যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত যোগাযোগের নতুন ঠিকানা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএসএ)।
সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘অরুণোদয় ও নবীনবরণ’ অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে কেক কেটে বিজিএসএর আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি, নতুন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বরণ এবং গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের বিদায় ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী সালমা আক্তার ও নুরানি হাফসা।
সংগঠনের নেতারা জানান, নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং একাডেমিক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই বিজিএসএর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুনভাবে যুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদেরও দেওয়া হয় সম্মাননা। শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশি পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অভিজ্ঞতা বিনিময়, মেন্টরশিপ ও ক্যারিয়ার পরামর্শের সুযোগ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর-রিসার্চ ড. শরীফ সিদ্দিকী, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর-রিসার্চ ড. মো. হাফিজ উদ্দিন, পোস্টডক্টরাল গবেষক মৌসুমী খান ও মো. লুকমান হোসেন এবং ক্যাসটেক হাইস্কুলের সায়েন্স এডুকেটর মোহাম্মদ হাফিজ কবীর।
বিজিএসএ-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হলেন বিজয় কৃষ্ণ রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আবরার নূর-ই ফাইয়াজ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ উন নবী।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—কোষাধ্যক্ষ তাওসিফ চৌধুরী, সহকারী কোষাধ্যক্ষ রিদওয়ানুল মুস্তাফা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিয়া আনজুম, সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুমাইয়া খান সুজানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার, মিডিয়া সম্পাদক সামিনা আক্তার টুম্পা এবং ক্রীড়া সম্পাদক এস্তেহাদ পাঠান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্টেলানটিস এর ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার অনন্ত সাইফ, ফোর্ড মটরস কোম্পানির ডাটা সায়েন্সটিসট ফারিয়া মাহনাজ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নাইমা হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার দেবানজান দিপ, ইঞ্জিনিয়ার সুরভী বণিক ও সাংবাদিক তোফায়েল রেজা সোহেল।
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে পড়ে রনজিনা পারভীন (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারী কর্তৃক প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলামত হিসেবে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগ ও ব্যাগে থাকা বাস টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। আরও পড়ুন শিক্ষিকা হত্যা: গ্রেফতার ২ আসামি ও উদ্ধার মোটরসাইকেলের রং নিয়ে সন্দেহ এর আগে ৩০ আগস্ট মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে পনি গাজী ও তার সহযোগী সেড্রিক নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব। তাদের কাছ থেকে ‘ইয়ামাহা আর-১৫’ মডেলের একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব। র্যাবের দাবি ছিল, বাইকটি ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল। র্যাবের ব্রিফিং শেষে গ্রেফতার মূল সন্দেহভাজনসহ দুই ব্যক্তিকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। তখন মূল সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন চিৎকার করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। এমনকি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের কোনো মিল নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ছিনতাইয়ের ঘটনায় যে দুটি সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে, সেখানেও ছিনতাইয়ে নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল দেখতে পাওয়া যায়। ফলে গ্রেফতার আসামি ও উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের রং নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। টিটি/এমআরএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে হতদরিদ্র নারীর চুরি হওয়া একটি গরু এক বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে দল থেকে শোকজ করা হয়। তিনদিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। শোকজপ্রাপ্ত বিএনপি নেতার নাম দেলোয়ার হোসেন দেলু। তিনি উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলছারা জোয়ার বাড়ির হতদরিদ্র হতি বেগমের দুটি গরু গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে চুরি হয়। এরপর থেকে গরু দুটির সন্ধানে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকালে বিএনপি নেতা দেলোয়ারের গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া একটি গরুর সন্ধান পায় স্থানীয়রা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়ির সামনে ও আশপাশে লোকজন জড়ো হয়। পরে খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। নলছারা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান বলেন, সকালে দেলোয়ার তাকে ফোন করে গরুটি নিয়ে যেতে বলেন। তার কাছে দেলোয়ার জানান, নলছারা গ্রামের তাজুল ইসলাম (তাজু) ও আলাউদ্দিন কালা নামে দুই ব্যক্তি গরুটি তার গোয়ালঘরে রেখে গেছেন। তবে চুরি হওয়া গরু কীভাবে ওই নেতার গোয়ালঘরে গেল— এ প্রশ্ন ঘিরেই এখন এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, গরু চোররা গভীর রাতে আমার গোয়ালঘরে এনে গরু রেখে যায়। কালু মিয়া ও তাজু পরদিন ফোন দিয়ে গরুটি বিক্রির কথা বলেন। পরে আমি গরু ক্রয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করি। ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম মজুমদার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গরুটি কীভাবে ওই গোয়ালঘরে গেল এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজল কায়েস/এফএ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ১০। আবেদনের শেষ তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬।চাকরির বিবরণ ১. পদের নাম: সহকারী অধ্যাপক বিষয় ও পদসংখ্যা: আইন (১), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১), দর্শন (১)। বেতন স্কেল ও গ্রেড ৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা (গ্রেড-৬)। ২. পদের নাম: প্রভাষক বিষয় ও পদসংখ্যা: আইন (২), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১), ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (১), দর্শন (১), মনোবিজ্ঞান (১), নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স (১)। বেতন স্কেল ও গ্রেড ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নেবে ৫৩৮ জন, জেনে নিন চাকরির সব তথ্যআবেদনের নিয়ম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপিসহ সব ডকুমেন্টসের সত্যায়িত কপি ৯ সেট ডাকযোগে/হাতে হাতে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে ‘রেজিস্ট্রার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৭০৪’ ঠিকানায় পৌঁছাতে হইবে।আবেদন ফি২০০ টাকা।আবেদনের শেষ তারিখ১২ অক্টোবর ২০২৬বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।দায়িত্বে নতুন পিএসসি প্রধান, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু ২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগ