পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে। পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সুফল পাবেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে পাংশার হাবাসপুরে কে রাজ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় যোগদানের আগে তিনিসহ অতিথিরা হাবাসপুরে প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ও মাছের উৎপাদন বাড়বে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পানিবিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০৪ সাল থেকে কারিগরি সমীক্ষা নিয়ে আমরা এগিয়ে এসেছি। আজ ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) অনুমোদন পেয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।’

পদ্মা ব্যারাজকে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের মধ্যে যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাবাসপুর এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি পাবনার সুজানগরে গিয়েও এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সভা করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটবে। আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজের ৭৮টি স্পিলওয়ে (উপচে পড়া পানিনিষ্কাশনের পথ), ১৮টি আন্ডারস্লুইস (বাঁধের তলদেশে থাকা বিশেষ জলকপাট), দুটি ফিশ পাস (মাছের চলাচল পথ), নেভিগেশন লক ও বিশেষ পাইড বাঁধ থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ধাপে ২টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পানামা খালের চেয়েও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে পদ্মা ব্যারাজ
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতার আঙ্গিকে পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন (নকশা) করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন করছেন। আপনারা পানামা খালের কথা শুনেছেন, পানামা খালের চেয়েও বড় কায়দায় স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আজকের যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা হয়েছে। এ জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কিন্তু আপনাদের সাথে ব্যথিত।’

রাশেদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘আজকে কিন্তু সারা দেশে একটা বড় সমস্যা—বেকার সমস্যা। সারা বাংলাদেশে অবহেলিত অঞ্চলের জন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কাজ করে যাচ্ছেন। আজ আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন করছি, হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলছি। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে আপনারা জানুয়ারি মাসে একটা বড় রকমের পরিবর্তন দেখতে পারবেন, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থানযোগ্য শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হবে।’
হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান প্রামাণিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আসলাম মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পটুয়াখালীর বাউফলে এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সে এবার সাবুপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ৭ নম্বর বগা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের বিয়ের আয়োজন না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। পাত্রের বাবা মনির মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। যেহেতু মেয়ের বয়স হয়নি, ইউএনও অফিস থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে; এজন্য বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।’ ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘মেয়ের গলায় চেইন পরানো হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজন ও ছেলের বন্ধুরা এখানে এসে পড়েছে। বাজার করাও হয়ে গেছে। তাই ছোট পরিসরে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছি।’ পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবুপুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে। তিনি মানুষের মাধ্যমে বিয়ের আয়োজনের কথা শুনেছেন। কাগজপত্র অনুযায়ী মেয়ের বিয়ের বয়স না হলেও দেখতে অনেক লম্বা-চওড়া হওয়ায় তার বয়স হয়েছে বলে মনে হতে পারে। এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘গতকাল সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেখানে গিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা বলে দিয়েছি, মেয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত এখানে কোনো বিয়ের আয়োজন করা যাবে না।’ মাহমুদ হাসান রায়হান/এসআর
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজধানীর গুলশানে মিছিল করার সুযোগ পাওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিদ্রুপ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। সেই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আবু হানিফ লেখেন, ‘গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আজকের এই মিছিল করার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে গুলশান জোনের ডিসি (উপ-কমিশনার)। আপনারা কি মনে করেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই মিছিলের বিষয়ে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না?’ গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে বিরোধীদলের নেতারা শৌচাগারে গেলেও সেই তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে থাকতো। তাহলে এখন আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে অগ্রিম তথ্য থাকে না, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন টাকার বিনিময়ে মিছিল করার সুযোগ করে দেন। আরও পড়ুন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবু হানিফের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় গুলশানের ওই মিছিলের ‘সব ক্রেডিট’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসি-সংলগ্ন গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। তা ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার এবং পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এমডিএএ/একিউএফ
বিমানবন্দরে তখন অপেক্ষায় স্বজনেরা। অপেক্ষার অবসান হলো শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে। কিন্তু প্রিয় মানুষটির দেখা মিলল কফিনের ভেতর। স্পেনের মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ নিয়ে বিমানটি ঢাকায় নামতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কফিন পৌঁছায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে। সেখানে বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ২৫ বছর বয়সী এই তরুণকে। পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে যান তিনি। মাদ্রিদে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে পান কাজের অনুমতিও। গত ৩০ আগস্ট (রোববার) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিট। মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। গ্যারেজের ভেতরে তখন আটকা পড়েন আলিফ। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া। শ্বাস নিতে না পেরে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্যের আকুতি জানান তিনি। আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক নেমে আসে। গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্রমকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আব্দুর রহমান আরমান/এএইচ