রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, অধিকমাত্রায় ও অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে কৃষকদের সজাগ ও সতর্ক করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি টেকসই ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
এসময় রাষ্ট্রপতিকে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
কেএইচ/এমআইএইচএস
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে প্রায় ৭০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন। তবে বৈঠক শেষে তিনি অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেননি। আহত রোগী বা তাদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেননি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা সফরসূচিতে সকাল পৌনে ১০টায় হাসপাতালে উপস্থিতি ও পরিদর্শনের কথা উল্লেখ ছিল। হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলামসহ চিকিৎসক নেতারা প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। তবে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। আরও পড়ুন মমেক হাসপাতালে আগুন: হাজেরা বেগমের মৃত্যু হলো কীভাবে? বৈঠকে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ, হাসপাতাল প্রশাসনের কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কীভাবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে উত্তর দেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি বলেন, পদদলিত হয়ে কেউ মারা যাননি। আগুনের আতংকে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘পাড়া লেগে (পদদলিত হয়ে) কেউ মারা যায়নি। তারা আগুন-আতংকে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিল। যারা মারা গেছে তাদের অভিভাবকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা ওই দিন ক্লিয়ার করে দিয়েছি। যে নিউজটা আসছে ছয়জন মারা গেছে, এর মধ্যে এখনো একজন চিকিৎসাধীন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ছয়জনের মৃত্যুর খবর আমরা মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। যারা মারা গেছে, তাদের দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু। অন্য দুজন মারা গেছে আগুন-আতংকে। নো পদদলিত মৃত্যু। পদদলিতও না, অগ্নিদগ্ধও না।’ পদদলিত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর দাবি করে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা তদন্ত করার পর যেটা বের হবে, তখন প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারব। দোয়া করেন যেন সবকিছু ভালো থাকে।’ হাসপাতালে রোগীর চাপ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চারগুণ রোগীর চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে নষ্ট মেশিনসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটার সলিউশন একদিনে হবে না। আমরা ট্রাই করছি, ফিউচারে কী হবে, এগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলেছি। এরপর একটি বড় সভা করা হবে। ইঞ্জিনিয়ারদের বলেছি, এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কী কী প্ল্যান করা দরকার, তারা করুক। তখন বলতে পারবো। এখন আমি নিজেই জানি না, বলবো কীভাবে?’ প্রতিমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগের কমিটিতে লিফট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীকে সদস্য করা হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে করা হয়েছে সদস্যসচিব। কমিটিতে আরও দুই চিকিৎসক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (দক্ষিণ) এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন / হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়েই ৪ জনের মৃত্যু, দাবি স্বজনদের এর আগে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম সই করা আদেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিকেও তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আগের কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাসকে দ্বিতীয় সদস্য এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজেদুর রহমানকে তৃতীয় সদস্য করা হয়েছিল। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনরা আতংকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এসময় অনেকে আহত হন। ঘটনাটিতে কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হোসাইন সুলভ/এসআর/এএসএম
রাজধানীতে আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্প পাস করা হয়েছে। গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত এই মেট্রোলাইন হবে। এটি হলো ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুট। নতুন এই প্রকল্পের খরচ হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প পাস করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) একনেক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।আজকের একনেক সভায় আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এই দুটি প্রকল্পে দ্বিতীয়বারের মতো খরচ বাড়িয়ে সংশোধন করা হলো। এখন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের লাইন-৫-এর নর্দান রুটের খরচ দাঁড়াল ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন–১) ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, জাইকার ঋণের সুদের পরিমাণ এই মাস পরে ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তাই জাপানের ঋণের মেট্রোর দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারণ, আরও ৬ মাস গেলে সুদের হার সাড়ে ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।মেট্রোর খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজেরা মেট্রো তৈরি করার সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। জাপান এই ব্যয়ের কমে তৈরি করতে পারবে না। কারিগরি কমিটি এই ব্যয় খতিয়ে দেখেছে।কত টাকার প্রকল্প পাস আজকের একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে আছে, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন; নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ; বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন ও খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণ; খুলনা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন; বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন; মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের প্রকল্প।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এসআরবি বলছে, হত্যার শিকার মো. জহির (২০) ও আসামি সোহেল রানা এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। পরে স্থানীয় এক মাদক কারবারির সঙ্গে পরিকল্পনা করে জহিরকে তারা সাভারের হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় তাকে হত্যা করা হয়। পরে গুম করার জন্য মরদেহ ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয় পার্শবর্তী একটি নদীর বিভিন্ন স্থানে। এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা কারাগারে থাকলেও ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের তালা ভেঙে ও কারারক্ষীদের আহত করে পালিয়ে যান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এসআরবি-৪ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান। আরও পড়ুন হাইসিকিউরিটি কারাগার ভেঙে পলাতক আসামি গ্রেফতার তিনি বলেন, এসআরবি-৪ এর আভিযানিক দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহুল আলোচিত জহির হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার সোহেল রানা ও হত্যার শিকার জহির একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। জহিরের সঙ্গে স্থানীয় শীর্ষ মাদক কারবারি মো. সুলতানের দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেল রানাসহ কয়েকজনের মাধ্যমে জহিরকে পরিকল্পিতভাবে হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে আসে সুলতান। পরে বাড়ি ফেরার সময় তাকে হত্যা করা হয়। এরপর গুম করার জন্য মরদেহ ছয় টুকরো করে পার্শবর্তী নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জহিরের বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ২০১৯ সালে আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড সাজা দেয় এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে পালিয়ে যায় সোহেল। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে আত্মোগোপনে রেখে বসবাস করে আসছিল। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। কেআর/এমকেআর