সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর-এই তিন মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এর বিস্তারিত তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে আগেই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঘরে এসির পেছনে জমে থাকা পানি, বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি কিংবা আশপাশের গর্তে জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়। তাই এসব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।
সালেহ শিবলী বলেন, গত সপ্তাহের স্কাউটস, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ওই আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, মানুষ যদি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেয় এবং প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে ঘরে ও আশপাশে ময়লা পানি জমতে না দেয় তাহলে ডেঙ্গুর মরণঘাতী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
মুখপাত্র সালেহ শিবলী বলেন, মন্ত্রী, গণমাধ্যমকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ-মশা কাউকে আলাদা করে চেনে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সবাই যদি আজ থেকেই নিজের চারপাশ পরিষ্কার করা শুরু করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
কেএইচ/কেএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আইফোনের নতুন রং নিয়ে নেটপাড়ায় কম আলোচনা হয়নি। কিন্তু এবার যে দাবি ভাইরাল হয়েছে, তা শুনলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠতে পারে! সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো-এর নতুন বার্গেন্ডি রং নাকি বলিউড অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরির ‘লাভ মার্ক’ থেকে অনুপ্রাণিত। তবে মজার এই দাবির পেছনে রয়েছে একটি স্যাটায়ার পোস্ট, সত্যি কোনো অ্যাপল ঘোষণা নয়। সম্প্রতি ‘স্যাটায়ারলজি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে এই দাবি করা হয়। পোস্টটিতে মজা করে বলা হয়, অ্যানিমেল ছবিতে তৃপ্তি দিমরির আলোচিত ‘লাভ মার্ক’ দেখে অ্যাপলের নতুন বার্গেন্ডি রঙের অনুপ্রেরণা এসেছে। এমনকি পোস্টে অ্যাপলের সিইও জন টার্নাস এবং তৃপ্তি দিমরির মধ্যে কাল্পনিক কথোপকথনের কথাও তুলে ধরা হয়। পোস্টটি শুধু মজার দাবিতেই থেমে থাকেনি। সেখানে বলা হয়, তৃপ্তি নাকি অ্যাপল পার্কে উপস্থিত ছিলেন এবং অ্যাপলের পক্ষ থেকে তাকে নতুন আইফোনও দেখানো হয়েছিল। পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে, প্রথমবার দেখলে অনেকের কাছেই সেটিকে সত্যি খবর বলে মনে হতে পারে। আরও পড়ুন আইফোন ১৭ সিরিজে কমলা, ১৮-তে কোন রং জনপ্রিয়? তবে পোস্টটির নিচেই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল যে এটি একটি স্যাটায়ার, অর্থাৎ বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট। বাস্তবে অ্যাপল বার্গেন্ডি রংটি তৃপ্তি দিমরি কিংবা অ্যানিমেল ছবির কোনো দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত করেছে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে এই স্যাটায়ারের পেছনে একটি সত্যি ঘটনা রয়েছে। তৃপ্তি দিমরি এবারের অ্যাপলের আইফোন লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে অ্যাপলের সিইও জন টার্নাসের সঙ্গে দেখা যায়। গায়ক এপি ধিলন-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তৃপ্তির সঙ্গে জন টার্নাসের কথোপকথনের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই বাস্তব ঘটনাটিকেই স্যাটায়ারলজি মজার গল্পের সঙ্গে জুড়ে দেয়। ফলে পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সেটিকে সত্যি বলে ধরে নেন। পোস্টটিতে তিন হাজারের বেশি লাইকও পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমেন্টেও দেখা যায় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ বার্গেন্ডি রং নিয়ে মজার মন্তব্য করেছেন, কেউ আবার তৃপ্তির পিআর টিমের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়েছেন। আবার কেউ পোস্টটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থাৎ, স্যাটায়ার বা বিদ্রূপ ও হাস্যরস হলেও সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভালোভাবেই আলোড়ন তৈরি করে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে আসল বিষয় হলো, তৃপ্তি দিমরির অ্যাপল ইভেন্টে উপস্থিত থাকার ঘটনা সত্যি, কিন্তু তার ‘লাভ মার্ক’ থেকে আইফোন ১৮ প্রো-এর বার্গেন্ডি রং তৈরি হয়েছে এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই। এটি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, যা বাস্তব একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ায় আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট যতই মজার বা বিশ্বাসযোগ্য মনে হোক, সেটিকে সত্যি ধরে নেওয়ার আগে পোস্টটি স্যাটায়ার কি না এবং দাবিটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্র আছে কি না, তা যাচাই করাই নিরাপদ। সূত্র: ইনস্টাগ্রাম কেএসকে
রাশিয়ায় উত্তাল পাহাড়ি নদীতে উল্টে পড়ে যাওয়া একটি গাড়ি। সেখানে আটকা পড়েন এক মা ও শিশু। কীভাবে বেঁচে ফিরলেন তাঁরা? দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে…
অভিনয়ের ব্যস্ততা থেকে খানিকটা দূরে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। পাহাড়, লেক আর নৌকার মায়াবী পরিবেশে রাঙামাটিতে ঘোরাঘুরির কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাঙামাটি ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন প্রভা। ছবিগুলোতে কখনো তাকে দেখা গেছে পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝে, কখনো নৌকায়, আবার কখনো কাপ্তাই লেকের নীল জলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ছবিগুলো প্রকাশের পাশাপাশি নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ছবির সঙ্গে প্রভা লিখেছেন, ‘পাহাড়, লেক, একটি সুন্দর নৌকা, আমাদের খুনসুটি আর একটু জাদুর মাঝে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম। রাঙামাটি ছিল ভীষণ সুন্দর।’ প্রকৃতির এমন মায়াবী পরিবেশে প্রভার হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি মনে করিয়ে দেয় বহুল পরিচিত গান ‘রাঙা মাটির রঙে চোখ জুড়ালো’-এর কথা। পাহাড়, লেক ও সাম্পান ঘেরা রাঙামাটির যে সৌন্দর্য গানের কথায় ফুটে উঠেছে, প্রভার প্রকাশ করা ছবিতেও যেন সেই দৃশ্যেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে। রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই লেক। বিশাল এই জলরাশির চারপাশে সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের মেলবন্ধন পর্যটকদের বরাবরই টানে। নৌকায় লেক ভ্রমণের সময় প্রকৃতির এমন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেছেন প্রভাও। প্রকাশিত ছবিগুলোতে তার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি এবং প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা নজর কেড়েছে ভক্তদের। অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরে এমন ভ্রমণ যে তাকে বেশ প্রশান্তি দিয়েছে, তার লেখাতেও মিলেছে সেই ইঙ্গিত। ‘রাঙা মাটির রঙে চোখ জুড়ালো’ গানটি গেয়েছেন নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। গানটির কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির এবং সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলী। রাঙামাটির প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে গানটি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়। পাহাড়ের সবুজ, লেকের নীল জল আর নৌকার দুলুনিতে প্রভার রাঙামাটি ভ্রমণের ছবিগুলোতেও যেন সেই চেনা রাঙামাটির সৌন্দর্য নতুন করে ধরা দিয়েছে। এলআইএ