জাতীয়

তেইশে শ্রাবণ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
তেইশে শ্রাবণ
তেইশে শ্রাবণ

হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে আমার মহাপণ্ডিত বন্ধু লিয়াকত বেশ নাক সিটকাত। বিশেষত হিমু সিরিজ পড়ার পর একদিন বিরক্ত মুখে বলেছিল,
—ধুর ভাই, কী ছাতার মাথা লেখে এই লোক!

যাহোক, সেই হিমু সিরিজ এখন কাল্ট ক্ল্যাসিক। ‘মিসির আলী সিরিজ’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘নন্দিত নরকে’ ইত্যাদি পড়ার পর আমার সেই বন্ধুর কাছে হুমায়ূন আহমেদ এখন প্রায় কাফকা লেভেলে চলে গেছেন।
তেমনি আমিও যখন লিখতাম, সাহিত্য পাতার সম্পাদক মহাশয় আমার লেখা পড়ে বলত,
—ধুর ভাই, কী ছাতার মাথা লেখে এই ছেলে!
কিন্তু জানি, আমার লেখাও একদিন কাল্ট ক্ল্যাসিক হবে। চাল-ডাল সেদ্ধ, ধোঁয়া ওঠা ভাতের পর্ব পেরিয়ে একদিন আমার লেখাও বিরিয়ানির যুগে প্রবেশ করবে। আমিও জন স্টেইনবেক, হারুকি মুরাকামি কিংবা পাওলো কোয়েলহোর মতো হয়ে উঠব।
হুমায়ূন আহমেদ যেমন এক বইয়ের উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন—
‘গুলতেকিনকে’।
আমিও একদিন লিখব—
‘মৃণালিনী, নতুবা আর কাকে?’

কিন্তু একটা বিস্তর সমস্যা হয়ে গেছে। আমি প্রায় নব্বই শতাংশ মারা গেছি। প্রায় তিন বছর হলো। বিষয়টা ভয়ংকর হওয়ার কথা। অথচ বেশ উপভোগ করছি। মরে যাওয়ার কারণে আমার মনে কোনো ব্যথা হয় না। হোস্টেলের খাবার সামনে দিলে শরীরে ক্ষুধা জাগে না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে মুখে দাড়ি বাড়ে না। কেউ আমাকে দেখে না। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, আমি নিজেকে দিব্যি দেখতে পাই।

যখন বেঁচে ছিলাম, ছোটবেলায় নিয়মিত স্কুলে যেতাম। কলেজে ওঠার পর নাম ডাকার সময় সর্বোচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে ‘ইয়েস স্যার’ বলে নিজের অস্তিত্বের জানান দিতাম। কোনো অ্যাবসেন্ট ফি আসত না।
এখনো প্রতিদিন হাজিরা দিই। তবু কেন যেন অ্যাবসেন্ট ফি আসে। আমি বোধ হয় বেঁচে নেই। তাই আমায় ওরা দেখতে পায় না।
ওরা হয়তো দেখতে পায় না বৃষ্টি, লোডশেডিং, সাত মাথার ভিড়—অথবা একটা মানুষ ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে তাকে।

আমার প্রথম মরতে ইচ্ছে হয়েছিল যখন বয়স মাত্র বিশ। নির্বিষ জীবনযাপনের মাঝখানে একদিন দেখলাম ‘দ্য ট্রুম্যান শো’। দাঁড়ান। মুভিটার গল্পটা একটু বুঝিয়ে বলি।
ট্রুম্যান বারব্যাংকের জীবন দেখতে একেবারে সাধারণ। সে থাকে সুন্দর, শান্ত একটা শহরে, সিহ্যাভেন। বাড়ি আছে, স্ত্রী আছে, চাকরি আছে, বন্ধু আছে, প্রতিবেশী আছে। প্রতিদিন একই রুটিন—ঘুম থেকে ওঠা, অফিসে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, বাড়ি ফেরা। কিন্তু একটা ভয়ংকর ব্যাপার আছে। ট্রুম্যান ছাড়া পৃথিবীর সবাই জানে, তার জীবন আসলে একটা টেলিভিশন শো। জন্মের পর থেকেই তার প্রতিটি মুহূর্ত গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। স্ত্রী, বন্ধু, বাবা-মা, প্রতিবেশী—প্রায় সবাই অভিনেতা। আর সিহ্যাভেন আসলে একটা বিশাল স্টুডিও সেট। ট্রুম্যান জানে না, তার প্রতিটি মুহূর্ত পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ দেখছে। মুভিটা দেখে আমার মনে হলো—
জীবনটা যদি একটা ট্রুম্যান শো হয়, মন্দ কী?

