জাতীয়

পেরিম দ্বীপ দখলের পর হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পেরিম দ্বীপ দখলের পর হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স
পেরিম দ্বীপ দখলের পর হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত সোমবার তিনি বলেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ময়ুন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) দখল করার পর তাদের সঙ্গে এ আলোচনা শুরুর কথা জানালেন ভ্যান্স।

কানসাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভ্যান্স। সে সময়ে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নৌচলাচল পথ বাব আল-মানদেব প্রণালির ভেতরে অবস্থিত পেরিম দ্বীপ হুতিদের দখল চলে যাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না এবং এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নজরে রাখছে।’

ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমরা হুতিদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই আমাদের মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে পরিস্থিতি খুবই দ্রুত ও নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকব এবং নিশ্চিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা হচ্ছে কি না, তা দেখা হয়।’

এমন সময়ে ভ্যান্স এসব কথা বললেন যখন সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্রতর হচ্ছে। পাশাপাশি হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক কুচকাওয়াজ

গত শুক্রবার বাব আল-মানদেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের দখল নেয় হুতিরা। এর মাধ্যমে তারা এ জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায়। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীটি বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। বাব আল-মানদেব হলো, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার সরু প্রবেশপথ। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এরই মধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরব ক্রমেই লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এখন বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর হুতিরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায় বৈশ্বিক তেল বাজার চরম ঝুঁকিতে পড়ল।

লোহিত সাগরের গোটা ইয়েমেন উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থান পাইয়ে দিয়েছে হুতিরা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গুগলের চাকরি-মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ, উমাঙ্গা নারীদের অনুপ্রেরণা
গুগলের চাকরি-মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ, উমাঙ্গা নারীদের অনুপ্রেরণা

সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি। হাতে ল্যাপটপ, সঙ্গে ব্যাকপ্যাক আর ইয়ারবাড। তারপর বেঙ্গালুরুর গুগল ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিনের কাজ শুরু। কাজের ফাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টোরি দেওয়া ‘ওয়ার্ক’ এই রুটিন শুনলে মনে হতে পারে, এটি কোনো সাধারণ প্রযুক্তিকর্মীর গল্প। কিন্তু এই গল্পের মানুষটি কিছুদিন আগেই ছিলেন ভারতের অন্যতম আলোচিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে। তিনি উমাঙ্গা কুমাওয়াট একজন ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, আবার মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর টপ ২০ ফাইনালিস্ট। উমাঙ্গার সাম্প্রতিক যাত্রার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চে অংশ নেওয়ার পরও তিনি নিজের প্রযুক্তি পেশা ছেড়ে দেননি। বরং প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর আবার ফিরে গেছেন গুগলের বেঙ্গালুরু অফিসে। ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক মিনিটের ‘ডে ইন মাই লাইফ’ ভিডিওতে সেই কর্মজীবনের ঝলকও দেখিয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির জগৎ থেকেই শুরু উমাঙ্গার পেশাগত পরিচয় মূলত প্রযুক্তির সঙ্গে। তার প্রকাশ্য পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি গুগলে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। ক্লাউড প্রযুক্তি, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এবং জেনারেটিভ এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার কথাও তার পেশাগত প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিনের কর্মজীবনের বড় অংশই কোড, প্রযুক্তি, ডেটা ও ক্লাউড অবকাঠামোর মতো বিষয় ঘিরে। কিন্তু প্রযুক্তির এই ব্যস্ত জীবনের পাশাপাশি তার আরেকটি স্বপ্নও ছিল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরা। সেই স্বপ্ন তাকে নিয়ে যায় মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায়। আরও পড়ুন সমকামিতা সম্পর্কে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কী বলছে, এর শাস্তি কী? বেঙ্গালুরুর অফিস থেকে জয়পুরের মঞ্চ ২০২৬ সালের জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় উমাঙ্গা মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২৩ আগস্ট জয়পুরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মোট ৫২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি জায়গা করে নেন টপ ২০-তে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় মুকুট তার মাথায় ওঠেনি; কেরালার কাজিয়া লিজ মেজো মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর খেতাব জেতেন। তবে উমাঙ্গার গল্প এখানেই শেষ হয়নি। বরং তার ক্ষেত্রে মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে আরেকটি পরিচিত অধ্যায় অফিসের ডেস্কে ফেরা। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার গুগলের বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসে ফিরে যান। সেখানে নেই র‍্যাম্প, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ কিংবা মঞ্চের দর্শক। আছে ল্যাপটপ, কাজের নথি, মিটিং, কফি ব্রেক আর প্রতিদিনের অফিস রুটিন। একদিনের দুই রকম জীবন উমাঙ্গার প্রকাশ করা ভিডিওটি মূলত তার সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ছবিই তুলে ধরেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিনের প্রস্তুতি শুরু। পোশাক বেছে নিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাকপ্যাক ও ইয়ারবাড নিয়ে রওনা দেন অফিসের দিকে। কাজ শুরুর আগে গুগলের ওয়েলনেস সেন্টারেও সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। ট্রেডমিলে হাঁটা, স্ট্রেচিং ও কিছু ব্যায়ামের পর শুরু হয় কাজের পালা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে দেখা যায় ল্যাপটপ খুলে নথি পর্যালোচনা করতে। দুপুরের খাবারের সময়ও ছিল বেশ সাধারণ। গুগলের ক্যাফেটেরিয়ায় নানা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও উমাঙ্গা বেছে নেন নুডল স্যুপ ও সবুজ শাকসবজি। এরপর আবার কাজে ফেরেন। বিকেলে কিছু সময় শান্ত পরিবেশের একটি লাউঞ্জে বসেও কাজ করতে দেখা যায় তাকে। সাড়ে ৫টার দিকে আসে কফি বিরতি। তারপর দিনের কাজ গুটিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এসব গল্প জানা যায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট থেকেই। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই যেন ফিরে এলেন সেই পরিচিত কর্মজীবনে। আরও পড়ুন ব্লু-জুয়েলের পর্দার দুঃসাহসিক অভিযান যেন বাস্তবে তাদের ফেরার গল্প কেন উমাঙ্গার গল্প আলাদা? সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে সাধারণত মডেলিং, অভিনয় কিংবা বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বেশি করে যুক্ত করা হয়। উমাঙ্গার ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরও তার পেশাগত পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু রয়ে গেছে প্রযুক্তি। একদিকে গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ, অন্যদিকে জাতীয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতকে একই জীবনে পাশাপাশি রাখার অভিজ্ঞতাই তাকে আলোচনায় এনেছে। তবে উমাঙ্গার গল্পকে শুধু ‘বিউটি উইথ ব্রেইন’ ধরনের একটি পরিচয়ে আটকে রাখলে তার যাত্রার একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত জীবনচিত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট যে বিষয়টি, তা হলো একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তার পেশাগত পরিচয়কে সরিয়ে দেয়নি। মুকুট না পেলেও থেমে থাকেননি মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মুকুট শেষ পর্যন্ত অন্য একজনের মাথায় উঠেছে। উমাঙ্গা জায়গা করে নিয়েছেন টপ ২০-তে। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর তার পরবর্তী পদক্ষেপটি ছিল নিজের পুরোনো জীবনে ফিরে যাওয়া। এখানেই তার যাত্রার সবচেয়ে সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় দিকটি ধরা পড়ে। একদিকে কয়েক হাজার দর্শকের সামনে র‍্যাম্পে হাঁটা, অন্যদিকে পরদিনের মতোই ল্যাপটপ খুলে কাজের টেবিলে বসা। আলো ঝলমলে মঞ্চ আর নিরিবিলি অফিস-দুই জগতের ব্যবধান বিশাল। অথচ উমাঙ্গার জীবনে দুটিই এখন পাশাপাশি থাকা দুটি অধ্যায়। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ তার পরিচিতির পরিধি বাড়িয়েছে, কিন্তু গুগলের অফিসে ফিরে আসা দেখিয়েছে তার পেশাগত যাত্রা সেখানেই থেমে নেই। বরং মঞ্চের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ফিরেছেন নিজের কর্মজীবনে। উমাঙ্গা কুমাওয়াটের গল্প তাই আপাতত কোনো চূড়ান্ত গন্তব্যের গল্প নয়। এটি এমন এক যাত্রা, যেখানে প্রযুক্তির ক্যারিয়ার আর ব্যক্তিগত স্বপ্ন একে অপরকে সরিয়ে দেয়নি। কখনো তিনি ক্যামেরার সামনে, কখনো কম্পিউটারের সামনে। কখনো র‍্যাম্পে, কখনো অফিসের ডেস্কে। আর সেই কারণেই তার সাম্প্রতিক জীবনের সবচেয়ে পরিচিত ছবিটি হয়তো মুকুট পরা কোনো মুহূর্ত নয় বরং গুগলের ডেস্কে বসে আবার কাজে ফিরে যাওয়ার সেই স্বাভাবিক দৃশ্য। উমাঙ্গার গল্প পুরো বিশ্বের অন্যান্য নারীদের জন্য এক বিশেষ বার্তা দেয়, যে ইচ্ছা থাকলে যে কোনো পরিস্থিতি সামলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুন। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, গালফ নিউজ কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সন্তানরা খোঁজ নেয় না, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অবলার জীবনযুদ্ধ

সন্তানরা খোঁজ নেয় না, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অবলার জীবনযুদ্ধ

