রাজধানীর বাংলামোটরের জনতা অটোস। দোকানটিতে মোটরসাইকেলের নানা যন্ত্রাংশের পাশাপাশি বিক্রি করার জন্য সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের হেলমেট। বিক্রয়কর্মী জানান, তাঁদের দোকানের অধিকাংশ হেলমেটই ভারত থেকে আমদানি করা। বাকিগুলো স্থানীয় কোম্পানির হেলমেট। আমদানি করা হেলমেট ২৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। আর দেশীয় হেলমেটগুলো মেলে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায়।
রাজধানীর কয়েকটি হেলমেটের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ হেলমেটই মানহীন। এর মধ্যে কিছু হেলমেট পাওয়া যায় ১৫০ টাকায়ও, যা আসলে প্লাস্টিকের টুপি। প্লাস্টিকের আবরণে নিচে একটি পাতলা গেঞ্জি কাপড়ের আবরণে কোনো রকমে মাথায় পরা যায় এসব হেলমেট। মূলত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এসব হেলমেট ব্যবহার করা হয়।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপে রাজধানীতে বাইক চালান আরিফুজ্জামান শাওন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হেলমেট না থাকলে পুলিশ মামলা দেয়, সে জন্য আমরা হেলমেট দিই। অনেক যাত্রীই পরতে চান না। মামলা ও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই অনেকে হেলমেট ব্যবহার করেন। সে জন্য আমরা হালকা হেলমেট রাখি।’
বাংলাদেশে আমদানি করা হেলমেটের মধ্যে বাজারে পাওয়া বেশির ভাগ হেলমেটই ভারতীয়। এ ছাড়া রয়েছে চীন, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু হেলমেট। দাম ও মানভেদে এসব হেলমেট সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৭২ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। এসব হেলমেট বাজারজাত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। বাজারে পাওয়া আমদানি করা হেলমেটের বেশির ভাগের গায়েই বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ‘সিল’ রয়েছে।
বাংলামোটরের একটি দোকানের একজন হেলমেট বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা আমদানিকারকদের কাছ থেকে হেলমেট কিনে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের বিক্রি করতে হয়, মান দেখা তাঁদের কাজ নয়। মানহীন হেলমেট বিক্রির বিষয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘মানুষ কেনে সে জন্য আমরা আনি। আমাদের তো ব্যবসা করতে হবে।’

তবে বিএসটিআইয়ের সাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলোর ফলাফল বলছে, আমদানি করা হেলমেটের একটি অংশই মানসম্পন্ন নয়। গত ৬ মাসে সংস্থাটি ৪৯টি হেলমেটের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ৩৭টি গুণগত মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ১২টি। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ।
হেলমেট আমদানি করে এমন প্রতিষ্ঠান ভালকান। প্রতিষ্ঠানটি ভালকান নামেই নিজেদের নকশায় চীন ও ভারত থেকে নিজেদের ব্র্যান্ডের নামে হেলমেট আমদানি করে। ভালকানের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা ফারাবী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সব কটি হেলমেটই বিএসটিআইয়ের থেকে অনুমোদিত। আমদানি করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের শর্তাবলি অনুসরণ করে বলেও দাবি করেন তিনি।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মানসম্মত হেলমেট মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমায়। এ জন্য মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিতে সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। পুলিশ চাইলেই মানহীন হেলমেট যাচাই-বাছাই করে জরিমানা করতে পারে। মানহীন হেলমেটের ব্যবহার থামাতে সরকার সড়কে প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারে।

যেভাবে পরীক্ষা করে বিএসটিআই
বর্তমানে ৩৩৫ ধরনের পণ্য আমদানি ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এই তালিকায় রয়েছে দুই ধরনের হেলমেট। এর মধ্যে টু-হুইলার বা মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য একধরনের এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত নিরাপত্তা হেলমেট। অর্থাৎ এই দুই শ্রেণির হেলমেট বাজারজাত করতে হলে সংস্থাটির নির্ধারিত মান অনুযায়ী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মডেল ও মানের হেলমেট আমদানি করতে হলে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে একটি নমুনা পরীক্ষা করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিষ্ঠানটির হেলমেট পরীক্ষা করার ল্যাবে কয়েক ধাপে নিরাপত্তা পরীক্ষা করে। সে ক্ষেত্রে একটি কোনো একটি চালানের একটি হেলমেটের নমুনা পরীক্ষা করলেই হয়।
নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিএসটিআই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠাকে হেলমেট বাজারজাত করার অনুমতি দেয়। বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন হেলমেটে বসিয়ে তা বাজারে ছাড়তে হয়। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হেলমেটে মানচিহ্ন থাকে না।
বিএসটিআই বলছে, পরীক্ষাগারে কৃত্রিম উপায়ে হেলমেটে আঘাত লাগলে সেটি কতটা আঘাত শোষণ করতে পারে, তা পরীক্ষা করা হয়। ধারালো বা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করলে সেটি হেলমেট ভেদ করে মাথায় পৌঁছাতে পারে কি না, তা দেখা হয়।
এই পরীক্ষাগুলো বিভিন্ন পরিবেশগত অবস্থায় করা হয়। এর মধ্যে বেশি তাপমাত্রায় রেখে পরীক্ষা; কম তাপমাত্রায় রেখে পরীক্ষা; সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মির প্রভাবে রেখে পরীক্ষা; বৃষ্টি বা পানির সংস্পর্শে রাখার পর পরীক্ষা করা হয়।
বিএসটিআই সাধারণত হেলমেটের ওজন, আকার, ধরন, রং, ঘর্ষণ, চাপ, তাপ, পানি সহনশীলতা, সামনের স্বচ্ছ অংশে (ভিজর) আলো আসা-যাওয়াসহ আরও কিছু বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ওজন ১৫০০ গ্রাম বা দেড় কেজিকে আদর্শ মান ধরা হয়। নিখুঁত পরীক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হয়, হেলমেট মাথায় (চিন স্ট্র্যাপ) আটকানোর সক্ষমতাও। সব ধাপে উত্তীর্ণ হলেই মেলে বিএসটিআইয়ের সনদ।
বিএসটিআইয়ের পদার্থ পরীক্ষণ উইংয়ের পরিচালক মুবিন উল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীদের বিএসটিআইয়ের মান দেখে হেলমেট আমদানি করা উচিত, যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। আর ব্যবহারকারীদেরও হেলমেট কেনার ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষা করা হেলমেট কেনা উচিত।
দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ লাখ ৭১ হাজার মোটরসাইকেল, যা মোট যানবাহনের প্রায় ৭৪ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ৬৭২ জন, যা সড়কে মোট মৃত্যুর ৩৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশে মোটরবাইকের ক্ষেত্রে হেলমেট ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্য সরকারের পলিসি হওয়া উচিত মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া। পাশাপাশি উৎস পর্যায়ে মাননিয়ন্ত্রণ করা, আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সবার সম্মিলিত সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলেই মানহীন হেলমেটের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা প্রদেশে প্রচণ্ড গরমে বন্ধ গাড়িতে দমবন্ধ হয়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় তারা বাবা-মা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাড়ির ভেতর পার্টি করতে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা যায়। রোববার অ্যারিজোনার পেয়োরিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওইদিন চার্চে অন্য এক শিশুর ব্যাপটিজমের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পর দুপুর ১টার দিকে থিও সাবো নামের পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুকে রেখেই ভুলক্রমে গাড়ি বন্ধ করে দেন তার বাবা মা। এরপরও অভিযুক্ত বাবা তার বড় ছেলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন বলে জানায় পুলিশ। খবর দ্য সান এর। বাড়ির ভেতর প্রায় ৫০ জন অতিথিকে নিয়ে পার্টির আয়োজন করেছিলেন থিওর বাবা-মা। আড়াই ঘণ্টা পর তারা লক্ষ্য করেন যে থিওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে তারা বন্ধ গাড়ির ভেতরে থিওকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। থিওর বাবা-মা মিহাইল সাবো ও আনকা সাবোর বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যু ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তাদের ১৮, ১৫, ১৪ ও ৯ বছর বয়সী আরও চার সন্তান রয়েছে। আটকের পর শিশুটির বাবা দাবি করেন-তিনি তার ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে বলেছিলেন থিওকে গাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য। তবে, তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে ওই কিশোর জানান, ছোটভাইকে নিয়ে আসার জন্য তার বাবা তাকে কিছু বলেননি। ম্যারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে শুনানির একটি ভিডিওতে নিহত শিশুর মাকে কাঁদতে ও তার বাবাকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখা যায়। এএমএ
জনগণের সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টার থাকার কথা। কোন দপ্তর থেকে কী সেবা পাওয়া যাবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী কী লাগবে, সেবার জন্য নির্ধারিত ফি কত, কত সময়ের মধ্যে সেবা পাওয়ার কথা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে—এসব তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথা এই চার্টারে। কিন্তু ময়মনসিংহের সরকারি দপ্তরগুলোর বাস্তব চিত্র বলছে, নাগরিকের এই মৌলিক তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার এখনো অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, কাস্টমস-এক্সাইজ-ভ্যাট বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, ভূমি অফিস, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অন্তত ৪০টি কার্যালয় রয়েছে। গত কয়েকদিনে সরেজমিন এসব কার্যালয়ের মধ্যে মাত্র আটটিতে সিটিজেন চার্টার দেখা গেছে। আরও পড়ুন জনপ্রতিনিধির অভাবে ভোগান্তিতে রাজশাহীর ৭২ ইউনিয়নের মানুষ সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চার্টার বেশিরভাগ অফিসে না থাকায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিকদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। কোথায় আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, সরকারি ফি কত কিংবা কতদিনের মধ্যে সেবা পাওয়ার কথা— এসব মৌলিক তথ্য জানতে অনেককেই নির্ভর করতে হচ্ছে অফিসের কর্মচারী, পরিচিত ব্যক্তি কিংবা দালালের ওপর। ‘সিটিজেন চার্টার কেবল একটি তথ্যবোর্ড নয়; এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির লিখিত প্রকাশ। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক জানতে পারেন তার অধিকার, সেবা পাওয়ার শর্ত, নির্ধারিত সময় ও প্রতিকার চাওয়ার পদ্ধতি। অথচ অনেক সিটিজেন চার্টারেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, ফোন নম্বর ও ই-মেইল উল্লেখ নেই’ শুধু চার্টার না থাকার বিষয়ই নয়, যেসব দপ্তরে সিটিজেন চার্টার পাওয়া গেছে, সেখানেও সবকিছু সন্তোষজনক নয়। কোথাও তা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর নয়, আবার কোথাও চার্টারের ওপরই জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চার্টারে থাকা তথ্য অসম্পূর্ণ, হালনাগাদ নয় কিংবা অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্যও নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিটিজেন চার্টার কেবল একটি তথ্যবোর্ড নয়; এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির লিখিত প্রকাশ। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক জানতে পারেন তার অধিকার, সেবা পাওয়ার শর্ত, নির্ধারিত সময় ও প্রতিকার চাওয়ার পদ্ধতি। অথচ অনেক সিটিজেন চার্টারেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি, ফোন নম্বর ও ই-মেইল উল্লেখ নেই। ফলে একজন নাগরিক কোনো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কার কাছে যাবেন, কতদিনের মধ্যে সেবা পাওয়ার কথা কিংবা সেবা না পেলে কোথায় অভিযোগ করবেন, এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পান না। আরও পড়ুন শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থার সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (সিটিজেনস চার্টার) প্রণয়ন সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৭ অনুযায়ী নাগরিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও অভ্যন্তরীণ—এ তিন ধরনের সেবার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি সেবার ক্ষেত্রে সেবার নাম, সেবা প্রদানের পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রাপ্তিস্থান, সেবার মূল্য ও পরিশোধ পদ্ধতি, সেবা প্রদানের সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি, ফোন নম্বর ও ই-মেইল উল্লেখ থাকার কথা। তবে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সরকারি অফিস ঘুরে এই মৌলিক তথ্যের ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে। ‘নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। এরপর অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা, আপিল কর্মকর্তা এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৩০ কার্যদিবস, আপিল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ২০ কার্যদিবস এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৬০ কার্যদিবসের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে’ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সেবা নিতে আসা বাবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে তাকে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে ঘুরতে হয়েছে। কোথায় আবেদন করতে হবে, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন কিংবা নির্ধারিত ফি কত—এসব বিষয়ে আগে থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাননি তিনি। বাবুল হোসেন বলেন, ‘অফিসে সিটিজেন চার্টার স্পষ্ট ও দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত থাকলে সেবার প্রক্রিয়া বিষয়ে আগেই জানতে পারতাম। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই অনেক কমে যেত।’ নগরীর সিনিয়র সিটিজেন আবুল হাসনাত বলেন, ‘সরকারি সেবার নিয়ম ও প্রক্রিয়া বিষয়ে জনগণকে অন্ধকারে রাখলে দালাল নির্ভরতা ও হয়রানি বাড়ে। অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগও তৈরি হয়। নাগরিক যদি না জানেন তার কাজের সরকারি খরচ কত, কতদিনে কাজ হওয়ার কথা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কে, তাহলে সহজ একটি কাজ করতেও তাকে বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়।’ আরও পড়ুন সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন ময়মনসিংহ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগীয় কার্যালয়ে সিটিজেন চার্টার বিষয়ে জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা বলেন, এ কার্যালয়ে কোনো সিটিজেন চার্টার নেই। তার দাবি, তাদের দপ্তরে সিটিজেন চার্টারের প্রয়োজনও নেই। গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সড়ক ভবন ও গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়েও সিটিজেন চার্টার পাওয়া যায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও সিটিজেন চার্টার বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণার ঘাটতি দেখা গেছে। কথা হয় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত কনস্টেবল হোসনে আরার সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সেবার বিষয়ে তিনি অবগত নন। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সিটিজেন চার্টার-সংক্রান্ত কোনো বোর্ড বা ব্যানারও তার নজরে পড়েনি। চার্টারে ময়লার স্তূপ যেসব অল্প কয়েকটি দপ্তরে সিটিজেন চার্টারের দেখা মিলেছে, সেখানেও চিত্র পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। কোথাও চার্টার সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও চার্টারের ওপর জমে আছে ময়লার স্তূপ। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে প্রথমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। এরপর অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা, আপিল কর্মকর্তা এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৩০ কার্যদিবস, আপিল কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ২০ কার্যদিবস এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৬০ কার্যদিবসের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। ময়মনসিংহ মহানগর সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক আলী ইউসুফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিটিজেন চার্টার কোনো দপ্তরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখার আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়; এটি নাগরিকের অধিকার ও সরকারি সেবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সিটিজেন চার্টার দৃশ্যমান, স্পষ্ট ও হালনাগাদ না থাকলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে একদিকে নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানির সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টার যথাযথভাবে প্রদর্শন ও নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি।’ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ময়মনসিংহের সভাপতি শরীফুজ্জামান পরাগ। তিনি বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টার শুধু প্রদর্শন করলেই হবে না; এটি হতে হবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার কার্যকর দলিল। ময়মনসিংহের সরকারি দপ্তরগুলোতে সিটিজেন চার্টার দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও এ বিষয়ে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’ আরও পড়ুন নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে চলবে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন তিনি আরও বলেন, ‘চার্টারে কোন সেবা কত সময়ে পাওয়া যাবে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এবং সেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ হলে কোথায় প্রতিকার পাওয়া যাবে—এসব তথ্য বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। শুধু চার্টার প্রণয়ন করে দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখলে নাগরিকরা এর সুফল পাবেন না।’ তবে সিটিজেন চার্টার নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সিটিজেন চার্টার হলো নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের অলিখিত চুক্তি। প্রতিটি অফিসেই থাকার কথা। যেসব কার্যালয়ে সিটিজেন চার্টার নেই, তা মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এসআর/এএসএম
কুমিল্লার মুরাদনগরে চাচা-ভাতিজার সম্পত্তি বিরোধের জেরে জোড়া খুনের ঘটনায় ২০ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান এই তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তাকে মামলার মূল আসামি ও তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) এবং কন্যা ইতি (১৮)। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানার ধরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম তিতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার বেবিকে (৭০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও অভিযানে নামেন। আরও পড়ুন ২৮ আঙুল নিয়ে জন্ম নিলো শিশু পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২০ ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলার মূল আসামি ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম তিতু ও খালেদা আক্তার বেবিকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেখানো তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে তাদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। জাহিদ পাটোয়ারী/এনএইচআর