রবি ঠাকুরের কবিতার লাইনগুলো নিশ্চয়ই জানা? ‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে/ বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে/ দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা/ দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু...।’
পরের লাইনগুলোয় একটু পরে আসা যাবে। আগে এই লাইনগুলোর তরজমা হোক। রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ার পর হন্যে হয়ে স্ট্রাইকার খুঁজেছে বার্সেলোনা। পছন্দ ছিল একটাই—আতলেতিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজ। সে জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চেষ্টা করেছে বার্সা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার যত ইচ্ছাই থাকুক, আতলেতিকো তাঁকে ছাড়বে কেন! একে তো অমন একটা স্ট্রাইকারকে ছাড়লে তাদের লোকসান, তার ওপর লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে আলভারেজকে তুলে দেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের পায়েই কুড়াল মারা।
অতএব আলভারেজ মিশনে বহুদিন ধরে বহুভাবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে বার্সা। মৌসুম শুরুর আগে তাই প্রশ্ন উঠেছিল কাতালান ক্লাবটির সেন্টার ফরোয়ার্ড হবেন কে? স্বয়ং বার্সার এক বোর্ড সদস্যই প্রাক্–মৌসুমে সেন্ট জর্জেস পার্কে বার্সার অনুশীলনে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফুটিয়ে বলেছিলেন, ‘(দলে) কোনো সেন্টার ফরোয়ার্ড নেই।’
কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের অস্তিত্ব নেই। রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, বার্সার নীতিনির্ধারকদের হয়তো বিশ্বকবির ওই কবিতার পরের লাইনগুলো জানা ছিল! সে যাহোক, পরের লাইনগুলোয় ফিরে দেখা যাক—‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’
রাফিনিয়া এখন বার্সার সেই ‘শিশিরবিন্দু’।
ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলতে আগে রবি ঠাকুরের লাইনগুলোর সারমর্ম একটু বুঝিয়ে বলতে হয়। কবি বলছেন, প্রচুর অর্থ ও সময় খরচ করে মানুষ দূর-দূরান্তে সৌন্দর্য দেখতে ছুটে যায়, কিন্তু ঘরে কিংবা ঘরের কাছে থাকা সুন্দর রূপটি অনেক সময় অদেখাই থেকে যায়।
বার্সার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরকার সেই ‘সৌন্দর্য’ অদেখা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চোখ ও মস্তিস্কের রাডারে ব্যাপারটা ধরা পড়েছে। তার আগে অবশ্য ক্যাম্প ন্যুর চৌকাঠের ওপাশে দু–পা ফেলে মাদ্রিদে গিয়ে আলভারেজ নামে আর্জেন্টাইন সৌন্দর্যের সন্ধান করেছেন বার্সার নীতিনির্ধারকেরা। সেখান থেকে ব্যর্থ মনোরথে ঘরে ফিরে বার্সার টিম ম্যানেজমেন্ট যেন হঠাৎ করেই ব্রাজিলিয়ান সেই ‘শিশিরবিন্দু’ আবিষ্কার করে ফেললেন! দরকার ছিল শুধু সেই ‘শিশিরবিন্দু’র অবস্থানটা একটু পাল্টানো। কোচ হান্সি ফ্লিক সেটা করার পর ফলটা মিলছে হাতেনাতে।
চলতি মৌসুমে ৫ ম্যাচ খেলেছে বার্সা। সবগুলো ম্যাচেই শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামেন রাফিনিয়া। তবে একটু অন্য ভূমিকায়। উইঙ্গার হিসেবে এত দিন খেললেও চলতি মৌসুমে রাফিনিয়াকে দেখা যাচ্ছে মুক্ত ফরোয়ার্ডের ভূমিকায়। তাতে ৫ ম্যাচে পেয়েছেন ৮ গোল, অ্যাসিস্ট ১টি। কিন্তু এটা তো মাঠের ফল। বার্সার নীতিনির্ধারকদের মনেও একটা প্রভাব পড়ার কথা। আলভারেজকে তাঁরা নিশ্চয়ই ভুলে গেছেন! কিংবা এভাবেও বলা যায়, উইঙ্গার থেকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলে রাফিনিয়া বার্সার আলভারেজ–বিরহ ভুলিয়ে ছেড়েছেন।
বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।
বার্সার সমর্থকেরা সে জন্য তাঁদের ক্লাবকে একটা ধন্যবাদও জানাতে পারেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপ থেকে বার্সা আলভারেজের পেছনে ছুটতে শুরু করেছিল বলেই তো এই মৌসুমে রাফিনিয়ার ভেতরকার ফরোয়ার্ড–সত্তাটা জেগে উঠল! আর সেই সত্তায় শুধু গোল এবং অ্যাসিস্ট নয়, ফুটছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই ছন্দময় গতি, ড্রিবলিং, স্ট্যামিনা ও ফিনিশিং দক্ষতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোলকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারেন।
বক্সে দৌড়ের ওপর রাফিনিয়ার পায়ে বল। তাঁকে ঠেকাতে ডাচ ক্লাবটির দুজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে স্লাইডিং ডাইভে সামনে চলে এলেন। তখন রাফিনিয়ার বাঁ পায়ে যেন ফুটবল কবিতার ছন্দ! আলতো স্পর্শে বলটা বাঁ দিকে যখন সরালেন, দুই ডিফেন্ডার তখন তাঁর সামনে দিয়ে স্লাইড করে যেন নেদারল্যান্ডসে চলে গেলেন! তারপর বাঁ পায়ের শটে গোল। জার্সি নম্বর ১১ হলেও কে বলবে এই রাফিনিয়া ৯ নম্বর নয়!
বার্সার গোলের সমস্যা সমাধানে রাফিনিয়ার এগিয়ে আসা নতুন কিছু না। ২০২৪-২৫ মৌসুমে করেছিলেন ৩৪টি গোল ও ২৬টি অ্যাসিস্ট; যার মধ্যে লিগে অবদান ছিল ৩০ গোলে (১৮টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। বার্সাও জিতেছিল লা লিগা শিরোপা। আর রাফিনিয়াও উইঙ্গার পজিশন থেকে প্রথাগত ফরোয়ার্ডদের মতো বক্সে ঢুকে কিংবা তার আশপাশ থেকে গোলগুলো করেন এবং করান। সরাসরি সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তখনো খেলা শুরু করেননি।
পরের মৌসুমে চোটের কারণে মাসের পর মাস মাঠের বাইরে থাকতে হলেও তাঁর কার্যকারিতা ছিল দেখার মতো। সেবারও ২১ গোল করার পাশাপাশি ৮ অ্যাসিস্ট করে বার্সার লিগ শিরোপা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু বিশ্বকাপেও চোটে পড়ায় হলুদ জার্সিতে সেই রাফিনিয়াকে দেখা যায়নি।
মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খেলেছেন। গোল পাননি। চোটে পড়েন হাইতি ম্যাচে। সুস্থ হয়ে শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও গোল পাননি। ব্রাজিলও হেরে বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে। এই বিশ্বকাপ চলার মাঝেই বার্সার আলভারেজের পিছু ছোটার খবর বেশি করে চাউর হয় সংবাদমাধ্যমে। রাফিনিয়ার কি তখন আঁতে ঘা লেগেছিল? কে জানে!
বার্সার জার্মান কোচ ফ্লিক কৌশলে দূরদর্শী মানুষ। বিশ্বকাপ শেষে এবারের মৌসুম শুরুর আগে রাফিনিয়ার পজিশন নিয়ে বার্সার অনুশীলনে বেশ কাজ করেন ফ্লিক। উইঙ্গার পজিশন থেকে তাঁকে সরিয়ে এনে মাঠের ভেতরে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। মুক্ত ফরোয়ার্ড হয়ে আক্রমণভাগ চষে বেড়ানোর ভার দেন রাফিনিয়ার কাঁধে। এতে শুধু বার্সার খেলার কৌশল বদলায়নি, আক্রমণভাগ নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার অবসানও হয়েছে।
তবে সন্দেহও ছিল। উইং পজিশনটা সাধারণত বল নিয়ে লম্বা দৌড়ের। সামনে প্রতিপক্ষ পেলে হয় পাস দিয়ে বল ছাড়তে হয় কিংবা ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যেতে হয়। রাফিনিয়া এত দিন সেভাবেই অভ্যস্ত ছিলেন। সেখান থেকে একদম বক্সে কিংবা তার আশপাশে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলার কিছু ঝামেলা ছিল।
জায়গাটা সংকীর্ণ, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জটলায় খেলার জায়গাও খুব কম মেলে। বার্সার খেলার ধাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে ওই পজিশনে সফল হতে হলে পায়ের কারুকাজ থাকা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে ফিনিশ করার সহজাত ক্ষমতাও লাগে। প্রশ্ন ছিল, রাফিনিয়া কি ওই পজিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন?
