টেইলর সুইফটের নামে এবার নাম রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার চার নতুন উদ্ভিদভোজী পোকার। শুধু গায়িকার নাম নয়, তাদের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর জনপ্রিয় তিন অ্যালবামের নামও।
এই পপ তারকার জীবনে সম্মানের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। গ্র্যামি, রেকর্ড, পুরস্কার, অসংখ্য ভক্ত—তালিকায় এবার যুক্ত হলো আরও অদ্ভুত এক পরিচয়। টেইলর সুইফট এখন একটি নতুন পোকার গোত্রের নামও।
অস্ট্রেলিয়ার গাছপালার আড়ালে এত দিন নিজেদের মতো করে বেঁচে ছিল ছোট্ট এই কীটগুলো। বিজ্ঞানীদের কাছে তারা ছিল অচেনা। আর তাদের আবিষ্কারের পর নামকরণে এসে যেন মিশে গেল পপ কালচার ও প্রকৃতিবিজ্ঞান।

নতুন এই পোকাগুলোর গোত্রের নাম দেওয়া হয়েছে সুইফটিফাইলাস। নামটির প্রথম অংশ এসেছে ‘সুইফটি’ থেকে—টেলর সুইফটের ভক্তদের পরিচিত নাম। আর দ্বিতীয় অংশ ‘ফাইলাস’ ব্যবহার করা হয়েছে এ ধরনের পোকার বৈজ্ঞানিক নামকরণের প্রচলিত ধারা অনুসরণ করে।
এই গোত্রের চারটি প্রজাতির নামেও রয়েছে টেইলর-ছোঁয়া। সুইফটিফাইলাস টেইলরে নামটি সরাসরি টেলরের নাম থেকে। আর বাকি তিনটি—সুইফটিফাইলাস আমাটর, সুইফটিফাইলাস ইনট্রেপিডাস ও সুইফটিফাইলাস পোয়েটোরাম—এসেছে তাঁর অ্যালবাম ‘লাভার’, ‘ফিয়ারলেস’ এবং ‘দ্য টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’-এর নামের লাতিন রূপ থেকে।
টেইলরের অ্যালবামের মতোই ছোট্ট এই পোকাগুলোরও এখন আছে আলাদা এক ‘এরা’। এদের নামেই যার মধ্যে লুকিয়ে আছে পপ তারকার উপস্থিতি।

নামকরণের গল্পটি শুধু টেলরের গানের প্রতি ভালোবাসা থেকে নয়। পোকাগুলোর চেহারাতেও গবেষক সারাহ শ্রোডার খুঁজে পেয়েছেন টেইলর সুইফটের পরিচিত স্টাইলের ছাপ।
হালকা হলুদাভ শরীরের ওপর লালচে-কমলা দাগ। শ্রোডারের চোখে যা মনে করিয়ে দেয় টেলরের স্বর্ণালি চুল আর লাল ঠোঁটের কথা। তাই গবেষণাপত্রে তিনি পোকাগুলোকে মজা করে ‘ব্লন্ড’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
রঙের এই মিল অবশ্য শুধু সৌন্দর্যের ব্যাপার নয়। অস্ট্রেলিয়ার শি-ওকগাছের ফুলের সঙ্গে মিশে থাকতে এই রং পোকাগুলোকে ছদ্মবেশ নিতেও সাহায্য করে। নতুন প্রজাতিগুলো মূলত এসব গাছ ও গুল্মের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

মজার বিষয় হলো, পোকাগুলোকে এখন আবিষ্কার করা হলেও তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল অনেক আগেই। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার সময় এসব নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন মার্কিন ও অস্ট্রেলীয় গবেষকেরা।
সেই বিশাল সংগ্রহের ৫৯৩টি নমুনা পরে সারাহ শ্রোডারের গবেষণার অংশ হয়। ২০২২ সালে পিএইচডি গবেষণা শুরু করে তিনি নমুনাগুলোর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। তাতেই বেরিয়ে আসে ১২টি আগে অজানা প্রজাতির তথ্য। এর মধ্যে চারটি প্রজাতিকে রাখা হয় নতুন গোত্র ‘সুইফটিফাইলাস’-এর অধীনে।
অর্থাৎ যেসব পোকা দুই দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণাগারের সংগ্রহে অপেক্ষা করছিল, তাদের নতুন পরিচয় মিলল টেইলর সুইফটের নামের সঙ্গে।
নামকরণের পেছনে অবশ্য নিছক ভক্তির গল্প নেই। সারাহ শ্রোডার নিজে দীর্ঘদিনের ‘সুইফটি’। তাঁর আশা, টেইলর সুইফটের মতো পরিচিত একটি নামের সঙ্গে নতুন প্রজাতিগুলোর পরিচয় যুক্ত হলে মানুষ পোকামাকড়ের বৈচিত্র্য ও সংরক্ষণের বিষয়েও আগ্রহী হবে।
কারণ, পৃথিবীর অসংখ্য কীটপতঙ্গ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। কোনো প্রজাতির অস্তিত্বই যদি জানা না থাকে, তাহলে তাকে সংরক্ষণ করাও সম্ভব নয়—গবেষণার মূল বার্তাটি সেখানেই।
সুইফটিফাইলাস গোত্রের পোকাগুলো ‘মিরিডি’ পরিবারের সদস্য। সত্যিকারের পোকা বা ‘ট্রু বাগ’-এর সবচেয়ে বড় পরিবারগুলোর একটি এটি; বিশ্বজুড়ে এই পরিবারের ১১ হাজারের বেশি লিপিবদ্ধ প্রজাতি রয়েছে। নতুন প্রজাতিগুলো মানুষ বা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর বলে জানা যায়নি।

টেইলর সুইফটের ফ্যাশন, সংগীত কিংবা পপ কালচার—সবকিছুতেই যেন নতুন নতুন ‘এরা’ তৈরি হয়। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো প্রকৃতির এক অদ্ভুত অধ্যায়। সেটাকে কীট–অধ্যায় বলাই যায়।
অস্ট্রেলিয়ার শি-ওকগাছের পাতার আড়ালে থাকা ছোট্ট হলুদ-লাল পোকাগুলো হয়তো কোনো রেড কার্পেটে হাঁটবে না, কোনো মিউজিক ভিডিওতেও দেখা যাবে না। কিন্তু তাদের নাম এখন পৌঁছে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত পপ তারকাদের একজনের সঙ্গে।
বিজ্ঞানের ভাষায় তারা সুইফটিফাইলাস। আর পপ সংস্কৃতির ভাষায়? টেলর সুইফটের নাম জড়িয়ে থাকা এই পোকাগুলো যেন প্রকৃতির পাতায় লেখা তাঁর নতুন এক ‘এরা’।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডল
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ), ঢাকা আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সাগর, নদী, মাছ, গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি অঞ্চল বরিশাল। বলতে গেলে আমরা ডায়মন্ড খনির ওপর বসে আছি।অর্থনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দেশকে এগিয়ে নিতে বরিশাল অঞ্চলের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অংশগ্রহণ করেন। আরও পড়ুন চিফ হুইপ / বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস চিফ হুইপ বলেন, বরিশাল অঞ্চলের মানুষ সবসময় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। অথচ এ অঞ্চলে সাগর, নদী ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার রয়েছে। বরিশালে পর্যাপ্ত শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠেনি। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এখানে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা ও জাহাজ মেরামত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাও রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বরিশালকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ না করে যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্প, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান/ছবি: জাগো নিউজ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না; দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনীতিবিদদের অবস্থান এতটাই নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভালো মানুষ এখন আর রাজনীতিতে আসতে চান না। এমনকি রাজনীতিবিদদের ছেলে-মেয়েরাও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। আন্দালিভ রহমান বলেন, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্টের জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি। তা না হলে এ দেশে এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো গুণী ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতিবিদ তৈরি হবে না। আরও পড়ুন নূরুল ইসলাম / ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি সেমিনারে বরিশাল অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্পায়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, নদী ও সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিডিজেএ’ র সভাপতি মাহবুব সৈকতের সভাপতিত্বে ও যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি কাজী জেবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিডিজেএ’র সাধারণ সম্পাদক সানবীর রূপল, সদস্য সচিব নাজিয়া আফরিনসহ বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এমওএস/এমএমকে
বদরউদ্দীর উমর তাঁর লেখায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভব, এর শাসকশ্রেণির চরিত্রের বিশ্লেষণ করে গেছেন। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের যে বয়ান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যে বয়ান—সেই বয়ানের ওপর নির্ভর করে যে চরম ফ্যাসিবাদী শাসন এবং জনগণের ওপরে গুম, ক্রসফায়ার, বিনা বিচারে আটক, মিথ্যা মামলা চেপে বসেছিল, তিনি এসবের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন।আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথাগুলো বলেন আলোচকেরা। বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম।ফয়জুল হাকিম বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর কেবল ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ, এ দেশের সর্বশ্রেণির একজন প্রতিনিধি। তিনি যে অসমাপ্ত কাজ করে গিয়েছেন, যে বিপ্লবের জন্য, যে সর্বহারা বিপ্লবের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন, সেই কাজের পূর্ণতা দিতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের এই নেতা বলেন, বদরুদ্দীন উমর তাঁর ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে দেশে লুণ্ঠনজীবী পুঁজি গড়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রেণিচরিত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, এই শ্রেণি শিল্প, উৎপাদন, কৃষি কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিল না। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাচালান, লুটপাটের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক ব্যবসায়ী শ্রেণি দেশের শাসনক্ষমতা দখল করেছিল।বদরুদ্দীন উমরের ওই লেখার কথা উল্লেখ করে ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ যেভাবে গঠিত হয়েছে এবং যে সরকার ও বিরোধী দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা মূলত এই লুণ্ঠনজীবী শাসকশ্রেণিরই প্রতিনিধি। তাঁর ভাষায়, এদের পক্ষে জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা ‘মহামান্য’ আর ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দিতে পারে, কিন্তু এর বাইরে তাদের আর খুব বেশি কিছু করার নেই।মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার ধর্মকে ব্যবহার করছে বলেও সভায় অভিযোগ করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম। তিনি বলেছেন, গাজায় যখন ফিলিস্তিনিদের মেরে ফেলল, কোথায় ছিল সৌদি আরব, তুরস্ক আর পাকিস্তান? দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা শাসকশ্রেণি করছে, এই চেষ্টা তারা করতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী কোনো যুদ্ধজোটে বাংলাদেশ যাবে না। এটা পরিষ্কার কথা।আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পাভেল চৌধুরী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজ আহমেদ প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনে এখন ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিকল্প নেই। একমাত্র ইসলামিক সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই প্রতিনিধি সমাবেশের আয়োজন করে। স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে চরমোনাই পীর বলেন, উন্নয়নের বদলে উল্টো একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, দেশের জনগণ অতীতের বিভিন্ন সময়ে প্রচলিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শাসন প্রত্যক্ষ করেছে। দেশ পরিচালনায় তারা সবাই চরমভাবে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। জনগণের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনে এখন ইসলামি শাসনব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র ইসলামিক সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম। এতে জেলা ও উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মহসীন ইসলাম শাওন/এসআর