স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আচরণ কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। সংসদে ভিন্নমত, তর্ক-বিতর্ক, হইচই থাকবে, কিন্তু অকথ্য গালাগালি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সংসদে নিজের মতামত প্রকাশের পূর্ণ ক্ষমতা আছে একজন সংসদ সদস্যের, আছে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ। একজন সংসদ সদস্য যেহেতু জনপ্রতিনিধি, তাই কথা বলার সময় তাঁদের মাননীয় সংসদ সদস্য বলে সম্বোধন করা হয়। এমনকি স্পিকার পর্যন্ত সেভাবেই কথা বলেন ও সম্বোধন করেন।
সেই সংসদে যখন একজন সংসদ সদস্যকে মত প্রকাশের দায়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালির শিকার হতে হয়, তখন বুঝতে হবে সব ক্ষেত্রেই আমাদের সংস্কৃতির মান নিম্নমুখী। অশ্লীল গালাগালি এখন গৃহ ও রাজপথ থেকে সংসদে পৌঁছে গেছে।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হিংস্র ও অশ্লীল ভাষার প্রচার একদিকে যেমন বাংলা ভাষাকে অসম্মান করছে, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করছে। নোংরা ভাষা রাজনীতিকে নোংরা করে, বিভাজন সৃষ্টি করে এবং মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট করে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ভাষা সন্ত্রাস ও ভাষা ব্যবহারে অশ্লীলতার হাত থেকে মুক্ত হতে চাই।
ভাব, ভালোবাসা, রাগ, অভিমান, ক্ষোভ—সবকিছু প্রকাশের মাধ্যম হচ্ছে ভাষা। ব্যক্তিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে আমরা অনেকেই এখন যে ভাষা ব্যবহার করছি, সেই ভাষার গুণগত মান ক্রমশ নিচের দিকে নামছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক স্লোগান, দলের অভ্যন্তরীণ বক্তৃতা এবং প্রতিপক্ষকে আঘাত হানার জন্য যেভাবে ভাষার ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে ভাষার সৌন্দর্য ও শালীনতা নেই বললেই চলে। সুস্থ সমালোচনার জায়গায় ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসিত ইঙ্গিত এবং গালিগালাজ যেন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
একটা সময় যে শব্দ বা বাক্যকে আমরা সমাজের নিচু মানুষের ব্যবহৃত ভাষা বলে ভাবতাম, তাই এখন শোভা পাচ্ছে আমাদের এক শ্রেণির ছাত্রছাত্রী ও তরুণ নেতাদের মুখে, মিছিলে, দুই পক্ষের কোন্দলে, স্লোগানে, এমনকি রাজনৈতিক আড্ডায়।
কলেজছাত্র সিফাত আবদুল্লাহ তাঁর বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেছেন কিছুদিন আগে, সেই ভিডিওর ভাষা এতটাই অশ্লীল ও অশ্রাব্য ছিল, যা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করাটাই একধরনের অপরাধ বলে মনে হয়।
সিফাত সেখানে এই কদর্য ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে। যে শব্দ প্রয়োগ করে অন্য যে কাউকে গালি দেওয়াটা অপরাধ, সেখানে তিনি এই ভাষা ব্যবহার করেছেন সরকারপ্রধানের উদ্দেশ্যে।
অত্যন্ত অশালীন ও কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচনা করার অধিকার কারও নাই, থাকা উচিতও নয়। এ ঘটনায় পুলিশ সিফাতকে গ্রেফতার করার পর কেউ কেউ বলছেন, প্রতিবাদ করাটা তাঁর অধিকার। পুলিশ কেন তাঁকে আটক করবে? প্রতিবাদ করে সিফাত কোনো অন্যায় করেননি।
অবশ্যই প্রতিবাদ করাটা মানুষের অধিকার। কোনো ইস্যুতে কেউ যদি বিক্ষুব্ধ হন, তিনি বা তাঁরা প্রতিবাদ করতেই পারেন। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা অশ্লীল হতে হবে কেন? প্রকাশ্যে কেউ কারও বিরুদ্ধে এত অশ্লীল মন্তব্য করতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না।
সিফাতের ভিডিও দেখে মনে হলো, ও যেন ইচ্ছা করেই প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের উদ্দেশ্যে বাজে কথা বলছেন। এ ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রতিবাদ, স্লোগান এবং সামাজিক মাধ্যমে অশ্লীল ভাষার ব্যবহার নিয়ে।
এই আলোচনা উঠেছিল গত দুই-আড়াই বছর আগেই, যখন এ দেশের তরুণ-তরুণীদের একটা অংশ বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে স্লোগান রচনা করতে শুরু করে। তারা তাদের দাবি আদায়ের জন্য অসম্ভব নোংরা ও অর্থহীন বাক্য ব্যবহার করতে থাকে। সংগ্রামের ভাষাকে দেওয়া হলো এক অশ্লীল রূপ।
আমরা কি ভুলে গেছি যে গালি এবং সমালোচনা, বিশেষ করে রাজনৈতিক সমালোচনা, এক জিনিস নয়। রাজনৈতিক সমালোচনা করাটা জনগণের অধিকার, কিন্তু গালি দেওয়াটা নয়। এমনকি অন্যান্য ক্ষেত্রেও কারও অধিকার নেই তার অধীনস্থ কাউকে বাজে গালিগালাজ করে অপমান করার। সন্তানকেও গালি দেওয়াটা এখন অপরাধের পর্যায়েই পড়ে।
