জাতীয়

যত্রতত্র নয়, বৃক্ষরোপণ হোক পরিকল্পিত

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
যত্রতত্র নয়, বৃক্ষরোপণ হোক পরিকল্পিত
যত্রতত্র নয়, বৃক্ষরোপণ হোক পরিকল্পিত

সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল

বৃক্ষরোপণ বলতেই আমাদের এক শ্রেণির মানুষ কেবল মহাসড়কের পাশে গাছ লাগানোকে বোঝেন। কিন্তু আমি এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। বৃক্ষরোপণ মানেই মহাসড়ক কিংবা মহাসড়কের ডিভাইডারে গাছ লাগানো নয়। কোথায় কোন ধরনের গাছ লাগানো হবে সেটিই হওয়া উচিত বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান বিষয়।

মহাসড়ক কিংবা ডিভাইডারের মাঝখানে দীর্ঘ শাখা-প্রশাখাযুক্ত বড় গাছ লাগানো অনেক ক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঝড়, ঘূর্ণিঝড় কিংবা দুর্যোগের সময় এসব গাছের ডাল ভেঙে যানবাহন ও পথচারীর ওপর পড়তে পারে। গাছ উপড়ে গিয়ে সড়ক বন্ধ হওয়া কিংবা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই ডিভাইডার ও সংকীর্ণ সড়ক এলাকায় বড় ও বিস্তৃত শাখা-প্রশাখাযুক্ত গাছের পরিবর্তে ছোট আকৃতির, ছাঁটাইযোগ্য ও সৌন্দর্যবর্ধক ফুলের গাছ লাগানো অধিক যুক্তিযুক্ত।

অন্যদিকে, মহাসড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে উপযুক্ত প্রজাতির মাঝারি বা বড় গাছ লাগানো যেতে পারে। তবে গাছের শিকড়, ভবিষ্যৎ আকার, শাখা-প্রশাখা এবং ঝড়ের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

আরও পড়ুন

সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন

স্থানভেদে গাছের শ্রেণি নির্বাচন জরুরি

গ্রাম, গঞ্জ, শহর ও জনপদে পরিকল্পিতভাবে পার্ক, খোলা জায়গা কিংবা নির্দিষ্ট সবুজ এলাকা তৈরি করে সেখানে বৃক্ষরোপণ করা যেতে পারে। বকুল, জারুল, সোনালু, কাঠগোলাপসহ নান্দনিক ও উপযোগী গাছ শহুরে পরিবেশে ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্রাম ও বসতবাড়ির আশপাশে ফলদ ও ছায়াদানকারী গাছ বেশি উপযোগী। আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, লিচু, আমড়া, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ একই সঙ্গে খাদ্য, ছায়া ও পরিবেশগত সুবিধা দিতে পারে।

পুকুর ও খালের পাড়ে গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা দরকার। এখানে বড় ও ঘন শাখা-প্রশাখাযুক্ত গাছের পরিবর্তে তাল, সুপারি, খেজুর ও নারিকেল গাছের মতো উপযোগী প্রজাতি পরিকল্পিতভাবে লাগানো যেতে পারে। এসব গাছের পাতা ও শাখা-প্রশাখা পানির ওপর তুলনামূলকভাবে কম বিস্তৃত হয়। ফলে জলাশয়ে অতিরিক্ত পাতা ও জৈব আবর্জনা জমে পানি দূষণ বা পলি জমার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা রক্ষার জন্য নিয়মিত পলি অপসারণ, দখলমুক্ত রাখা এবং পানির প্রবাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের চারপাশে ছায়াদানকারী, নিরাপদ এবং স্থানীয় পরিবেশে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এমন গাছ লাগানো যেতে পারে। তবে খেলার জায়গার একেবারে পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বা অতিরিক্ত বিস্তৃত শাখা-প্রশাখাযুক্ত গাছ না লাগানোই ভালো।

বনাঞ্চল বা সংরক্ষিত বৃক্ষায়ন এলাকায় শুধু একটি প্রজাতির গাছের বাগান না করে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির সমন্বয়ে বন তৈরি করা উচিত। এতে পাখি, কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়; কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন শ্রেণির গাছ লাগানো হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার জন্য এক ধরনের গাছ, জলাশয়ের পাড়ের জন্য আরেক ধরনের গাছ, শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ভিন্ন ধরনের গাছ এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য স্থানীয় প্রজাতি নির্বাচন করতে হবে।

