জাতীয়

পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর
পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর

হিজরি ১৩ সনের জমাদিউস সানি মাস। মাত্র দুই বছর তিন মাসের শাসনামলে আরবের বুক থেকে গৃহযুদ্ধ ও ধর্মত্যাগের উত্তাল ঝড় থামিয়ে সবেমাত্র এক স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন।

বুঝতে পারলেন, তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাঁর অবর্তমানে এই নবীন রাষ্ট্রের কাণ্ডারি কে হবেন? আরবের চিরাচরিত গোত্রপ্রীতি আর রাজনৈতিক অনৈক্যের যে আগুন তিনি এত দিন কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, নেতৃত্বের শূন্যতায় তা কি পুনরায় জ্বলে উঠবে?

তিনি পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে। কিন্তু কেন ওমর? মদিনায় যখন আরও বহু প্রবীণ, সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও কোমল হৃদয়ের সাহাবি উপস্থিত ছিলেন, তখন কেন তিনি ওমরের মতো এক তীব্র ব্যক্তিত্বের ওপর রাষ্ট্রের ভার তুলে দিলেন?

এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।

যোগ্যতার অগ্রাধিকার

রাজনৈতিক ক্ষমতার ইতিহাসে উত্তরাধিকার নির্বাচন মানেই সাধারণত নিজের রক্ত, পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে মসনদে বসানো। অথচ আবু বকরের এই মনোনয়নে স্বজনপ্রীতির ছায়া ছিল না।

আবু বকর নিজে ছিলেন কোরাইশের বনু তাইম গোত্রের মানুষ; অন্যদিকে ওমরের শেকড় ছিল বনু আদি গোত্রে। তাঁদের মধ্যে এমন কোনো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না যার ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর স্বাভাবিক মনে হতে পারে।

এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।

ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষকগণ বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে পরবর্তীকালের রাজতান্ত্রিক ‘যুবরাজ প্রথা’ বা উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে আবু বকরের সিদ্ধান্তের কোনো দূরতম সম্পর্কও ছিল না; বরং এটি ছিল সংকটকালে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সবচেয়ে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিটিকে বাছাই করার এক রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। (মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আর-রায়িস, আন-নাজারিইয়াতুস সিয়াসিয়্যাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১২, দারুত তুরাস, কায়রো, ১৯৭৬)।

কঠোরতার আবরণে সুবিচারের নিশ্চয়তা

ওমরের ব্যক্তিত্বের যে দিকটি নিয়ে বেশি সংশয় ছিল, তা হলো তাঁর কঠোর মেজাজ। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ওমরের এই কঠোরতা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজাদের জন্য ভারী হয়ে উঠবে। কিন্তু আবু বকর (রা.) ভালোভাবেই জানতেন, ওমরের এই তেজ কোনো ব্যক্তিগত অহমিকা নয়; এটি হলো ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকার শক্তি।

রাসুল (সা.) মক্কার চরম সংকটে ওমরের এই তেজস্বী ব্যক্তিত্বের জন্যই দোয়া করেছিলেন, “হে আল্লাহ, আবু জাহেল কিংবা ওমর ইবনুল খাত্তাব—এই দুজনের মধ্যে যে আপনার কাছে অধিক প্রিয়, তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৮১)

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন, “ওমর যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, সেদিন থেকেই আমরা সবসময় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৮৪)

আবু বকর নিশ্চিত ছিলেন, যুদ্ধকবলিত এই সংকটময় মুহূর্তে পারস্য ও রোমের মতো আগ্রাসী শক্তিগুলোর মোকাবিলা করতে হলে ওমরের চেয়ে দৃঢ়চেতা ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না।

পরীক্ষিত প্রজ্ঞা

ওমর (রা.) ছিলেন বিরল প্রজ্ঞা ও গভীর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী এক রাষ্ট্রনায়ক। মদিনার দশ বছরের জীবনে এমন বহু জাতীয় ও সামাজিক সংকট এসেছিল, যেখানে ওমর যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে নাজিল হওয়া কোরআনের আয়াত তাঁর অভিমতকে সমর্থন করেছিল।