কখনো সাদা কখনো কমলা সাজে প্রভার কাপ্তাই ভ্রমণ

কখনো সাদা কখনো কমলা সাজে প্রভার কাপ্তাই ভ্রমণ

মালদ্বীপে প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাব নিয়ে নতুন নির্দেশনা

মালদ্বীপে প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাব নিয়ে নতুন নির্দেশনা

জুয়া ও মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুয়া ও মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নিলে হবে না; মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণা করে দেখতে হবে কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অনেক গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, অপরাধ হচ্ছে একটা উপসর্গ। এর মূল কারণ চিহ্নিত করে সেখানে ব্যবস্থা নিতে পারলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তার জন্য সরকারি বা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) মাধ্যমে কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা সরকারিভাবে চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে তাদের সহযোগিতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের ধরন অন্য অনেক বিটের সাংবাদিকদের চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি অনেকাংশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ এবং এ ধরনের সাংবাদিকতায় ঝুঁকিও রয়েছে। ক্রাইম রিপোর্টারদের ক্ষেত্রটা আলাদা। এটা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের একটা পার্ট। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ইউনিট গঠন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধের বিস্তার বাড়ায় অপরাধ শনাক্তকরণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগির আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায়েও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। থানা ও উপজেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার কথা বলেন মন্ত্রী। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সময়ের সঙ্গে আইন সংশোধনের তাগিদ অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা সবসময় সম্ভব হয় না। অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুরোনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। আরও পড়ুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ৭ জনের ফাঁসির রায়ের পর ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়, জড়িতরা শনাক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে আসামিকে গ্রেফতার করার পরও দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করতে হবে।  ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংবাদিকদের রিপোর্টিংয়ে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের ভূমিকা সবকিছুর সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি ক্রাইম রিপোর্টারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য সনদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রিপোর্টিং ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়টি যাচাই করে দেখার কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রিপোর্টিংয়ের মান বজায় রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‍্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্। টিটি/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য খাতে এআইসহ ৪ অগ্রাধিকার জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতে এআইসহ ৪ অগ্রাধিকার জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ, তুমি ভালো হয়ে যাও

বাংলাদেশ, তুমি ভালো হয়ে যাও

স্বাস্থ্যখাত ও এসডিজি অর্জনে সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ হুমায়ুন কবিরের

স্বাস্থ্যখাত ও এসডিজি অর্জনে সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ হুমায়ুন কবিরের

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে?
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে?