আরও পড়ুন

গৃহবন্দি সময় কাটে ফেসবুক-ইউটিউবে, ড্রাগন চাষে সফল ইব্রাহীম

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আমাদের রয়েছে। তাই শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা না করে স্থান নির্বাচন, গাছের প্রজাতি, শিকড়ের বিস্তার, উচ্চতা, শাখা-প্রশাখা, মাটির ধরন এবং জননিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।

প্রতিটি শহর, গ্রাম, গঞ্জ, ইউনিয়ন কিংবা জনপদে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট বনাঞ্চল বা সংরক্ষিত বৃক্ষায়ন এলাকা গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাস্তার পাশে বিচ্ছিন্নভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি এমন স্থায়ী সবুজ অঞ্চল তৈরি করা গেলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব।

সবচেয়ে বড় কথা, গাছের শ্রেণিবিন্যাস না বুঝে যেখানে-সেখানে গাছ লাগানোও কখনো কখনো মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, স্থানীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বৃক্ষরোপণের সাফল্য শুধু গাছের সংখ্যায় নয়; সাফল্য হলো সঠিক স্থানে সঠিক প্রজাতির গাছ লাগিয়ে একটি নিরাপদ, সুন্দর, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও টেকসই সবুজ পরিবেশ তৈরি করা।

লেখক: পরিবেশ ও গণমাধ্যম কর্মী

কেএসকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহীর বাসায় লুটের অভিযোগ
আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহীর বাসায় লুটের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহীর বাসায় দুর্ধর্ষ লুটের ঘটনা ঘটেছে। রাহীর দাবি স্থানীয় সাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ গ্রাম থেকে ফিরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের ভূমিপল্লী এলাকার ‘সাহানারা মঞ্জিল’ নামক ভাড়া বাসায় এসে এমন দৃশ্য দেখতে পান তিনি। আরও পড়ুন ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গ্রেফতার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার চুরির ঘটনায় বাড়ির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা (কেয়ারটেকার) আপেল রাসেল (৪০) নামের ব্যক্তির নামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাহী।  কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তিনি চাঁদপুরের এক বাসিন্দার ভূমিপল্লীর সাহানারা মঞ্জিল নামক ভবনের ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। সবশেষ ৭ আগস্ট শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ভূমিপল্লীর বাসা তালাবদ্ধ করে নিজের গ্রামে যান। গ্রামে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি সাইদুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা তার মুঠোফোন কল দিয়ে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর বাসায় ফিরে দেখতে পান বাসার সকল আসবাবপত্র লুট হয়েছে।  তিনি বলেন, সাইদুর রহমান নামের ওই ব্যক্তিকে আমি পূর্ব থেকে চিনি না। তার সঙ্গে একদিন বাসার নিচে দেখা হয়েছিল। দেখা হওয়ার দিন ওই ব্যক্তি আমাকে আগে থেকে চেনেন বলে জানান এবং বলেছিলেন যে এই মহল্লার ছেলেপেলেরা আমাকে খুঁজাখুঁজি করছেন। তখন আমি তাকে প্রশ্ন করি যে আমি কি চোর বাটপার, যে আমাকে পোলাপান খুঁজবে? তখন উনি ঠান্ডা মাথায় আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন এই এলাকায় আমি তোমার ভাই কেউ কিছু করতে আসলে আমাকে জানাবে।  আরও পড়ুন অশ্লীল কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মামুন গ্রেফতার রাহী বলেছেন, সাইদুর রহমান ও তার সহযোগীরা আমার ঘরের এসি, ফ্রিজ, খাট, রান্নাঘরের চুলা, স্বর্ণের গয়না ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যা ছিল সব কিছু নিয়ে গেছেন। আমার একটা জামাকাপড়ও রেখে যায়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগে সাইদুরের নাম না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে রাহী বলেন, আমি বাড়ির কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণ হচ্ছে তিনি ওই সাইদুরের সঙ্গে মিলিত। আমি বাড়ির মালিককে চিনিও না এবং কেয়ারটেকারের মাধ্যমেই বাসা ভাড়া করি। উনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমার বাসা লুট হয়। এটার দায়ভার পুরোপুরি তার। তবে সাইদুর রহমানের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে বাড়িটির কেয়ারটেকার আপেলের স্ত্রীর ভাষ্য, সাইদুল নামক ওই ব্যক্তি ৫-৬ জন লোক নিয়ে এসে তার স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি ও ভয় ভীতি দেখিয়ে ওই রুমের সব মালামাল নিয়ে যায়। তিনি বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানিয়েন।  এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কেয়ারটেকারও রাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কেয়ারটেকারের অভিযোগ রাহী দুই মাস যাবৎ বাসা ভাড়া দেন না এবং বাসা ছাড়তে বলাতেও ছেড়ে যাচ্ছে না। দুটো অভিযোগই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সাইদুর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করছি এবং এবং তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না আমার জানা নেই। মো.আকাশ/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আন্দামান সাগরে লঘুচাপ, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস

আন্দামান সাগরে লঘুচাপ, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস

পেরিম দ্বীপ দখলের পর হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

পেরিম দ্বীপ দখলের পর হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকা নিহত: ‘প্রকৃত ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তারের দাবি ডিবির

সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকা নিহত: ‘প্রকৃত ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তারের দাবি ডিবির

২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর
২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন পিছিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত দিনে অভিযোগ গঠনের আদেশ না দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এসময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আজমেদ। আর স্টেট ডিফেন্স ছিলেন আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। তারা পলাতক আসামির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অন্য স্টেট ডিফেন্স শহিদুল ইসলামসহ অন্য আসামির আইনজীবীরাও শুনানি করেন।  আরও পড়ুন উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, মুগ্ধ হত্যা মামলায় এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের ওপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানিও শেষ হয়েছে। অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আজ ১৬ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারিত ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জন পলাতক। গ্রেফতার আট আসামি হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম ও তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী। পলাতক ১৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ডিএম শামীম, সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম, সাবেক কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল ও তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু। অভিযোগে যা বলা হয়েছে মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বিইউপির শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এসময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে ছাত্র-জনতার কয়েকজন তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগ প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আরও পড়ুন কোমর থেকে পায়ে অসংখ্য গুলি লাগে নূরুল্লাহর, মেনন-কামরুলের শাস্তি দাবি একই দিন উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওইদিন উত্তরায় একটি এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছিলেন। এফএইচ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শেকৃবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ৬ ফেব্রুয়ারি

শেকৃবির দ্বিতীয় সমাবর্তন ৬ ফেব্রুয়ারি

শপআপে ম্যানেজার নিয়োগ, থাকছে না বয়সসীমা

শপআপে ম্যানেজার নিয়োগ, থাকছে না বয়সসীমা

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা, কূটনীতিককে তলব

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা, কূটনীতিককে তলব

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-ভিডিও ভাইরাল, বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন
‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-ভিডিও ভাইরাল, বৃদ্ধ দম্পতির পাশে প্রশাসন

‘খোদা আমাদের খাবার দাও’-অনাহারে থাকা বৃদ্ধ দম্পতির আকুতির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দম্পতি শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। এরপর তাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সবার নজরে আসে। শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ওই দম্পতির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাদের শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান এবং হাসপাতালে অসুস্থ বৃদ্ধার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা হাসপাতালে ভর্তি ওই দম্পতিকে দেখতে যান এবং অসুস্থ বৃদ্ধার জন্য একটি হুইল চেয়ার উপহার দেন। একই সঙ্গে তিনি বৃদ্ধ দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণসহ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর আগে শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে গিয়ে খাবার ও নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসেন। এদিকে ওই অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির খোঁজখবর নিতে আবদীন হাসপাতালে যান শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে খাদ্যদ্রব্য সহায়তা দেওয়া হয়। আরও পড়ুন পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সের সাজু শেখ ও ৮০ বছর বয়সের নুরজাহানের বিয়ে হয়েছে প্রায় ৭০ বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই তারা সাজু শেখের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করছেন। আর্থিক অনটনের কারণে সাজু শেখ একসময় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। সীমিত আয়েও দীর্ঘ সংসারজীবনে তাদের ভালোবাসায় কমতি ছিল না। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়েরই অনেক আগে বিয়ে হয়েছে। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন। তিন ছেলের একজন করোনাকালে নিরুদ্দেশ হলেও মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের খোঁজ নেন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং তিনিও বছরে দু-একবার বাড়িতে আসেন। শেরপুরে বসবাসকারী অপর ছেলে নুর ইসলাম দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবার সাধ্যমতো ভরণপোষণ ও খোঁজখবর রাখেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নিজের সংসার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। কয়েক বছর আগে চিকিৎসার অভাবে তার স্ত্রীও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। প্রায় পাঁচ বছর আগে পড়ে গিয়ে নুরজাহানের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তিনি শয্যাশায়ী। আর্থিক সংকটে স্বামী সাজু শেখ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। একইভাবে মায়ের চিকিৎসার জন্য অসহায় হয়ে পড়েছেন ছেলে নুর ইসলামও। তবু স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসায় নুরজাহান অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে ছেড়ে কোথাও যাননি সাজু শেখ। শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে নুরজাহান এখন শারীরিকভাবে অক্ষম। বয়সের ভারে সাজু শেখও সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। বার্ধক্যের কারণে তিনিও বধির হয়ে গেছেন, জোরে কথা না বললে কারও কথা শুনতে পান না। তবু স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসায় দিনরাত তার পাশে থাকেন সাজু শেখ। নুরজাহান শয্যাশায়ী হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকালে তাকে কোলে করে ঘরের দরজার বাইরে উঠানে চটি বিছিয়ে শুইয়ে দেন তিনি। এরপর স্ত্রীর পাশে বসে সময় কাটান। নিজে কানে কম শুনলেও স্ত্রীর ইশারা বুঝে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন। প্রস্রাব-পায়খানাসহ দৈনন্দিন সব কাজ কাঁপা হাতে ও ভঙ্গুর শরীর নিয়েই করে দিচ্ছেন সাজু শেখ। স্থানীয়রা জানায়, সাজু শেখ অর্থের জন্য প্রায় মাঝেমধ্যে বাড়ির পাশে খুনুয়া বাজারে চলে আসেন কাজের সন্ধানে। কিন্তু কঙ্কালসার দেহ দেখে কাজ দেবে কে। তাই বাজার ঘুরে পরক্ষণেই ফিরে আসেন স্ত্রীর কাছে। মাঝে মধ্যে আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করেন, ‘আমাদের দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে যাও আল্লাহ!’ সমাজকর্মী শামীম আহমেদ বলেন, জীবনযুদ্ধে মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতার কাছে হেরে যায়। আবার কখনো কখনো দরিদ্রতাকে জয় করে। শেরপুরে এমনই এক ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ দম্পত্তি রয়েছে, যাদের ভালোবাসার কাছে দরিদ্রতা হেরে গেছে। শুধু তাই নয়, হেরে গেছে শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত রোগবালাই। পরিবারটির সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন। রক্তসৈনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আল আমিন রাজু বলেন, ভিডিওটি নজরে আসলে আমার দ্রুত খোঁজখবর নেই। তারপর দেড় মাসের খাবারের জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের সংগঠনের পক্ষ হতে সাজু শেখের হাতে তুলে দিয়েছি। এছাড়াও প্রতিদিন হাসপাতালে খোঁজ খবর নিচ্ছি। সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির শেরপুরের সভাপতি আলমগীর আল আমিন বলেন, খবরটি পাওয়ার পর আমরা খোঁজ নিয়েছি। এখন তাদের কাছে খাবারের মোটামুটি মজুত আছে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজন। স্বামী স্ত্রী উভয়েই নানান রোগে জরাজীর্ণ হয়ে আছেন। চিকিৎসাব্যবস্থা যেনো চলমান থাকে, সেই ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি। আরও পড়ুন চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বৃদ্ধ সাজু শেখ এবং নূরজাহান দম্পতিকে শেরপুর পৌর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিবারটির যেহেতু ঘরবাড়ির অবস্থা খুবই বেহাল, তাই নতুন একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। বৃদ্ধার চলার জন্য একটি হুইল চেয়ার দিয়ে এসেছি। এছাড়াও শুকনো খাবারসহ যা যা প্রয়োজন সব দেওয়া হয়েছে। আর খবর পাওয়া মাত্র আমার প্রতিনিধি হিসেবে আমার বাবা আলহাজ্ব হযরত আলী তাদের বাড়িতে গিয়ে তাৎক্ষণিক যা যা প্রয়োজন তা দিয়ে এসেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘরের দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে সাজু শেখ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে এমনই এক কষ্টের আকুতি করেন। তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’ তাদের আর্তনাদ শুনে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। মো. নাঈম ইসলাম/এনএইচআর

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
স্থানীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

স্থানীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি

সংকট উত্তরণে তারেক রহমানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রুমনের

সংকট উত্তরণে তারেক রহমানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রুমনের

ঢাকায় বসছে ‘এশিয়ান পর্যটন মেলা’, উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

ঢাকায় বসছে ‘এশিয়ান পর্যটন মেলা’, উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

0 Comments