তিনি বলতেন, “আমার প্রতিপালকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার মতামত তিনটি বিষয়ে হহুহু মিলে গিয়েছিল: মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান নির্ধারণ করা, পর্দার বিধান এবং রাসুলের স্ত্রীদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০২)

রাসুল (সা.) নিজেও সাহাবিদের জানিয়ে গিয়েছিলেন “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে এমন কিছু প্রজ্ঞাবান মানুষ ছিলেন, যাঁদের অন্তরে সত্যের অনুপ্রেরণা আসত; আমার এই উম্মতের মধ্যে যদি তেমন কেউ থেকে থাকে, তবে সে নিশ্চিতভাবেই ওমর ইবনুল খাত্তাব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৮৯)

সহচর ও সমালোচক

আবু বকরের পুরো শাসনকালজুড়ে ওমর ছিলেন তাঁর প্রধানতম রাজনৈতিক পরামর্শক।ওমর ছিলেন এমন এক সাহসী সহযোদ্ধা, যিনি জনস্বার্থে খলিফার সামনে দাঁড়িয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পিছপা হতেন না।

স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যখন আবু বকর (রা.) কঠোর সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ওমর শুরুতে এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু আবু বকর যখন ধর্মের অবিভাজ্যতার অকাট্য যুক্তি তুলে ধরলেন, তখন ওমর (রা.) কোনো জেদ না দেখিয়ে মুহূর্তেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আল্লাহর কসম, আমি যখন দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে এই সিদ্ধান্তের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তখনই বুঝলাম এটিই একমাত্র সত্য।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪০০)

আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে নেতা বানিয়ে নিতে। কিন্তু সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় খলিফার প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন।

নিবিড় পরামর্শের ফসল

আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে নেতা বানিয়ে নিতে। কিন্তু সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় খলিফার প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন। (আলি ইবনুল হাসান ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩০/৪১২, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)

জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও তিনি মদিনার শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও গ্রহণযোগ্য সাহাবিদের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ পরামর্শ করেন। প্রথমে শীর্ষ সাহাবি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-কে ডেকে ওমরের ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আপনি তাঁর সম্পর্কে যতটা উচ্চ ধারণা পোষণ করেন, তিনি বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি যোগ্য; তবে তাঁর মেজাজে কিছুটা কঠোরতা রয়েছে।’

আবু বকর তখন অত্যন্ত দূরদর্শী এক জবাব দেন; তিনি বলেন, ‘ওমর মূলত আমাকে নরম মনের মানুষ দেখে নিজে কঠোর ভূমিকা পালন করে; কিন্তু যখন নেতৃত্বের সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁর নিজের কাঁধে এসে পড়বে, তখন সে নিজেই অনেক নমনীয় ও ধৈর্যশীল হয়ে যাবে।’

এরপর সাহাবি ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর মতামত জানতে চান। তিনিনির্দ্বিধায় সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, “হে খলিফা, ওমরের বাইরের চেয়ে তাঁর ভেতরের রূপ আরও শতগুণ সুন্দর ও পবিত্র; আর সত্য কথা হলো, আমাদের মাঝে তাঁর সমকক্ষ কোনো দ্বিতীয় মানুষ নেই।” (মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/১৯৯, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

আনসার ও মুহাজিরদের শীর্ষ প্রতিনিধিদের এই ঐক্যবদ্ধ আস্থার পরই আবু বকর চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করেন। আলি তানতাবি যথার্থই লিখেছেন, “ওমরের এই মনোনয়ন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ফরমান ছিল না; বরং তা পরিচালিত হয়েছিল শুরার সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে।” (আত-তানতাবি, আবু বকর আস-সিদ্দিক, পৃষ্ঠা: ২৫০, দারুল মানারা, জেদ্দা, ১৯৮৬)