তাই একটা চমৎকার কাজ করলাম। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম। প্রতিটি আইটেম গেল। কার্ড গেল। টার্ম গেল। প্রফ এল। সাগরের মতো বিশাল একটা সিলেবাস সামনে রেখে আমি সিহ্যাভেনের বাসিন্দা হয়ে গেলাম। সবকিছু সাজানো। সবকিছু নির্দিষ্ট। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার। একই রাস্তা। একই ক্লাস। একই মুখ। একই হাজিরা। একই অ্যাবসেন্ট ফি। আমি একটু একটু করে পড়ছি। আর তারও বেশি সব ভুলে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের একটা লুপে আটকে আছি। সেই লুপে প্রতিদিন একটু একটু করে মারা যাচ্ছি। শরীরের ভেতর যেন মাইক্রোগ্রাম করে আর্সেনিক বাড়ছে। নাকি সায়ানাইড? ঠিক বুঝতে পারছি না।
তারপর এল সেই রাত। সারা রাত অ্যানাটমি পড়লাম। সকালে ভাইভা বোর্ডে গিয়ে বুঝলাম, মানুষের শরীর সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা হয়নি। কিছুই পারলাম না। হোস্টেল রুমে ফিরে নিজেকে মনে হলো ভিয়েতনাম যুদ্ধে হারা এক সৈনিক। রাতে ঘুম হলো না। তাই সে রাতে আরেকটা মুভি দেখলাম, ‘টেক্সি ড্রাইভার’।

ট্রাভিস বাইকেল, ছাব্বিশ বছর বয়সী এক ভিয়েতনাম যুদ্ধের সৈনিক। নিউইয়র্কে থাকে। ঘুম হয় না। ভয়াবহ ইনসমনিয়া। তাই রাতে ট্যাক্সি চালায়। অন্ধকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। দিনে একা থাকে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য জায়গায়। ট্রাভিস ভীষণ একা।
সে মানুষের মধ্যে আছে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে নেই। মুভিটা শেষ হওয়ার পর ল্যাপটপের স্ক্রিনে নিজের মুখ দেখলাম। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, ট্রাভিস বাইকেল আর আমার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। শুধু সে ট্যাক্সি চালায়। আমি মেডিক্যাল কলেজে পড়ি। যে কখনো লেখক, কখনো সিনেমার ডিরেক্টর হতে চায়। হতে চায় মার্টিন স্কোরসেস, স্টিভেন স্পিলবার্গ, আকিরা কুরোসাওয়া কিংবা এই উপমহাদেশের সত্যজিৎ রায়, জহির রায়হান।

