সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি। হাতে ল্যাপটপ, সঙ্গে ব্যাকপ্যাক আর ইয়ারবাড। তারপর বেঙ্গালুরুর গুগল ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিনের কাজ শুরু। কাজের ফাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টোরি দেওয়া ‘ওয়ার্ক’ এই রুটিন শুনলে মনে হতে পারে, এটি কোনো সাধারণ প্রযুক্তিকর্মীর গল্প। কিন্তু এই গল্পের মানুষটি কিছুদিন আগেই ছিলেন ভারতের অন্যতম আলোচিত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে। তিনি উমাঙ্গা কুমাওয়াট একজন ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, আবার মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর টপ ২০ ফাইনালিস্ট।
উমাঙ্গার সাম্প্রতিক যাত্রার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চে অংশ নেওয়ার পরও তিনি নিজের প্রযুক্তি পেশা ছেড়ে দেননি। বরং প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর আবার ফিরে গেছেন গুগলের বেঙ্গালুরু অফিসে। ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক মিনিটের ‘ডে ইন মাই লাইফ’ ভিডিওতে সেই কর্মজীবনের ঝলকও দেখিয়েছেন তিনি।

উমাঙ্গার পেশাগত পরিচয় মূলত প্রযুক্তির সঙ্গে। তার প্রকাশ্য পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি গুগলে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। ক্লাউড প্রযুক্তি, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এবং জেনারেটিভ এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার কথাও তার পেশাগত প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিনের কর্মজীবনের বড় অংশই কোড, প্রযুক্তি, ডেটা ও ক্লাউড অবকাঠামোর মতো বিষয় ঘিরে। কিন্তু প্রযুক্তির এই ব্যস্ত জীবনের পাশাপাশি তার আরেকটি স্বপ্নও ছিল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরা। সেই স্বপ্ন তাকে নিয়ে যায় মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায়।
২০২৬ সালের জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় উমাঙ্গা মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২৩ আগস্ট জয়পুরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মোট ৫২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি জায়গা করে নেন টপ ২০-তে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় মুকুট তার মাথায় ওঠেনি; কেরালার কাজিয়া লিজ মেজো মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর খেতাব জেতেন।
তবে উমাঙ্গার গল্প এখানেই শেষ হয়নি। বরং তার ক্ষেত্রে মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে আরেকটি পরিচিত অধ্যায় অফিসের ডেস্কে ফেরা। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার গুগলের বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসে ফিরে যান। সেখানে নেই র্যাম্প, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ কিংবা মঞ্চের দর্শক। আছে ল্যাপটপ, কাজের নথি, মিটিং, কফি ব্রেক আর প্রতিদিনের অফিস রুটিন।

উমাঙ্গার প্রকাশ করা ভিডিওটি মূলত তার সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ছবিই তুলে ধরেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিনের প্রস্তুতি শুরু। পোশাক বেছে নিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাকপ্যাক ও ইয়ারবাড নিয়ে রওনা দেন অফিসের দিকে।
কাজ শুরুর আগে গুগলের ওয়েলনেস সেন্টারেও সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। ট্রেডমিলে হাঁটা, স্ট্রেচিং ও কিছু ব্যায়ামের পর শুরু হয় কাজের পালা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে দেখা যায় ল্যাপটপ খুলে নথি পর্যালোচনা করতে।
দুপুরের খাবারের সময়ও ছিল বেশ সাধারণ। গুগলের ক্যাফেটেরিয়ায় নানা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও উমাঙ্গা বেছে নেন নুডল স্যুপ ও সবুজ শাকসবজি। এরপর আবার কাজে ফেরেন। বিকেলে কিছু সময় শান্ত পরিবেশের একটি লাউঞ্জে বসেও কাজ করতে দেখা যায় তাকে। সাড়ে ৫টার দিকে আসে কফি বিরতি। তারপর দিনের কাজ গুটিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এসব গল্প জানা যায় তার সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট থেকেই। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই যেন ফিরে এলেন সেই পরিচিত কর্মজীবনে।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে সাধারণত মডেলিং, অভিনয় কিংবা বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বেশি করে যুক্ত করা হয়। উমাঙ্গার ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরও তার পেশাগত পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু রয়ে গেছে প্রযুক্তি।