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি

জাপানের এদো যুগের (১৬০৩-১৮৬৮) সাহিত্য–ইতিহাসে হাইকু কাব্যধারায় সাধারণত পুরুষ কবিরাই আধিপত্য করেছেন। কিন্তু এই পুরুষশাসিত জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হন ফুকুদা চিও-নি (১৭০৩-১৭৭৫)। চিও-নি অর্থ সন্ন্যাসিনী চিও। তিনি কাগা নো চিও নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন অসাধারণ হাইকু কবি, বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী এবং এমন এক স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি নারীর জীবনানুভূতি ও সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন। কেবল অষ্টাদশ শতাব্দীর জাপানেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের পরিমণ্ডলেও তিনি একজন অগ্রগণ্য নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কবিতায় মিশে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিঃশব্দ পর্যবেক্ষণ, জীবন-মৃত্যু-প্রকৃতির চিরায়ত চক্র সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি, বৌদ্ধদর্শনের অস্থায়িত্বের ধারণা এবং একজন নারী হিসেবে সমাজে বসবাসের প্রত্যয় ও ব্যথা। চিও-নির জীবন ও সৃষ্টি কেবল কবিতা নয়; বরং এক অনন্যদার্শনিক ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রারও দলিল।ফুকুদা চিও-নির জীবনটিই যেন একটি হাইকুর মতো—সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থে পরিপূর্ণ। তাঁর জন্ম ১৭০৩ সালে জাপানের কাগা প্রদেশে (বর্তমান ইশিকাওয়া)। তাঁর বাবার নাম ফুকুদা মাতসুকিচি, যিনি ছিলেন পটচিত্র (স্ক্রল) তৈরির কারিগর। শিক্ষা ও শিল্পচর্চার জন্য ছিল একেবারে অনুকূল পরিবেশ। চিত্রকলা ও কাব্যের জগতের সঙ্গে চিও-নির অল্প বয়সেই পরিচয় ঘটে।খুব অল্প বয়সেই চিও-নি হাইকুর প্রতি আকৃষ্ট হন। কৈশোরে তিনি মাতসুও বাশোর কবিতার সংস্পর্শে আসেন এবং পরে বাশোর শিষ্যদের একজন, নাকামুরা রানের কাছে দীক্ষা নেন। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি হাইকু রচনা শুরু করেন আর সতেরো বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর মেধা সারা জাপানে পরিচিতি লাভ করে।চিও-নির ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেদনাদায়ক। ১৭২০ সালের দিকে তিনি কানাজাওয়ার ফুকুওকা পরিবারের এক কর্মচারীকে বিয়ে করেন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি শৈশবেই মারা যায়। এর অল্পকাল পরই ১৭২২ সালে তাঁর স্বামীও রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এই ট্র্যাজেডি তাঁকে ভেঙে দিলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। স্বাধীনচেতা চিও-নি আর বিয়ে না করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যান এবং পারিবারিক ব্যবসায় কাজ করতে থাকেন।বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ফুকুদা চিও-নি ৫২ বছর বয়সে (১৭৫৪ সালে) একটি রূপান্তরমূলক সিদ্ধান্ত নেন : তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যান। তবে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন ‘সংসার ত্যাগ করার জন্য নয়, বরং নিজের হৃদয়কে দিন–রাত প্রবাহিত স্বচ্ছ জলের মতো করে গড়ে তোলার একটি পথ’ হিসেবে। সন্ন্যাসিনী হওয়ার পর তিনি তাঁর মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন এবং ‘সোয়েন’ নাম ধারণ করেন। তারপর তিনি একটি মন্দিরে বসবাস শুরু করেন। তিনি ‘পিওর ল্যান্ড’ নামক একটি বৌদ্ধ ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কবিতা লেখা তিনি কখনোই ছাড়েননি। ১৭৭৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি একটি সরল ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেছিলেন।ফুকুদা চিও-নিফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নির কবিতায় প্রকৃতির উপস্থিতি প্রবল, কিন্তু সেখানে প্রকৃতি কেবল পটভূমি নয়, এটি মানব অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। একটি ফুল, একটি কুয়ার বালতি বা অল্প আলোর মোমবাতি—সবকিছুর মধ্যেই তিনি বৃহত্তর জীবনচক্রের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেতেন। তাঁর কবিতার মূল দর্শন ছিল ‘প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ’। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যখন নিজের অহং (ইগো) ত্যাগ করে প্রকৃতির দিকে তাকায়, তখনই সত্য উদ্‌ঘাটিত হয়। প্রতিটি জীবের প্রতি গভীর মমতা ছিল তাঁর। তিনি মনে করতেন, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এ কারণেই তাঁকে কেবল একজন নারী কবি নন; বরং একজন প্রকৃত ‘হাইকু-সিদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি কবিতাকে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেও পরিণত করেছিলেন।জেন বৌদ্ধধর্মের সন্ন্যাসিনী হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি জীবন ও জগতের ক্ষণস্থায়িত্ব (মুজো) ও চেতনার জাগরণের (সাতোরি) ধারণায় পরিপুষ্ট। তাঁর কবিতায় জীবনের পরিবর্তনশীলতা এবং বস্তুজগতের সচেতন পর্যবেক্ষণ দেখা যায়, যা পুরোপুরি বর্তমান মুহূর্তে থাকা বা মাইন্ডফুলনেসের প্রকাশ। তাঁর কবিতায় কবির নিজের অহংময় উপস্থিতির বদলে বিষয়বস্তুই আপন মহিমায় উদ্ভাসিত।একজন নারী হিসেবে ফুকুদা চিও-নি এমন একটি সমাজে বাস করতেন, যেখানে নারী কবিদের প্রায়ই উপেক্ষা করা হতো। তাঁর কবিতা নারীর দৈনন্দিন জীবন, শ্রম, ক্ষতি এবং অন্তর্নিহিত শক্তির এক স্বতঃস্ফূর্ত ও শক্তিশালী বিবরণ হয়ে উঠেছে। এটি ছিল একধরনের নীরব বিদ্রোহ, যা নারী কণ্ঠের মর্যাদাকে পুনর্নির্ধারণ করেছিল।ফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নি ১ হাজার ৭০০–১ হাজার ৮০০ হাইকু রচনা করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত হাইকু হলো: সকালের ফুলেকুয়োর দড়ি জড়িয়ে গেছে—পড়শির কাছে জল চাই।মর্নিং গ্লোরির লতা–ফুলসহ কুয়োর দড়িতে জড়িয়েছে, কিন্তু কবি ফুল ছিঁড়লেন না। ওটিকে তার মতো থাকতে দিলেন। নিজের প্রয়োজন অন্যভাবে মেটালেন। নিজেকে এই সংযত করাটাই কবির দর্শন। ফুলের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে সংঘাত প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের একটি নিখুঁত চিত্র আঁকছে। এটি ক্ষণস্থায়িত্বের স্বীকৃতি (সকালের ফুলের ক্ষণিক জীবন) এবং আত্মকেন্দ্রিকতার অভাবের (ব্যক্তিগত অসুবিধাকে গুরুত্ব না দেওয়া) প্রকাশ। ফুলের সৌন্দর্য ও অস্তিত্বকে বিঘ্নিত না করে, তিনি সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও সহজ সমাধান বেছে নিলেন। এটি তাঁর অসীম মমতা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।চিও-নি কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের একটি সাংস্কৃতিক বিস্ময়। তাঁর খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে ১৭৬৪ সালে তিনি তাঁর অঞ্চলের শাসক মায়েদা শিগেমিচির পক্ষ থেকে কোরিয়ান প্রতিনিধিদলের জন্য উপহার প্রস্তুত করার দায়িত্ব পান। এই উপহারের অংশ হিসেবে তিনি নিজের ২১টি হাইকুকে ভিত্তি করে ২১টি শিল্পকর্ম তৈরি ও প্রদান করেছিলেন। এটি তাঁর শিল্পীসত্তারই প্রমাণ। ফুকুদা চিও-নির চিত্রকলা ও ক্যালিগ্রাফি তাঁর কবিতার মতোই স্বতন্ত্র ও দার্শনিক গভীরতায় সমৃদ্ধ। জেন বৌদ্ধধর্মের প্রতি তাঁর আকর্ষণ শুধু কবিতায় নয়, দৃশ্যশিল্পেও গভীরভাবে প্রকাশিত।চিও-নির ক্যালিগ্রাফি তাঁর সমসাময়িক পুরুষ শিল্পীদের প্রথাগত, পুরুষালি শৈলী থেকে স্বতন্ত্র ছিল। তাঁর রেখা কোমল, পরিশীলিত ও অধিক মুক্ত। সন্ন্যাস গ্রহণের পর তাঁর পরবর্তী পর্যায়ের ক্যালিগ্রাফি ‘জেন-সদৃশ সরলতা’ অর্জন করে। তাঁর হাইকুগুলোর ক্যালিগ্রাফিক রূপায়ণে তিনি একটি উল্লম্ব রেখায় বা কখনো দু-তিন লাইনে লিখতেন, যেখানে দৃশ্যগত বা স্থানিক প্রভাব অর্থের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।