এই পর্যন্ত লিখে বোর্ড থেকে আঙুল সরিয়ে নিলাম। লেখাটা কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য একটু বেশি সেন্টিমেন্টাল হয়ে যাচ্ছে না? মাথায় আর কিছু আসছে না। শেষবার লিখেছিলাম মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার আগে। প্রায়ই পত্রিকায় লিখতাম। এখন আর কলমে কিংবা কি–বোর্ডে—কোথাও লেখা হয়ে ওঠে না। কিন্তু ডেডলাইন কাল। কিছু একটা লিখতেই হবে। ভালো লাগছে না। হাত বাড়িয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিনটা নামিয়ে দিলাম। সটান হয়ে ফোন হাতে শুয়ে পড়লাম বিছানায়। তারপর ঢুকে গেলাম রিলসের জগতে।
একটা রিলস। তারপর আরেকটা। তারপর আরও একটা। একসময় মনে হলো, আমি আর রিলস দেখছি না। রিলস আমাকে দেখছে। একই মুখ। একই হাসি। একই ধরনের মানুষ। একই ধরনের জীবন। একই ধরনের মৃত্যু। আমি স্ক্রল করছি। কিন্তু কোথাও পৌঁছাতে পারছি না। তাও স্ক্রল করতেই থাকলাম। হঠাৎ বুঝতে পারলাম, আমি আটকে গেছি। একটা লুপে। রিলসের লুপে। না, রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের সকাল সাতটার ক্লাসের লুপে। নাকি দুটো একই জিনিস? একই রাস্তা। একই সকাল। সকালে ক্লাস নিচ্ছেন ডেড পয়েট সোসাইটি থেকে উঠে আসা একজন প্রফেসর। শুধু প্রতিবার মনে হয়, কিছু একটা বদলে গেছে। এই জগৎটা সত্যি তো? নাকি কেউ আমার চোখের সামনে একটা বাস্তবতা চালিয়ে দিচ্ছে? আমি ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’-এর কোনো এক চরিত্র। অথবা ‘শাটার আইসল্যান্ড’-এর কোনো একজন রোগী নাকি ‘আমেরিকান সাইকো’-এর কোনো একজন মানুষ, যে এখনো বুঝতে পারেনি সে কতটা পাগল। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমাকে কেউ ধরতে আসছে।
কে জানি না। কেন জানি না। শুধু বুঝতে পারি, আমাকে পালাতে হবে।
পালাতে পালাতে চিৎকার করে বললাম, ‘না! আমি “পথের পাঁচালী”র অপু নই। আমি অপুর সংসারের অপু। আমার অপর্ণা মারা গেছে।’

অদ্ভুত ব্যাপার, আমি তাও কাঁদছি না। বরং খুশি। অনেক দিন ধরে আমার টেবিলের ড্রয়ারে একটা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি পড়ে ছিল। গল্পটা এগোচ্ছিল না। কারণ, নায়িকা বেঁচে ছিল। তাই তাকে মেরে ফেলেছি। গল্পের নায়িকা অপর্ণা মারা গেছে। গল্পটা জীবিত। নায়িকা মৃত। গল্পটা এবার এগোবে। কিন্তু সমস্যা হলো, নায়িকাকে মেরে ফেলার পর থেকেই আমি নিজেই যেন গল্পের একটা চরিত্র হয়ে গেছি। আর এখন মনে হচ্ছে, কেউ একজন আমার গল্পটা লিখছে। হয়তো সে-ই আমাকে ধরতে আসছে। দরজার বাইরে সে। দরজায় ঢমঢম শব্দ হচ্ছে। আমি চমকে উঠলাম। আবার শব্দ। এবার আরও জোরে।
ঢম।
ঢম।
ঢম।
আমার ঘর কাঁপছে। কেউ যেন দরজায় লাথি মারছে। আমি চিৎকার করে বললাম,
—আমি কিছু করিনি। আমাকে ছেড়ে দিন।
ওপাশ থেকে কেউ বলল,
—না। তুমি পাবলিক হেলথের সংজ্ঞা পারোনি।
আমি চুপ।
—এই ছেলে, দরজা খোলো।
আরেকটা শব্দ।
—নিউপ্লাসিয়ার সংজ্ঞা বলো।
কেউ আমাকে ঝাঁকাচ্ছে। পৃথিবী দুলছে। দেয়াল দুলছে। বিছানা দুলছে। আমি চোখ খুললাম।
আমার রুমমেট আমার কাঁধ ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
—এই! উঠ।
আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
—কী হয়েছে?
—ডাইনিংয়ে খাবার শেষ হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি আয়।
আমি উঠে বসলাম। ঘড়ির দিকে তাকালাম। রাত অনেক হয়েছে। টাইমলি না গেলে খাবার শেষ হয়ে যায় ডাইনিংয়ের।

ফোনে রিলসের ভিডিও থেমে আছে। রিলস দেখতে দেখতে কখন চোখ লেগে এসেছিল বুঝতেই পারিনি। রুমমেট বের হয়ে গেছে। বারান্দা দিয়ে দেখলাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের হেঁয়ালি বৃষ্টি। মুখ ধুতে গেলাম। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে রইলাম। দাড়ি একটু বেড়েছে। অবাক হলাম। আমি তো ভেবেছিলাম, মারা গেছি।

