জাতীয়

ভারতীয় প্লেনের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ভারতীয় প্লেনের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়লো
ভারতীয় প্লেনের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

ভারতীয় প্লেন চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) নতুন একটি নোটাম জারি করে জানিয়েছে, ভারতীয় প্লেনগুলো ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

নতুন নোটাম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভারতের নিবন্ধিত সব ধরনের প্লেন। পাশাপাশি ভারতীয় বিমান সংস্থা বা অপারেটরদের পরিচালিত কিংবা লিজ নেওয়া প্লেনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। সামরিক বিমানও এর বাইরে নয়।

২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবার ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছিল। সর্বশেষ নোটামটি এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ১৭তম ঘোষণা।

এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাম হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। হামলার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে। ভারত ওই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগটি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এবং ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়।

পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

এরপর দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়।

সংঘাতের সময় পাকিস্তান আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে, যার মধ্যে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমানও ছিল। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানানো হয়। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের পর ১০ মে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।

আকাশসীমা বন্ধের এই সিদ্ধান্তে ভারতের প্লেন চলাচল খাতে আর্থিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিমান পরিবহন খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশসীমা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ওই সময়ও ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো পাকিস্তানি বিমান সংস্থার তুলনায় বেশি পরিচালনাগত সমস্যার মুখে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় প্লেনকে পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে হবে। ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক রুটে বিকল্প ও দীর্ঘতর পথ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: জিও নিউজ

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
প্রেমের স্টেশনে আটকে আছি
প্রেমের স্টেশনে আটকে আছি

বিপুল চন্দ্র রায় উসকো খুসকো চুলে জমে আছে শ্রাবণ-মেঘের আলস্য,মাতাল হাওয়ায় ভেসে আসে অচেনা বুনো ফুলের সুবাস।মায়াবী রূপের ঘোরে আর চুলের মাতাল করা ঘ্রাণেহাত বাড়িয়ে ছুঁতে গেলেই কেমনে জানি গুলিয়ে যায় নদী আর আকাশ।একদিনতোমার ওই খোঁপায় একটা কাঠগোলাপ গুঁজে দেওয়ার বাহানায়আমি সারাজীবন পাগলপ্রায়! আজকালমাতাল দুপুর কিংবা সন্ধ্যায়আরতির ছলে জপি প্রেম-মন্ত্র, অথচজোছনা রাতে অদ্ভুত ঘোর লাগা শূন্যতায় টেনে নিয়ে যায়কোনো এক ছন্নছাড়া একগুচ্ছ পদ্য লিখতে,যেখানে বুকের ভেতর অজস্র অচেনা পঙ্ক্তিমালা ছন্দ ভুলেছে। তবুওআজ লিখে রাখলাম এক ফালি অপূর্ণ গান,যেখানে প্রেমের স্টেশনে আজও আমি একলা পাহারায়,কবিতার মতো ভালোবেসে যাওয়ার অদ্ভুত এক নেশায়। সত্যি! অবশেষেতোমার পথের শেষ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে কাটাব আরও একটি শ্রাবণ,যেখানে জলছবির বুকে ভেসে থাকা চেনা অস্পষ্ট ছায়ায়আমি রয়ে যাব এক চিরন্তন কবিতার শেষ অসমাপ্ত পঙ্ক্তি হয়ে। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
জাতীয় ক্রিকেট লিগের সূচি প্রকাশ, জেনে নিন কবে কার খেলা

জাতীয় ক্রিকেট লিগের সূচি প্রকাশ, জেনে নিন কবে কার খেলা

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে বাংলাদেশের মেয়েরা

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে বাংলাদেশের মেয়েরা

ছোটবেলার শাবনাজ-মৌসুমী কি সত্যিই মারা গেছেন?
ছোটবেলার শাবনাজ-মৌসুমী কি সত্যিই মারা গেছেন?

নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পীদের জন্য আলাদা জায়গা ছিল। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক কিংবা নায়ক-নায়িকার শৈশবের অংশকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শিশুশিল্পীদের অভিনয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হতো। বাংলা চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন সীমা। দর্শকের কাছে ‘বেবি সীমা’ নামেই বেশি পরিচিত। এই অভিনেত্রী একসময় ঢাকাই সিনেমার নিয়মিত মুখ ছিলেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় নায়িকাদের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন বেবি সীমা। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গিয়ে সংসার জীবনেই মনোযোগী হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে নতুন কোনো সিনেমায় দেখা না গেলেও পুরোনো সিনেমার দর্শকদের কাছে এখনো বেবি সীমা পরিচিত একটি নাম। তবে সম্প্রতি তার মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সব গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বেবি সীমা বর্তমানে ভালো আছেন এবং স্বামী-সংসার নিয়ে পুরান ঢাকায় বসবাস করছেন। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো। ফলে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন কোনো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সনি রহমান বলেন, ‘বর্তমানে সীমা ম্যাডাম স্বামী-সংসার নিয়ে পুরান ঢাকায় বসবাস করছেন। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।’ একই সঙ্গে বেবি সীমাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা গুজব ছড়াবেন না প্লিজ।’ শাবনাজ, মৌসুমীসহ সেই সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের ছোটবেলার চরিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন সীমা। ফলে নায়িকাদের শৈশবের দৃশ্য এলেই অনেক সিনেমায় তার উপস্থিতি দেখা যেত। অল্প বয়সেই অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘প্রেমগীত’, ‘প্রেমের সমাধি’ ও ‘রূপের রাণী গানের রাজা’। ‘প্রেমগীত’ সিনেমায় লিমার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘প্রেমের সমাধি’তে শাবনাজের ছোটবেলার চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে। শুধু নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ ছিলেন না সীমা। ধনী পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে দরিদ্র পরিবারের চরিত্র বিভিন্ন ধরনের গল্পে সাবলীলভাবে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি ফোক-ফ্যান্টাসি ঘরানার সিনেমাতেও তার অভিনয় ছিল চোখে পড়ার মতো।   এমআই/এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আজকের মুদ্রার রেট কত

আজকের মুদ্রার রেট কত

হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

আড়াই লাখ কোটি টাকায় হবে আরও তিন মেট্রোরেল, একনেকে অনুমোদন

আড়াই লাখ কোটি টাকায় হবে আরও তিন মেট্রোরেল, একনেকে অনুমোদন

১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন
১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন

দেশে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।জ্বালানি খাতে সরকারের নানা উদ্যোগ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্য মেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে। এলএনজির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানিনিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাআন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা বাড়বে।মুডিস রেটিং ‘সুখবর’ বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস। এ ঘটনাকে ‘সুখবর’ উল্লেখ মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাই বাড়বে। ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী-যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসে এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির যে হার, সেটা কমে এসেছে।সাত ভাগে জনকল্যাণ উদ্যোগ সাত ভাগে বিভক্ত করে সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।বর্তমান সরকার প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায় দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পদযাত্রা।প্রবাসী আয় বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারের তীব্র চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে ৬ মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা মাহদী আমিন।১৬ বছরের ধ্বংসস্তূপ সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক মাসে বাস্তবায়িত ও গৃহীত বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। এই সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপান্তরের যে সুদৃঢ় পথযাত্রা, সেটি আরও বিকশিত করবে।১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে সরকার নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করে মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা দুরূহ। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান। দল, মত, পথ ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য সবার আগে বাংলাদেশ।সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিন চলছে। সরকারের অনেক কাজের ইতিবাচক ফল এরই মধ্যে জনগণ পেয়েছে। কিছু কাজের ফল পেতে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাবে দেশের জনগণ। তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জনজীবনে স্বস্তি, শাস্তি, নিরাপত্তা বিধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তা জনগণ অনুভব করতে শুরু করেছে।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বিশ্বাসী বলেই যে আমরা পেয়ে বসব, তা–ও নয়। আমরা তাঁকে সহযোগিতা করব।’

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সাবেক কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারে বাধা, ফেরত গেল পুলিশ

সাবেক কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারে বাধা, ফেরত গেল পুলিশ

জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের

‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের

0 Comments