ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ)। দেশি-বিদেশি পর্যটনপ্রেমীদের আকর্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হবে এ মেলা। চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত মেলার উদ্বোধন করবেন। এ সময় একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মেলা উপলক্ষে রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন সংশ্লিষ্টরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এনডোর্সমেন্ট এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে প্রায় ৩০০টি বুথ থাকবে।
মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিদেশি দূতাবাস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পর্যটন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। পাশাপাশি বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন থাকবে।
মেলায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় দেশি পর্যটন হাব, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, নৌ পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম ও পরিবেশ পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশের পর্যটন প্রচার ও প্রসারের সুযোগ থাকবে।
মেলায় শিশু, শিক্ষার্থী, পর্যটন শিল্পের ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ ও চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন কার্যক্রম রাখা হয়েছে। পর্যটন শিল্পে নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের মেলায় টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্লাটিনাম পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ছুটি গ্রুপ। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পার্টনার ও হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
এমএমএ/কেএসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অগ্রাধিকারগুলো হলো: ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত বিএফএ গ্লোবাল হেল্থ ফোরাম ২০২৬ হাইকু কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে তিনি এসব অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ওষুধ প্রায় ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের প্রবেশ সহজ করার পাশাপাশি সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। এআই ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের পাশাপাশি অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সুস্থ বার্ধক্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এশিয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। তাই পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা এবং প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা সামনে কতটা ভালোভাবে সহযোগিতা করি, উদ্ভাবন করি এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিই তার ওপর।’ এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনে চীনের চতুর্দশ জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিসর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।জেএইচ
তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান সংকট সাময়িক। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা এবং আস্থা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও বিজনেস উইংগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, বায়ারদের কাছে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা, ভুল বা নেতিবাচক তথ্যের যথাযথ জবাব দেওয়া এবং বাংলাদেশে সোর্সিং অব্যাহত রাখতে তাদের আস্থা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যকর ভূমিকা জরুরি। ক্রেতাদের উদ্দেশে বিপিএএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা সব সময় ক্রেতাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরিপালন করে আসছে। অতীতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে বড় ধরনের সমস্যা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বাংলাদেশ তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সোর্সিং হাব হিসেবে থাকবে। কারণ সরকার ও মালিকরা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। পোশাকশিল্পের প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ নিয়ে বর্তমান সংকট ও উত্তরণ বিষয়ে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মো. শাহরিয়ার। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি। বিপিএএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার জাগো নিউজ: জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি এবং কার্যাদেশ কিছুটা কম। অ্যাক্সেসরিজ, ট্রিমস ও প্যাকেজিংয়ে এর প্রভাব কেমন? মো. শাহরিয়ার: বর্তমানে বিশ্ববাজারে পোশাক পণ্যের অর্ডারের যে পরিস্থিতি, তাতে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। সাধারণত গার্মেন্টসের অর্ডার পাওয়ার আগেই অ্যাক্সেসরিজ, ট্রিমস ও প্যাকেজিংয়ের বিষয়টি বায়াররা নিশ্চিত করে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ নিয়ে অধিকাংশ বায়ারের মধ্যেই কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক খবর আমাদের প্রতিযোগী দেশ থেকে বায়ারদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। বায়াররা আবার তাদের নিজস্ব দূতাবাস ও বিজনেস উইংয়ের কাছ থেকেও এসব বিষয়ে তথ্য নিচ্ছে। তবে, আমরা ক্রেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থাকলেও পোশাকশিল্পের