ফুকুদা চিও-নির জন্য চিত্রকলা, ক্যালিগ্রাফি ও কবিতা আলাদা মাধ্যম ছিল না; এগুলো ছিল একটি সমন্বিত আধ্যাত্মিক অভিব্যক্তি। জেনের সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও গভীর উপস্থিতি এর দর্শন তাঁর শিল্পকর্মের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে। এ জন্যই তাঁকে কেবল একজন কবি নয়, তাঁকে ‘পরিপূর্ণতা’র একজন সিদ্ধ শিল্পী হিসেবেও গণ্য করা হয়, যিনি দৃশ্য ও শব্দের মাধ্যমে জীবন ও প্রকৃতির সারসত্তাকে ধারণ করতে পেরেছিলেন।চিও-নির প্রভাব শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের নারী কবিদের জন্য পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নারীর কণ্ঠও হাইকুর মতো কঠোর শাস্ত্রীয় ধারায় মৌলিক ও শক্তিশালী অবদান রাখতে পারে। আজও তিনি জাপানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাইকু কবি হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে নারী কাব্যচর্চায় তাঁর অবস্থান উজ্জ্বল।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।ফুকুদা চিও-নি আজও কেবল জাপানের নন, বিশ্বের সব নারী-পুরুষের জন্য একটি প্রেরণা, যিনি প্রমাণ করে গেছেন যে প্রকৃত শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের গভীরতা ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা। চিও-নির কবিতা আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে কেবল জপ-ধ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের অতি সাধারণ ঘটনার মধ্যে অসাধারণ সত্যকে খুঁজে পাওয়া।ঘরের ভেতর নীরবতা— কে কথা বলছে?ফু কু দা চি ও–নি র এ ক গু চ্ছ হা ই কু১ঘাসের ডগায়এক ফোঁটা শিশির—এই তো আকাশ।২ফুল ছিঁড়িনি।হাত থামিয়েইবসন্ত পেরোল।৩নীরব পথেপাতা ঝরার শব্দ—আমি হাঁটছি না।৪চাঁদের আলোয়নিজের ছায়া হারিয়েঘরে ফিরি।৫শিশির পড়ল—নাম বলার আগেইফুল ঝরে।৬জল তুলতে গিয়েফুলে আটকাল দড়ি—পাশের ঘরে যাই।৭ফড়িং উড়ে যায়।আমি দাঁড়িয়ে থাকি—আকাশ পূর্ণ।৮মন্দিরের ঘণ্টা—শব্দ থেমে গেলেশব্দ থাকে।৯পাতলা চাঁদ।কিছু বলার আগেইরাত শেষ।১০বৃষ্টি শেষেমাটির গন্ধেপুরোনো প্রার্থনা।১১শূন্য হাতেফুলের কাছে যাই—ফুল থাকে।১২শীতল বাতাস।দরজার ফাঁকেঅদৃশ্য অতিথি।১৩পাথরের ওপরছায়া বসে থাকে—সময় নয়।১৪পুকুরে চাঁদ—ধরতে গিয়েহাত ভেজে।১৫প্রার্থনার শেষেধূপ নিভে গেলেঘর জাগে।১৬একাকী পথ।পায়ের শব্দেইআমি নেই।১৭ভোরের আলো—মুছতে গিয়েঅন্ধকার থাকে।১৮পাতা ঝরে।কোনো বিদায়লিখে যায় না।১৯নুনের বেশেচুলে বাতাস—নাম ঝরে।২০সব ছুটে গেলেএকটা পাথর—আমার মতো।২১ভোরের আগেঘরের কোণেআলো বসে।২২পাতার ফাঁকেএকটুকরো আকাশ—এটাই পথ।২৩হাঁটতে হাঁটতেহঠাৎ থেমে যাই—পাখি ওড়ে।২৪নদীর ধারেনাম ভুলেজল দেখি।২৫ম্লান আলোয়প্রদীপ নয়—অপেক্ষা জ্বলে।২৬বালির ওপরঢেউয়ের লেখা—কে পড়বে?২৭ঝরা ফুল।তোলার আগেইহাত নামে।২৮কাঠের সিঁড়িরাতে কাঁপে—চাঁদ উঠেছে।২৯মন্দির উঠোনেকোনো প্রার্থনা নেই—তবু বসে থাকি।৩০মেঘ সরে গেলেপাহাড় নয়—নিশ্বাস দেখা যায়।৩১পাখির ডাক।এরপরের নীরবতায়আমি শুনি।৩২শীতের শেষেখালি কলস—জল ভরে।৩৩রান্নাঘরেআগুন নিভে গেলেরাত জ্বলে।৩৪পাতলা কুয়াশা—নিজের হাতওঅত দূরে।৩৫পথের ধারেবসন্ত বসে—কোথাও যায় না।৩৬ধূপের ধোঁয়াছাদের কাছেনাম ভোলে।৩৭পুকুরপাড়েকথা না বলেইদিন শেষ।৩৮ভিজে পা।বৃষ্টি নয়—আমি আছি।৩৯ফাঁকা ঘরেঘড়ির শব্দ—সময় নয়।৪০সব কথা শেষেএকটুখানি নীরবতা—এটাই উত্তর।৪১চাঁদ দেখছিলাম।হঠাৎ মনে হলো—কে দেখছে?৪২ঘণ্টা বাজল।শব্দ থামল—কে শুনছে?৪৩পুকুরে চাঁদ।চাঁদ নড়ল না—জল কেন কাঁপে?৪৪নাম ডাকি।কেউ ফেরে না—ডাকটা কোথায় যায়?৪৫দরজা খুলেবাতাস ঢোকে—কেউ কি এসেছে?৪৬ফুল ঝরে।আমি দেখি—দেখাটুকু কার?৪৭পা থামালাম।পথ চলতে থাকে—কে যাচ্ছে?৪৮ঘুম ভাঙল।স্বপ্ন গেল—যে জেগেছে, সে কে?৪৯ছায়া পড়েছে।আলো সরে গেলেছায়া কার?৫০ঘরের ভেতরনীরবতা—কে কথা বলছে?

