জাতীয়

শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও
শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও

সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পঞ্চম থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে শিক্ষানীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা করার পক্ষে যুক্তি ছিল, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলে শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করার পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পথও প্রশস্ত হতো।

প্রাথমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকলেও শেখার ঘাটতি পূরণে অনেক শিক্ষার্থীকে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাটি বাস্তবে হোঁচট খাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে দেশে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এরপর নানা সরকারের সময় আটটি শিক্ষা কমিশন বা কমিটি গঠিত হয়েছে। এখন বিএনপি সরকার নতুন শিক্ষানীতি করবে নাকি অন্য কিছু করবে, তা স্পষ্ট নয়। যদিও এরই মধ্যে ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক মাত্রায় পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়েও বেশ কিছু পরিমার্জনের পাশাপাশি চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি বই যুক্ত করা হবে।

এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরিফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদ থেকে যে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা। ৬৪ বছর পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; বরং শিক্ষায় বৈষম্যের নানা ধরন যুক্ত হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—প্রতিটি স্তরেই আয়, অবস্থান ও সুযোগের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা। কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, কোথাও গবেষণার সুযোগ সীমিত, কোথাও শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভর। ফলে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারিত হচ্ছে সে কোথায় জন্মেছে, পরিবারের সামর্থ্য কেমন বা কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে—এসবের ওপর।

এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরিফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদ থেকে যে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা। ৬৪ বছর পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; বরং শিক্ষায় বৈষম্যের নানা ধরন যুক্ত হয়েছে।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ওই শিক্ষানীতির প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারান কয়েকজন ছাত্র। এর পর থেকে দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনগুলো।

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট গত জুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। দেখা যায়, অনেক শিশু বাংলা বর্ণ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। ইংরেজি ও গণিতেও রয়েছে দুর্বলতা।

বৈষম্যের শুরু প্রাথমিক স্তর থেকেই

দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের অধিকাংশ শিশুর শিক্ষার প্রধান ভরসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই। কিন্তু শিক্ষকসংকট, শিক্ষার মান ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরকারি এক পরিদর্শন প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট গত জুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। দেখা যায়, অনেক শিশু বাংলা বর্ণ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। ইংরেজি ও গণিতেও রয়েছে দুর্বলতা।

অন্যদিকে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তৈরি হচ্ছে দুই ধরনের বাস্তবতা।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কাগজে-কলমে অবৈতনিক হলেও এ সুবিধা কার্যত সরকারি বিদ্যালয়েই সীমিত। কিন্ডারগার্টেনে টিউশন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক শিশু পড়ে।

এর সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝরে পড়ার হার। বর্তমানে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ১৬ শতাংশের বেশি, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঝরে পড়া কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়াও চলছে।

শিক্ষাবিদদের বড় অংশের মতে, এতে শিক্ষার সমতা প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, বৃত্তির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। একই প্রশ্ন রয়েছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও।

শিক্ষকসংকটে আটকে মানসম্মত শিক্ষা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১: ২৮। তবে এর আড়ালে রয়েছে বড় বৈষম্য। শহরের তুলনায় চর, হাওর, পাহাড় ও দুর্গম এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট বেশি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি এখনো শূন্য। অবশ্য এসব পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ করতে হবে। আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে অগ্রগতি জানানো যাবে।

নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে একসঙ্গে অনেক সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি হলে নতুন সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাঁদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। শিক্ষাবিদদের বড় অংশের মতে, এতে শিক্ষার সমতা প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, বৃত্তির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। একই প্রশ্ন রয়েছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য প্রকট। শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়ে সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে বিস্তর পার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য মানে জাতির ভিত্তি দুর্বল করা। এটি রোধ করা জরুরি।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কাগজে-কলমে অবৈতনিক হলেও এ সুবিধা কার্যত সরকারি বিদ্যালয়েই সীমিত। কিন্ডারগার্টেনে টিউশন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক শিশু পড়ে।

মাধ্যমিকে বৈষম্য আরও বেশি

প্রাথমিকের পর মাধ্যমিকে এসে বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়। এ স্তরের ৭৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে মাত্র ৬ শতাংশ। অর্থাৎ অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে রয়েছে ব্যাপক তারতম্য।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রমতে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শূন্য। প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি পদ খালি। সবচেয়ে বেশি সংকট বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষকসংকট ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব—দুই সংকট মিলেই মাধ্যমিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

পুরান ঢাকার এক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে দুটি গৃহশিক্ষকের পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সচ্ছল পরিবার যেখানে এই ব্যয় বহন করতে পারে, নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে ব্যয়নির্ভর শিক্ষা

এখন মাধ্যমিকে বিদ্যালয়ের পাঠদানই যথেষ্ট নয়। পরীক্ষায় ভালো ফল করতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে কোচিং বা গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ব্যয়নির্ভর একটি সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থা।

পুরান ঢাকার এক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে দুটি গৃহশিক্ষকের পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সচ্ছল পরিবার যেখানে এই ব্যয় বহন করতে পারে, নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি বাদে ওপরের সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। লটারি পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, এতে শিশুদের ওপর চাপ বাড়বে এবং ভর্তি-কোচিংয়ের প্রবণতা নতুন করে বাড়তে পারে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থসহায়তা পায় না। পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের প্রায় পুরোপুরি টিউশন ফির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়।

উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দে ফারাক

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে ব্যয় ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪১ টাকা, অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় মাত্র ৭৮৯ টাকা। দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পড়ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয়। অধিকাংশ কলেজেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও গবেষণার পরিবেশ সীমিত।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থসহায়তা পায় না। পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের প্রায় পুরোপুরি টিউশন ফির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়।

বৈষম্য কমাতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণ, অর্থায়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে অসম অগ্রাধিকারের ফলে আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট দূর করা, প্রাথমিক স্তরে মৌলিক শেখার দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

নতুন সরকার আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৬৪ বছর আগে শিক্ষা আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা—তা শুধু শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ালেই পূরণ হবে না। শিক্ষার্থীর জন্ম কোথায়, পরিবারের আয় কত কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ছে—এসবের বাইরে গিয়ে সমমানের শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে সেই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যাবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি

জাপানের এদো যুগের (১৬০৩-১৮৬৮) সাহিত্য–ইতিহাসে হাইকু কাব্যধারায় সাধারণত পুরুষ কবিরাই আধিপত্য করেছেন। কিন্তু এই পুরুষশাসিত জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হন ফুকুদা চিও-নি (১৭০৩-১৭৭৫)। চিও-নি অর্থ সন্ন্যাসিনী চিও। তিনি কাগা নো চিও নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন অসাধারণ হাইকু কবি, বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী এবং এমন এক স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি নারীর জীবনানুভূতি ও সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন। কেবল অষ্টাদশ শতাব্দীর জাপানেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের পরিমণ্ডলেও তিনি একজন অগ্রগণ্য নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কবিতায় মিশে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিঃশব্দ পর্যবেক্ষণ, জীবন-মৃত্যু-প্রকৃতির চিরায়ত চক্র সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি, বৌদ্ধদর্শনের অস্থায়িত্বের ধারণা এবং একজন নারী হিসেবে সমাজে বসবাসের প্রত্যয় ও ব্যথা। চিও-নির জীবন ও সৃষ্টি কেবল কবিতা নয়; বরং এক অনন্যদার্শনিক ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রারও দলিল।ফুকুদা চিও-নির জীবনটিই যেন একটি হাইকুর মতো—সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থে পরিপূর্ণ। তাঁর জন্ম ১৭০৩ সালে জাপানের কাগা প্রদেশে (বর্তমান ইশিকাওয়া)। তাঁর বাবার নাম ফুকুদা মাতসুকিচি, যিনি ছিলেন পটচিত্র (স্ক্রল) তৈরির কারিগর। শিক্ষা ও শিল্পচর্চার জন্য ছিল একেবারে অনুকূল পরিবেশ। চিত্রকলা ও কাব্যের জগতের সঙ্গে চিও-নির অল্প বয়সেই পরিচয় ঘটে।খুব অল্প বয়সেই চিও-নি হাইকুর প্রতি আকৃষ্ট হন। কৈশোরে তিনি মাতসুও বাশোর কবিতার সংস্পর্শে আসেন এবং পরে বাশোর শিষ্যদের একজন, নাকামুরা রানের কাছে দীক্ষা নেন। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি হাইকু রচনা শুরু করেন আর সতেরো বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর মেধা সারা জাপানে পরিচিতি লাভ করে।চিও-নির ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেদনাদায়ক। ১৭২০ সালের দিকে তিনি কানাজাওয়ার ফুকুওকা পরিবারের এক কর্মচারীকে বিয়ে করেন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি শৈশবেই মারা যায়। এর অল্পকাল পরই ১৭২২ সালে তাঁর স্বামীও রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এই ট্র্যাজেডি তাঁকে ভেঙে দিলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। স্বাধীনচেতা চিও-নি আর বিয়ে না করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যান এবং পারিবারিক ব্যবসায় কাজ করতে থাকেন।বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ফুকুদা চিও-নি ৫২ বছর বয়সে (১৭৫৪ সালে) একটি রূপান্তরমূলক সিদ্ধান্ত নেন : তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যান। তবে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন ‘সংসার ত্যাগ করার জন্য নয়, বরং নিজের হৃদয়কে দিন–রাত প্রবাহিত স্বচ্ছ জলের মতো করে গড়ে তোলার একটি পথ’ হিসেবে। সন্ন্যাসিনী হওয়ার পর তিনি তাঁর মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন এবং ‘সোয়েন’ নাম ধারণ করেন। তারপর তিনি একটি মন্দিরে বসবাস শুরু করেন। তিনি ‘পিওর ল্যান্ড’ নামক একটি বৌদ্ধ ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কবিতা লেখা তিনি কখনোই ছাড়েননি। ১৭৭৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি একটি সরল ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেছিলেন।ফুকুদা চিও-নিফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নির কবিতায় প্রকৃতির উপস্থিতি প্রবল, কিন্তু সেখানে প্রকৃতি কেবল পটভূমি নয়, এটি মানব অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। একটি ফুল, একটি কুয়ার বালতি বা অল্প আলোর মোমবাতি—সবকিছুর মধ্যেই তিনি বৃহত্তর জীবনচক্রের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেতেন। তাঁর কবিতার মূল দর্শন ছিল ‘প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ’। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যখন নিজের অহং (ইগো) ত্যাগ করে প্রকৃতির দিকে তাকায়, তখনই সত্য উদ্‌ঘাটিত হয়। প্রতিটি জীবের প্রতি গভীর মমতা ছিল তাঁর। তিনি মনে করতেন, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এ কারণেই তাঁকে কেবল একজন নারী কবি নন; বরং একজন প্রকৃত ‘হাইকু-সিদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি কবিতাকে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেও পরিণত করেছিলেন।জেন বৌদ্ধধর্মের সন্ন্যাসিনী হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি জীবন ও জগতের ক্ষণস্থায়িত্ব (মুজো) ও চেতনার জাগরণের (সাতোরি) ধারণায় পরিপুষ্ট। তাঁর কবিতায় জীবনের পরিবর্তনশীলতা এবং বস্তুজগতের সচেতন পর্যবেক্ষণ দেখা যায়, যা পুরোপুরি বর্তমান মুহূর্তে থাকা বা মাইন্ডফুলনেসের প্রকাশ। তাঁর কবিতায় কবির নিজের অহংময় উপস্থিতির বদলে বিষয়বস্তুই আপন মহিমায় উদ্ভাসিত।একজন নারী হিসেবে ফুকুদা চিও-নি এমন একটি সমাজে বাস করতেন, যেখানে নারী কবিদের প্রায়ই উপেক্ষা করা হতো। তাঁর কবিতা নারীর দৈনন্দিন জীবন, শ্রম, ক্ষতি এবং অন্তর্নিহিত শক্তির এক স্বতঃস্ফূর্ত ও শক্তিশালী বিবরণ হয়ে উঠেছে। এটি ছিল একধরনের নীরব বিদ্রোহ, যা নারী কণ্ঠের মর্যাদাকে পুনর্নির্ধারণ করেছিল।ফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নি ১ হাজার ৭০০–১ হাজার ৮০০ হাইকু রচনা করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত হাইকু হলো: সকালের ফুলেকুয়োর দড়ি জড়িয়ে গেছে—পড়শির কাছে জল চাই।মর্নিং গ্লোরির লতা–ফুলসহ কুয়োর দড়িতে জড়িয়েছে, কিন্তু কবি ফুল ছিঁড়লেন না। ওটিকে তার মতো থাকতে দিলেন। নিজের প্রয়োজন অন্যভাবে মেটালেন। নিজেকে এই সংযত করাটাই কবির দর্শন। ফুলের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে সংঘাত প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের একটি নিখুঁত চিত্র আঁকছে। এটি ক্ষণস্থায়িত্বের স্বীকৃতি (সকালের ফুলের ক্ষণিক জীবন) এবং আত্মকেন্দ্রিকতার অভাবের (ব্যক্তিগত অসুবিধাকে গুরুত্ব না দেওয়া) প্রকাশ। ফুলের সৌন্দর্য ও অস্তিত্বকে বিঘ্নিত না করে, তিনি সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও সহজ সমাধান বেছে নিলেন। এটি তাঁর অসীম মমতা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।চিও-নি কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের একটি সাংস্কৃতিক বিস্ময়। তাঁর খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে ১৭৬৪ সালে তিনি তাঁর অঞ্চলের শাসক মায়েদা শিগেমিচির পক্ষ থেকে কোরিয়ান প্রতিনিধিদলের জন্য উপহার প্রস্তুত করার দায়িত্ব পান। এই উপহারের অংশ হিসেবে তিনি নিজের ২১টি হাইকুকে ভিত্তি করে ২১টি শিল্পকর্ম তৈরি ও প্রদান করেছিলেন। এটি তাঁর শিল্পীসত্তারই প্রমাণ। ফুকুদা চিও-নির চিত্রকলা ও ক্যালিগ্রাফি তাঁর কবিতার মতোই স্বতন্ত্র ও দার্শনিক গভীরতায় সমৃদ্ধ। জেন বৌদ্ধধর্মের প্রতি তাঁর আকর্ষণ শুধু কবিতায় নয়, দৃশ্যশিল্পেও গভীরভাবে প্রকাশিত।চিও-নির ক্যালিগ্রাফি তাঁর সমসাময়িক পুরুষ শিল্পীদের প্রথাগত, পুরুষালি শৈলী থেকে স্বতন্ত্র ছিল। তাঁর রেখা কোমল, পরিশীলিত ও অধিক মুক্ত। সন্ন্যাস গ্রহণের পর তাঁর পরবর্তী পর্যায়ের ক্যালিগ্রাফি ‘জেন-সদৃশ সরলতা’ অর্জন করে। তাঁর হাইকুগুলোর ক্যালিগ্রাফিক রূপায়ণে তিনি একটি উল্লম্ব রেখায় বা কখনো দু-তিন লাইনে লিখতেন, যেখানে দৃশ্যগত বা স্থানিক প্রভাব অর্থের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।ফুকুদা চিও-নির জন্য চিত্রকলা, ক্যালিগ্রাফি ও কবিতা আলাদা মাধ্যম ছিল না; এগুলো ছিল একটি সমন্বিত আধ্যাত্মিক অভিব্যক্তি। জেনের সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও গভীর উপস্থিতি এর দর্শন তাঁর শিল্পকর্মের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে। এ জন্যই তাঁকে কেবল একজন কবি নয়, তাঁকে ‘পরিপূর্ণতা’র একজন সিদ্ধ শিল্পী হিসেবেও গণ্য করা হয়, যিনি দৃশ্য ও শব্দের মাধ্যমে জীবন ও প্রকৃতির সারসত্তাকে ধারণ করতে পেরেছিলেন।চিও-নির প্রভাব শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের নারী কবিদের জন্য পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নারীর কণ্ঠও হাইকুর মতো কঠোর শাস্ত্রীয় ধারায় মৌলিক ও শক্তিশালী অবদান রাখতে পারে। আজও তিনি জাপানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাইকু কবি হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে নারী কাব্যচর্চায় তাঁর অবস্থান উজ্জ্বল।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।ফুকুদা চিও-নি আজও কেবল জাপানের নন, বিশ্বের সব নারী-পুরুষের জন্য একটি প্রেরণা, যিনি প্রমাণ করে গেছেন যে প্রকৃত শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের গভীরতা ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা। চিও-নির কবিতা আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে কেবল জপ-ধ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের অতি সাধারণ ঘটনার মধ্যে অসাধারণ সত্যকে খুঁজে পাওয়া।ঘরের ভেতর নীরবতা— কে কথা বলছে?ফু কু দা চি ও–নি র এ ক গু চ্ছ হা ই কু১ঘাসের ডগায়এক ফোঁটা শিশির—এই তো আকাশ।২ফুল ছিঁড়িনি।হাত থামিয়েইবসন্ত পেরোল।৩নীরব পথেপাতা ঝরার শব্দ—আমি হাঁটছি না।৪চাঁদের আলোয়নিজের ছায়া হারিয়েঘরে ফিরি।৫শিশির পড়ল—নাম বলার আগেইফুল ঝরে।৬জল তুলতে গিয়েফুলে আটকাল দড়ি—পাশের ঘরে যাই।৭ফড়িং উড়ে যায়।আমি দাঁড়িয়ে থাকি—আকাশ পূর্ণ।৮মন্দিরের ঘণ্টা—শব্দ থেমে গেলেশব্দ থাকে।৯পাতলা চাঁদ।কিছু বলার আগেইরাত শেষ।১০বৃষ্টি শেষেমাটির গন্ধেপুরোনো প্রার্থনা।১১শূন্য হাতেফুলের কাছে যাই—ফুল থাকে।১২শীতল বাতাস।দরজার ফাঁকেঅদৃশ্য অতিথি।১৩পাথরের ওপরছায়া বসে থাকে—সময় নয়।১৪পুকুরে চাঁদ—ধরতে গিয়েহাত ভেজে।১৫প্রার্থনার শেষেধূপ নিভে গেলেঘর জাগে।১৬একাকী পথ।পায়ের শব্দেইআমি নেই।১৭ভোরের আলো—মুছতে গিয়েঅন্ধকার থাকে।১৮পাতা ঝরে।কোনো বিদায়লিখে যায় না।১৯নুনের বেশেচুলে বাতাস—নাম ঝরে।২০সব ছুটে গেলেএকটা পাথর—আমার মতো।২১ভোরের আগেঘরের কোণেআলো বসে।২২পাতার ফাঁকেএকটুকরো আকাশ—এটাই পথ।২৩হাঁটতে হাঁটতেহঠাৎ থেমে যাই—পাখি ওড়ে।২৪নদীর ধারেনাম ভুলেজল দেখি।২৫ম্লান আলোয়প্রদীপ নয়—অপেক্ষা জ্বলে।২৬বালির ওপরঢেউয়ের লেখা—কে পড়বে?২৭ঝরা ফুল।তোলার আগেইহাত নামে।২৮কাঠের সিঁড়িরাতে কাঁপে—চাঁদ উঠেছে।২৯মন্দির উঠোনেকোনো প্রার্থনা নেই—তবু বসে থাকি।৩০মেঘ সরে গেলেপাহাড় নয়—নিশ্বাস দেখা যায়।৩১পাখির ডাক।এরপরের নীরবতায়আমি শুনি।৩২শীতের শেষেখালি কলস—জল ভরে।৩৩রান্নাঘরেআগুন নিভে গেলেরাত জ্বলে।৩৪পাতলা কুয়াশা—নিজের হাতওঅত দূরে।৩৫পথের ধারেবসন্ত বসে—কোথাও যায় না।৩৬ধূপের ধোঁয়াছাদের কাছেনাম ভোলে।৩৭পুকুরপাড়েকথা না বলেইদিন শেষ।৩৮ভিজে পা।বৃষ্টি নয়—আমি আছি।৩৯ফাঁকা ঘরেঘড়ির শব্দ—সময় নয়।৪০সব কথা শেষেএকটুখানি নীরবতা—এটাই উত্তর।৪১চাঁদ দেখছিলাম।হঠাৎ মনে হলো—কে দেখছে?৪২ঘণ্টা বাজল।শব্দ থামল—কে শুনছে?৪৩পুকুরে চাঁদ।চাঁদ নড়ল না—জল কেন কাঁপে?৪৪নাম ডাকি।কেউ ফেরে না—ডাকটা কোথায় যায়?৪৫দরজা খুলেবাতাস ঢোকে—কেউ কি এসেছে?৪৬ফুল ঝরে।আমি দেখি—দেখাটুকু কার?৪৭পা থামালাম।পথ চলতে থাকে—কে যাচ্ছে?৪৮ঘুম ভাঙল।স্বপ্ন গেল—যে জেগেছে, সে কে?৪৯ছায়া পড়েছে।আলো সরে গেলেছায়া কার?৫০ঘরের ভেতরনীরবতা—কে কথা বলছে?

