জাতীয়

সৈকতের আড়ালে মালদ্বীপে বইছে ইসলামের সুবাতাস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সৈকতের আড়ালে মালদ্বীপে বইছে ইসলামের সুবাতাস
সৈকতের আড়ালে মালদ্বীপে বইছে ইসলামের সুবাতাস

নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত মালদ্বীপ। তবে পর্যটনকেন্দ্রিক রিসোর্ট এলাকার বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন এক সামাজিক বাস্তবতা। সেখানে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে আজান, নামাজ, মসজিদ, হিজাব ও ইসলামি সংস্কৃতি।

রাজধানী মালে শহরের ব্যস্ত সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় আধুনিক নগরজীবনের পাশাপাশি চোখে পড়ে মসজিদের মিনার। নামাজের সময় অনেক মানুষকে মসজিদমুখী হতে দেখা যায়। ধর্মীয় অনুশীলন দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হিজাবে মালদ্বীপের নারী

মালদ্বীপের স্থানীয় দ্বীপগুলোতে নারীদের পোশাকে ইসলামি মূল্যবোধের প্রভাব স্পষ্ট। অনেক নারী হিজাব, স্কার্ফ, আবায়া কিংবা বোরকা পরেন। আবার কেউ আধুনিক পোশাকের সঙ্গে মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করেন।

রাজধানী মালে শহরে পোশাকের বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি হলেও স্থানীয় আবাসিক দ্বীপগুলোতে শালীন পোশাক ও হিজাবের ব্যবহার আরও দৃশ্যমান।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, গত দুই দশকে নারীদের মধ্যে হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামির পর জীবন ও মৃত্যু এবং ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তাদের কেউ কেউ মনে করেন।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় অন্যের পারমিটে চাকরি, ১৭৪ বাংলাদেশি আটক

তবে ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের পরিবর্তনকে শুধু সুনামির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ধর্মীয় শিক্ষা, আলেমদের দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবেশ—বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

নামাজের সময় বদলে যায় মালের চেহারা

মালদ্বীপে নামাজ অনেকের ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক জীবনযাত্রারও অংশ। নামাজের সময় মালে শহরের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মীরা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান। কোথাও অল্প সময়ের জন্য দোকান বন্ধ রেখে নামাজ শেষে আবার ব্যবসা শুরু করা হয়।

শুক্রবারের চিত্র আরও আলাদা। জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়ে। ব্যস্ত শহরে সাময়িকভাবে কর্মচাঞ্চল্য কমে আসে এবং মসজিদমুখী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়।

মালে ৩০টিরও বেশি মসজিদের শহর

আয়তনে ছোট হলেও ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী মালে শহরে ৩০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা, বাজার ও আবাসিক অঞ্চলের মাঝেই ছড়িয়ে আছে এসব মসজিদ।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন ইসলামি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মসজিদগুলো স্থানীয় সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মালে শহরে শুধু আধুনিক মসজিদই নয়, রয়েছে কয়েক শত বছরের পুরোনো ইসলামি স্থাপত্যের নিদর্শনও।

হুকুরু মিস্কি—প্রবাল পাথরে ইসলামের ইতিহাস

মালদ্বীপের ঐতিহাসিক হুকুরু মিস্কি বা মালে ফ্রাইডে মসজিদ দেশটির ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মসজিদটি ১৬৫৮ সালে নির্মিত। এটি ১১৫৩ সালে নির্মিত একটি প্রাচীন মসজিদের স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রবাল পাথর, কাঠের কাজ, সূক্ষ্ম নকশা ও আরবি ক্যালিগ্রাফি মসজিদটির স্থাপত্যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে।

মালদ্বীপের প্রবাল-পাথরের মসজিদগুলো শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়; ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সংস্কৃতির পারস্পরিক যোগাযোগ ও স্থাপত্যশৈলীরও সাক্ষ্য বহন করে। ‘কোরাল স্টোন মসজিদ অব মালদ্বীপ’ নামে প্রবাল-পাথরের মসজিদগুলোর একটি সিরিজ ইউনেসকোর সম্ভাব্য বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও রয়েছে।

