প্রবাসী সাংবাদিক ও জাগো নিউজের মালদ্বীপ প্রতিনিধি মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালামকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন বিষয়, সাফল্য, সমস্যা, অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমে তুলে ধরার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মদিনা জামাত মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা স্মারকটি তার হাতে তুলে দেন মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন এবং মদিনা জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক ও সাংবাদিক আলামিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত আলহাজ হজরত মাওলানা মুহাম্মদ মহসিন কবীর ইউছুফী। তিনি ইসলামিক চিন্তাবিদ, মুফাসসিরে কুরআন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও দেশ টিভির ইসলামিক আলোচক। তিনি মদিনা জামাত কদমতলী শাহী দরবার শরীফের পীর।
সম্মাননা স্মারকে মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালামকে ‘প্রবাসী সাংবাদিক—মালদ্বীপ’ হিসেবে উল্লেখ করে তার সাংবাদিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের প্রতি সম্মান জানানো হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম বলেন, ‘এই সম্মাননা আমার জন্য আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা, তাদের সাফল্য, অবদান ও বাস্তব সমস্যাগুলো আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করব।’
তিনি সম্মাননা দেওয়ার জন্য মদিনা জামাত মালদ্বীপ শাখার আহ্বায়ক ও সাংবাদিক আলামিনসহ আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরা যেমন গর্বের, তেমনি তাদের ন্যায্য অধিকার, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথাও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মোহাম্মদ মাহামুদুল হাসান কালাম দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্রবাসীদের জীবন, সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের কল্যাণ ও অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়েও তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন।
প্রাপ্ত সম্মাননাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি।
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের ট্রাফিক ও ক্রাইম ইউনিট। অভিযানে চোরাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় একটি গ্যারেজের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় ছয়টি অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজে এ অভিযান চাালানো হয়। এতে ডিপিডিসি, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, ছয়টি গ্যারেজের মধ্যে দুটি গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বৈধ পাওয়া যায়। অন্য চারটি গ্যারেজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে এক গ্যারেজ মালিককে গ্রেফতার করা হয়। রায়েরবাজার এলাকার এসব গ্যারেজে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে এক ব্যক্তি জড়িত। তিনি গ্যারেজগুলোতে চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতিটি গ্যারেজ থেকে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা করে আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আরও পড়ুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ব্যাটারিতে বসবে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড ডিএমপি জানায়, রাজধানীতে অবৈধ অটোরিকশা গ্যারেজ ও চোরাই বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। টিটি/এমআইএইচএস
পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।গতকাল রোববার রাত সাড়ে নয়টার পর জেলা শহরের ডোকরোপাড়া-মির্জা রুহুল আমিন (এমআর) কলেজ মোড় এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সমর্থকেরা ডোকরোপাড়া-এমআর কলেজ মোড় এলাকায় একটি মিষ্টির দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মিঠাপুকুর-তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা একটি মিছিল নিয়ে পঞ্চগড় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন।মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন।রাতে মারামারিতে আহত বেশ কয়েকজন হাসপাতালে এসেছিলেন জানিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। অনেকের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।গতকাল দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই সময় সেখানে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার জেরে রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।আহত পথচারীরা হলেন সাফাত কবির (২১) ও জীবন রায় (২২)। সাফাত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি ও জীবন পঞ্চগড় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দুই পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আবদুল বাতেন (৪৫), শামীম ইসলাম (২৮), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)।গতকাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান, আবদুল বাতেন, শামীম ইসলাম, সাক্ষর ও ময়নুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।এর আগে গতকাল দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। ওই সময় সেখানে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার জেরে রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন।সংঘর্ষে আহত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের পক্ষের নেতা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বলেন, ‘দিনের বেলা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সামনে আমাদের একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। এর প্রতিবাদে রাতে আমরা সবাই একত্র হই, কিন্তু কোনো স্লোগান দিইনি। এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মানিকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।’জাহিরুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এখানে দুই এমপির দুই পক্ষের ছেলেরা এমন করলে দুই এমপিই তাঁদের সামলাবেন বলে আশা করছি। এ ছাড়া আমি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা সমাধানের চেষ্টা করব।অন্যদিকে মনিরুজ্জামান মানিক অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ মিছিল করছে। এ জন্য রাতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে আমরা কয়েকজন জড়ো হয়ে চা খেতে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে জানতে পারি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান আমাদের পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামীম ইসলামকে মারধর করেছেন। এরপর আমরা তাঁকে হাসপাতালে পাঠাই। এর মধ্যেই তারা আমাদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।গতকাল জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সামনে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কথা–কাটাকাটি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম। তিনি আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরে সেখানেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়। ওই ঘটনার রেশ ধরেই হয়তো রাতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে দুই এমপির দুই পক্ষের ছেলেরা এমন করলে দুই এমপিই তাঁদের সামলাবেন বলে আশা করছি। এ ছাড়া আমি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা সমাধানের চেষ্টা করব।’
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি এখন বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। একদিন আগে রোববার সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার। প্রতিদিনই পদ্মার পানি বাড়ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। আর মাত্র ৭৭ সেন্টিমিটার পানির উচ্চতা বাড়লেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড়ি ঢল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ফারাক্কা ব্যারেজের মোট ১০৯টি গেটের সবকটিই খুলে দেওয়ায় পদ্মার পানি হুহু করে বাড়ছে। এদিকে, পদ্মা তীরবর্তী বিভিন্ন নিচু এলাকা ও ফসলের জমিতে পানি প্রবেশ করায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সাঁড়া ৫নং ঘাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় পদ্মার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। জানা গেছে, উপজেলার সাঁড়া, পাকশী, লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে শত শত একর কলা বাগান, মুলা ও গাজরের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রাম সাঁড়া ঘাট, ইসলামপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। সাঁড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, সাঁড়া ঘাট এলাকায় নদীর রক্ষা বাঁধ নেই। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় খুব আতঙ্কে আছি। এছাড়াও নদী তীরবর্তী কোমরপুর, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে পানি উঠে গেছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন, শত শত একর জমির কলাবাগান এখন পানির নিচে। এখানকার চরাঞ্চলের শত শত একর জমি এখন পানির নিচে। এসব জমিতে অনেকেই গাজর, মুলা, করলাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছিলেন। চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চরে গোখাদ্যের অভাবে গবাদিপশু নিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চরের গরু-মহিষের বাথান ভেঙে গরু-মহিষ নিয়ে সবাই চলে আসছেন। এছাড়াও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৩০টির বেশি ইটভাটায় পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে ভাটাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সোমবার সকালে সরেজমিনে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫ গাডারের মধ্যে ১৪টি গাডার পানির নিচে আরেকটি গাডারের কাছে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার গতি এভাবে অব্যাহত থাকলে আজ রাতের মধ্যে ১৫ নম্বর গাডারের নিকট পানি পৌঁছে যাবে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা টি স্টল, খাবার দোকান, ফলমূল ও খেলনার দোকানপাটে পানি উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের ফুচকা বিক্রেতা মনোয়ারা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, যেখানে আমার ফুচকার দোকান ছিল সেখানে পানি উঠে গেছে। এজন্য দোকান সরিয়ে নিয়েছি। যারা ব্রিজের নিচে বেড়াতে আসতো তারা আসতে পারছে না। নাজমুল হোসেন (৬৫) নামে এক দর্শনার্থী বলেন, পানি বেড়েছে শুনে দেখতে এলাম। এসে দেখছি ব্রিজের নিচে গড়ে উঠা অস্থায়ী দোকানপাটগুলোতে পানি উঠেছে। অনেকেই দোকানপাট সরিয়ে নিচ্ছেন। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (রিডার) সেতু আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। রোববার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সোমবার এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১৩ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার। বিপৎসীমা থেকে ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কিনা তা এখনি বলা যাচ্ছে না। শেখ মহসীন/কেজে/জেআইএম