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল পাস: ট্রাম্প সই করলেই ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প বিলটিতে সই করবেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল হওয়া ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৬২ ও বিপক্ষে ১৫৯ ভোট পড়ে।এ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবের, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আসবে। ট্রাম্পের অনুরোধে এই প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।৬১ পৃষ্ঠার এ বিল গত মাসে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নাম রাখা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। গত জুলাইয়ে আকস্মিক মৃত্যুর আগে গ্রাহাম এ উদ্যোগের জোরালো সমর্থক ছিলেন।বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে চীন ও ভারতও থাকতে পারে।এ বিলের লক্ষ্য হলো, রাশিয়ার রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ করতে চায়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়, যা এখনো চলছে।গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।নির্দলীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, ‘এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা তৃতীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা।’যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেবে এবং যাদের আমদানি রাশিয়ার বার্ষিক প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম, বিলটিতে তাদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় সিএসআইএস।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিল বলেছে, যদি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে বিলটি ‘ট্রাম্প প্রশাসনকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে। এই পদক্ষেপের ভিত্তি হলো, শুল্ক আরোপ করলে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি কমাতে বাধ্য হবে’। রাশিয়ার একটি তেলের পাইপলাইনএ পদক্ষেপের অধীন রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির ধনকুবেররা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও থাকবে।ট্রাম্পের অনুরোধে এ প্যাকেজে ইরানের অস্ত্র ও জ্বালানি খাতে অর্থের জোগান কমানোর লক্ষ্যে তাঁর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে।প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলটির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এটির অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট সদস্য বিলের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এটি ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে এবং তিনি এর অপব্যবহার করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আপত্তি বিলটি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান—লুইজিয়ানা) গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময়ই রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলটির পক্ষে ছিলাম। তবে এ নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্য তৈরি করতে হয়েছে এবং আমার মনে হয়, এখন সেই ঐকমত্য আমাদের আছে।’রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক—চীন ও ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোড়জোড়ইউক্রেনকে সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন র‍্যাজম ফর ইউক্রেনের ড্যানিয়েল বালসন বিলটি পাস হওয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।এক বিবৃতিতে বালসন বলেন, ‘এমন এক সময় বিলটি পাস হলো, যখন রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্ণমাত্রায় সেনা মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছেন এবং ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ জোরদার করছেন। এ বিল একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, পুতিন যত দিন ইউক্রেনের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়ে যাবেন, তত দিন কংগ্রেসও তাঁর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প, কারণ কী

