জাতীয়

‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের
‘ইশ, যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম!’ অদ্ভুত আক্ষেপ ইংল্যান্ড কোচের

বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনও তাজা ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের মনে। তবে টুর্নামেন্ট নিয়ে তার আফসোসের ধরনটা বেশ অদ্ভুত। মেক্সিকোর বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে রাখেননি-এখন সেটিই নাকি তার আক্ষেপ!

বিশ্বকাপে দারুণ এক পথ পাড়ি দিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে বিদায় নেয় থ্রি লায়ন্সরা। এর আগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করা ইংল্যান্ড টুর্নামেন্ট শেষ করে ফ্রান্সকে হারিয়ে রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে।

তবে টুখেলের কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ছিল শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি। মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম, আর পেনাল্টি থেকে এক গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। পরে জ্যারেল কুয়ানসা লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দল নিয়ে জয় ধরে রাখতে হয় ইংল্যান্ডকে।

ম্যাচটির লড়াই এতটাই তীব্র ছিল যে, এখনো সেটি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন টুখেল। এফএর হয়ে ড্যানিয়েল স্টারিজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জার্মান কোচ বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি এক বন্ধুকে মেসেজ করেছিলাম। শুধু লিখেছিলাম, “ইশ, ম্যাচের পর যদি মাঠের কিছু ঘাস খেয়ে নিতাম! তাহলে এই মুহূর্তের কিছুটা চিরদিন নিজের শরীরে ধরে রাখতে পারতাম।” এটাই ছিল অনুভূতিটা। ওই মুহূর্তটাই।’

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হলেও নাটক শেষ হয়নি। উদযাপনের সময় বিজ্ঞাপনী বোর্ড টপকে লাফ দিতে গিয়ে চোট পান অব্যবহৃত বদলি খেলোয়াড় জর্ডান হেন্ডারসন। এমনকি তার হাতও ভেঙে যায়।

তবে ঘটনাটিকেও ইতিবাচক স্মৃতি হিসেবেই দেখছেন টুখেল। কারণ, ওই মুহূর্তে ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বন্ধন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

টুখেল বলেন, ‘এই ম্যাচে এমন অনেক কিছুই ছিল, যা আপনি চাইতে পারেন। এই খেলোয়াড়দের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব কতটা ছিল এবং তারা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে ছিল, তার প্রমাণ যদি কারও প্রয়োজন হয়, তাহলে জর্ডান পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলার ঘটনাটিই যথেষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক সেকেন্ডের মধ্যেই সব খেলোয়াড় সেখানে ছুটে গিয়েছিল। প্রত্যেকেই উদযাপন থামিয়ে জর্ডানকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল, তাকে আড়াল করছিল, রক্ষা করছিল। কেউ কোথাও যাচ্ছিল না-সবাই ছিল সহানুভূতিশীল। মুহূর্তটি সত্যিই বিশেষ ছিল।’

বিশ্বকাপের পর এবার নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে ইংল্যান্ড। চলতি মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে স্পেন ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচ দুটি হবে যথাক্রমে ২৬ ও ২৯ সেপ্টেম্বর।

এমএমআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অন্য নারীর সঙ্গে প্রেমিক, ক্ষোভে গাড়ির বনেটে ঝাঁপ তরুণীর
অন্য নারীর সঙ্গে প্রেমিক, ক্ষোভে গাড়ির বনেটে ঝাঁপ তরুণীর