মসজিদ শুধু ইবাদতের জায়গা নয়

মালদ্বীপের স্থানীয় সমাজে মসজিদের ভূমিকা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামি শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হিসেবেও মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক দ্বীপে মসজিদকে কেন্দ্র করে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ফলে স্থানীয় সমাজে মসজিদ ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

পর্যটনের দেশ, স্থানীয় দ্বীপে ভিন্ন বাস্তবতা

মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। বিদেশি পর্যটকদের জন্য রিসোর্ট দ্বীপগুলোতে তুলনামূলকভাবে আলাদা পরিবেশ রয়েছে। তবে রিসোর্টের বাইরে স্থানীয় দ্বীপগুলোর সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে পোশাক, ধর্মীয় আচরণ ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইসলামি মূল্যবোধের প্রভাব স্পষ্ট।

একদিকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ, অন্যদিকে স্থানীয় সমাজে শক্তিশালী ইসলামি পরিচয়—এই দুই বাস্তবতা একই সঙ্গে মালদ্বীপের সামাজিক চিত্রকে তুলে ধরে।

সুনামি ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরের ভয়াবহ সুনামি মালদ্বীপেও আঘাত হানে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে দেশটির বহু দ্বীপ ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর জীবন, মৃত্যু ও স্রষ্টার প্রতি মানুষের নির্ভরতা নিয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়েছিল বলে কয়েকজন স্থানীয়ের অভিমত।

তবে সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে ধর্মীয় অনুশীলন বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হিসেবে সুনামিকে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয়-রাজনৈতিক পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাস

মালদ্বীপে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা ও লোককথা রয়েছে। প্রচলিত বর্ণনায় আবুল বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারির নাম পাওয়া যায়।

ইউনেসকোর ঐতিহাসিক বিবরণে মালদ্বীপে ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর ধীরে ধীরে ধর্মটি দেশটির রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পরিচয়ের কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে ওঠে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামি পরিচয় মসজিদ, স্থাপত্য, শিক্ষা, সামাজিক রীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে।

মালদ্বীপের আরেক পরিচয়

মালদ্বীপকে শুধু রিসোর্ট, পর্যটন ও সমুদ্রসৈকট দিয়ে দেখলে দেশটির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। স্থানীয় সমাজে ইসলামি সংস্কৃতির উপস্থিতিও দেশটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজধানী মালে শহরের আধুনিক নগরজীবনের মধ্যেও মসজিদের উপস্থিতি, নামাজের সময় মানুষের মসজিদমুখী হওয়া, স্থানীয় নারীদের মধ্যে হিজাবের ব্যবহার এবং দ্বীপভিত্তিক ধর্মীয় সংস্কৃতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

আর শত শত বছরের পুরোনো প্রবাল-পাথরের মসজিদগুলো সাক্ষ্য দেয়, মালদ্বীপে ইসলাম শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়; দেশটির ইতিহাস, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।

সমুদ্রের নীল জলের আড়ালে যেমন রয়েছে প্রবালপ্রাচীর, তেমনি পর্যটনের ঝলমলে মালদ্বীপের বাইরেও রয়েছে মসজিদ, আজান, নামাজ, হিজাব ও ইসলামি সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠা স্থানীয় সমাজের এক ভিন্ন চিত্র।

এমআরএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
জনপ্রতিনিধির অভাবে ভোগান্তিতে রাজশাহীর ৭২ ইউনিয়নের মানুষ
জনপ্রতিনিধির অভাবে ভোগান্তিতে রাজশাহীর ৭২ ইউনিয়নের মানুষ