ব্যবসার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি এবং সরকার বিশেষ যত্নে রাখে এ খাত। এ কারণে এ খাত সবসময়ই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমস্যা হবে না। আরও পড়ুন তীব্র গ্যাস সংকটে খরচ বেড়ে দ্বিগুণ, ঝুঁকিতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপের বাজারেও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ জাগো নিউজ: তৈরি পোশাক খাতে সমস্যা হলে অ্যাক্সেসরিজ প্রস্তুতকারকদের জন্য কেন সমস্যা? মো. শাহরিয়ার: পোশাকশিল্পে সমস্যা দেখা দিলে পোশাকের উপকরণ প্রস্তুতকারকরাও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে গেলে পোশাক উৎপাদন কমে যায় এবং বোতাম, জিপার, লেবেল, প্যাকেটসহ বিভিন্ন উপকরণের চাহিদাও কমে যায়। ফলে উপকরণ প্রস্তুতকারকদের বিক্রি ও আয় কমে যায়। এছাড়া পোশাক কারখানাগুলো আর্থিক সংকটে পড়লে উপকরণ সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধে দেরি হতে পারে। এতে উপকরণ প্রস্তুতকারকদের অর্থের প্রবাহে সমস্যা তৈরি হয়। অন্যদিকে, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ ও শ্রমের ব্যয় বাড়লেও কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ থাকায় তাদের মুনাফা কমে যায়। তাই পোশাকশিল্প ও পোশাকের উপকরণ শিল্প একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। পোশাকশিল্পে সংকট হলে এর প্রভাব সরাসরি উপকরণ প্রস্তুতকারকদের বিক্রি, আয়, উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর পড়ে। জাগো নিউজ: বায়াররা কেন বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে হয়? মো. শাহরিয়ার: ক্রেতাদের যারা অর্ডার বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন, তারা মূলত চাকরিজীবী। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাওয়া এবং তাদের স্টোর খালি না থাকা। কোনো কারণে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সরবরাহে সমস্যা হলে তাদের চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই প্রয়োজনে আমাদের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও তারা অন্য দেশ থেকে পণ্য নিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, তারা শুধু সাময়িকভাবে অর্ডার সরাচ্ছে না; একই সঙ্গে নতুন নতুন সোর্সিং দেশও তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এসব দেশে যদি নীতিগত ও ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ হয়, তাহলে তারা সেখানেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। জাগো নিউজ: অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার এই প্রবণতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ আপনাদের জন্য? মো. শাহরিয়ার: এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সতর্কবার্তা। আমাদের ছয় মাস অর্ডার কম থাকলেও সরকার যদি প্রণোদনা, ইনসেনটিভ বা অন্যান্য সহায়তা দেয়, তাহলে হয়তো কোনোভাবে টিকে থাকতে পারব। কিন্তু ছয় মাস পর যদি বায়ার অন্য দেশে গিয়ে সেখানে ব্যবসা স্থায়ীভাবে চালিয়ে নেন, তাহলে পরে বাংলাদেশে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব সুবিধা ফিরলেও বায়ার চাইলেই আর ফিরে নাও আসতে পারে। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তামিল বিদ্রোহের সময় সেখান থেকে অনেক অর্ডার বাংলাদেশে চলে এসেছিল। তখন বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের বড় উত্থান হয়। এখন বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার পরও তারা আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারেনি। কারণ বায়াররা এরই মধ্যে অন্য দেশকে নির্ভরযোগ্য সোর্সিং পয়েন্ট হিসেবে গ্রহণ করেছে। আরও পড়ুন থমকে আছে উদ্যোগ, প্রাণ ফেরেনি অর্থনীতিতে রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় থাকেন গৃহিণীরা জাগো নিউজ: বর্তমানে কোন কোন দেশ বাংলাদেশ থেকে অর্ডার নিচ্ছে বা সোর্সিং বাড়াচ্ছে? মো. শাহরিয়ার: চীন, তুরস্ক, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে অর্ডার যাচ্ছে। আমি সম্প্রতি চীন ও হংকং সফর করেছি। হংকংয়ের কিছু বায়ার এখন বেশি দাম দিয়েও চীন থেকে সোর্স করছে। কারণ সেখানে পণ্যের মান ভালো হচ্ছে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সমস্যার কারণে তাদের স্টোর খালি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম। ভিয়েতনামেও আমরা এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। সেখানে আমাদের পার্টনার কারখানাগুলোতে এখন প্রচুর অর্ডার রয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অর্ডার বেশি হওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। কোনো কারখানার সক্ষমতা যদি এক মিলিয়ন পিস হয়, সেখানে দেড় মিলিয়ন পিসের অর্ডার এসেছে। ফলে শ্রমিক ছাঁটাই না করে উল্টো নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে। একটি দেশে কখন শ্রমিক সংকট হয়? যখন সেই দেশের অর্ডারের প্রবাহ ভালো থাকে। ভিয়েতনামের পোশাকশিল্পে এখন সেটিই হচ্ছে। জাগো নিউজ: এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় কী? মো. শাহরিয়ার: এখন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পোশাকশিল্প যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। ছয় মাস অর্ডার কম থাকলে আমরা হয়তো টিকে থাকতে পারব। কিন্তু ওই সময়ে বায়ার যদি অন্য দেশে ভালো পরিবেশ পেয়ে সেখানে স্থায়ী হয়ে যায়, তখন তাকে ফেরানো কঠিন হবে। আরও পড়ুন অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪.২৫ শতাংশ গ্যাস সংকটে শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে ধস জাগো নিউজ: বায়ারদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী? মো. শাহরিয়ার: আমাদের বার্তা খুব পরিষ্কার—স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে যত ধরনের অস্থিরতা হয়েছে, পোশাকশিল্প কখনোই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাংলাদেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোটি কোটি পরিবারের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, পোশাকশিল্প ভালো রাখার জন্য সবার মধ্যে একটি অবস্থান থাকে। আমরা বায়ারদের বলতে চাই, অতীতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে বড় ধরনের সমস্যা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তারা যেন বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি সোর্সিং পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করে। জাগো নিউজ: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আপনার উদ্বেগ কতটা? মো. শাহরিয়ার: উদ্বেগ অত্যন্ত বেশি। একটি কারখানা যদি দিনে আট থেকে ১০ ঘণ্টা চলে এবং এর মধ্যে তিন-চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে সেই কারখানা কীভাবে টিকে থাকবে? সরকারের উচিত প্রয়োজনে বেশি দাম দিয়ে হলেও পোশাকশিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। সরাসরি উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিবর্তে অন্য জায়গায় ভর্তুকি দিয়ে হলেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ঠিক রাখা যেতে পারে। ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা গেলে পোশাকশিল্প নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি জাগো নিউজ: এজন্য আপনার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কী? মো. শাহরিয়ার: আমার সবচেয়ে বড় প্রস্তাব হলো—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসা ও নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে কাজ করার জন্য একটি বিশেষ উইং খোলা। এই উইংটি শুধু আরএমজি খাত নিয়ে কাজ করবে না; বরং আরএমজির বাইরে কোন কোন খাতে বাংলাদেশ নতুনভাবে কাজ করতে পারে, কোন খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব চিহ্নিত করবে। এজন্য পাঁচ, সাত বা ১১ সদস্যের একটি কমিটি করা যেতে পারে। সেখানে একজন সরকারি আমলাকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির নেতৃত্বেও এ কাজ করা সম্ভব। ইপিবি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছে। ইপিবি কিংবা সরকারের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে একটি বিশেষ কমিটি করা হলে তারা নতুন খাতগুলোর সমস্যা, সম্ভাবনা ও নীতিগত প্রয়োজন চিহ্নিত করে কাজ করতে পারে। জাগো নিউজ: ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে এবং নতুন ক্রেতা ধরতে কী করণীয়? মো. শাহরিয়ার: বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিভিন্ন দেশের বায়াররা বাংলাদেশ নিয়ে যে নেতিবাচক রিপোর্ট পাচ্ছে, আমাদের দূতাবাসগুলোকে তার জবাব দিতে হবে এবং বায়ারদের আশ্বস্ত করতে হবে। অন্যান্য দেশের বিজনেস উইংগুলো তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক বিজনেস উইং থেকে আমরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাই না। আমি কয়েকটি দেশে বিজনেস উইংয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, সেখানে তেমন সহায়ক ভূমিকা দেখিনি। তবে কোরিয়ায় বাংলাদেশের বিজনেস উইং আমাদের খুব ভালো সহযোগিতা করেছে। অন্য জায়গাগুলোতেও একইভাবে সক্রিয় হতে হবে। সরকার যদি এ বিষয়ে একটু সতর্ক ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে, তাহলে বায়ারদের উদ্বেগ অনেকটাই দূর করা সম্ভব। আরও পড়ুন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ৫ এলএনজি টার্মিনাল, ৩০০ কূপ খননের পরিকল্পনা উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের জাগো নিউজ: এই মুহূর্তে শিল্প নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? মো. শাহরিয়ার: আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ এবং বায়ারদের আস্থা ধরে রাখা। শুধু আজকের অর্ডার নয়, আগামী দিনের অর্ডার কোথা থেকে আসবে সেটিও ভাবতে হবে। বায়ারদের যদি আমরা অন্য দেশে স্থায়ীভাবে চলে যেতে দিই, পরে শুধু গ্যাস-বিদ্যুৎ ঠিক করলেই তারা ফিরে আসবে না। তাই এখনই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক—সবাই মিলে পোশাকশিল্প ধরে রাখতে পারলে আমরা আবার এগিয়ে যেতে পারব। তা না হলে ছয় মাস পরের পরিস্থিতি আমাদের জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। আইএইচও/এমএমএআর/ এমএফএ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই ‘জুলাই যোদ্ধাকে’ গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। এরআগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে জুলাই যোদ্ধা হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জুলাই যোদ্ধা মাহমুদুল হাসান (৩৪)। তারা দুজনই উপজেলা আহত জুলাই যোদ্ধা সমিতির নেতা। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, এসব ইয়াবা তারা গাবসারা থেকে নিয়ে এসে এলেঙ্গাতে বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন।’ এ বিষয়ে জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল আজিম জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় রাতে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর বুধবার দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠনো হয়। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/এএসএম