ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা সংস্কার শেষে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি।
আরও যোগ করা হয়েছে আব্দুল মালেকের ছবি, যিনি ছিলেন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা। সংগ্রহশালায় তাঁর একটি ছবি এবং মৃত্যুর পরের একটি ছবি রাখা হয়েছে।
আব্দুল মালেকের ছবির নিচে ডাকসুর দেওয়া ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য দেওয়া শেষে ফেরার পথে বিরোধীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।’
১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী সামষ্টিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা ইতিহাসের প্রতি দায়।’
সমসাময়িক সংবাদপত্রে সংঘর্ষ, আহত হওয়া এবং আব্দুল মালেকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। তবে তাঁকে কে বা কারা প্রাণঘাতী আঘাত করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায় না।
ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আব্দুল মালেকের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। তিনি থাকতেন ফজলুল হক মুসলিম হলে।
ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আব্দুল মালেকের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। তিনি থাকতেন ফজলুল হক মুসলিম হলে।
ছাত্রসংঘ ছিল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অনুগত একটি ছাত্রসংগঠন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। আলবদর গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের দিয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে ছাত্রসংঘ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ হারায়।
জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। তখন জামায়াতে ইসলামী পুনর্গঠিত হয় এবং ছাত্রশিবির আত্মপ্রকাশ করে। অনেকেই বলেন, শিবির হলো ছাত্রসংঘের উত্তরসূরি। অবশ্য শিবির কখনোই তা স্বীকার করে না।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকারের প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। এয়ার মার্শাল এম নূর খানের কমিশন এই শিক্ষানীতির সুপারিশ করেছিল।

১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) তোফায়েল আহমেদ।
ড. মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। বইয়ে লেখা হয়েছে, মুক্ত আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়নের (মতিয়া) সভাপতি সামসুদ্দোহা। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর অভিমত রাখছিলেন। তাঁর বক্তৃতার এক পর্যায়ে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের একদল কর্মী সভাকক্ষে ঢুকে হট্টগোল শুরু করে দেন এবং ‘ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করো’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা চাই না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
মোহাম্মদ হাননান লিখেছেন, একপর্যায়ে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা মঞ্চে পর্যন্ত উঠে পড়েন এবং এ অবস্থায় দুই দল পরস্পর চেয়ার ছুড়তে থাকে। ডাকসু নেতা তোফায়েল আহমেদ দাঁড়িয়ে মাইকে বারবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানাতে থাকেন। কিন্তু এতে কোনো শুভ ফল হয়নি। এ সময় একদল ছাত্রসংঘ কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে পড়েন এবং এক অনাহূত সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।
দৈনিক আজাদের ১৩ আগস্টের (১৯৬৯) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মালেকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট মারা যান আব্দুল মালেক। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।
তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন—উভয় দলের কর্মীরা এ সময় সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা দিতে আসেন এবং প্রচণ্ড সংঘর্ষের পর ছাত্রসংঘের কর্মীরা রেসকোর্সের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দিকে পালাতে থাকেন বলে উল্লেখ করে মোহাম্মদ হাননান লিখেছেন, সংঘর্ষে ঢাকা শহর ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি আব্দুল মালেক, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইদরিস আলী, ছাত্রলীগ নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ গুরুতরভাবে আহত হন।
এ সময় কলাভবনের ডিনের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক সংঘর্ষস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে ওঠে এবং আবারও আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে ছাত্রনেতারা ‘গুন্ডা’দের সভা পণ্ড করার চক্রান্তের তীব্র নিন্দা করেন এবং গণতন্ত্রের দুশমন এসব ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র আসন থেকে উচ্ছেদ করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দৈনিক আজাদের ১৩ আগস্টের (১৯৬৯) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে মালেকের অবস্থা ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৫ আগস্ট মারা যান আব্দুল মালেক। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর।
দৈনিক আজাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাকসুর সভায় বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে পরিবেশ শান্ত ছিল। প্রথম বক্তা ছিলেন সামসুদ্দোহা। তিনি খসড়া শিক্ষানীতি ব্যাখ্যা করছিলেন। একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্র দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। সভাপতি সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রতিবাদকারী ছাত্রদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ছাত্রসংঘ ছিল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের অনুগত একটি ছাত্রসংগঠন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। আলবদর গঠিত হয়েছিল ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের দিয়ে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে ছাত্রসংঘ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ হারায়।
আজাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন ছাত্র মঞ্চে উঠে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ছোটাছুটি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুই পক্ষ হলের বাইরে চলে আসে। সেখানে সংঘর্ষ আরও বেড়ে যায়। চেয়ার ও ভাঙা কাঠ দিয়ে আঘাতের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন আহত হন। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
দৈনিক আজাদের প্রতিবেদনে আব্দুল মালেককে কে বা কারা আঘাত করেছিলেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে বলা আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পর বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীদের হামলায় আব্দুল মালেক গুরুতর আহত হন। পরে ১৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
মোহাম্মদ হাননান বাংলাদেশের ‘ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে লিখেছেন, ডাকসু আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় ইসলামী ছাত্রসংঘ যে হট্টগোলের সৃষ্টি করে, তা তারা তাদের দেওয়া বিবৃতিতে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেয়। ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রাদেশিক শাখার সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খসড়া শিক্ষানীতি–সম্পর্কিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের দাবি জানানোর ফলে ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতন্ত্রী গুন্ডাদের আক্রমণে ইসলামী ছাত্রসংঘের ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, একজন বক্তার ইসলামের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।

১৭ আগস্ট (১৯৬৯) পূর্ব পাকিস্তানের ছয় ছাত্রনেতা মোস্তফা জামাল হায়দার ও মাহবুবউল্লাহ (ছাত্র ইউনিয়ন-মেনন), সামসুদ্দোহা ও নুরুল ইসলাম (ছাত্র ইউনিয়ন-মতিয়া), তোফায়েল আহমেদ ও আ স ম আবদুর রব (ছাত্রলীগ-তোফায়েল) এক বিবৃতিতে আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে শোক জানান। তাঁরা বলেন, একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে কিছুসংখ্যক ছাত্র গোলযোগ সৃষ্টি করলে তাঁর দুঃখজনক পরিণতি হিসেবে আব্দুল মালেকের মৃত্যু ঘটেছে।
ডাকসুর পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে শোক জানানো হয়।
তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে একটি শোকবাণী দিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে একটি শোকসভার আয়োজন করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে।
ড. মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা মঞ্চে পর্যন্ত উঠে পড়েন এবং এ অবস্থায় দুই দল পরস্পর চেয়ার ছুড়তে থাকে। ডাকসু নেতা তোফায়েল আহমেদ দাঁড়িয়ে মাইকে বারবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানাতে থাকেন। কিন্তু এতে কোনো শুভ ফল হয়নি। এ সময়ে একদল ছাত্রসংঘ কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে পড়েন এবং এক অনাহূত সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।
আব্দুল মালেকের মৃত্যুর ঘটনা বুঝতে হলে ফিরে যেতে হয় ১৯৬৯ সালের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে।
তখন পাকিস্তানে আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র। পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন একপর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ২৫ মার্চ আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়লে সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। দেশে আবার সামরিক শাসন জারি হয়।
একই সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান সরকার। এয়ার মার্শাল নূর খানকে নতুন শিক্ষানীতি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে ‘প্রপোজালস ফর আ নিউ এডুকেশনাল পলিসি’ নামে একটি প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়।
প্রস্তাবটি তখনো চূড়ান্ত শিক্ষানীতি ছিল না। জনমত নেওয়ার জন্য এটি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত নীতি ১৯৭০ সালের মার্চে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে তা কার্যকর করার সুযোগ হয়নি।

নূর খান প্রস্তাবে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষায় গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের মতো বিষয় ছিল।
তবে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রস্তাবের অংশটি।
প্রস্তাবে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামের ধারণা ও নীতির ভিত্তিতে পরিচালনার কথা বলা হয়। অভিন্ন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইসলামিয়াত বা দ্বীনিয়াত বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অমুসলিম শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
এ বিষয়গুলো নিয়েই পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
নূর খান প্রস্তাবের প্রতিটি বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর অবস্থান এক ছিল না। শিক্ষার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে বিভাজন ছিল স্পষ্ট। ইসলামী ছাত্রসংঘ এবং ইসলামপন্থী ছাত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো শিক্ষায় ইসলামি মূল্যবোধের গুরুত্বকে সমর্থন করে।
তাদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি আদর্শের প্রতিফলন থাকা উচিত। শিক্ষা শুধু চাকরি বা পেশাগত দক্ষতা তৈরির বিষয় নয়; নৈতিক চরিত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরিও শিক্ষার দায়িত্ব—এমন অবস্থান ছিল তাদের।
অন্যদিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ এবং বাম ও প্রগতিশীল ছাত্রগোষ্ঠী এ অবস্থানের বিরোধিতা করে। তারা গণমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দেয়।
তাদের আশঙ্কা ছিল, পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়কে শিক্ষার প্রধান ভিত্তি করা হলে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় আরও পিছিয়ে পড়বে।
ফলে নূর খান প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক শুধু শিক্ষার বিষয় হয়ে থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয় ধর্ম, ভাষা, জাতীয় পরিচয়, পাকিস্তানি রাষ্ট্রচিন্তা ও বাঙালির রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন।
এই বিতর্কের মধ্যেই ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ডাকসুর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা সভা হয়।
আব্দুল মালেকের মৃত্যুর পর ইসলামী ছাত্রসংঘ তাঁকে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে আন্দোলনের শহীদ হিসেবে স্মরণ করতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরও তাঁর স্মৃতিকে সংগঠনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক ইতিহাসের অংশ করে নেয়। ১৫ আগস্টকে তারা ‘ইসলামী শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় আব্দুল মালেকের ছবি যুক্ত হওয়ায় এখন সেই পুরোনো ইতিহাসই নতুন করে সামনে এসেছে।

ডাকসুর সংগ্রহশালা সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি। একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।
সংগ্রহশালা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ডাকসুর নেতাদের বক্তব্য, জিন্নাহকে গৌরবান্বিত করার জন্য তাঁর ছবি রাখা হয়নি; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত ঘটনাগুলো তুলে ধরতেই ছবিগুলো রাখা হয়েছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগ্রহশালায় জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
এর মধ্যেই ১৪ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘আমলে নিচ্ছেন না’ বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে পোশাকধারী এবং পোশাকধারী ছাড়াও সবসময় কঠোর নিরাপত্তা থাকে। এটি আগেও ছিল, এখনো আছে। আর ককটেল বিস্ফোরণ—এগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটে প্রবেশপথের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আরও পড়ুন আমরা এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি: চিফ প্রসিকিউটর রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক। রায়ে প্রত্যেক আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, আন্দোলন দমনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন নির্দেশনা, বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন। মামলায় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার পাশাপাশি ইন্টারনেটের গতি কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আরও পড়ুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ৭ জনের ফাঁসির রায়ের পর ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়, জড়িতরা শনাক্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগের মধ্যে ১১ জুলাই সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপ, ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা এবং ১৫ জুলাই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ও ছিল। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রায় ঘোষণার পর জানিয়েছিলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল এবং অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। এফএইচ/এমকেআর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধী শনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কে প্রবেশ করছে, কে বের হচ্ছে- তা আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতেও প্রযুক্তিটি সহায়ক হবে। তবে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের প্রশ্ন- সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাস্তবায়ন কবে? আর শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই কি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার সমস্যার সমাধান হবে? আরও পড়ুন মেয়াদ শেষ, আরও ৯০ দিন দায়িত্বে থাকছে ডাকসু কমিটি প্রযুক্তি আসছে, কিন্তু তার ব্যবহার, তথ্যের নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনা এসব প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। ‘অপরাধী শনাক্তে জটিলতা ছিল’ ঢাবির প্রক্টর চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে কাজ করছে প্রশাসন। তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যাম্পাসে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের চেহারাও ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন ঢাবি ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফেরালো সড়কবাতি, এখন দাবি কার্যকর সিসি ক্যামেরা প্রক্টরের ভাষ্য, এর আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজে জড়িত ব্যক্তির চেহারা স্পষ্টভাবে পাওয়া যেত না। ফলে অপরাধী শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হতো। এ কারণেই নতুন প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ‘ভালো উদ্যোগ, কিন্তু এত দেরিতে কেন?’ প্রশাসনের পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উদ্যোগটি নিতে এতসময় লাগল কেন- এ প্রশ্নও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আরিফ বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে জানানো হয়। অভিযোগ বা স্মারকলিপির মাধ্যমেও বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। প্রশাসন যখন আগে থেকেই এসব বিষয়ে অবগত, তখন সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি কেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আরও পড়ুন ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান তার ভাষায়, বিভিন্ন ঘটনায় বারবার তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও সেই তদন্তের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আরিফের প্রশ্ন, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তবায়ন হবে? আদৌ হবে কি না, নাকি এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমানোর জন্য দেওয়া আরেকটি আশ্বাস- সেটিও এখন দেখার বিষয়। ‘শুধু ক্যামেরা থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না’ এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব ব্যবস্থাপনার ওপর- এমনটাই মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী লিনা। তিনি বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ক্যামেরা শনাক্ত করার পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে কি না। ‘এআই ক্যামেরা কীভাবে কাজ করবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিয়া রহমান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এআই ক্যামেরা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। আরও পড়ুন ডাকসু সংগ্রহশালা / গোলাম আজমকে জুতাপেটার ছবি টানানোর কারণ জানালেন অর্ক তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অনেক সময় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে তাসনিয়ার প্রশ্ন, প্রযুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেক সময় লাগে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয় না। তাই এআই ক্যামেরার কার্যক্রম যেন কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতের কারণে প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা রাখা হবে- এটি গুরুত্বপূর্ণ। তারমতে, শুধু বহিরাগত বা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করলেই হবে না, শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার কাছে অ্যালার্ট যাবে এবং কীভাবে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার। আরও পড়ুন জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার পর গোলাম আযমের ছবি টাঙানো নিয়ে নতুন বিতর্ক তাসনিয়া বলেন, এআই ক্যামেরার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি এর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে প্রযুক্তিটি বাস্তবে কী ভূমিকা রাখবে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ‘সিসিটিভি লাগানোর কথা শুনি, কিন্তু ঘটনার পর ফুটেজ কোথায়?’ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার জন্য নতুন সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও প্রশাসনের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঢাবির সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নারী হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের স্ক্রিনিংয়ের সময়ও নারী হেনস্তার অভিযোগ এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে টিএসসিতে ছাত্র ইউনিয়নের এক নারী কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মোজাম্মেল হকের প্রশ্ন, কোনো ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনকে জানানো হলে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়; কিন্তু অভিযোগগুলোর বিচার আদৌ হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসে যে ধরনের বিচারহীনতার অভিযোগ ছিল, পরবর্তীসময়েও তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। নতুন ল্যাম্পপোস্ট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হলেও ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চান, তখন অনেক সময় ক্যামেরা নষ্ট বা ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না- এমন কথা শোনা যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তারমতে, নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আদৌ সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। ‘বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান মাহী বলেন, ডিজিটাল সিস্টেমের এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তারমতে, বাস্তবায়ন হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়বে এবং এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাহী বলেন, এআই ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে-এটাই এখন প্রত্যাশা। ‘ঢাবির মতো খোলামেলা ক্যাম্পাসে এটি প্রয়োজন’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছোয়া বলেন, ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নারী হেনস্তার ঘটনার প্রেক্ষাপটে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এআই ক্যামেরা স্থাপন অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন, ঢাবির মতো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাধারণ ক্যামেরার তুলনায় এআইভিত্তিক ক্যামেরা হলে তা আরও কার্যকর হতে পারে। তবে, প্রশাসনের আরও আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। সাধারণ সিসিটিভি-এআই সিসিটিভির পার্থক্য কোথায়? এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরার তুলনায় কীভাবে আলাদা এবং এটি নিরাপত্তায় কতটা কার্যকর হতে পারে- এ বিষয়ে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. সাইফুল হক বলেন, সাধারণ সিসিটিভি মূলত ঘটনা রেকর্ড করে। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা ঘটার পর তদন্তের প্রয়োজনে সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। অন্যদিকে, এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরাকে পর্যাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে পরিচালনা করা গেলে এটি শুধু ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যও বিশ্লেষণে সহায়তা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কতজন মানুষ ছিল- এ ধরনের তথ্যও এআইভিত্তিক ক্যামেরা থেকে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ ক্যামেরা শুধু রেকর্ড সংরক্ষণ না করে সেই রেকর্ড থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা সরবরাহেও ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে কি না-জানতে চাইলে ড. সাইফুল হক বলেন, দেশে অনেক ধরনের প্রযুক্তি এরই মধ্যে এসেছে এবং ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ঢাবি প্রশাসন এআইভিত্তিক ক্যামেরা কীভাবে পরিচালনা করবে এবং এর ডেটা কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। প্রযুক্তির সঙ্গে সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন ঢাবি ক্যাম্পাসে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শুধু ফুটেজ খোঁজার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণ ও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে, প্রযুক্তি কোনো সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সেটি সচল রাখা, পর্যাপ্ত কাভারেজ নিশ্চিত করা, ফুটেজ সংরক্ষণ, তথ্যের নিরাপত্তা, কে এসব তথ্য দেখতে পারবেন- এসব বিষয়েও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো ঘটনা ঘটলে ক্যামেরার তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। কারণ শিক্ষার্থীদের বড় অংশের প্রশ্ন এখন শুধু ‘ক্যামেরা আসবে কি না’-এটি নয়। প্রশ্ন হলো, ক্যামেরা আসার পর সেটি কতটা কার্যকর হবে, কার জবাবদিহির মধ্যে থাকবে এবং কোনো অপরাধের প্রমাণ সামনে এলে তার ভিত্তিতে আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। প্রশাসনের নতুন উদ্যোগ তাই একদিকে যেমন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে বাস্তবায়ন, জবাবদিহি, তথ্যের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে আসছে। শেষ পর্যন্ত এআই ক্যামেরা ঢাবির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি প্রশাসনিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে- তার উত্তর মিলবে বাস্তবায়নের পরই।আরটি/এমএএইচ/ এমএফএ
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত। কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই। পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দুর্বল শরীর নিয়ে ঠিকমতো উঠে বসার অবস্থাও নেই।কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার চোখ বন্ধ করে ফেলছে সে। শরীরের যন্ত্রণা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এখন খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিশু।শিশু গৃহকর্মীর অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে তাকে। প্রায় প্রতিদিন মারধর করা হয়েছে। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই নির্যাতন চলেছে।শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাব, তার ওপর মেয়েটির মা মারা গেছেন। সেই অভাবের সংসারে একটু স্বস্তি আনতে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। তখন সে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।শিশুটির বাবা বলেন, তার মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে, কার বাসায় রাখা হবে, সেই ঠিকানাও তাঁর জানা ছিল না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়েকে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। তোফাজ্জল বলেছিলেন, মেয়ে খুবই ভালো থাকবে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়ালেখাও করানো হবে।শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে থাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ–সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল। ওই বাসার গৃহকর্তার নাম রাসেল এবং গৃহকর্ত্রীর নাম মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন। রাসেলের মিরপুরে ল্যাপটপের দোকান রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন বলে জানায় তানিয়া।শিশুটি বলে, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী ছোটন ও তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত। শুধু মারধর নয়, দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি তাকে।এদিকে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর বাবাও জানতেন না তার মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়টি। কাজের জন্য মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন, তাই হয়তো ভালোই আছে। কয়েক দিন আগে মেয়ের মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান তার বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই শুইয়ে তানিয়ার চিকিৎসা চলছে।খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিশুটির ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা।এরই মধ্যে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক করেছে পুলিশ। আটকের বিষয়টি জানার পর গতকাল রাতেই মামলা করার জন্য ঢাকা চলে গেছেন শিশুটির বাবা।পুলিশ জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়। কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।