প্রেমিক অন্য এক নারীর সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গিয়েছেন। এমন খবর পেয়ে সেখানে ছুটে গিয়ে তার গাড়ির বনেটে উঠে প্রতিবাদ করলেন এক তরুণী। ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের জনেশ্বর মিশ্র পার্কে ঘটেছে এই ঘটনা। এরই মধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, খালি পায়ে এক তরুণী গাড়ির সামনের বনেটে উঠে রয়েছেন। তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ গাড়ির সামনের দিকে ছড়িয়ে ছিল। গাড়িটি ধীরে ধীরে এগিয়ে চললেও তিনি গাড়ির বনেটে থেকেই প্রেমিককে থামানোর জন্য চিৎকার করতে থাকেন। #BREAKING | Woman hit by car, dragged on bonnet after dispute in Lucknow NDTV's @AjayDindian joins @GargiRawat with more details https://t.co/UfB4kSLCh2 — NDTV (@ndtv) September 16, 2026 জানা গেছে, ওই তরুণীর প্রেমিক এক নারী বন্ধুকে নিয়ে জনেশ্বর মিশ্র পার্কে গিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তরুণী সেখানে পৌঁছে যান। এরপর দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি দ্রুত নিজের গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তরুণী গাড়ির সামনে গিয়ে বনেটে উঠে পড়েন এবং গাড়ি থামানোর জন্য জোরালোভাবে প্রতিবাদ করতে থাকেন। ভিডিওতে তরুণীকে গাড়ির বনেটে হাত দিয়ে আঘাত করতে করতে বলতে শোনা যায়, আমি মরবো না। যা খুশি করো, গাড়ি থামাও। কিন্তু ওই ব্যক্তি গাড়ি থামাননি। প্রথমে ধীরে ধীরে গাড়ি চালাতে থাকেন তিনি। এ সময় তরুণী গাড়ির বনেটের ওপর ছড়িয়ে ছিলেন এবং ক্রমাগত চিৎকার করছিলেন। তার পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও সাদা টপ। কিছুক্ষণ পর গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন চালক। একপর্যায়ে তরুণী গাড়ির সামনের অংশ থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এরপর গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ঘটনার পর ওই তরুণীর পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিওটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
‘কী হতে চাও, এখনই লক্ষ্য স্থির করো’

‘কী হতে চাও, এখনই লক্ষ্য স্থির করো’

ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের প্লেন বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

ঘণ্টায় ৪১৫টি কাগজের প্লেন বানিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী, তদন্তের নতুন কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী, তদন্তের নতুন কমিটি

চীনে চড়ুই নিধন, গুদামে সার ও কৃষকের হাতে হাতকড়া
চীনে চড়ুই নিধন, গুদামে সার ও কৃষকের হাতে হাতকড়া

সময়টা ১৯৫৮ সাল। চীনে মাও সে–তুংয়ের নেতৃত্বে বিপ্লবের ১১ বছর পেরিয়েছে। কৃষিনির্ভর চীন একটা স্থিতিশীলতার মধ্যে এসেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি শুরু করল গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য ছিল কৃষির উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিল্পায়নের বিকাশ। কৃষির উৎপাদন বাড়ানোর উপায় হিসেবে ফসলের শত্রু হিসেবে ইঁদুর, মশা, মাছির সঙ্গে চড়ুই পাখিকেও চিহ্নিত করা হলো। সরকারি প্রচারণায় দেশপ্রেমের কাজ হিসেবে উপস্থাপন করে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র সবাইকে উৎসাহিত করা হলো চড়ুই নিধনে। কিছুদিনের মধ্যে চীন প্রায় চড়ুইশূন্য হয়ে গেল। কিন্তু হায়, মৌসুম শেষে দেখা গেল, ফসলের উৎপাদন বাড়া তো দূরে থাক; বরং আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেল। পরের মৌসুমে ফসলের উৎপাদন আরও কমল। পরিণামে চীনে দেখা দিল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।চড়ুই ফসল খেয়ে ফেলে ঠিকই, কিন্তু পোকামাকড় খেয়ে ফসল বাঁচায় তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। প্রকৃতি চড়ুইশূন্য হয়ে যাওয়ায় বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছিল। পোকামাকড়ের বিস্তারে ফসলহানি হয়েছিল। সেটাই দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছিল। চীনের কমিউনিস্ট সরকার তাদের ভুল বুঝতে পেরে চড়ুইকে ক্ষতিকর প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে চড়ুই এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়েছিল। রাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত কত বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে, চীনের চড়ুই নিধন প্রকল্প তার বড় দৃষ্টান্ত।সার, সেচ ও ফসল সংরক্ষণ নিয়ে সংকট কেনচীনের এই গল্পটি মনে পড়ছিল ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত কুড়িগ্রামের একটা খবর পড়তে গিয়ে। খবরের শিরোনাম হলো, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? এহন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আহে’। এ প্রশ্ন পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কৃষকদের। আমনের ভরা মৌসুমে সার না পেয়ে তাঁরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে একজন কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হন। ব্যস, কৃষকদের বিরুদ্ধে কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়।সংকটের সময় বেশি দামে সার কিনে আনতে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার ভুলের কারণে সেই সার কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, সার চেয়ে প্রতিবাদ করায় হাতকড়া পড়ছে কৃষকের হাতে। এখানে অপরাধটা আসলে কার?দেশে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দেশে সার নিয়ে ‘সংকট’ চলছে। বাস্তবতা হলো, সরকারের গুদামে সার থাকলেও আমন চাষের জন্য চাহিদামতো সার পাননি কৃষকেরা। ডিলারদের কাছে গেলে বলা হয়েছে সার নেই। দীর্ঘ লাইনে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে থেকেও প্রয়োজনীয় সার পাননি তাঁরা। অথচ সরকারি সার বেশি দামে খোলাবাজারে ঠিকই বিক্রি হচ্ছে।প্রায় সারা দেশেই কমবেশি একই চিত্র। সার না পেয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। তবে কোথাও কোথাও সেটা বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও দারিদ্র্যের দিক থেকে এগিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা মানববন্ধন, উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও ও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভসার না পেয়ে ডিলারের গুদামের দরজা ও বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার দুটি ঘটনা ঘটেছে। একটি ভূরুঙ্গামারীতে, আরেকটি রৌমারীতে। এ দুটি ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গরিব জেলা কুড়িগ্রামে। প্রশ্ন হচ্ছে, কুড়িগ্রামের মানুষ বেশি গরিব কেন? এর বড় কারণ হলো কৃষির বাইরে সেখানে আর বড় কোনো কর্মসংস্থান নেই। বছরের বেশির ভাগ সময় আলুর ডাল আর ভাত খেয়ে কাটানো জনগোষ্ঠীর জন্য ধান কিংবা রবি ফসল যে কতটা বাঁচামরার প্রশ্ন, সেটা জনবিচ্ছিন্ন আমলাতন্ত্র আর পুলিশের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।গণমাধ্যমের খবর বলছে, ডিলারদের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার পর বেশির ভাগ সারই কৃষকেরা আবার নিজেদের কাঁধে বয়ে ফেরত দিয়ে যান। ভূরুঙ্গামারীর যে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের দুজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলছেন, ‘এহন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আহে। সারা দিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমামু, সেই উপায় নাই।’এ মামলায় শুধু কৃষকদের আসামি করা হয়নি, শিক্ষার্থীর নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁর অপরাধ হলো, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি ভিডিও করছিলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। তিনি জানেন না এবার পরীক্ষা দিতে পারবেন কি না।এই যে কৃষক সারা রাত পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আর দিনের বেলা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলাচ্ছেন, এর পেছনে শুধু জীবিকার টান নয়, কৃষির প্রতি অপরিসীম দরদও কাজ করে। প্রশ্ন হচ্ছে, কৃষকের সার চাওয়াটা কি অপরাধ? কৃষকের এই চাওয়াকে যদি অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সরকারি গুদামে সার মজুত থাকার পরও যাঁরা দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছেন, তাঁদের বেলায় কী হবে?এবারের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের যে অনিশ্চয়তার ধরন, তাতে ধান, সবজিসহ কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। ডিজেলের সংকট এবং হাওরের বন্যার কারণে এমনিতেই বোরোর উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। এ কারণে আমনের উৎপাদন ঠিকঠাক রাখা জরুরি। মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের আমনের চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেলেও ঠিকমতো সার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমনের উৎপাদন ঠিকঠাক থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে সারের সংকটে যদি বাংলাদেশে চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে নতুন করে দরিদ্র হবে ১৪ লাখ মানুষ।কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে ১২ লাখ টনের বেশি সার মজুত রয়েছে। এর অর্থ, সংকটটা পুরোপুরি ব্যবস্থাপনাগত। চালসহ খাদ্যপণ্যের দাম যাতে নাগালের বাইরে না চলে যায়, সে জন্য সরকার সারে ভর্তুকি দেয়। কিন্তু সার বিতরণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকে ডিলারদের হাতে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা সিন্ডিকেট তৈরি, কালোবাজারে সার বিক্রির মতো অপরাধ করেও পার পেয়ে যান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এখানে বড় দায় আছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকের সংখ্যা, চাহিদার সঠিক হিসাব তাঁরা করছেন না। এ ছাড়া সরকার পরিবর্তনের পর সারের ডিলারশিপ পেতে ক্ষমতাসীন নেতাদের দৌড়ঝাঁপের কারণেও বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।সংকটের সময় বেশি দামে সার কিনে আনতে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার ভুলের কারণে সেই সার কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, সার চেয়ে প্রতিবাদ করায় হাতকড়া পড়ছে কৃষকের হাতে। এখানে অপরাধটা আসলে কার? সার চেয়ে বিক্ষোভ করা কৃষকের, নাকি সংকটকালে দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকেই যাঁরা হুমকিতে ফেলছেন, তাঁদের? দয়া করে কৃষকদের রাতে ঘুমাতে দিন। সংকটে অন্নদাতা কৃষকই আমাদের ভরসা। করোনা মহামারি আমাদের সেটা শিখিয়েছে।মনোজ দে প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী* মতামত লেখকের নিজস্বmonoj.dey@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলকে শক্তিশালী বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলকে শক্তিশালী বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্নাতকদের সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ চালু বিএসআইএ-সিসিপির

স্নাতকদের সেমিকন্ডাক্টর টেস্টিং প্রশিক্ষণ চালু বিএসআইএ-সিসিপির

ঢাকায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনে বিলসের নিন্দা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

ঢাকায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনে বিলসের নিন্দা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

বিএনপির নেতার গোয়ালে মিলল চুরি হওয়া গরু, দলের শোকজ
বিএনপির নেতার গোয়ালে মিলল চুরি হওয়া গরু, দলের শোকজ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় চুরি হয়ে যাওয়া একটি গরু স্থানীয় এক বিএনপি নেতার গোয়াল থেকে উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে পুলিশ গরুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দলের ওই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি।ওই বিএনপি নেতার নাম দেলোয়ার হোসেন। তিনি ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। ইউনিয়ন শাখা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে শোকজ করা হয়।পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলছারা জোয়ার বাড়ির হতি বেগম নামের এক নারীর দুটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা চুরি হয়ে যাওয়া গরু দুটির সন্ধান করতে থাকেন।খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে চুরি হওয়া একটি গরু গতকাল দেলোয়ারের গোয়ালঘরে দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দেলোয়ারের বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করে।পুলিশের দাবি, এ ঘটনার বিষয়ে জানতে দেলোয়ার হোসেনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। যদিও আজ দুপুরে দেলোয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে প্রথম আলোর কথা হয়। তিনি দাবি করেন, গভীর রাতে দুজন ব্যক্তি তাঁর গোয়ালে গরুটি রেখে গেছেন। এ বিষয়ে দলের নোটিশ পেয়েছেন এবং জবাব দেবেন বলেও জানান তিনি।জানতে চাইলে ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম মজুমদার বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁকে এ নোটিশের জবাব দিতে হবে। জবাব পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চুরি হওয়া দুটি গরুর একটি দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে এবং অন্যটি চাটখিল থেকে উদ্ধার হয়েছে। দেলোয়ারকে পুলিশ খুঁজছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পাঠকের ছবি (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

পাঠকের ছবি (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

গুদামের পাশে ডোবায় ভাসছিল বস্তা, খুলে পাওয়া গেল মালিকের হাত–পা বাঁধা লাশ

গুদামের পাশে ডোবায় ভাসছিল বস্তা, খুলে পাওয়া গেল মালিকের হাত–পা বাঁধা লাশ

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে আয়বৈষম্য যেভাবে দায়ী

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে আয়বৈষম্য যেভাবে দায়ী

0 Comments