জাতীয়

ভলভোর নতুন হাইব্রিড এসইউভিতে আরও স্মার্ট নিরাপত্তা

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ভলভোর নতুন হাইব্রিড এসইউভিতে আরও স্মার্ট নিরাপত্তা
ভলভোর নতুন হাইব্রিড এসইউভিতে আরও স্মার্ট নিরাপত্তা

বিশ্বের গাড়ি বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি হাইব্রিডের চাহিদাও বাড়ছে। জ্বালানি চালিত গাড়ির ব্যবহারিক সুবিধা ও বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধার মাঝামাঝি সমাধান হিসেবে প্লাগ-ইন হাইব্রিডকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন নির্মাতা। এবার সেই বাজারে বড় ধরনের উন্নয়ন নিয়ে আসছে ভলভো। প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক্সসি৬০ ও এক্সসি৯০ প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভিতে আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ থাকছে।

নতুন এক্সসি৬০ প্লাগ-ইন হাইব্রিড একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৭৮ মাইল বা ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলতে পারবে। জ্বালানি ও পূর্ণ চার্জ মিলিয়ে গাড়িটির মোট রেঞ্জ প্রায় ৫৯০ মাইল বা ৯৫০ কিলোমিটার।

বড় ব্যাটারি, একই ইঞ্জিন

নতুন মডেল দুটিতে আগের মতোই ২.০ লিটারের টার্বোচার্জড চার সিলিন্ডার ইঞ্জিনের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবার বড় ব্যাটারি প্যাক যুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ব্যাটারি ধারণক্ষমতা ৪১ দশমিক ২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, যার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য ৩৭ দশমিক ৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়লেও গাড়িটির মোট শক্তি উৎপাদনে পরিবর্তন আসেনি। অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৪৫৫ হর্সপাওয়ার শক্তি দেবে এক্সসি৬০। আগের মডেলের প্রায় ৩৫ মাইল বৈদ্যুতিক রেঞ্জের তুলনায় নতুন মডেলে তা বেড়ে হয়েছে ৭৮ মাইল। তিন সারির বড় এক্সসি৯০-তেও একই পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একবার চার্জে প্রায় ৭৩ মাইল বা ১১৭ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক রেঞ্জ দেবে। পেট্রোলের ট্যাংকসহ মোট রেঞ্জ হবে প্রায় ৫৬০ মাইল বা ৯০০ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন

গাড়ির এসিতে ঠান্ডা কম হচ্ছে, যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

বৈদ্যুতিক রেঞ্জ বাড়ায় প্রতিদিনের যাতায়াতে গাড়ি দুটির ব্যবহার আরও সহজ হবে বলে মনে করছে ভলভো। অফিস, স্কুল বা দৈনন্দিন ছোট দূরত্বের যাতায়াতের বেশির ভাগই শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে করা সম্ভব হবে।

গতি সক্ষমতাতেও পিছিয়ে নেই গাড়িগুলো। এক্সসি৬০ টি৮ স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ৪ দশমিক ৫ সেকেন্ড। এক্সসি৯০ একই গতিতে পৌঁছাতে নেয় ৪ দশমিক ৯ সেকেন্ড।

প্লাগ-ইন হাইব্রিড না চাইলে এক্সসি৬০-এর বি৫ সংস্করণও থাকছে। মাইল্ড-হাইব্রিড এই মডেল সর্বোচ্চ ২৪৭ হর্সপাওয়ার শক্তি ও ২৬৬ পাউন্ড-ফুট টর্ক উৎপন্ন করবে। এক্সসি৯০-তেও বি৫ সংস্করণের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী বি৬ মাইল্ড-হাইব্রিড সংস্করণ থাকছে, যার শক্তি ২৯৫ হর্সপাওয়ার।

আরও স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নতুন এক্সসি৬০-এ পাওয়ারট্রেনের পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রযুক্তিতেও উন্নয়ন করা হয়েছে। গাড়ির সামনের অংশে অতিরিক্ত একটি রাডার সেন্সর যুক্ত হয়েছে, যা সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াবে। এ ছাড়া গাড়ির চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। এসব সেন্সর ও ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্য একত্রে বিশ্লেষণের জন্য যুক্ত হয়েছে আরও শক্তিশালী প্রসেসর।

এই প্রযুক্তির সুবিধায় নতুন লেন পরিবর্তন সহায়তা ফিচার যুক্ত হয়েছে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেন পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারবে। নতুন প্রসেসরের কারণে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে আরও নতুন ফিচার যুক্ত করার সুযোগও থাকছে।

অভ্যন্তরে বড় পর্দা, জেমিনি

গাড়ির ভেতরের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও প্রযুক্তিতে উন্নয়ন করা হয়েছে। এক্সসি৬০-এ রয়েছে ১১ দশমিক ২ ইঞ্চির উল্লম্ব ডিসপ্লে। আগের তুলনায় বড় এই পর্দায় বিভিন্ন ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গুগলচালিত ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে এবার জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও যুক্ত হয়েছে। ফলে গাড়ির ভেতরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন কথোপকথন ও সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ভলভো গাড়িতে থাকা ভলিউম নিয়ন্ত্রণের বোতামসহ সীমিতসংখ্যক ফিজিক্যাল নিয়ন্ত্রণও রেখেছে।

নকশায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন

নতুন এক্সসি৬০-এর বাইরের নকশায় খুব বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। সামনের দরজার আগের অংশে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে নতুন অ্যাক্টিভ-ম্যাট্রিক্স এলইডি হেডলাইট যুক্ত হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আলোর নির্দিষ্ট অংশ কমিয়ে দিতে পারে। এতে সামনের রাস্তা আলোকিত রাখার পাশাপাশি বিপরীত দিকের গাড়ির চালকের চোখে অতিরিক্ত আলো পড়ার ঝুঁকি কমবে। পেছনের অংশেও নতুন লিফটগেট, বাম্পার ও এলইডি টেললাইট যুক্ত হয়েছে। তবে দূর থেকে দেখলে পরিবর্তনগুলো খুব সহজে চোখে পড়বে না।

আরও পড়ুন

নতুন টায়ারের গায়ে ছোট ছোট রাবারের কাঁটা কেন থাকে জানেন?

ভলভোর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান নকশার সরলতা বজায় রেখে নতুন এক্সসি৬০-এ আগের তুলনায় কিছু ক্রিজ, ভেন্ট ও বাড়তি নকশাগত উপাদান কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে এক্সসি৯০-এর বাইরের পরিবর্তন আরও সামান্য। মূল পরিবর্তন হিসেবে পেছনে ‘লং রেঞ্জ’ লেখা নতুন ব্যাজ যুক্ত হয়েছে, যা গাড়িটির বাড়তি বৈদ্যুতিক রেঞ্জের বিষয়টি নির্দেশ করে। এর বাইরে বর্তমান এক্সসি৯০-এর নকশাই মূলত বহাল থাকছে।

দাম ও বাজারে আসার সময়

নতুন এক্সসি৬০ ও এক্সসি৯০-এর দাম এখনো ঘোষণা করেনি ভলভো। তবে বড় ব্যাটারি ও অতিরিক্ত প্রযুক্তির কারণে আগের মডেলের তুলনায় দাম বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের এক্সসি৬০ টি৮-এর শুরুর দাম ৬২ হাজার ৫৪৫ মার্কিন ডলার এবং এক্সসি৯০ টি৮-এর শুরুর দাম ৭৭ হাজার ৫৯৫ মার্কিন ডলার ছিল। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নতুন মডেল দুটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ডিলারদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

নতুন এক্সসি৬০ ও এক্সসি৯০-এর মূল লক্ষ্য হলো-প্রচলিত জ্বালানি চালিত গাড়ির ব্যবহারিক সুবিধা ধরে রেখে বৈদ্যুতিক গাড়ির অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দ্বিগুণের বেশি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজনের ফলে প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভির বাজারে ভলভোর এই দুই মডেল নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

সূত্র: এনগ্যাজেট

শাহজালাল/কেএসকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
জাবিতে র‍্যাগিং: ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা
জাবিতে র‍্যাগিং: ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র‍্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।‎‎বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।‎‎অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা) ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে।‎‎এ ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা, মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।‎‎অন্যদিকে, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো ও ম্যানার শেখানোর নামে র‍্যাগিং করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।‎‎এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।‎‎অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৩(২) (ঘ) অনুযায়ী অভিযুক্তদের এ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে।‎‎এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে অধিকতর কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

সারাদিন চ্যাট-কলে কথা, দেখা হলে কেন মুখে কথা আসে না

সারাদিন চ্যাট-কলে কথা, দেখা হলে কেন মুখে কথা আসে না

মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি করা যায়: শিবির সভাপতি

মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি করা যায়: শিবির সভাপতি

শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ অক্টোবর
শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ৭ অক্টোবর

শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। এর পর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালের ৫মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গিরে ৬১ জনকে হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তথা প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ জন আসামি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও আত্মসমর্পণ করেননি। তাই তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। ট্রইব্যুনাল তা গ্রহণ করে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে সকালে গ্রেফতার ১১ আসামিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। তারা হলেন, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাংবাদিক ফারজানা রূপা। এর আগে ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৭ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করার পর সেটি আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় আসামিরা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ,তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী। প্রসিকিউশনের তথ্য মতে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এফএইচ/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ভারতীয় প্লেনের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

ভারতীয় প্লেনের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জার্মান বিশেষজ্ঞদলকে স্পিকারের আমন্ত্রণ

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জার্মান বিশেষজ্ঞদলকে স্পিকারের আমন্ত্রণ

গুলশান থানার ওসি প্রত্যাহার

গুলশান থানার ওসি প্রত্যাহার

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ সিটি করপোরেশনে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কোনটি কত পেল
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ১৩ সিটি করপোরেশনে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কোনটি কত পেল

নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের অনুকূলে মোট ২০ কোটি টাকা আবর্তক অনুদান হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-১ শাখা থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।আদেশে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালন বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা বাবদ সিটি করপোরেশনের অনুকূলে আবর্তক অনুদান খাতে মোট ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাবদ স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিশ্রুত ২৫ শতাংশ অর্থও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।বরাদ্দের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পেয়েছে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।গাজীপুর সিটি করপোরেশন ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ২ কোটি, বগুড়া সিটি করপোরেশন ১ কোটি ৭৫ লাখ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন ১ কোটি ২ লাখ টাকা পেয়েছে।অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৭৩ লাখ, বরিশাল ৭২ লাখ, ময়মনসিংহ ৬৫ লাখ, খুলনা ৬০ লাখ, কুমিল্লা ৫২ লাখ, রংপুর ৫২ লাখ ও সিলেট সিটি করপোরেশন ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরবর্তী অর্থের বিভাজন অনুমোদনের সময় সংশ্লিষ্ট সিজিএ ও সিএও অফিসের সঙ্গে সংগতি সাধন করে চলতি অর্থবছরের ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে হবে।বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল উত্তোলনকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শুদ্ধ চিন্তা আমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে

শুদ্ধ চিন্তা আমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহীর বাসায় লুটের অভিযোগ

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহীর বাসায় লুটের অভিযোগ

আন্দামান সাগরে লঘুচাপ, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস

আন্দামান সাগরে লঘুচাপ, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস

0 Comments