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত চেয়ারম্যান বা সদস্যকে না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে একাধিকবার পরিষদে যেতে হচ্ছে অনেক নাগরিককে। কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে অনেক সেবা আগের মতো সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় রাজশাহীর ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি এবং ছোটখাটো সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তির স্বাভাবিক ব্যবস্থায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রামীণ মানুষের কাছে সবচেয়ে কাছের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন। তবে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সচল রয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে ৬৭টিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি পাঁচটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নেই। ফলে অধিকাংশ ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম ধীরগতিভাবে হলেও অব্যাহত রয়েছে। ‌‌‘চে‌য়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের মতে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজশাহীর সক্রিয় গ্রাম আদালতগুলোতে মোট ৯ হাজার ৩৪৯টি মামলা এসেছে। এর মধ্যে আগের অপেক্ষমাণ মামলা ছিল ৩৩৭টি। ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে দায়ের হয়েছে ৮ হাজার ৪১৮টি মামলা। এছাড়া জেলা আদালত থেকে গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে ৫৯৪টি মামলা। এসব মামলার মধ্যে ৯ হাজার ২০৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ১৪১টি মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও সক্রিয় গ্রাম আদালতগুলোতে আসা প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আরও পড়ুন শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু গ্রাম আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামগ্রিক সেবার চিত্র বোঝা যাবে না। কারণ গ্রাম আদালতের বাইরে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, স্থানীয় বিরোধের প্রাথমিক সমাধান, সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমসহ ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে বহুমুখী সেবা। ‘গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পৃথক সেন্ট্রাল ডেস্ক, জেলা পর্যায়ে জেলা ডেস্ক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা ডেস্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাজেট রাখার প্রয়োজন রয়েছে।’ রাজশাহীর বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আগের মতো সহজে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেকেই। স্থানীয় কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা, পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ কিংবা সরকারি সেবা সম্পর্কে তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির খোঁজে একাধিকবার পরিষদে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াতসহ নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে। বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, আগে ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাওয়া যেত। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলা যেত। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা স্থানীয় কোনো সমস্যা নিয়ে কার কাছে যেতে হবে, সেটিও সহজে জানা যেত। এখন অনেক ক্ষেত্রে কার কাছে গেলে সমস্যার সমাধান হবে, সেটিই বুঝতে পারেন না। স্থানীয়ভাবে যে সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা, সেটিও অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাঘা উপজেলার নুরেছা বেগম বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য রাজশাহী শহরে গিয়ে আদালতে মামলা করা সহজ না। আদালতে যেতে হলে যাতায়াতের পাশাপাশি আইনজীবীসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। গ্রাম আদালত ঠিকভাবে কার্যকর থাকলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক বিরোধের সমাধান করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষ আগের মতো সহজে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন না। অনেক সময় একটি ছোট কাজের জন্যও পরিষদে একাধিকবার যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফিরিয়ে আনা উচিত। পবা উপজেলা বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষ আগের মতো সহজে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন না। অনেক সময় একটি ছোট কাজের জন্যও পরিষদে একাধিকবার যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফিরিয়ে আনা উচিত। আরও পড়ুন ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে রেস্তোরাঁ নির্মাণ, হুমকিতে গঙ্গামতির জীববৈচিত্র্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলে প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হলেও জনগণের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহির জায়গায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ ও সমস্যা শুনে স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাদের অনুপস্থিতিতে সেই সরাসরি যোগাযোগের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও জনগণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক আগের মতো কার্যকর থাকে না। তাদের মতে, গ্রাম আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে বিকল্প ব্যবস্থায় স্থানীয় বিচার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সামগ্রিক সেবার ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প তৈরি করা কঠিন। তাই একদিকে গ্রাম আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও বাজেট নিশ্চিত করতে হবে; অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জরুরি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. স্বপ্নীল রহমান বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে না থাকায় বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম চলছে। এতে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হলেও জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের মতো সরাসরি যোগাযোগ ও সমস্যাগুলো জানার সুযোগ থাকছে না। দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প তৈরি করা কঠিন। তাই সরকারকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকলেও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় আদালতের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে। আরও পড়ুন সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পৃথক সেন্ট্রাল ডেস্ক, জেলা পর্যায়ে জেলা ডেস্ক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা ডেস্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাজেট রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এনএইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মাগুরা জেলা কারাগারের কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু, পরিবারের ক্ষোভ

মাগুরা জেলা কারাগারের কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু, পরিবারের ক্ষোভ

প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত?

