গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিংটেইল লেমুর ভারতের গুজরাটের জামনগরের ভান্তারা পার্কে রয়েছে—বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাইকরণে আইনসম্মত যেকোনো অনুরোধে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় ভান্তারা। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গুজরাটের জামনগরে গড়ে ওঠা ভান্তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভান্তারায় থাকা প্রতিটি প্রাণীর উৎস ও ইতিহাসের নথি সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে যেসব রিংটেইল লেমুরের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা মেনেই সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ভান্তারা নিশ্চিত।
প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে ভান্তারা প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা একটি গুরুতর অপরাধ। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সমর্থন করে ভান্তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই মামলায় ভান্তারা অভিযুক্ত নয় এবং কোনো তদন্তকারী সংস্থা থেকে তারা এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি। প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও ভান্তারার কোনো লেনদেন নেই। ভান্তারার তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
ভান্তারা জানিয়েছে, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা রিংটেইল লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নথিগুলো পরীক্ষা করতে ভান্তারার স্বাধীন পরিচালনা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, ভান্তারার বিবৃতিটি আমরা ফেসবুকে দেখেছি। যেহেতু লেমুর চুরি যাওয়ার পর প্রথমে ডিবি পুলিশ, পরে সিআইডি তদন্ত করেছে, একটি তদন্তকারী সংস্থা এখন কাজ করছে। আমরাও তাদের সবদিক থেকে সহযোগিতা করব।’
তিনি বলেন, একই পরিবারের সদস্য অপর একটি লেমুর গাজীপুর সাফারি পার্কে রয়েছে। লেমুরটির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই তা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যেভাবে চুরি হয়েছিল
২০১৮ সালের ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে রুট হিসেবে অন্য দেশে পাচারের সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর সঙ্গে একটি পুরুষ ও একটি মাদি লেমুর উদ্ধার করা হয়। পরে লেমুর দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়। পার্কে থাকাকালে লেমুর দুটির বাচ্চা জন্ম নেয়।
এরপর একটি লেমুর মারা গেলে পার্কে তিনটি লেমুর ছিল। ২০২৫ সালের ২২ মার্চ দিনগত রাতে লেমুরের বেষ্টনীর নেট কেটে তিনটি লেমুর চুরি করা হয়। এ ঘটনায় ২৪ মার্চ থানায় অভিযোগ দেওয়া হয় এবং ৬ এপ্রিল মামলা করা হয়।
পরে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি লেমুর উদ্ধার করে পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর চুরি হয়ে যাওয়া লেমুর উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি জানতে পারে, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতের গুজরাটের জামনগরে ভান্তারায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সিআইডির বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে পাচারের পর একাধিক হাতবদল হয়ে লেমুর দুটি প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে ভান্তারায় বিক্রি করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
শিহাব খান/কেএইচকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বগুড়ার শেরপুরে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতার দাবি, চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং জমিসংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌরসভার সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়ক এলাকায় অবস্থিত সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এবং সায়েম ট্রেডার্স নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে মো. আবদুল্লাহ আল রাফাত (৩৩) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলায় শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে (৪২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত নিজেও শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম মণ্ডল সুরুজকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তোদের মালিক যদি আমাকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়, তবে এই এলাকায় কোনো ব্যবসা করতে দেব না। একই সঙ্গে তাদের মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তরিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও মদদে ৫০-৬০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে পুনরায় পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা দিতে অস্বীকার করায় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর ব্যাগে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আসামিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত বলেন, আমরা একই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। এর আগেও সরকারের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে ওই যুবদল নেতা ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি। তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি বগুড়া শহরে ছিলাম। সেখানে চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো প্রশ্নই আসে না। মূল ঘটনা হচ্ছে, আরফান ও আবদুল মান্নানরা স্থানীয় পৈতৃক ও সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে কেবল এর প্রতিবাদ করেছেন। আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন সেখানে চাঁদার কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করতেই এই ভিত্তিহীন এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে বিষয়টি মূলত জায়গা-জমিসংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো স্পষ্ট ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এল.বি/কেএইচকে
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আজ শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তার শিক্ষক মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসায় তিন বছর ধরে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। মাদ্রাসাটির মুহতামিমকে (পরিচালক) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি উপজেলা সদরের কওমি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন।শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক ওই মাদ্রাসায় প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয় ভুক্তভোগী ছেলেশিশুটি। প্রায় তিন মাস আগে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। এর এক দিন পর তিনি শিশুটিকে আবার ধর্ষণ করেন। এভাবে প্রায় এক মাস চলতে থাকে। এর মধ্যে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে শিক্ষকের ভয়ে আসল ঘটনা পরিবারকে বলেনি সে। মাকে শিশুটি পেটব্যথার কথা জানায়।আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর)মাদ্রাসার শিক্ষক যে এ ধরনের অপকর্ম করতে পারেন, তা খুবই ভয়ংকর। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ যে শিক্ষক করেছেন, তাঁর উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন।শিশুটির মা তাকে বাড়িতে নিয়ে প্রথমে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিশুটি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে মা তাকে মাদ্রাসায় রেখে যান। এরপর আবারও মাদ্রাসায় একই ঘটনা ঘটলে শিশুটির মা তাকে স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানের লোকজনের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ান। ছেলেকে আবারও মাদ্রাসায় রেখে যান।সবশেষ এক সপ্তাহ আগে মাকে ফোন করে মাদ্রাসা থেকে ওই শিশুকে নিয়ে যেতে বলা হয়। শিশুটির মা বলেন, ‘আমি গত মঙ্গলবার মাদ্রাসা আসছি পরে বাচ্চাটা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে আর বলে, “আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও”। আমি ছেলের জন্য রান্না করে নিয়ে আসলে খাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। সেদিন সেই খাবারও হাতে নেয় না। আমাকে খালি বলে, “আমাকে নিয়ে চল, আমি এখানে থাকুম না। আমার অনেক কষ্ট হয়”। আমি তখনো বুঝতে পারিনি। পেটব্যথার কথা বললে আমি তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’আবদুল্লাহ আল মামুন, ওসি, মির্জাপুর থানাএ ঘটনায় শিশুটির মা আজ দুপুরে বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসার মুহতামিম পুলিশের হেফাজতে আছেন।পরে ছেলেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান ওই মা। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির মা।চিকিৎসকের বরাত দিয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞাসা করে, “আপনার ছেলেকে যে এ রকম (ধর্ষণ) করছে, কোনো সময়ই কিছু মনে হয় নাই?” আমি বলি, না। মুরব্বিরা বলে, রক্ত আমাশয় হয়, সে জন্য কিছু মনে করি নাই। লাস্টে (শেষে) আমার ছেলেরে এক্স-রে করাইছে, পরীক্ষা করাইছে। তারপর কালকে আমাকে এই (ধর্ষণের) রিপোর্ট দিছে, আর বলছে, “আপনার ছেলেকে ওই মাদ্রাসা থেকে সরান, না হলে বাঁচাতে পারবেন না।”’আজ সকালে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে এবং মুহতামিমকে জানাতে মাদ্রাসায় যান শিশুটির মা ও নানা। অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানালে তিনি তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় পাশে থাকা অভিভাবকেরাও বিষয়টি জানতে পারেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক এগিয়ে এসে পাশে থাকা কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে তর্কে জড়ান।ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাজিম উদ্দিন ও স্থানীয় আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় মুহতামিম অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার ফটক আটকে দিতে বলেন। মুহতামিম অভিভাবকদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। অন্যান্য অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও মুহতামিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।মুহতামিম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে। তবে তিনি অভিভাবকদের ওপর হামলাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেন।মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির মা আজ দুপুরে বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসার মুহতামিম পুলিশের হেফাজতে আছেন। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি থানাতেই ছিলেন।এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। আজ দুপুরে তিনি মির্জাপুরের একটি মাদ্রাসার নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক যে এ ধরনের অপকর্ম করতে পারেন, তা খুবই ভয়ংকর। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ যে শিক্ষক করেছেন, তাঁর উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন।
সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার মাধ্যমেই সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি জাতিরই একটি নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে। তবে নিজেদের সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে লালন ও ধারণ না করার কারণে সমাজে অপসংস্কৃতি ভর করেছে।আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’ আয়োজিত নাত-এ রাসুল ও কাওয়ালি সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। অপসংস্কৃতির বিষয়টিকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশই পারে একটি জাতিকে সঠিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।জামায়াত আমির বলেন, অপসংস্কৃতিকে শুধু মুখের বক্তব্য বা প্রতিবাদ দিয়ে ঠেকানো যাবে না, বরং সুস্থ তামাদ্দুন ও সংস্কৃতির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সমাজে পারস্পরিক মূল্যবোধের অভাব দেখা দিচ্ছে। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা ও সঠিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, একটি রাষ্ট্র নির্বাচন কিংবা গণবিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই রাষ্ট্রের মানুষ যদি ওই আদর্শকে ধারণ, লালন ও চর্চা করতে না পারে এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যক্রমে তা ধারণ ও বহন করতে না পারে, তাহলে একটি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পর সেই বিপ্লব ধরে রাখা যায় না; প্রতিবিপ্লব হয়।জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চাই। এ ধরনের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সে জন্য আমাদের বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক পরিকল্পনা অন্যতম।’অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন ‘দেশীয় সংস্কৃতি সংসদ’–এর উপদেষ্টা মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘১৩৭ থেকে ১৪৭ জন শিশু জীবন দিয়েছে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। আমরা শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক উন্মেষ সৃষ্টির জন্য যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি, তা বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব এবং সর্বশেষে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।’