প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে অশ্লীল গালিগালাজের মাত্রাটা যেন লাগামছাড়া হয়ে গেছে। শুধু বিরক্তি প্রকাশের ক্ষেত্রেই নয়, সব ক্ষেত্রেই। প্রতিবাদ বা অন্যান্য বার্তা প্রচারের জন্য খুব শক্তিশালী একটি মাধ্যম হচ্ছে দেয়াল লিখন ও চিকা মারা। অথচ ৫ আগস্টের পর দেয়াল লিখনগুলোও কেমন যেন বদলে গিয়েছিল।
আন্দোলনের ইস্যুগুলো কাজে লাগিয়ে কেউ যখন অশ্লীল স্লোগান প্রতিবাদের অস্ত্র বানায়, তখন তা আন্দোলনের নৈতিক মানকে খর্ব করে। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে চালু হয়েছে অশালীনতার চর্চা। সবচেয়ে বড় শঙ্কা, এই প্রবণতা কি সমাজে অশ্লীলতাকে স্বাভাবিক করে তুলেছে? যে শব্দগুলো একসময় মানুষ এড়িয়ে চলত, কদর্য বলে মনে করত, সেই শব্দই এখন কিছু শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে গ্রহণীয় হতে চলেছে।
এর আগেও বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম হয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন ছিল খুব বড় একটি আন্দোলন, অথচ সেই সময়ের সৃজনশীল স্লোগানে ছিল দাবি আদায়ের কথা।
আর ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী অন্যান্য আন্দোলনের স্লোগান, পোস্টার, দেয়ালচিত্র ছিল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের হাতিয়ার। বড় বড় কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীরা তখন স্লোগান লিখতেন, পোস্টার আঁকতেন। স্লোগানগুলো শুধু রাজনৈতিক দাবি ছিল না, ছিল মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামী মনোভাবের বার্তা।
এখন কথায়, লেখায় বা যে কোনো ক্ষেত্রে ভাষা প্রয়োগের ভেতর ঢুকেছে অশ্লীলতা। কোনো কারণ ছাড়াই বা তুচ্ছ কারণে অনলাইন ও অফলাইনে মানুষকে বাজে কথা বলা, অশ্লীল ইঙ্গিত করা ও অশ্লীল কাজ করে অপমান করতে একবারও ভাবছি না। এও একধরনের সন্ত্রাস, ভাষা সন্ত্রাস।
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভাষা ও আধেয় ব্যবহারের কোনো নীতি-নৈতিকতা নেই। যে কেউ যে কোনো ধরনের ম্যাটার আপলোড করতে পারেন। শ্লীল-অশ্লীল ভাষা বা ছবি ব্যবহারের ব্যাপারে নেই কোনো বিধিনিষেধ। সামাজিক মাধ্যমের এই যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে কুরুচিপূর্ণ ভাষার বিস্তার বেশি ঘটছে।
কারও কারও মধ্যে এভাবেই সস্তা জনপ্রিয়তা ও ভিউ পাওয়ার মানসিকতা লক্ষ করা যায়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি লাইক, কমেন্ট বা ‘ভিউ’ পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রল, রিল, ভিডিও বা বিনোদনের নামে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করছে।
ফেক আইডি বা ছদ্মনাম ব্যবহার করে চলছে সাইবার বুলিং। যে কেউ অন্যকে আক্রমণাত্মক বা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে পারে এবং করছে। কারণ এতে সরাসরি ধরা পড়ার ভয় থাকে না।
যুবসমাজ যখন ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে বেছে নেয়, শিশুরাও তখন সেইসব ভাষাকেই গ্রহণ করতে শেখে। মতবিরোধ হলে, যুক্তি দিয়ে কথা না বলে, অপর পক্ষকে বাজে ভাষা ব্যবহার করে মানসিকভাবে আঘাত বা অপমান করার ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে।
পত্রপত্রিকার বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নিউজ বা মতামত কলামের নিচে যেসব মন্তব্য করা হয়, তা দেখলে অবাক হতে হয়। বিশ্বাস করা যায় না, কোনো পড়াশোনা জানা মানুষ এত অশ্লীল মন্তব্য করতে পারে। মন্তব্যগুলো নিছক গালাগালি নয়, নারীর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, মা-বোনকে নিয়ে কুৎসিত তুলনা।
শুধু গণমাধ্যমে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নয়, অশ্লীলতার যে ঢেউ সামাজিকমাধ্যম ও মিছিলে ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রায় পুরোটাই নারীদেহকে কেন্দ্র করে ও নারীবিদ্বেষী। এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের মুক্তি কবে, কীভাবে হবে জানি না। তবে জাতিগতভাবে যে আমরা ডুবে যাচ্ছি, তা স্পষ্ট।
যখন সমাজে ভাষা প্রয়োগের অশ্লীলতা, অন্যকে অপমান করার প্রবণতা, জীবনযাপনে বিলাসিতা, দুর্নীতি ও আদর্শের অভাব দেখা দেয়, তখন বুঝতে হবে এটি সমাজের নৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