প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত?

গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর!

গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর!

এসএসসি ও দাখিলে যে ১৩ বিষয়ে একই প্রশ্নে ২০২৭ সালের পরীক্ষা হবে
এসএসসি ও দাখিলে যে ১৩ বিষয়ে একই প্রশ্নে ২০২৭ সালের পরীক্ষা হবে

২০২৭ সালে অনুষ্ঠেয় দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩টি বিষয়ে প্রশ্নপত্র হবে অভিন্ন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া বিষয়গুলো হলো বাংলা ২য় পত্র (১০২), ইংরেজি ১ম পত্র (১০৭), ইংরেজি ২য় পত্র (১০৮), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (১৫৪), গণিত (১০৯), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), রসায়ন (১৩৭), জীববিজ্ঞান (১৩৮), উচ্চতর গণিত (১২৬), পৌরনীতি ও নাগরিকতা (১৪০), কৃষিশিক্ষা (১৩৪), গার্হস্থ্যবিজ্ঞান (১৫১)।উত্তরপত্র মূল্যায়নে এত ভুল কেন, মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নবাংলা ১ম পত্রের পরিবর্তিত বিষয় কোড ১০১ হলেও এসএসসি ও দাখিল স্তরের সিলেবাসের ভিন্নতার কারণে ২০২৭ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। ২০২৭ সালে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে বর্ণিত বিষয় কোড বহাল থাকবে এবং তাদের জন্য আগের মতো পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। এসএসসির খাতা ঠিকমতো না দেখা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
একজন অস্ত্র তাক করে আছেন, হামলা-ভাঙচুর করছেন কয়েকজন, ভিডিও ভাইরাল

একজন অস্ত্র তাক করে আছেন, হামলা-ভাঙচুর করছেন কয়েকজন, ভিডিও ভাইরাল

প্রতিবাদের ভাষা অশ্লীল হবে কেন?

প্রতিবাদের ভাষা অশ্লীল হবে কেন?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, দেখুন আবেদনের যোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, দেখুন আবেদনের যোগ্যতা

ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে
ভুলে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট হলে, ফিরে পাবেন যেভাবে

