারি চালানো হবে।
নিরাপত্তায় আরও যেসব ব্যবস্থা
সম্মেলনস্থল ও বিদেশি অতিথিদের থাকার হোটেলগুলোতে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। পরিচয় যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ২৬ হাজার ৮৪৯ পিস ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৯৩৭ গ্রাম গাঁজা, ৭০ লিটার চোলাই মদ ও ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে এ গ্রেফতার ও জব্দের ঘটনা ঘটেছে বলে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে জানানো হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেফতার ৫৪২ জনের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১০৪ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৭৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩৭ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪১ জন রয়েছেন। এছাড়া, পরোয়ানামূলে ১২৮ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪৪ জনকে। তাদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৫৮ জন মাদক ব্যবসায়ী, দুজন মাদক বহনকারী ও ৮৪ জন মাদকসেবী রয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। আরও পড়ুন লোহাগাড়ায় দুই হাজার ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মাদক সংক্রান্ত ৫১টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে ২৬ হাজার ৮৪৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭০ লিটার চোলাই মদ, ৪৫ কেজি ৯৩৭ গ্রাম গাঁজা এবং ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। জনস্বার্থে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমআরএএইচ/এএমএ
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে তথ্য ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বোর্ডের নিশ্চায়নপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে।ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিশ্চায়নপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিশ্চায়নকৃত সব আবেদনকারী ভর্তিতে আবেদন করতে পারবে।ফেল থেকে পাস ৪০৮৫, নতুন করে জিপিএ–৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থীএই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের তথ্য ফরম পূরণে আবেদনের শেষ সময়: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।বহিরাগত ছাত্রীদের তথ্য ফরম পূরণে আবেদনের শেষ সময়: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।ফরম পূরণের নিয়মবোর্ড নির্ধারিত নিশ্চায়নপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিশ্চায়নকৃত সব আবেদনকারীকে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে। চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তথ্য ফরমটি যথাযথভাবে ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।শুধু ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিশ্চায়নকৃত শিক্ষার্থীদের এ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে। তবে এটি চূড়ান্ত ভর্তি ফরম নয়। প্রতিষ্ঠানের ভর্তি-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য এ তথ্য ফরম ব্যবহার করা হবে।চূড়ান্ত ভর্তি যেভাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তথ্য ফরমে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে স্টুডেন্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত ভর্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই স্টুডেন্ট আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে নির্ধারিত ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ করে সেটি সংগ্রহ করতে হবে। পরে ভর্তি নোটিশে উল্লেখিত নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ ভর্তি ফরম জমা দিতে হবে।কাতারে দোহা ইনস্টিটিউটে স্কলারশিপ, আবেদন ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্তশিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা তথ্য ফরম পূরণের সময় প্রতিষ্ঠানে কোনো ফি প্রদান করতে হবে না।* ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তিতে আবেদনসহ বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন ।
