নুভিস্তা ফার্মার সহযোগিতায় ‘পিসিওএস (PCOS) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে প্রথম আলো ডটকমের বিশেষ আলোচনা।
পিসিওএস কী, কেন হয়, এর লক্ষণগুলো কী এবং পিসিওএস শনাক্ত হলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় জানা জরুরি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি পিসিওএস নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা এবং নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যে এর প্রভাব নিয়েও থাকছে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
*আলোচক*
অধ্যাপক রাশিদা বেগম
চিফ কনসালট্যান্ট, আইসিআরসি
প্রেসিডেন্ট, এফএসএসবি
সেক্রেটারি জেনারেল, এন্ডোমেট্রিওসিস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
অধ্যাপক কোহিনুর বেগম
প্রেসিডেন্ট, পিজিএসবি
*সঞ্চালক*
ডা. শিরিন জাহান
সহকারী অধ্যাপক, (রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি)
রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিট
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অনলাইন প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে আটক চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী এলাকায় অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এতে সহযোগিতা করে খুলশী থানা পুলিশ। অভিযানে একটি বাসা থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের কয়েকজন এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা হয়েছে যেসব সরঞ্জামঅভিযানে ১৩৪টি পুরোনো/ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়। এছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাবলেট, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড ও মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র, কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ড জব্দ করা হয়েছে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করা হচ্ছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জাগোনিউজকে বলেন, বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য চক্রটির দেশীয় ও বিদেশি সহযোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, গ্রেফতাররা পরস্পরের যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন। তবে তারা কী ধরনের অনলাইন প্রতারণা করতেন এবং এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২১,২২,২৪ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমআরএএইচ/এমএএইচ/
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে আকস্মিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে শুক্রবার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিস্তারিত ভিডিওতে....
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ), ঢাকা আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সাগর, নদী, মাছ, গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি অঞ্চল বরিশাল। বলতে গেলে আমরা ডায়মন্ড খনির ওপর বসে আছি।অর্থনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দেশকে এগিয়ে নিতে বরিশাল অঞ্চলের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অংশগ্রহণ করেন। আরও পড়ুন চিফ হুইপ / বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস চিফ হুইপ বলেন, বরিশাল অঞ্চলের মানুষ সবসময় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। অথচ এ অঞ্চলে সাগর, নদী ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার রয়েছে। বরিশালে পর্যাপ্ত শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠেনি। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এখানে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা ও জাহাজ মেরামত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাও রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বরিশালকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ না করে যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্প, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান/ছবি: জাগো নিউজ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না; দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনীতিবিদদের অবস্থান এতটাই নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভালো মানুষ এখন আর রাজনীতিতে আসতে চান না। এমনকি রাজনীতিবিদদের ছেলে-মেয়েরাও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। আন্দালিভ রহমান বলেন, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্টের জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি। তা না হলে এ দেশে এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো গুণী ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতিবিদ তৈরি হবে না। আরও পড়ুন নূরুল ইসলাম / ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি সেমিনারে বরিশাল অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্পায়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, নদী ও সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিডিজেএ’ র সভাপতি মাহবুব সৈকতের সভাপতিত্বে ও যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি কাজী জেবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিডিজেএ’র সাধারণ সম্পাদক সানবীর রূপল, সদস্য সচিব নাজিয়া আফরিনসহ বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এমওএস/এমএমকে