পৃথিবীর কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মোতায়েন করেছে—এমন ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, আসলে কী ধরনের অস্ত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে? মহাকাশে সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এই অস্ত্রের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত অস্ত্রটির বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে থাকা এই অস্ত্র প্রয়োজনীয়। তবে অস্ত্রটির ক্ষমতা কী, কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে বা কীভাবে এটি কাজ করে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। কী ধরনের অস্ত্র হতে পারে? ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) সহযোগী গবেষক এবং ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোপলিটিকস বিশেষজ্ঞ ড. ব্লেডিন বোয়েন মনে করেন, এটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও সংকেত বাধাগ্রস্ত করার কোনো ব্যবস্থা হতে পারে। বিবিসি রেডিও ফোরকে তিনি বলেন, এমন একটি অস্ত্র হলে সেটি তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাত্মক উপায়ে শত্রুর কৃত্রিম উপগ্রহের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে পারে। পৃথিবীতে এ ধরনের প্রযুক্তি আগে থেকেই রয়েছে। কোনো উপগ্রহের সঙ্গে মাটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারলে সেটি কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বোয়েনের মতে, এর মধ্যে থাকতে পারে এমন কোনো ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’, যা অন্য একটি উপগ্রহের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খেয়ে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে। আরেকটি সম্ভাবনা হতে পারে এমন কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ, যা অন্য উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে পর্যবেক্ষণ, আঁকড়ে ধরা বা তার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নতুন নয় মহাকাশে সামরিক কার্যক্রম অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। মহাকাশ যুগের শুরুর দিক থেকেই বিভিন্ন দেশ সেখানে সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ইস্ত্রেবিতেল স্পুতনিকভ’ বা ‘স্যাটেলাইট ডেস্ট্রয়ার’ কর্মসূচির আওতায় এমন কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছিল, যেগুলো অন্য উপগ্রহের দিকে ধাতব টুকরো বা প্রজেক্টাইল ছুড়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারত। বর্তমানে সামরিক শক্তিধর দেশগুলো মহাকাশে নানা ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপদ যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজে এসব উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহারও তত বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়া ও চীনের কাছেও কি এমন অস্ত্র আছে? যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাশিয়া ও চীনের কাছেও কক্ষপথে একই ধরনের অস্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। রুসির সাবেক গবেষক জুলিয়ানা সুয়েস বিবিসিকে বলেন, রাশিয়া ও চীন—দুই দেশই মহাকাশে এমন কিছু কার্যক্রম চালিয়েছে, যা তাদের সম্ভাব্য মহাকাশ অস্ত্র সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা কক্ষপথে থাকা দুটি উপগ্রহের মধ্যে অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। কোনো একটি পরীক্ষায় কক্ষপথে প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়ে থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছে। গত এক দশকে রাশিয়া ও চীন মহাকাশে ‘রেন্ডেভু অ্যান্ড প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বা আরপিও বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে একটি উপগ্রহ অন্য একটি উপগ্রহের খুব কাছে গিয়ে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা অনুসরণ করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের রাশিয়ান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক ড. রড থর্নটনের মতে, এ ধরনের উপগ্রহ ভবিষ্যতে ‘হান্টার-কিলার’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো অন্য উপগ্রহের সঙ্গে ধাক্কা দিতে পারে কিংবা সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে। চীনের ‘স্পেস টাগ’ প্রযুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রযুক্তিতে একটি মহাকাশযান অন্য একটি উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে আঁকড়ে ধরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে। এ ধরনের প্রযুক্তি মহাকাশের আবর্জনা সরানোর মতো শান্তিপূর্ণ কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। আবার একই প্রযুক্তি সক্রিয় সামরিক উপগ্রহ অচল করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বড় ঝুঁকি মহাকাশের আবর্জনা মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস জাঙ্ক তৈরি হওয়া। কিংস কলেজ লন্ডনের মহাকাশ নিরাপত্তা ও অস্ত্রায়ন বিশেষজ্ঞ ড. মার্ক হিলবোর্ন বলেন, সরাসরি ভূমি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। ২০০৭ সালে চীনের একটি অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদাহরণও সামনে এসেছে। ওই পরীক্ষার ফলে তৈরি ধ্বংসাবশেষের অনেক অংশ এখনও কক্ষপথে রয়েছে এবং বিপজ্জনক হয়ে আছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। মহাকাশে সামান্য একটি বস্তুতেও বড় ক্ষতি হতে পারে। কারণ কক্ষপথে বস্তুগুলো অত্যন্ত বেশি গতিতে চলাচল করে। ফলে ছোট একটি ধাতব বা প্লাস্টিকের টুকরোও কোনো উপগ্রহে আঘাত করলে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্রের আশঙ্কাও রয়েছে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। থর্নটনের মতে, রাশিয়ার হাতে এমন স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা মহাকাশে উঠে নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহে আঘাত করতে পারে। উচ্চতা থেকে বিমান থেকেও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি জানান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর তুলনায় রাশিয়ার হাতে কম সংখ্যক উপগ্রহ থাকায় মস্কো অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্রের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে। থর্নটন বলেন, চরম পরিস্থিতিতে মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হলে এর ফলে তৈরি তড়িৎচৌম্বকীয় পালস বা ইএমপি বিস্তীর্ণ এলাকার সুরক্ষাহীন উপগ্রহ অচল করে দিতে পারে। তবে মহাকাশে এমন পারমাণবিক সংঘাত আলাদাভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মহাকাশে বড় ধরনের সংঘাত হলে সেটি পৃথিবীর সামরিক সংঘাতের সঙ্গেও যুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি। কেন এখন এই ঘোষণা? বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে একেবারে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা নয়। বরং এটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত একটি বার্তাও হতে পারে। বোয়েনের মতে, চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত আধুনিকায়নের বিষয়টি এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। গত তিন দশকে চীন মহাকাশে বিপুলসংখ্যক সামরিক উপগ্রহ পাঠিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যও বেড়েছে। অন্যদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে সতর্ক করেছে। তবে বোয়েনের মতে, রাশিয়া ও চীন নিজেরাও মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রযুক্তি তৈরি ও ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং ভারত—সব দেশই বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-স্যাটেলাইট বা মহাকাশ প্রতিরোধী অস্ত্র তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের সংঘাতে উপগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র, লেজার এবং কক্ষপথে চলাচলকারী বিশেষ যান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশও বড় শক্তিগুলোর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। সূত্র: বিবিসি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সংকট সাময়িক, বায়ারদের আস্থা ধরে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরি

সংকট সাময়িক, বায়ারদের আস্থা ধরে রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা জরুরি

এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপন জারি, বিলুপ্ত র‍্যাবের প্রায় সবই আছে নতুন আইনে

এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপন জারি, বিলুপ্ত র‍্যাবের প্রায় সবই আছে নতুন আইনে

পরমাণু কণিকাগুলোর পারস্পরিক বন্ধন

পরমাণু কণিকাগুলোর পারস্পরিক বন্ধন

0 Comments