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

সার পাচারের অভিযোগ, ডিলার বলছেন ‘সাজানো নাটক’

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
একঝলক (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

ফুটে আছে ঝিঙে ফুল। কুমড়া টিলা, রাঙামাটি, ১৭ সেপ্টেম্বরবৃষ্টিভেজা জমিতে ঘাস খাচ্ছে মহিষ, পোকামাকড়ের আশায় পাশে সতর্ক বক। চৌধুরীবাজার, রাজনগর, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর চরাঞ্চলে বপনের জন্য দেশি মরিচ কেটে বীজ সংগ্রহ করছেন নারীরা। ধলিরকান্দি বাঁধ এলাকা, সারিয়াকান্দি, বগুড়া, ১৭ সেপ্টেম্বরগাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে ডুমুর। আসামবস্তি, রাঙামাটি, ১৭ সেপ্টেম্বরশূন্যে দুই শালিকের লড়াই বিদ্যুতের তারে বসে দেখছে অন্য আছে শালিকেরা। রাজনগর, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বরজবা ফুলের দিকে ছুটে যাচ্ছে প্রজাপতি। কোটবাড়ী, সালমানপুর, কুমিল্লাতালগাছের শুকনা ডালে বসে আছে জোড়া মুনিয়া। কেওয়া, শ্রীপুর, গাজীপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরমেঘলা আকাশ, বৃষ্টির শঙ্কা; তবু দলবেঁধে কাজে ছুটছেন নির্মাণশ্রমিকেরা। শালবন, রংপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরপুনর্ব্যবহারের জন্য খুলনা থেকে বগুড়ায় নেওয়া পুরোনো বস্তা। স্টেশন সড়ক, খুলনা, ১৭ সেপ্টেম্বরছোট ছোট মূলাসহ শাক তুলে বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছেন এই ব্যক্তি। কামালকাছনা, রংপুর, ১৭ সেপ্টেম্বরশিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন, মৌলভীবাজার, ১৭ সেপ্টেম্বর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

স্থিতিশীল রয়েছে কম্পিউটার পণ্যের দাম

0 Comments