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবের, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আসবে। ট্রাম্পের অনুরোধে এই প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’। রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইনএ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এর অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক—চীন ও ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোড়জোড়ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প, কারণ কী

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

ফুটে আছে ঝিঙে ফুল। কুমড়া টিলা, রাঙামাটি, ১৭ সেপ্টেম্বরবৃষ্টিভেজা জমিতে ঘাস খাচ্ছে মহিষ, পোকামাকড়ের আশায় পাশে সতর্ক বক। চৌধুরীবাজার, রাজনগর, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর চরাঞ্চলে বপনের জন্য দেশি মরিচ কেটে বীজ সংগ্রহ করছেন নারীরা। ধলিরকান্দি বাঁধ এলাকা, সারিয়াকান্দি, বগুড়া, ১৭ সেপ্টেম্বরগাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে ডুমুর। আসামবস্তি, রাঙামাটি, ১৭ সেপ্টেম্বরশূন্যে দুই শালিকের লড়াই বিদ্যুতের তারে বসে দেখছে অন্য আছে শালিকেরা। রাজনগর, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বরজবা ফুলের দিকে ছুটে যাচ্ছে প্রজাপতি। কোটবাড়ী, সালমানপুর, কুমিল্লাতালগাছের শুকনা ডালে বসে আছে জোড়া মুনিয়া। কেওয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরমেঘলা আকাশ, বৃষ্টির শঙ্কা; তবু দলবেঁধে কাজে ছুটছেন নির্মাণশ্রমিকেরা। শালবন, রংপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরপুনর্ব্যবহারের জন্য খুলনা থেকে বগুড়ায় নেওয়া পুরোনো বস্তা। স্টেশন সড়ক, খুলনা, ১৭ সেপ্টেম্বরছোট ছোট মূলাসহ শাক তুলে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছেন এই ব্যক্তি। কামালকাছনা, রংপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরশিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

0 Comments