উত্তর মিলছে মাঠেই। কতটা মানিয়ে নিয়েছেন এ মৌসুমে গোল–পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। আর গোল করার বাইরে সতীর্থদের নিয়ে যেভাবে খেলে যাচ্ছেন, তা হয়তো আরও বড় প্রমাণ। বার্সার মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি কিংবা ডান প্রান্ত থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের পাস দিতে এখন রাফিনিয়াকে খোঁজেন। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় গোল সে কথাই বলে।
সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার, রাফিনিয়ার খেলা দেখে মনে হচ্ছে এটাই তাঁর চিরাচরিত পজিশন। বল হারালে প্রেস করছেন, আক্রমণে উঠছেন, সব মিলিয়ে আরও সহজ করে তুলছেন বার্সার খেলাকে। অথচ এর আগে কোনো ক্লাবেই ফরোয়ার্ড (৯ নম্বর) পজিশনে খেলেননি।
আরও মজার বিষয়, ২০২২ সালে বার্সায় যোগ দেওয়ার সময় রাফিনিয়া কিন্তু বাঁ প্রান্তের উইঙ্গার ছিলেন না। ডান প্রান্তের উইঙ্গার হয়ে ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দেম্বেলে ও তারপর ইয়ামালের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সরে যান বাঁয়ে। ক্লাবের প্রয়োজনেই সেই রাফিনিয়া এখন ফরোয়ার্ড—ফোঁটা ফোঁটা শিশিরবিন্দুর মতো তাঁর একেকটি গোলে ব্রাজিলিয়ানের সবচেয়ে সুন্দর রূপটি কি দেখছে বার্সা?
উত্তর আপনার কাছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বাব আল-মান্দাব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি হুথিদের দখলে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। পেরিম দ্বীপটি মায়ুন নামেও পরিচিত। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় ওই সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, আগের দিন সরকারি বাহিনী দ্বীপটি ছেড়ে যাওয়ার পর অস্ত্রধারী হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী কয়েকটি নৌকা মায়ুন দ্বীপে পৌঁছায়। এর আগে হুথিরা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটিতে পৌঁছে গেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে এএফপি জানায়, হুথিরা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের গতিপথে পেরিমের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর প্রভাব শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কৌশলগত অবস্থানের কারণে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্যও বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যে ছোট দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর মোচা দখলের বিষয়টিও রয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপ তারা দখলে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব অবস্থান থেকে হুথিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের গতিপথে প্রভাব বিস্তারের মতো অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের জাহাজে হামলা চালানোর রেকর্ড রয়েছে হুথিদের। ফলে লোহিত সাগর ব্যবহারকারী সব দেশের কাছেই পরিস্থিতিটি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে উত্তরের দিকেও পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। স্যাটেলাইটে ধারণ করা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে এই পাইপলাইন। ফলে এতে হামলার ঘটনা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর জন্য ইরানের ইয়েমেনভিত্তিক মিত্রদের প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি এখনো বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দাবও একইভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কা এখন আরও জোরালো হয়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব- দুটি প্রণালিই মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যে কোনো একটি নৌপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বাব আল-মান্দাব প্রণালিটি ইয়েমেন, ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত ও এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথগুলোর একটি হিসেবে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করে। একই নৌপথের বৃহত্তর রুটে মিসরের সুয়েজ খাল ও ওমান-ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালিও গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট (কৌশলগত সংকীর্ণপথ) হিসেবে রয়েছে। সূত্র: বিবিসি এসএএইচ
এক হাতে ছিল তরবারি, যুদ্ধের ময়দানে ছিল নেতৃত্ব। সেই হাতেরই একটি হাড় শত শত বছর পর আবার ফিরলো যুদ্ধের মাঠে। তবে এবার লড়াই করতে নয়, সেনাদের মনোবল বাড়াতে। মধ্যযুগীয় রুশ রাজপুত্র দিমিত্রি দানস্কয়ের ডান হাতের একটি হাড়ের অংশ ইউক্রেনের সম্মুখভাগে পাঠিয়েছে রুশ অর্থোডক্স চার্চ। রুশ অর্থোডক্স চার্চ জানিয়েছে, সম্প্রতি দিমিত্রি দানস্কয়ের ডান হাতের ওই অংশ ইউক্রেনের দোনেৎস্কে পাঠানো হয়েছে। রুশ সেনাদের মনোবল শক্তিশালী করতেই দেহাবশেষের এ অংশ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চার্চ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি সমর্থনের সর্বশেষ নজির হিসেবেও এ ঘটনাকে দেখা হচ্ছে। অলংকৃত একটি ছোট কৌটায় রাখা হয়েছে দেহাবশেষটি। ইউক্রেনের এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সম্মুখসীমাজুড়ে দেহাবশেষটি নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কৌটাটি শক্ত কাচের নিচে সংরক্ষণ করা হবে ও রুশ সেনাদের বিভিন্ন ইউনিটের কাছে এটি প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে চার্চ। মস্কো প্যাট্রিয়ার্কেটের রুশ অর্থোডক্স চার্চ দিমিত্রি দানস্কয়কে একজন ধর্মীয়ভাবে সম্মানিত সেনানায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছে। চার্চটির ভাষ্য, তার দেহাবশেষের একটি অংশ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে, যাতে রুশ সেনাদের মনে তার সাহস ও যুদ্ধজয়ের স্মৃতি জাগিয়ে রাখা যায়। রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতেই এ দেহাবশেষ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে চার্চ। এক বিবৃতিতে চার্চটি বলেছে, দিমিত্রি দনস্কয়ের ডান হাতের এ অংশ দিয়েই তিনি ১৩৮০ সালের কুলিকোভোর যুদ্ধে তরবারি চালিয়েছিলেন। ওই যুদ্ধে মঙ্গোল গোল্ডেন হোর্ডকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। দিমিত্রি দানস্কয় ১৩৮৯ সালে মারা যান। রুশ জাতীয়তাবাদীদের কাছে তিনি বিশেষভাবে সম্মানিত। মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে কুলিকোভোর যুদ্ধে বিজয়ের কারণে তাকে রাশিয়ার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতা হিসেবে দেখা হয়। চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রেমলিনের ভেতরে আর্চেঞ্জেল ক্যাথেড্রালে সংস্কারকাজের সময় দিমিত্রি দানস্কয়ের সারকোফ্যাগটি খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে তার সংরক্ষিত দেহাবশেষও পাওয়া যায়। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজে ওই দেহাবশেষ পরিদর্শন করেন। বিশেষজ্ঞরা এগুলো ভালোভাবে সংরক্ষিত বলে জানিয়েছেন। পুতিন তখন এটিকে ‘একেবারে অনন্য ও বিস্ময়কর আবিষ্কার’ বলে মন্তব্য করেন। এ আবিষ্কার রুশ ইতিহাসের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও মনে করেন তিনি। সূত্র: দ্য ডন এমআরএইস/এসএএইচ
হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে আমার মহাপণ্ডিত বন্ধু লিয়াকত বেশ নাক সিটকাত। বিশেষত হিমু সিরিজ পড়ার পর একদিন বিরক্ত মুখে বলেছিল,—ধুর ভাই, কী ছাতার মাথা লেখে এই লোক!যাহোক, সেই হিমু সিরিজ এখন কাল্ট ক্ল্যাসিক। ‘মিসির আলী সিরিজ’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘নন্দিত নরকে’ ইত্যাদি পড়ার পর আমার সেই বন্ধুর কাছে হুমায়ূন আহমেদ এখন প্রায় কাফকা লেভেলে চলে গেছেন।তেমনি আমিও যখন লিখতাম, সাহিত্য পাতার সম্পাদক মহাশয় আমার লেখা পড়ে বলত,—ধুর ভাই, কী ছাতার মাথা লেখে এই ছেলে!কিন্তু জানি, আমার লেখাও একদিন কাল্ট ক্ল্যাসিক হবে। চাল-ডাল সেদ্ধ, ধোঁয়া ওঠা ভাতের পর্ব পেরিয়ে একদিন আমার লেখাও বিরিয়ানির যুগে প্রবেশ করবে। আমিও জন স্টেইনবেক, হারুকি মুরাকামি কিংবা পাওলো কোয়েলহোর মতো হয়ে উঠব।হুমায়ূন আহমেদ যেমন এক বইয়ের উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন—‘গুলতেকিনকে’।আমিও একদিন লিখব—‘মৃণালিনী, নতুবা আর কাকে?’কিন্তু একটা বিস্তর সমস্যা হয়ে গেছে। আমি প্রায় নব্বই শতাংশ মারা গেছি। প্রায় তিন বছর হলো। বিষয়টা ভয়ংকর হওয়ার কথা। অথচ বেশ উপভোগ করছি। মরে যাওয়ার কারণে আমার মনে কোনো ব্যথা হয় না। হোস্টেলের খাবার সামনে দিলে শরীরে ক্ষুধা জাগে না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে মুখে দাড়ি বাড়ে না। কেউ আমাকে দেখে না। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, আমি নিজেকে দিব্যি দেখতে পাই।যখন বেঁচে ছিলাম, ছোটবেলায় নিয়মিত স্কুলে যেতাম। কলেজে ওঠার পর নাম ডাকার সময় সর্বোচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে ‘ইয়েস স্যার’ বলে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতাম। কোনো অ্যাবসেন্ট ফি আসত না।এখনো প্রতিদিন হাজিরা দিই। তবু কেন যেন অ্যাবসেন্ট ফি আসে। আমি বোধ হয় বেঁচে নেই। তাই আমায় ওরা দেখতে পায় না।ওরা হয়তো দেখতে পায় না বৃষ্টি, লোডশেডিং, সাত মাথার ভিড়—অথবা একটা মানুষ ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে তাকে।আমার প্রথম মরতে ইচ্ছে হয়েছিল যখন বয়স মাত্র বিশ। নির্বিষ জীবনযাপনের মাঝখানে একদিন দেখলাম ‘দ্য ট্রুম্যান শো’। দাঁড়ান। মুভিটার গল্পটা একটু বুঝিয়ে বলি।ট্রুম্যান বারব্যাংকের জীবন দেখতে একেবারে সাধারণ। সে থাকে সুন্দর, শান্ত একটা শহরে, সিহ্যাভেন। বাড়ি আছে, স্ত্রী আছে, চাকরি আছে, বন্ধু আছে, প্রতিবেশী আছে। প্রতিদিন একই রুটিন—ঘুম থেকে ওঠা, অফিসে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, বাড়ি ফেরা। কিন্তু একটা ভয়ংকর ব্যাপার আছে। ট্রুম্যান ছাড়া পৃথিবীর সবাই জানে, তার জীবন আসলে একটা টেলিভিশন শো। জন্মের পর থেকেই তার প্রতিটি মুহূর্ত গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। স্ত্রী, বন্ধু, বাবা-মা, প্রতিবেশী—প্রায় সবাই অভিনেতা। আর সিহ্যাভেন আসলে একটা বিশাল স্টুডিও সেট। ট্রুম্যান জানে না, তার প্রতিটি মুহূর্ত পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ দেখছে। মুভিটা দেখে আমার মনে হলো—জীবনটা যদি একটা ট্রুম্যান শো হয়, মন্দ কী?তাই একটা চমৎকার কাজ করলাম। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম। প্রতিটি আইটেম গেল। কার্ড গেল। টার্ম গেল। প্রফ এল। সাগরের মতো বিশাল একটা সিলেবাস সামনে রেখে আমি সিহ্যাভেনের বাসিন্দা হয়ে গেলাম। সবকিছু সাজানো। সবকিছু নির্দিষ্ট। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার। একই রাস্তা। একই ক্লাস। একই মুখ। একই হাজিরা। একই অ্যাবসেন্ট ফি। আমি একটু একটু করে পড়ছি। আর তারও বেশি সব ভুলে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের একটা লুপে আটকে আছি। সেই লুপে প্রতিদিন একটু একটু করে মারা যাচ্ছি। শরীরের ভেতর যেন মাইক্রোগ্রাম করে আর্সেনিক বাড়ছে। নাকি সায়ানাইড? ঠিক বুঝতে পারছি না।তারপর এল সেই রাত। সারা রাত অ্যানাটমি পড়লাম। সকালে ভাইভা বোর্ডে গিয়ে বুঝলাম, মানুষের শরীর সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা হয়নি। কিছুই পারলাম না। হোস্টেল রুমে ফিরে নিজেকে মনে হলো ভিয়েতনাম যুদ্ধে হারা এক সৈনিক। রাতে ঘুম হলো না। তাই সে রাতে আরেকটা মুভি দেখলাম, ‘টেক্সি ড্রাইভার’।ট্রাভিস বাইকেল, ছাব্বিশ বছর বয়সী এক ভিয়েতনাম যুদ্ধের সৈনিক। নিউইয়র্কে থাকে। ঘুম হয় না। ভয়াবহ ইনসমনিয়া। তাই রাতে ট্যাক্সি চালায়। অন্ধকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। দিনে একা থাকে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য জায়গায়। ট্রাভিস ভীষণ একা।সে মানুষের মধ্যে আছে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে নেই। মুভিটা শেষ হওয়ার পর ল্যাপটপের স্ক্রিনে নিজের মুখ দেখলাম। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, ট্রাভিস বাইকেল আর আমার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। শুধু সে ট্যাক্সি চালায়। আমি মেডিক্যাল কলেজে পড়ি। যে কখনো লেখক, কখনো সিনেমার ডিরেক্টর হতে চায়। হতে চায় মার্টিন স্কোরসেস, স্টিভেন স্পিলবার্গ, আকিরা কুরোসাওয়া কিংবা এই উপমহাদেশের সত্যজিৎ রায়, জহির রায়হান।এই পর্যন্ত লিখে বোর্ড থেকে আঙুল সরিয়ে নিলাম। লেখাটা কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য একটু বেশি সেন্টিমেন্টাল হয়ে যাচ্ছে না? মাথায় আর কিছু আসছে না। শেষবার লিখেছিলাম মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার আগে। প্রায়ই পত্রিকায় লিখতাম। এখন আর কলমে কিংবা কি–বোর্ডে—কোথাও লেখা হয়ে ওঠে না। কিন্তু ডেডলাইন কাল। কিছু একটা লিখতেই হবে। ভালো লাগছে না। হাত বাড়িয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিনটা নামিয়ে দিলাম। সটান হয়ে ফোন হাতে শুয়ে পড়লাম বিছানায়। তারপর ঢুকে গেলাম রিলসের জগতে।একটা রিলস। তারপর আরেকটা। তারপর আরও একটা। একসময় মনে হলো, আমি আর রিলস দেখছি না। রিলস আমাকে দেখছে। একই মুখ। একই হাসি। একই ধরনের মানুষ। একই ধরনের জীবন। একই ধরনের মৃত্যু। আমি স্ক্রল করছি। কিন্তু কোথাও পৌঁছাতে পারছি না। তাও স্ক্রল করতেই থাকলাম। হঠাৎ বুঝতে পারলাম, আমি আটকে গেছি। একটা লুপে। রিলসের লুপে। না, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের সকাল সাতটার ক্লাসের লুপে। নাকি দুটো একই জিনিস? একই রাস্তা। একই সকাল। সকালে ক্লাস নিচ্ছেন ডেড পয়েট সোসাইটি থেকে উঠে আসা একজন প্রফেসর। শুধু প্রতিবার মনে হয়, কিছু একটা বদলে গেছে। এই জগৎটা সত্যি তো? নাকি কেউ আমার চোখের সামনে একটা বাস্তবতা চালিয়ে দিচ্ছে? আমি ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’-এর কোনো এক চরিত্র। অথবা ‘শাটার আইসল্যান্ড’-এর কোনো একজন রোগী নাকি ‘আমেরিকান সাইকো’-এর কোনো একজন মানুষ, যে এখনো বুঝতে পারেনি সে কতটা পাগল। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমাকে কেউ ধরতে আসছে।কে জানি না। কেন জানি না। শুধু বুঝতে পারি, আমাকে পালাতে হবে।পালাতে পালাতে চিৎকার করে বললাম, ‘না! আমি “পথের পাঁচালী”র অপু নই। আমি অপুর সংসারের অপু। আমার অপর্ণা মারা গেছে।’মানসকন্যাঅদ্ভুত ব্যাপার, আমি তাও কাঁদছি না। বরং খুশি। অনেক দিন ধরে আমার টেবিলের ড্রয়ারে একটা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি পড়ে ছিল। গল্পটা এগোচ্ছিল না। কারণ, নায়িকা বেঁচে ছিল। তাই তাকে মেরে ফেলেছি। গল্পের নায়িকা অপর্ণা মারা গেছে। গল্পটা জীবিত। নায়িকা মৃত। গল্পটা এবার এগোবে। কিন্তু সমস্যা হলো, নায়িকাকে মেরে ফেলার পর থেকেই আমি নিজেই যেন গল্পের একটা চরিত্র হয়ে গেছি। আর এখন মনে হচ্ছে, কেউ একজন আমার গল্পটা লিখছে। হয়তো সে-ই আমাকে ধরতে আসছে। দরজার বাইরে সে। দরজায় ঢমঢম শব্দ হচ্ছে। আমি চমকে উঠলাম। আবার শব্দ। এবার আরও জোরে।ঢম।ঢম।ঢম।আমার ঘর কাঁপছে। কেউ যেন দরজায় লাথি মারছে। আমি চিৎকার করে বললাম,—আমি কিছু করিনি। আমাকে ছেড়ে দিন।ওপাশ থেকে কেউ বলল,—না। তুমি পাবলিক হেলথের সংজ্ঞা পারোনি।আমি চুপ।—এই ছেলে, দরজা খোলো।আরেকটা শব্দ।—নিউপ্লাসিয়ার সংজ্ঞা বলো।কেউ আমাকে ঝাঁকাচ্ছে। পৃথিবী দুলছে। দেয়াল দুলছে। বিছানা দুলছে। আমি চোখ খুললাম।আমার রুমমেট আমার কাঁধ ধরে দাঁড়িয়ে আছে।—এই! উঠ।আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।—কী হয়েছে?—ডাইনিংয়ে খাবার শেষ হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি আয়।আমি উঠে বসলাম। ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত অনেক হয়েছে। টাইমলি না গেলে খাবার শেষ হয়ে যায় ডাইনিংয়ের।ফোনে রিলসের ভিডিও থেমে আছে। রিলস দেখতে দেখতে কখন চোখ লেগে এসেছিল বুঝতেই পারিনি। রুমমেট বের হয়ে গেছে। বারান্দা দিয়ে দেখলাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের হেঁয়ালি বৃষ্টি। মুখ ধুতে গেলাম। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে রইলাম। দাড়ি একটু বেড়েছে। অবাক হলাম। আমি তো ভেবেছিলাম, মারা গেছি।ডাইনিংয়ে বসে ভাত খেতে খেতে ভাবতে লাগলাম, কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য কী লেখা যায়? হঠাৎ মাথায় একটা গল্প এল। একজন ছেলে। সে মনে করে নিজে মারা গেছে। মনে করে একটা লুপের মধ্যে আটকে আছে। মনে করে কেউ তাকে অনুসরণ করছে। মনে করে তার নিজের লেখা গল্পের একটা চরিত্র তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সৃজিত মুখার্জির ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো। প্রবীর রয় খুনিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে, খুনি প্রবীর রয় নিজেই।মনে মনে হাসলাম। গল্পটা মন্দ না। ভাতের শেষ লোকমাটা মুখে দিলাম। মনে হলো, গল্পটার নাম দেওয়া যায়—‘লুপ’।না।‘তেইশে শ্রাবণ’।ঠিক তখন পাশের টেবিল থেকে কেউ বলল, ‘নাইন জিরো ফাইভ, তোমার অ্যাবসেন্ট ফি এসেছে।’আমি মাথা তুললাম। লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে নেই। অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছে।আমি চুপ করে রইলাম। হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করলাম, আমি হোস্টেলের ডাইনিং হলে নেই। আমি শশাঙ্ক জেলখানার ডাইনিংয়ে খাবার খাচ্ছি। খাবারে মৃত তেলাপোকার পা। চারপাশে কয়েদি। আর আমি মেডিক্যাল ক্যাডেট নাইন জিরো ফাইভ নই। আমি..... আমি। আমি কে? আমি ‘শশাঙ্ক রেডাম্পশন’ মুভির একজন কয়েদি।অথবা—হয়তো আমি এখনো ঘুমিয়ে আছি। স্বপ্ন দেখছি। নাকি মেডিক্যালের তাড়নায় পাগল হয়ে গেছি। হয়তো আমি কোনো গল্পের ভেতরে। হয়তো কেউ একজন এই মুহূর্তে আমার গল্পটা লিখছে। আর হয়তো—সে আমার চেয়েও আগে জানে, পরের লাইনে কী লেখা হবে।শিক্ষার্থী, আর্মি মেডিক্যাল কলেজ, বগুড়া