ডাইনিংয়ে বসে ভাত খেতে খেতে ভাবতে লাগলাম, কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য কী লেখা যায়? হঠাৎ মাথায় একটা গল্প এল। একজন ছেলে। সে মনে করে নিজে মারা গেছে। মনে করে একটা লুপের মধ্যে আটকে আছে। মনে করে কেউ তাকে অনুসরণ করছে। মনে করে তার নিজের লেখা গল্পের একটা চরিত্র তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সৃজিত মুখার্জির ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো। প্রবীর রয় খুনিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে, খুনি প্রবীর রয় নিজেই।
মনে মনে হাসলাম। গল্পটা মন্দ না। ভাতের শেষ লোকমাটা মুখে দিলাম। মনে হলো, গল্পটার নাম দেওয়া যায়—‘লুপ’।
না।
‘তেইশে শ্রাবণ’।
ঠিক তখন পাশের টেবিল থেকে কেউ বলল, ‘নাইন জিরো ফাইভ, তোমার অ্যাবসেন্ট ফি এসেছে।’
আমি মাথা তুললাম। লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে নেই। অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছে।
আমি চুপ করে রইলাম। হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করলাম, আমি হোস্টেলের ডাইনিং হলে নেই। আমি শশাঙ্ক জেলখানার ডাইনিংয়ে খাবার খাচ্ছি। খাবারে মৃত তেলাপোকার পা। চারপাশে কয়েদি। আর আমি মেডিক্যাল ক্যাডেট নাইন জিরো ফাইভ নই। আমি..... আমি। আমি কে? আমি ‘শশাঙ্ক রেডাম্পশন’ মুভির একজন কয়েদি।
অথবা—
হয়তো আমি এখনো ঘুমিয়ে আছি। স্বপ্ন দেখছি। নাকি মেডিক্যালের তাড়নায় পাগল হয়ে গেছি। হয়তো আমি কোনো গল্পের ভেতরে। হয়তো কেউ একজন এই মুহূর্তে আমার গল্পটা লিখছে। আর হয়তো—সে আমার চেয়েও আগে জানে, পরের লাইনে কী লেখা হবে।

শিক্ষার্থী, আর্মি মেডিক্যাল কলেজ, বগুড়া

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সিঙ্গাপুরের মতো বরিশালেও জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকাশের সুযোগ রয়েছে
সিঙ্গাপুরের মতো বরিশালেও জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকাশের সুযোগ রয়েছে

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে।  শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ), ঢাকা আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সাগর, নদী, মাছ, গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি অঞ্চল বরিশাল। বলতে গেলে আমরা ডায়মন্ড খনির ওপর বসে আছি।অর্থনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দেশকে এগিয়ে নিতে বরিশাল অঞ্চলের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অংশগ্রহণ করেন।  আরও পড়ুন চিফ হুইপ / বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস চিফ হুইপ বলেন, বরিশাল অঞ্চলের মানুষ সবসময় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। অথচ এ অঞ্চলে সাগর, নদী ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার রয়েছে। বরিশালে পর্যাপ্ত শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠেনি। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এখানে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা ও জাহাজ মেরামত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাও রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বরিশালকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ না করে যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্প, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান/ছবি: জাগো নিউজ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না; দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনীতিবিদদের অবস্থান এতটাই নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভালো মানুষ এখন আর রাজনীতিতে আসতে চান না। এমনকি রাজনীতিবিদদের ছেলে-মেয়েরাও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। আন্দালিভ রহমান বলেন, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্টের জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি। তা না হলে এ দেশে এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো গুণী ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতিবিদ তৈরি হবে না। আরও পড়ুন নূরুল ইসলাম / ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি সেমিনারে বরিশাল অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্পায়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, নদী ও সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।  বিডিজেএ’ র সভাপতি মাহবুব সৈকতের সভাপতিত্বে ও যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি কাজী জেবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিডিজেএ’র সাধারণ সম্পাদক সানবীর রূপল, সদস্য সচিব নাজিয়া আফরিনসহ বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এমওএস/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
গুলশানে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

গুলশানে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

নোয়াখালীতে চলন্ত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব, নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা

নোয়াখালীতে চলন্ত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব, নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা

দুর্গাপূজার বদলে শারদোৎসব লেখা যাবে না, নির্দেশ শুভেন্দুর

দুর্গাপূজার বদলে শারদোৎসব লেখা যাবে না, নির্দেশ শুভেন্দুর

ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন বদরুদ্দীন উমর
ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন বদরুদ্দীন উমর

বদরউদ্দীর উমর তাঁর লেখায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভব, এর শাসকশ্রেণির চরিত্রের বিশ্লেষণ করে গেছেন। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের যে বয়ান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যে বয়ান—সেই বয়ানের ওপর নির্ভর করে যে চরম ফ্যাসিবাদী শাসন এবং জনগণের ওপরে গুম, ক্রসফায়ার, বিনা বিচারে আটক, মিথ্যা মামলা চেপে বসেছিল, তিনি এসবের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন।আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথাগুলো বলেন আলোচকেরা। বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম।ফয়জুল হাকিম বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর কেবল ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ, এ দেশের সর্বশ্রেণির একজন প্রতিনিধি। তিনি যে অসমাপ্ত কাজ করে গিয়েছেন, যে বিপ্লবের জন্য, যে সর্বহারা বিপ্লবের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন, সেই কাজের পূর্ণতা দিতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের এই নেতা বলেন, বদরুদ্দীন উমর তাঁর ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে দেশে লুণ্ঠনজীবী পুঁজি গড়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রেণিচরিত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, এই শ্রেণি শিল্প, উৎপাদন, কৃষি কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিল না। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাচালান, লুটপাটের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক ব্যবসায়ী শ্রেণি দেশের শাসনক্ষমতা দখল করেছিল।বদরুদ্দীন উমরের ওই লেখার কথা উল্লেখ করে ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ যেভাবে গঠিত হয়েছে এবং যে সরকার ও বিরোধী দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা মূলত এই লুণ্ঠনজীবী শাসকশ্রেণিরই প্রতিনিধি। তাঁর ভাষায়, এদের পক্ষে জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা ‘মহামান্য’ আর ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দিতে পারে, কিন্তু এর বাইরে তাদের আর খুব বেশি কিছু করার নেই।মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার ধর্মকে ব্যবহার করছে বলেও সভায় অভিযোগ করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম। তিনি বলেছেন, গাজায় যখন ফিলিস্তিনিদের মেরে ফেলল, কোথায় ছিল সৌদি আরব, তুরস্ক আর পাকিস্তান? দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা শাসকশ্রেণি করছে, এই চেষ্টা তারা করতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী কোনো যুদ্ধজোটে বাংলাদেশ যাবে না। এটা পরিষ্কার কথা।আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পাভেল চৌধুরী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজ আহমেদ প্রমুখ।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
স্পেনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের দাফন সম্পন্ন

স্পেনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের দাফন সম্পন্ন

পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় হাত-পা হারানো সেই শিশুটি মারা গেছে

পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় হাত-পা হারানো সেই শিশুটি মারা গেছে

সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর শনাক্তে সহযোগিতার আশ্বাস ভান্তারার

সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর শনাক্তে সহযোগিতার আশ্বাস ভান্তারার

ইসলামি সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে
ইসলামি সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনে এখন ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিকল্প নেই। একমাত্র ইসলামিক সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই প্রতিনিধি সমাবেশের আয়োজন করে। স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে চরমোনাই পীর বলেন, উন্নয়নের বদলে উল্টো একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, দেশের জনগণ অতীতের বিভিন্ন সময়ে প্রচলিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শাসন প্রত্যক্ষ করেছে। দেশ পরিচালনায় তারা সবাই চরমভাবে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। জনগণের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনে এখন ইসলামি শাসনব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র ইসলামিক সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম। এতে জেলা ও উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মহসীন ইসলাম শাওন/এসআর      

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সেই কুতিনিও এখন কোথায়

সেই কুতিনিও এখন কোথায়

নবজাতককে ডাস্টবিনে ছুড়লো মা, উদ্ধার করলো জনতা

নবজাতককে ডাস্টবিনে ছুড়লো মা, উদ্ধার করলো জনতা

ভেনিসের সাগরপাড়ে উজ্জীবিত বাঁধনের আইভরি ম্যাজিক

ভেনিসের সাগরপাড়ে উজ্জীবিত বাঁধনের আইভরি ম্যাজিক

0 Comments