একদিকে গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ, অন্যদিকে জাতীয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতকে একই জীবনে পাশাপাশি রাখার অভিজ্ঞতাই তাকে আলোচনায় এনেছে।
তবে উমাঙ্গার গল্পকে শুধু ‘বিউটি উইথ ব্রেইন’ ধরনের একটি পরিচয়ে আটকে রাখলে তার যাত্রার একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত জীবনচিত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট যে বিষয়টি, তা হলো একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তার পেশাগত পরিচয়কে সরিয়ে দেয়নি।

মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মুকুট শেষ পর্যন্ত অন্য একজনের মাথায় উঠেছে। উমাঙ্গা জায়গা করে নিয়েছেন টপ ২০-তে। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর তার পরবর্তী পদক্ষেপটি ছিল নিজের পুরোনো জীবনে ফিরে যাওয়া। এখানেই তার যাত্রার সবচেয়ে সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় দিকটি ধরা পড়ে। একদিকে কয়েক হাজার দর্শকের সামনে র্যাম্পে হাঁটা, অন্যদিকে পরদিনের মতোই ল্যাপটপ খুলে কাজের টেবিলে বসা। আলো ঝলমলে মঞ্চ আর নিরিবিলি অফিস-দুই জগতের ব্যবধান বিশাল। অথচ উমাঙ্গার জীবনে দুটিই এখন পাশাপাশি থাকা দুটি অধ্যায়।
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মঞ্চ তার পরিচিতির পরিধি বাড়িয়েছে, কিন্তু গুগলের অফিসে ফিরে আসা দেখিয়েছে তার পেশাগত যাত্রা সেখানেই থেমে নেই। বরং মঞ্চের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি ফিরেছেন নিজের কর্মজীবনে।
উমাঙ্গা কুমাওয়াটের গল্প তাই আপাতত কোনো চূড়ান্ত গন্তব্যের গল্প নয়। এটি এমন এক যাত্রা, যেখানে প্রযুক্তির ক্যারিয়ার আর ব্যক্তিগত স্বপ্ন একে অপরকে সরিয়ে দেয়নি। কখনো তিনি ক্যামেরার সামনে, কখনো কম্পিউটারের সামনে। কখনো র্যাম্পে, কখনো অফিসের ডেস্কে।
আর সেই কারণেই তার সাম্প্রতিক জীবনের সবচেয়ে পরিচিত ছবিটি হয়তো মুকুট পরা কোনো মুহূর্ত নয় বরং গুগলের ডেস্কে বসে আবার কাজে ফিরে যাওয়ার সেই স্বাভাবিক দৃশ্য। উমাঙ্গার গল্প পুরো বিশ্বের অন্যান্য নারীদের জন্য এক বিশেষ বার্তা দেয়, যে ইচ্ছা থাকলে যে কোনো পরিস্থিতি সামলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, গালফ নিউজ
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নতুন একটি অস্ত্র চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে গাজায় ফের এসব বোমা ব্যবহারে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে মোট ৪০ হাজার বোমা থাকবে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪ ও ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তা চাইল সৌদি আরব: রিপোর্ট পরিকল্পনাটি সম্পর্কে জানেন এমন একজন ব্যক্তিও একই তথ্য জানিয়েছেন। তবে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির বেশির ভাগ অর্থ আসবে বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচি থেকে। এ কর্মসূচির আওতায় মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইসরায়েলকে দেওয়া হয়। পরে, সে অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই অস্ত্র কেনে ইসরায়েল। এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এসব বোমা ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আরও পড়ুন সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ২০২৪ সালে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় একই ধরনের বোমার একটি চালান আটকে দিয়েছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদ্যোগ এ অস্ত্র চুক্তি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে এসব অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলা ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আরও পড়ুন ইরানে ভাঙা পিঠ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা, মার্কিন সেনা উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এসব বোমার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। কিছু বোমা মাটির গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আবার কিছু বোমা মাটির ওপরে বিস্ফোরিত হয়ে বড় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। গাজায় ইসরায়েল কোন ধরনের বোমা ও গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে, হামলার ভিডিও ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এসব বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বোমা হামাসের সুড়ঙ্গগুলোকে নিশানা করে ব্যবহার করা হলেও গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকেও নিশানা করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা। আরও পড়ুন সৌদি আরবে হুথির মুহুর্মুহু হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা এর আগে, গত বছর প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ওই চুক্তিতে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ইসরায়েলের জন্য আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সেখানে বড় ধরনের হতাহত কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলকে আবার বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এসব অস্ত্র গাজায় ব্যবহার হলে আবারও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: এপিএমডিআরএইচ/
পাঠকের পাঠানো ছবি থেকে বাছাই করা ছবি নিয়মিত প্রকাশিত হয় নাগরিক সংবাদে।বাবার জন্য খাবার হাতে মাঠের পথে ছোট্ট ছেলে। ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক নির্মল ছবি। মহেশখালী, কক্সবাজারনদীর জীবন। দক্ষিণ শেয়াকাঠী, পটুয়াখালীবিশাল চলনবিলে জীবনযুদ্ধ। সঙ্গে আছে সামান্য কিছু পণ্য আর আগামী দিনের স্বপ্ন। নদীমাতৃক বাংলার এই লড়াইয়ের ছবি তোলা হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল থেকেভাঙনের ঝুঁকিতে রাজাবাড়ীর প্রধান সড়ক। রাজাবাড়ী, স্বরূপকাঠি, পিরোজপুরকর্মব্যস্ততার ক্লান্তির মধ্যে ক্ষণিকের বিশ্রাম, স্বস্তি ফিরিয়ে দেয় জীবনে। ছবিটা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সম্প্রতি তোলামাথার ওপর এক ঝুড়ি স্বপ্ন আর জীবিকার তাগিদে এগিয়ে চলা! সাঙ্গু নদী, থানচি, বান্দরবান। ছবিটি সম্প্রতি তোলাফুটপাতে বেড়ে ওঠা গাছে অরেঞ্জ ট্রাম্পেট তার কমলা আভা ছড়াচ্ছে। মিরপুর ১০, ঢাকারবীন্দ্র কুঠিবাড়ি, শিলাইদহ, কুষ্টিয়া। ছবিটি সম্প্রতি তোলাবান্দরবান জেলার থানচি উপজেলা বাজার–সংলগ্ন সাপ্তাহিক হাট। ভোরে হাটে আদিবাসী নারীরা তাজা শাকসবজি ও ফল বিক্রি করছেন। ছবিটি সম্প্রতি তোলা
একটি চুমুর দৃশ্যের শুটিং করতে টানা চার ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা কিম জি সোক। তাঁর সঙ্গে দৃশ্যটিতে ছিলেন অভিনেত্রী লি মিন জুং।১৫ সেপ্টেম্বর লি মিন জুংয়ের ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হয়ে আসেন কিম জি সোক। সেখানে তাঁদের বন্ধুত্ব ও নতুন নাটক ‘ওকে! লেটস গেট ডিভোর্স’–এ স্বামী–স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।অভিনেত্রী লি মিন জুং ও কিম জি সোকঅনুষ্ঠানে মিথ্যা শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে মজার খেলায় অংশ নেন দুই অভিনয়শিল্পী। একপর্যায়ে কিম জি সোক লি মিন জুংকে প্রশ্ন করেন, ‘আমার সঙ্গে চুমুর দৃশ্যের শুটিং করে বাড়ি ফেরার পর আপনার কি অপরাধবোধ হয়েছিল?’লি মিন জুংয়ের উত্তর ছিল, ‘না।’ মিথ্যা শনাক্তকারী যন্ত্রও জানায়, তিনি সত্যি বলেছেন।এতে অবাক হয়ে কিম জি সোক বলেন, ‘সত্যিই?’ এরপর নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার অপরাধবোধ হয়েছিল।’ তাঁর কথা শুনে হেসে ফেলেন লি মিন জুং।এরপর চুমুর দৃশ্যটির শুটিং নিয়ে বিস্তারিত জানান কিম জি সোক। তিনি বলেন, ‘আপনার জন্য বিষয়টি কেমন ছিল জানি না। তবে অভিনয়ে আসার পর এত দীর্ঘ ও তীব্র চুমুর দৃশ্য এর আগে কখনো করিনি।’ এরপর বলেন, ‘শুধু চুমুর দৃশ্যটির শুটিংই আমরা চার ঘণ্টা করেছি।’ফাঁস হওয়া সেই চুমুর দৃশ্য নিয়ে বললেন ঐশীশুটিংয়ে আরও একটি সমস্যা হয়েছিল। তখন কিম জি সোকের মুখে দাড়ি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার দাড়ি ছিল। তাই লি মিন জুংয়ের মুখে আঁচড় লেগে লাল হয়ে গিয়েছিল।’অনুষ্ঠানে লি মিন জুংকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কাজের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের কথা তিনি স্বামীকে জানান কি না। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা যদি প্রেমের সম্পর্কে থাকতাম, তাহলে হয়তো বলতাম। কিন্তু বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর, “আজ আমি চুমুর দৃশ্যের শুটিং করতে যাচ্ছি”—এভাবে বলা...’কথা শেষ না করেই হেসে ফেলেন লি মিন জুং। কিম জি সোকও হেসে বলেন, ‘ওটা তো হাস্যকর হবে।’লি মিন জুং ২০১৩ সালে অভিনেতা লি বিয়ং হুনকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ‘ওকে! লেটস গেট ডিভোর্স’ নাটকে কিম জি সোকের সঙ্গে স্বামী–স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।জ্যাপজি অবলম্বনে