সমাজে যখন এমন অশ্লীল ভাষার ব্যবহার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তখন নারী নিজ থেকেই পিছিয়ে যেতে শুরু করেন। জুলাই আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রথম সারির নারীরা স্বীকার করেছেন যে, অনলাইন ও অফলাইনে নারীদের লক্ষ্য করে ট্রল, গালাগালি এবং সাইবার বুলিং বেড়েছে। সেই নারী নেতৃত্বের বড় একটি অংশ রাজপথ, সংগঠন, এমনকি জনপরিসর থেকেও অনেকটা সরে গেছেন; কিংবা নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অশ্লীল ভাষা শুধুমাত্র বক্তৃতা বা স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি সমাজে সহিংস মনোভাব ও বিভাজনের কারণও হচ্ছে। রাজনৈতিক সংঘাত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং দলীয় সংঘর্ষ তীব্র হচ্ছে।
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হিংস্র ও অশ্লীল ভাষার প্রচার একদিকে যেমন বাংলা ভাষাকে অসম্মান করছে, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করছে। নোংরা ভাষা রাজনীতিকে নোংরা করে, বিভাজন সৃষ্টি করে এবং মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট করে। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ভাষা সন্ত্রাস ও ভাষা ব্যবহারে অশ্লীলতার হাত থেকে মুক্ত হতে চাই।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
লেখক : যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক।
এইচআর/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অভিনয়, মডেলিং ও সমাজকর্ম- বিভিন্ন পরিচয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। তবে তার শিক্ষাজীবনের গল্পটাও কম আকর্ষণীয় নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তিনি। মজার বিষয় হলো, এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে তখন তেমন কোনো পরিকল্পনাই ছিল না মিথিলার। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয় বেছে নেওয়ার গল্প বলতে গিয়ে এমনই মজার অভিজ্ঞতার কথা জানান অভিনেত্রী। মিথিলা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক দুটিই তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের আর্থিক বাস্তবতার কথাও বিবেচনায় ছিল তার। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছার পেছনে ছোটবেলার একটি স্মৃতিও বড় ভূমিকা রেখেছিল। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে যাওয়া-আসা করতেন মিথিলা। সেই সময় থেকেই জায়গাটির প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল তার মনে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলে কলাভবনেই পড়বেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। মিথিলার ভাষায়, অবচেতন মনে কলাভবনের প্রতি তার এক ধরনের ভালোবাসা ছিল। তাই তিনি ঠিক করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে কলাভবনেই পড়বেন, অন্য কোনো বিভাগে নয়। কিন্তু কলাভবনে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়েন বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী। কারণ এতদিন তার পড়াশোনার জগৎ ছিল গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নকে ঘিরে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শুনতে হচ্ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, নারী ও লৈঙ্গিক অধ্যয়ন, অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ের নাম। কোনটি বেছে নেবেন, সে বিষয়ে তখন তার স্পষ্ট ধারণা ছিল না। মিথিলা বলেন, ‘বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হিসেবে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এসব বিষয় পড়ে আমার অভ্যাস। সেখানে গিয়ে যখন রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, নারী ও লৈঙ্গিক অধ্যয়ন, অর্থনীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ের কথা বলা হচ্ছিল, তখন আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’ এর পেছনে আরেকটি কারণও ছিল। পরিবারে তিনিই ছিলেন প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয় বেছে নেওয়া ভালো হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ কেউ তার পরিবারে ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ভর্তি সাক্ষাৎকারের সময় তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর সেখানেই ঘটে যায় মজার ঘটনা। মিথিলার ভাষায়, ‘সাক্ষাৎকারের সময় আমাকে বলল, তুমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নেবে? আমি বললাম, ঠিক আছে। এর মধ্যে তো বিজ্ঞান আছে। সেভাবে কিছু জেনে-বুঝে আমি আমার বিষয় নির্বাচন করতে পারিনি।’ অর্থাৎ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে কী পড়ানো হয়, সে সম্পর্কে খুব একটা ধারণা না থাকলেও নামের মধ্যে ‘বিজ্ঞান’ শব্দটি থাকায় বিষয়টি বেছে নিয়েছিলেন মিথিলা। সেই আকস্মিক সিদ্ধান্তই পরে তার শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি। এলআইএ
ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটের আকাশসীমায় সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি (বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানটি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনা করছিল। এ সময় সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। ইয়াহিয়া সারির দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। হুথির মুখপাত্র বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা জোরদারের অংশ হিসেবে ওই অভিযান চালাচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের জনগণ ও দেশের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসনের’ জবাবে তাদের বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরব ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা এদিকে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে সৌদি আরব ভ্রমণের বিষয়ে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবের ভ্রমণ সতর্কতা ‘লেভেল ৩—ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। বুধবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানীয় আইনের বিষয়েও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলেও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা বহাল রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/
৩ নভেম্বর ২০১৯। টি–টুয়েন্টি সংস্করণে সর্বশেষ ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ভারতের বিপক্ষে টি–টুয়েন্টিতে যেখানেই খেলেছে বাংলাদেশ, ফল একটাই—পরাজয়।এই সময়ে ভারতের বিপক্ষে টানা ৯ ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এত দিন টি–টুয়েন্টিতে কোনো দলের বিপক্ষে টানা জয়ের তালিকায় এটিই ছিল ভারতের সেরা সাফল্য। ভারতের বিপক্ষে টানা হারের এই শীর্ষস্থান থেকে বাংলাদেশকে অবশেষে মুক্তি দিয়েছে আফগানিস্তান।গতকাল দিল্লিতে তিন ম্যাচ টি–টুয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে আফগানিস্তান। ভারতের বিপক্ষে টি–টুয়েন্টিতে এটি আফগানিস্তানের টানা দশম হার। ২০১৯ সালে ভারত সফরে টি–টুয়েন্টিতে জিতেছিল বাংলাদেশসিরিজে প্রথম ম্যাচে হেরে ভারতের বিপক্ষে টানা হারে বাংলাদেশের সঙ্গে শীর্ষ উঠেছিল আফগানিস্তান। ২০১০ সাল থেকে টি–টুয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি দলটি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য একটি ম্যাচে ড্র করেছিল আফগানিস্তান, যদিও সুপার ওভারে হেরে যায় তারা।বেধড়ক পিটুনিতে ইংল্যান্ড দলে পিটারসেনকে বরণ করলেন ব্রুকতালিকায় তৃতীয় জিম্বাবুয়ে। টি–টুয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ হেরেছে তারা। তবে একটা জায়গায় জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে—ভারতের বিপক্ষে তাদের টি–টুয়েন্টি জয় আছে ৩টি। সর্বশেষটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। এরপর থেকে ভারতের বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ হেরেছে জিম্বাবুয়ে। ২০২৪ সালের আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালেও ভারতকে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। অর্থাৎ, সর্বশেষ ৮ ম্যাচে হারলেও ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের গল্পটা পুরোপুরি একতরফা নয়।ভারতের বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচে হেরেছে আফগানিস্তানভারতের বিপক্ষে টানা হারের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আছে দুবার। ২০১৯–২৫ সময়ে ৯ ম্যাচ, আর তার আগে ২০০৯–১৮ সময়ে টানা ৮ ম্যাচ। যেন ভারতের বিপক্ষে হারের তালিকায় বাংলাদেশ নিয়মিতই ‘অতিথি’!এই তালিকায় আয়ারল্যান্ডও আছে। ভারতের বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ হেরেছিল তারা। তবে গত জুনে সেই গল্পের ইতি টেনেছে আইরিশরা। ভারতকে টানা দুই ম্যাচ হারিয়ে সিরিজও জিতে নিয়েছে। অর্থাৎ তালিকায় নাম থাকলেও সেখান থেকে বের হওয়ার পথ যে আছে, সেটাও দেখিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট