চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক।
ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন তাঁরা। এ কাজে তাঁদের সহায়তা করেছে দেশীয় একটি চক্র।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ৬৩ জনের পাসপোর্ট ও ভিসা তাঁদের কাছে নেই। এসব নথি দেশীয় চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ওই ভবন থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন প্রতারণার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ বলেন, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলছে। সেখানে প্রতারণার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় দেড় মাস আগে তাঁরা খুলশীর ওই আটতলা ভবন ভাড়া নেন। ভবনটির মালিক দুবাইপ্রবাসী।
ফয়সাল আহম্মদ বলেন, ভবনটির ১৪টি ইউনিটে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অন্য কোনো বৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তাঁদের কাছে পাসপোর্ট ও ভিসাও পাওয়া যায়নি। এসব নথি দেশীয় চক্রের সদস্যদের হাতে রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কীভাবে বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাঁদের ভিসার ধরন কী, তা জানতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কী ধরনের প্রতারণা করা হতো, জানতে চাইলে ফয়সাল আহম্মদ বলেন, কখনো নিজেরা ওয়েবসাইট খুলে, আবার কখনো বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এসব প্রতারণার সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত এবং কী পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে চক্রের মাঠপর্যায়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছিল, চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক আইফোন কী কাজে ব্যবহার করা হতো এবং এর সঙ্গে অনলাইন প্রতারণার কী সম্পর্ক, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
কক্সবাজারের ওই ঘটনার সঙ্গে খুলশীর ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) হকি বিশ্বকাপের গত আসর মাতিয়েছিলেন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম। ভারতের চেন্নাই ও মাধুরাইয়ে হওয়া ওই আসরে বাংলাদেশ ২৪ দেশের মধ্যে সতেরতম হলেও আমিরুল পাঁচটি হ্যাটট্রিকসহ ১৮ গোল করে হকি দুনিয়ায় তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বকাপের পরের আসরেই বাংলাদেশ নেই। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-২ গোলে জাপানের বিপক্ষে হারলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ওমানে হওয়া জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ পঞ্চম হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছিল। এশিয়া কাপ থেকে শীর্ষ ৬ দলের থাকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। জাপানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের সেই সুযোগ তৈরি হতো। তবে বড় ব্যবধানে হেরে বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হয়। বাংলাদেশের যুবাদের সামনে একটি ম্যাচ আছে। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে শনিবার জিতলে সপ্তম হয়ে দেশে ফিরতে পারবে চীনের মকি থেকে। ওই শহরে বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলও এশিয়া কাপ খেলছে। মেয়েরা আগের দিন এই জাপানের কাছে হেরেই স্বপ্ন প্রায় শেষ করে ফেলেছে। স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের মেয়েদের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা কিঞ্চিত টিকে থাকবে। জাপানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই গোল করেছেন মোহাম্মদ মেহেদী ও মুন্না ইসলাম। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ হেরেছিল চীন ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। তৃতীয় ম্যাচে কাজাখস্থানকে হারালেও শেষ ম্যাচে হেরেছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। আরআই/এমএমআর
‘স্মার্ট উপায়ে বিদ্যুৎ বিল কমান’, ‘বিদ্যুৎ খরচ কমবে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ’, ‘যে কোনো সকেটে লাগালেই সাশ্রয়’—এমন নানান চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক সয়লাব। এক শ্রেণির প্রতারক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা চটকদার এসব বিজ্ঞাপনে দাবি করছেন, ছোট্ট একটি ‘স্মার্ট এনার্জি সেভার’ বা ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইস বাসার যে কোনো সকেটে লাগিয়ে রাখলেই প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। ইদানিং কম্পিউটার বা মোবাইলের মাউস স্ক্রল করলেই ইংরেজি ও বাংলায় এমন প্রলুদ্ধকর বিজ্ঞাপন চোখে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ডিভাইসের দাম মাত্র ৪৯০ থেকে ৬৯০ টাকা হাকা হচ্ছে। সরকারিভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ার পাশাপাশি ইউনিটপ্রতি বিভিন্ন স্ল্যাবের কারণে বিদ্যুতের বিল অতিরিক্ত আসার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিল তুলনামূলক বেশি আসায় চিন্তিত সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের অনেকেই না বুঝে প্রতারকদের এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা নুরুল আলম (ইলেকট্রনিক সামগ্রী সম্পর্কে ভালো পড়াশোনা রয়েছে) জানান, তার পরিচিত অনেকেই ফেসবুকে দেখা এসব বিজ্ঞাপনের সত্যতা জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এই ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবিকে একেবারেই ‘অমূলক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আরও পড়ুন কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং গত দুই-তিন দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রল করে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে হরেক নামে অনলাইন পেজ ও শপের বিজ্ঞাপনে বিল কমানোর এসব ভিত্তিহীন দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—Best Shop (বেস্ট শপ), 2inshop (টু ইন শপ), Allion Shop (অ্যালিয়ন শপ), Sellerybd.com (সেলারি বিডি ডট কম” Osthir Collection (অস্থির কালেকশন), Sarashopbd.com (সারা শপ বিডি ডট কম), Daily Spark Bd (ডেইলি স্পার্ক বিডি), Carry Bd (ক্যারি বিডি), Best Shopping (বেস্ট শপিং), EG SaleBd (ইজি সেল বিডি), One Stop Galaxy (ওয়ান স্টপ গ্যালাক্সি), TRT Shop (টিআরটি শপ), Discount Shop (ডিসকাউন্ট শপ), Kinelio (কিনেলিও), The Asia Express (দ্য এশিয়া এক্সপ্রেস), Good Shop (গুড শপ), Vat 30 (ভ্যাট ৩০), Nobo Mart Bd (নোবো মার্ট বিডি), Genious Mart Bd (জিনিয়াস মার্ট বিডি), Zero.O (জিরো ডট ও), Instant Product (ইনস্ট্যান্ট প্রোডাক্ট), Naturo Mart.com (ন্যাচুরো মার্ট ডট কম), Paikari.com (পাইকারি ডট কম), Dorkari Bazar (দরকারি বাজার)। তবে বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা এবং আন্তর্জাতিকভাবে একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষার তথ্য বলছে, সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই ধরনের ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইস নিয়ে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের অভিযোগ উঠেছে। যে কোনো সকেটে লাগালেই বিল কম! ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছে, ডিভাইসটি বাসা, অফিস কিংবা দোকানের যে কোনো বৈদ্যুতিক সকেট বা মাল্টিপ্লাগে সংযুক্ত করলেই বিদ্যুতের অপচয় কমে যাবে। এর জন্য কোনো ধরনের সেটিং, মিটার পরিবর্তন কিংবা আলাদা সংযোগের প্রয়োজন নেই। কিছু বিজ্ঞাপনে আরও বলা হচ্ছে, ডিভাইসটি বিদ্যুতের ‘ভোল্টেজ স্থিতিশীল’ করবে, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের আয়ু বাড়াবে, শর্ট সার্কিট ও সার্জ থেকে সুরক্ষা দেবে এবং একই সঙ্গে মাসিক বিল কমাবে। কম দাম, ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা এবং ‘বিল ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে’ এমন প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে অনেক গ্রাহক পণ্যটি কিনছেন। কিন্তু পণ্যটির কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য বিজ্ঞাপনগুলোতে কোনো স্বীকৃত পরীক্ষাগার প্রতিবেদন, স্বাধীন পরীক্ষার ফল কিংবা বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিজ্ঞান কী বলছে? বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মূলত কিলোওয়াট-আওয়ার (kWh) বা ইউনিটে করা হয়। অর্থাৎ, কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র কত সময় ধরে কী পরিমাণ সক্রিয় বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তার ভিত্তিতেই ব্যবহৃত ইউনিট নির্ধারিত হয়। এ ধরনের ‘এনার্জি সেভার’ ডিভাইসের ভেতরে সাধারণত ক্যাপাসিটর, ছোট সার্কিট ও একটি এলইডি ইন্ডিকেটরের মতো সাধারণ উপাদান থাকে। ক্যাপাসিটর দিয়ে ‘পাওয়ার ফ্যাক্টর’ সংশোধনের প্রযুক্তি শিল্পকারখানায় বাস্তব ও কার্যকর হলেও সেটিকে বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমানোর উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। আবাসিক গ্রাহকের কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যবহারের পরিমাণ এতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে না। আরও পড়ুন বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে বাড়লো ১ টাকা ৫২ পয়সা একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন স্বাধীন ফ্যাক্টচেক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে প্লাগ-ইন ‘পাওয়ার সেভার’ সাধারণ আবাসিক বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য মোটেও কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের কারণে এগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ‘পাওয়ার ফ্যাক্টর’ নিয়ে বিভ্রান্তি এই প্রতারণার অন্যতম কৌশল হলো ‘পাওয়ার ফ্যাক্টর’ শব্দটির অপব্যবহার। বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে পাওয়ার ফ্যাক্টর সংশোধনের জন্য ক্যাপাসিটর ব্যবহারের বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে, বিশেষ করে বড় শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তবে শিল্পকারখানার পাওয়ার ফ্যাক্টর সংশোধনের বিষয়টিকে সাধারণ বাসার মাসিক বিদ্যুৎ বিল কমানোর সঙ্গে এক করে দেখানো যুক্তিযুক্ত নয়। সাধারণ গ্রাহকের ক্ষেত্রে একটি ছোট প্লাগ-ইন ক্যাপাসিটর লাগিয়ে ২০, ৩০ কিংবা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বিল কমানোর দাবি তাই চরম বিভ্রান্তিকর ও সন্দেহজনক। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য গ্রাহকদের যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বাতি ও ফ্যান বন্ধ রাখা, দক্ষ বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার এবং এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) তাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নির্দেশনায় ব্যবহার শেষে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনে লাইট-ফ্যান না চালানো, চার্জার ব্যবহারের পর সকেট থেকে খুলে রাখা, শক্তি সাশ্রয়ী আলো ব্যবহার এবং ফ্রিজ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি ডেসকোর ওয়েবসাইটেও গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও খরচ নিয়ন্ত্রণে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য দেওয়া রয়েছে। সস্তা ডিভাইসে অগ্নিঝুঁকি বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি প্রমাণিত না হলেও নিম্নমানের কোনো বৈদ্যুতিক ডিভাইস সার্বক্ষণিক সকেটে লাগিয়ে রাখলে নিরাপত্তার বিষয়টি চরমভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। নিম্নমানের প্লাস্টিক, তার, ক্যাপাসিটর বা সার্কিটে ত্রুটি থাকলে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে শর্ট সার্কিট বা বড় ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও এই ধরনের ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইসের নিরাপত্তাঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও পড়ুন বাড়িতে মিটার নেই, তবুও এল ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অচেনা কোনো ডিভাইস সকেটে লাগানোর আগে এর বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনের বিষয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মিটারে কারসাজি করলে শাস্তি বিদ্যুৎ বিল কমানোর নামে মিটার বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কারসাজি করা আরও গুরুতর অপরাধ। বিদ্যুৎ আইনে মিটার বা পরিমাপক যন্ত্রে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই কোনো বিজ্ঞাপনে মিটারের রিডিং কমানো, মিটার ‘ধীর’ করা বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপের কথা বলা হলে গ্রাহকদের তা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে কীভাবে কমবে বিদ্যুৎ বিল? বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বিল কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ব্যবহারের পরিমাণ কমানো। অপ্রয়োজনে এসি, ফ্যান, লাইট ও অন্যান্য যন্ত্র চালু না রাখা, শক্তি সাশ্রয়ী এলইডি ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় রাখা, পুরোনো ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎখেকো যন্ত্রের পরিবর্তে দক্ষ যন্ত্র ব্যবহার এবং প্রিপেইড মিটারে নিয়মিত ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করাই একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায়। ডেসকো তাদের নির্দেশনায় এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। অতএব ‘সকেটে লাগান, বিল ৩০ শতাংশ কমান’—এমন চটকদার বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করার আগে পণ্যের বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহকরা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য দেখা যায়, যার সবগুলো তৎক্ষণাৎ বিটিআরসির নজরে আসে না। তবে কোনো বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা বন্ধ বা সরানোর মতো হলে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে (যেমন: ফেসবুক) অনুরোধ জানাতে পারে। এছাড়া বিষয়টি মূলতঃ বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেই বেশি সম্পৃক্ত। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) মনিটরিং সেলের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.টি.এম রাসেল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমইউ/এমকেআর
সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬–এর খসড়ায় এমন কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, অংশীজনদের মতামত ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে খসড়াটি ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬–এ সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার-সম্পর্কিত তিনটি জটিল বিষয় একটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করে তিনটির কোনোটিতেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে। সাইবার অপরাধের সঙ্গে সাইবার সুরক্ষার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রকে একাকার করে ফেলার পাশাপাশি সাইবারজগতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ ভিন্ন, এ ধরনের আইনের আওতাবহির্ভূত এবং বৈশ্বিক উত্তম চর্চার পরিপন্থী।’খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস একটি অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীন, নিপীড়নমূলক ভুবনে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনটিতে গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন, মানহানিকর, রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকরসহ বেশ কিছু ধারণাকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যাখ্যার মাধ্যমে টার্গেটেড অপব্যবহার ও বিশেষ করে বাক্স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি সৃষ্টি করা হয়েছে। অধিকন্তু, “যৌন হয়রানি” ও “সেক্সটর্শন” ইত্যাদি শব্দবন্ধকে এমন অপেশাদার ও অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করে অভিযুক্তের সুরক্ষা আর ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের আশঙ্কা তৈরি করেছে।’ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনের ধারা-৪৬(২)–এ অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধারা-২৩ এর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাসহ ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ এবং ‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে’ ইত্যাদি যেসব বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ঘাটতি ও প্রায়োগিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক হওয়ার কারণে অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত ও বাক্স্বাধীনতাকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলবে।জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের কথা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের সমন্বয়ে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে বেসরকারি পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। এই দুজন আবার সরকার কর্তৃক মনোনীত হবেন। ফলে সুরক্ষা কাউন্সিল সরকারের সরাসরি কর্তৃত্বাধীন অবস্থায় কোনো প্রকার জবাবদিহিহীনভাবে এ আইনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা ও যথেচ্ছ প্রয়োগের ক্ষমতা লাভ করবে। অতএব, এ ধরনের ধারাগুলো ঢেলে সাজিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠনের আহ্বান জানাই।’স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন সাপেক্ষে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব রেখে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কাউন্সিল সদস্যসহ এ আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরল বিশ্বাসে তাদের কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য যেকোনো ধরনের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে যেভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সার্বিক বিবেচনায় খসড়া আইনটি ঢেলে সাজানো ছাড়া অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস একটি অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীন, নিপীড়নমূলক ভুবনে পরিণত হবে, যেখানে জনগণের অভিগম্যতা সরকারের মর্জিমাফিক নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ভিন্নমত দমনসহ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিকতায় পরিণত হবে।’ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সব নাগরিকের সাইবার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে খসড়াটি ঢেলে সাজানোর জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।