হংকংয়ের ব্যস্ত রাজপথ, ঝলমলে আলো আর আকাশছোঁয়া ভবনের মাঝে এবার অন্যরকম এক মেহজাবীন চৌধুরী। বড় কোনো ফ্যাশন শুটের আয়োজন নয়, নামী কোনো ব্র্যান্ডের ক্যামেরাও নয়-স্থানীয় এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। আর সেই ছবিগুলোতেই যেন ফুটে উঠেছে তার স্টাইলের আরও স্বতঃস্ফূর্ত একটি দিক। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও ভ্রমণের মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন মেহজাবীন। হংকং ভ্রমণের ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার নজর কেড়েছে শুধু তার পোশাক কিংবা ভিক্টোরিয়া হারবারের সৌন্দর্য নয়, বরং লোকাল ফটোগ্রাফারের তোলা ছবিতে তার স্বাভাবিক উপস্থিতি। ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে সাধারণত নিখুঁত আলো, পরিকল্পিত সেটআপ আর পেশাদার টিমের আয়োজন থাকে। মেহজাবীনের এই ছবিগুলো যেন তার ঠিক উল্টা। শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ, নরম আলো আর স্থানীয় ফটোগ্রাফারের দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে ছবিগুলোতে এসেছে অনেক বেশি ভ্রমণঘনিষ্ঠ আবহ। যেন হংকং ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ করেই ধরা পড়েছেন তিনি। মেহজাবীনের পোশাকের মূল সৌন্দর্য ছিল সাদা ও কালোর বৈপরীত্যে। ওপরের অংশে পরেছেন কালো ভেস্ট-স্টাইলের টপ। টপটির সামনের অংশে সাদা সুতোর সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি রয়েছে। এশিয়ান মোটিফের অনুপ্রেরণায় করা নকশাটি কালো পোশাকের ওপর বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কালো টপের সঙ্গে তিনি বেছে নিয়েছেন ঘেরওয়ালা সাদা লং স্কার্ট। স্তরযুক্ত ও ভলিউমিনাস স্কার্টটি পুরো লুকে এনেছে খানিকটা নাটকীয়তা। কালো ও সাদার এই কম্বিনেশন একই সঙ্গে আধুনিক, মার্জিত এবং কিছুটা রেট্রো আবহ তৈরি করেছে। পায়ের সাজেও ছিল আলাদা নজর। সাদা-কালো দুই রঙের ব্লক হিল মেরি জেন পাম্পের সঙ্গে কালো হাঁটু-লম্বা শিয়ার মোজা পরেছেন তিনি। এই জুটি পোশাকের সঙ্গে তৈরি করেছে দারুণ একটি ভিনটেজ ফ্যাশন অনুভূতি। বিশেষ করে সাদা স্কার্টের নিচে কালো মোজা এবং দুই রঙের জুতার সমন্বয় লুকটিকে করেছে আরও স্টাইলিশ। পোশাকের ভলিউমের সঙ্গে পায়ের এই ডিটেইলটি পুরো সাজে ভারসাম্য এনেছে। পোশাকে এমব্রয়ডারির কাজ থাকায় গয়নায় খুব বেশি বাড়াবাড়ি করেননি মেহজাবীন। কানে ছোট স্টাড ইয়াররিং এবং হাতে মেটালিক ঘড়ি বা চেইন-স্টাইলের অ্যাকসেসরিজ-এই সামান্য আয়োজনেই সম্পূর্ণ করেছেন সাজ। মেকআপেও ছিল না অতিরিক্ত আয়োজন। হালকা ও ন্যাচারাল মেকআপ, কোমল টোনের লিপস্টিক এবং স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার মতো বেস-সব মিলিয়ে তার সাজ ছিল বেশ পরিমিত। চুল একপাশে সিঁথি করে খোলা রেখেছেন তিনি। কাঁধ ছুঁয়ে নামা খোলা চুল বাতাসের সঙ্গে মিশে ছবিগুলোতে তৈরি করেছে আরও স্বাভাবিক ভ্রমণ-আবহ। মনে হয়েছে, এটি কোনো সাজানো স্টুডিও শুট নয়, বরং হংকংয়ের পথে হাঁটতে হাঁটতেই ধরা পড়া এক ফ্যাশন মুহূর্ত। গলায় কোনো ভারী গয়না না থাকায় টপের নকশাটিই পেয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। মেকআপও ছিল হালকা ও ন্যাচারাল। কোমল টোনের লিপস্টিক এবং স্বাভাবিক বেস তার সৌন্দর্যকে আরও সহজভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ছবির পেছনে দেখা যাচ্ছে হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া হারবারের মনোরম দৃশ্য। সারি সারি আধুনিক বহুতল ভবন, দূরের পাহাড় আর মেঘলা আকাশে তৈরি হয়েছে সিনেমার মতো একটি ব্যাকড্রপ। তবে এবার সেই ব্যাকড্রপের সঙ্গে মেহজাবীনের লুককে আরও বিশেষ করে তুলেছে লোকাল ফটোগ্রাফারের চোখ। বড় আয়োজনের ফ্যাশন শুটে যেমন প্রতিটি ফ্রেম আগে থেকেই পরিকল্পিত থাকে, এই ছবিগুলোতে তার বদলে পাওয়া যায় শহর ঘোরার স্বাভাবিক অনুভূতি। এসএকেওয়াই