চ্যাটজিপিটি এখন অনেকেরই দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, লেখালেখি, কাজের পরিকল্পনা কিংবা প্রয়োজনীয় নোট অনেক কিছুই চ্যাট হিস্ট্রিতে রেখে দেন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অসাবধানতায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথোপকথন ডিলিট হয়ে গেলে বিপদে পড়তে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মুছে যাওয়া সেই চ্যাট কি আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব? ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে কোনো চ্যাট একবার ডিলিট করা হলে সেটি আর পুনরুদ্ধার করা যায় না। এমনকি ভুল করে মুছে ফেলা চ্যাটও চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রয়োজনীয় কথোপকথন সরানোর আগে ডিলিট এবং আর্কাইভের পার্থক্য জানা জরুরি। তবে চ্যাট হিস্ট্রিতে কোনো কথোপকথন খুঁজে না পেলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে সেটি ডিলিট হয়ে গেছে। চ্যাটটি আর্কাইভ করা থাকতে পারে। আবার অন্য অ্যাকাউন্ট বা ওয়ার্কস্পেসে লগ ইন থাকলেও পুরোনো চ্যাট দেখা যাবে না। তাই চ্যাট হারিয়ে গেছে মনে হলে কয়েকটি বিষয় আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। আরও পড়ুন চ্যাটজিপিটি জেনে যাচ্ছে আপনার নাড়ি-নক্ষত্র, সাবধান হবেন যেভাবে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট করবেন কীভাবে? অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন চ্যাট হিস্ট্রি থেকে সরাতে ডিলিট অপশন ব্যবহার করা যায়। এর জন্য প্রথমে চ্যাটজিপিটি খুলে সাইডবারে চ্যাট হিস্ট্রিতে যেতে হবে। এরপর যে কথোপকথনটি মুছতে চান, সেটির পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করুন। সেখান থেকে ডিলিট নির্বাচন করে চ্যাটটি মুছে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কথোপকথনটি হিস্ট্রি থেকে আর দেখা যাবে না। ডিলিট করা চ্যাট কি আবার উদ্ধার করা যায়? সংক্ষেপে উত্তর না। ওপেনএআই জানিয়েছে, ডিলিট করা চ্যাটজিপিটি চ্যাট ইন্টারফেস, এপিআই কিংবা সাপোর্টের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যায় না। অর্থাৎ ভুল করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন মুছে ফেললেও সেটি ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। একইভাবে সেটিংসের ডাটা কন্ট্রোলস থেকে ডিলিট অল চ্যাটস ব্যবহার করে সব কথোপকথন মুছে ফেললে সেগুলোও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই ডিলিট বেছে নেওয়ার আগে চ্যাটটি সত্যিই আর প্রয়োজন নেই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাট হঠাৎ হিস্ট্রি থেকে উধাও হলে কী করবেন? কোনও চ্যাট খুঁজে না পাওয়া মানেই সেটি মুছে ফেলা হয়েছে এমনটা নয়। প্রথমে নিজের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি পরীক্ষা করুন। অনেক সময় অন্য অ্যাকাউন্টে লগ ইন থাকার কারণে আগের কথোপকথন দেখা যায় না। এ ছাড়া আপনি সঠিক ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও দেখে নিন। চ্যাটটি আর্কাইভ করা হয়েছে কি না সেটাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চ্যাটজিপিটি পেজ রিফ্রেশ করে বা অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করে আবার লগ ইন করতে পারেন। এরপরও চ্যাট না পাওয়া গেলে ওপেনএআইয়ের সার্চস স্ট্যাটাস পেজে গিয়ে পরিষেবায় সাময়িক কোনও সমস্যা চলছে কি না দেখে নিতে পারেন। আর্কাইভ করা চ্যাট কোথায় পাবেন? কোনো কথোপকথন ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু আপাতত চ্যাট হিস্ট্রিতে রাখতে না চাইলে ডিলিটের বদলে আর্কাইভ করা নিরাপদ। আর্কাইভ করলে চ্যাটটি অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে যায় না; শুধু সাধারণ হিস্ট্রি থেকে সরিয়ে রাখা হয়। আরও পড়ুন যে ১০ কাজ চ্যাটজিপিটি দিয়ে করতে পারবেন আর্কাইভ করা চ্যাট দেখতে চ্যাটজিপিটির সেটিংসে যান। এরপর ডাটা কন্ট্রোলস বিভাগে গিয়ে আর্কাইভ চ্যাটসের পাশে থাকা ম্যানেজ অপশন নির্বাচন করুন। সেখানে আর্কাইভ করা কথোপকথন দেখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে আনআর্কাইভ করে সেটিকে আবার সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রিতে ফিরিয়ে আনা যায়। চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট আর্কাইভ করবেন কী ভাবে? চ্যাট আর্কাইভ করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। সাইডবারে যে কথোপকথনটি রাখতে চান, সেটি খুঁজে নিন। এরপর চ্যাটের পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করে আর্কাইভ নির্বাচন করুন। আর্কাইভ করার পর চ্যাটটি মুছে যাবে না এবং সাধারণত আলাদা করে ডিলিটের মতো নিশ্চিতকরণও প্রয়োজন হয় না। পরে প্রয়োজন হলে আর্কাইভড চ্যাটস থেকে সেটি আবার ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল

কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক

কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কেনা লাভজনক

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

শব্দ কীভাবে ভাষা ও জগৎকে নির্মাণ করে

0 Comments