টালিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা দেব। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। একের পর এক সফল সিনেমা, জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতিতে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত। তবে এই সাফল্যের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সম্প্রতি নিজের জীবনের তেমনই এক কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছেন দেব।
জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালকের আসনে এবার দেখা যাচ্ছে দেবকে। অনুষ্ঠানটির মঞ্চে নিজের শুরুর দিকের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, একসময় কলকাতায় তাকে বাড়ি ভাড়া দিতেই চাইতেন না কেউ।
দেব জানান, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’ সিনেমা মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত কলকাতার মূল ভূখণ্ডে থাকতেন না তিনি। হাওড়ার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটেই কেটেছে তার প্রায় চার বছর। ওই ফ্ল্যাটে তার সঙ্গে থাকতেন পরিচালক রবি কিনাগী।
তবে ইচ্ছা করে হাওড়ায় থাকতেন না দেব। কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এমনকি পছন্দের ফ্ল্যাটও পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়িওয়ালারা তাকে ভাড়া দিতে রাজি হতেন না।
দেব বলেন, ‘এমন নয় যে ইচ্ছে করে হাওড়ায় থাকতাম। কলকাতায় একটা ফ্ল্যাট খোঁজার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমাকে কেউ ঘর ভাড়া দিতে রাজি হতো না! ফ্ল্যাট আমার পছন্দ হয়ে গেলেও বাড়িওয়ালারা আমাকে দেখেই পিছিয়ে আসতেন।’
বাড়িওয়ালারা কেন তাকে ভাড়া দিতে চাইতেন না, সেই কারণও জানিয়েছেন দেব। তিনি বলেন, ‘একজন সিঙ্গল ছেলে, যে আবার মুম্বাই থেকে হিরো হতে এসেছে! কোথায় কী কাণ্ড ঘটাবে-এই ভয় পাচ্ছিলেন সবাই।’

পরপর দুই-তিনজন বাড়ির মালিক তাকে সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি দেবের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আর ভাড়ার বাড়িতে থাকবেন না। নিজের জন্য ফ্ল্যাট কিনবেন।
সেই জেদ থেকেই পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত সাউথ সিটি আবাসনে নিজের প্রথম ফ্ল্যাট কেনেন দেব। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পাওয়া সেই প্রত্যাখ্যানই যেন তাকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
‘দাদাগিরি’র মঞ্চে দেবের বলা সেই পুরোনো গল্পের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার সংগ্রামের কথা শুনে অনুরাগীদের অনেকেই অভিনেতার পরিশ্রম ও জেদের প্রশংসা করছেন।
এদিকে অভিনয় ও রাজনীতির পাশাপাশি নতুন সিনেমা নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন দেব। শুভশ্রীর সঙ্গে তার জুটির নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’ নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’।
গানটিতে দেব ও শুভশ্রীর রসায়ন দর্শকদের নজর কেড়েছে। লাদাখের মনোরম লোকেশনে ধারণ করা গানটির বেশ কিছু রোমান্টিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কঠিন সময় থেকে আজকের প্রতিষ্ঠিত তারকা হয়ে ওঠার গল্পে দেবের সংগ্রাম নতুন করে সামনে এসেছে। নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথাই এবার ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে ভাগ করে নিলেন এই টালিউড তারকা।
এমএমএফ/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বাঁধনের বাবা প্রকৌশলী আমিনুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার ঘটনার পর ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, আমাকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা সবসময় লবিতে থাকতো। আমি যে জায়গায় যেতাম সেই জায়গাই সঙ্গে সঙ্গে যেত। ৮ তারিখে আমি পুলিশ ফাইল করেছি। ওই জায়গার পুলিশ আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য করেছে। আরও পড়ুন ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’ তিনি আরও বলেন, যারা আক্রমণ করছে; তারা নিজেরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছে। যারা আক্রমণ করছে তারা মনে করছে যে পার পেয়ে যাবেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, অথবা পানি মেরেছে। আমার গায়ে হাত তুলেছে তারা। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। তারা তাদের জায়গা অনিরাপদ করছে; আমাদের না। দলকানা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, আপনার পরিবার সাফার করবে। কিন্তু দলের যে বড় বড় নেতারা আছেন, যারা আপনাদের অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে আপনাদের। তাদের জীবন কিন্তু আপনাদের না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনারা বাংলাদেশে টাকা পাঠান। আপনারা এগুলো আর প্লিজ কইরেন না। আরও পড়ুন ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর বাঁধনের আবেগঘন বার্তা ভেনিসে হামলার শিকার বাঁধন, সেই সিনেমার ঐতিহাসিক জয় এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন বলে জানান বাঁধন। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। গত সপ্তাহে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।’ দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি সেখানে জিতে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানান বাঁধন। তার অভিযোগ, তাকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন। আরও পড়ুন সংস্কৃতিমন্ত্রী / অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাঁধনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সমর্থনের বার্তা এসেছে। এমআই/এমএমএআর
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার পর এবার কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ‘অরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর’র অনুষ্ঠান চলাকালীনই নিজের পরবর্তী স্টেডিয়াম শোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২১ নভেম্বর ২০২৬ ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্ট করবেন দিলজিৎ। শনিবার ওয়েম্বলির মঞ্চে প্রায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করার পরই ভারতীয় অনুরাগীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে পারফর্ম করেন দিলজিৎ। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী হিসেবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হেডলাইন শো করার নজির গড়েছেন তিনি। পাঞ্জাবি গান, র্যাপ ও হিপ-হপের মিশেলে তার পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের ওয়েম্বলির মঞ্চ থেকেই ভারতের পরবর্তী কনসার্টের ঘোষণা দিয়ে দিলজিৎ জানান, এবার তিনি হাজির হবেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত এই ভেন্যুতে তার কনসার্ট ঘিরে এরই মধ্যে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই ২০২৫ সালে ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের আলোচিত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলজিৎ বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কোল্ডপ্লে এরই মধ্যে নিজেদের অনুষ্ঠান সফল করেছে। এবার সেখানে আমার মতো পাঞ্জাবি শিল্পীরও অনুষ্ঠান হোক।’ ওয়েম্বলিতে বিপুল দর্শকের সামনে পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন দিলজিৎ। এবার দেশের মাটিতে আরও বড় পরিসরে দর্শকদের সামনে গান পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। পাঞ্জাবি সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বড় একটি শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করেছেন তিনি। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ ওয়েম্বলির পর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্টের ঘোষণা দিলজিতের ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় সংযোজন হতে যাচ্ছে। এখন এই আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় তার ভারতীয় অনুরাগীরা। এমএমএফ
প্রায় দুই দশক ধরে অভিনয় দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল নুসরাত ইমরোজ তিশা। সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি তার সৌন্দর্য ও নিজস্ব ফ্যাশন স্টাইলও বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। এবার শাড়িতে তিশার মিষ্টি ও লাজুক হাসির ছবি নজর কেড়েছে ভক্তদের। মডেলিংয়ের চেয়ে অভিনয়কেই বরাবর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিশা। ফ্যাশন স্টেটমেন্টেও তিনি প্রশংসিত হলেও সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে শাড়িতে তার উপস্থিতি বরাবরই আলাদা নজর কাড়ে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন তিশা। ছবিগুলোতে তাকে দেখা গেছে লাল শাড়িতে। সঙ্গে ছিল কাচের চুড়ি ও মানানসই অলংকার। কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি, আবার কখনো মুখ আড়াল করে লাজুক ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিশার এমন মায়াবী লুক ও লাজুক হাসি যে ভক্তদের নজর কেড়েছে, তা তাদের মন্তব্য দেখলেই বোঝা যায়। ছবি প্রকাশের পরপরই তার অনুসারীরা নানা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন। তবে শুধু ছবিই নয়, পোস্টের ক্যাপশনেও ছিল রহস্যের আভাস। ছবিগুলোর সঙ্গে তিশা লিখেছেন ‘কোয়ায়েটলি বিকামিং!’ অর্থাৎ নীরবে নিজেকে বদলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয়ে তার উপস্থিতি কিছুটা কমলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ, পরিবার ও জীবনের নানা বিশেষ মুহূর্ত নিয়মিতই ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। এলআইএ