জাতীয়

সাংবাদিকের বাসায় গুলি, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ‌‘ভইরা দে’ গ্রুপের আতিক

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সাংবাদিকের বাসায় গুলি, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ‌‘ভইরা দে’ গ্রুপের আতিক
সাংবাদিকের বাসায় গুলি, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ‌‘ভইরা দে’ গ্রুপের আতিক

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাংবাদিকের বাসায় গুলির ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪ (এসআরবি-৪)। গ্রেফতার ব্যক্তি হলেন ‘ভইরা দে’ গ্রুপের আতিক।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব-৪ (এসআরবি-৪) এর মিডিয়া অফিসার নুরাঙ্গীর নাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে বাহিনীটির পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৯৯, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

এসআরবি-৪ জানায়, পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ‘ভইরা দে’ গ্রুপের আতিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৯ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

কেআর/এমআরএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
স্টিলের বোতলের দুর্গন্ধ দূর করতে যেভাবে পরিষ্কার করবেন
স্টিলের বোতলের দুর্গন্ধ দূর করতে যেভাবে পরিষ্কার করবেন

স্কুল, কলেজ, অফিস কিংবা ঘুরতে যাওয়ার সময় স্টিলের পানির বোতল এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। গরম পানি থেকে শুরু করে চা-কফি কিংবা ঠান্ডা পানিসহ নানা ধরনের পানীয় রাখা যায় । ফলে একটি বোতল দিনের পর দিন ব্যবহার করাও বেশ স্বাভাবিক। কিন্তু নিয়মিত ব্যবহারের কারণে একটা সময় বোতলের ভেতরে দাগ পড়ে, তলায় জমে যায় আস্তরণ, এমনকি তৈরি হতে পারে বিশ্রী গন্ধও। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বোতলের ঢাকনা, মুখের অংশ ও রবারের রিংয়ে। এসব জায়গার সরু ফাঁকে পানি, পানীয়ের অবশিষ্টাংশ ও আর্দ্রতা জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বেড়ে উঠতে পারে। তাই শুধু পানি দিয়ে বোতল কেচে নিলেই হবে না, নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করাও জরুরি। ঘরের সহজ কিছু উপকরণ দিয়েই কীভাবে স্টিলের বোতল পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন। বেকিং সোডা দিয়ে বোতলের জেদি দাগ ও দুর্গন্ধ পরিষ্কার করা যায় বেকিং সোডায় দূর হবে দাগ ও গন্ধ বোতলের ভেতরে জমে থাকা গন্ধ বা হালকা দাগ দূর করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে বোতলটি খালি করে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ১ চামচ বেকিং সোডা দিয়ে বোতলে হালকা গরম পানি ভরে ২ ঘণ্টা রেখে দিন।পরে বোতলের ব্রাশ দিয়ে ভেতর ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে ফেলুন। শেষে বোতলটি ঢাকনা খুলে শুকাতে দিন। সাদা ভিনিগারে গভীর পরিষ্কার বোতলের ভেতরে দীর্ঘদিনের গন্ধ বা আস্তরণ জমে গেলে সাদা ভিনিগার ব্যবহার করা যেতে পারে। বোতলে সমপরিমাণ ভিনিগার ও পানি দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর বোতলের ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে ফেলুন।তবে ভিনিগার ব্যবহার করার পর বোতলে কোনো গন্ধ বা অবশিষ্টাংশ যেন না থাকে, সেজন্য ভালোভাবে রিন্স করা জরুরি। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি বোতল পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। লেবু-লবণে ঝকঝকে পরিষ্কার বোতলে হালকা গন্ধ বা দাগ থাকলে লেবু ও লবণের মিশ্রণও কাজে লাগাতে পারেন। সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ বোতলে দিয়ে তার সঙ্গে কিছু পানি যোগ করুন। ঢাকনা লাগিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। এরপর কিছুক্ষণ রেখে বোতলের ভেতর ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লেবুর সতেজ গন্ধও বোতলের পুরোনো গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে। শুধু বোতল নয়, ঢাকনাও পরিষ্কার করুন বোতল পরিষ্কার করার সময় সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয় ঢাকনা ও রবারের রিং। অথচ বোতলের এই অংশগুলোতেই ময়লা ও জীবাণু জমে থাকার সুযোগ বেশি থাকে। তাই ঢাকনা, রাবারের গ্যাসকেট বা সিল আলাদা করে পরিষ্কার করুন। হালকা গরম পানি ও ডিশওয়াশিং সাবান দিয়ে প্রতিটি অংশ ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিন। সরু খাঁজ বা ছোট ফাঁক পরিষ্কার করতে ছোট ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। বোতলের কোনো অংশ খুলে পরিষ্কার করার নিয়ম না জানলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নেওয়াই ভালো। আরও পড়ুন কাঠের বাসন পরিষ্কারের সহজ পদ্ধতি ধোয়ার পর শুকানোও সমান জরুরি বোতল ধুয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা লাগিয়ে রেখে দেবেন না। পরিষ্কার করার পর বোতল, ঢাকনা ও রবারের অংশগুলো আলাদা করে বাতাসে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ভেতরে আর্দ্রতা আটকে থাকলে ছত্রাক ও জীবাণু বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন ঝরঝরে ভাতের জন্য কতবার চাল ধোয়া উচিত বিশেষ করে প্রতিদিন ব্যবহার করা বোতল নিয়মিত ধোয়া ভালো। শুধু পানি দিয়ে কুলকুচি করে নেওয়ার বদলে সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং বোতলের সব খাঁজ ও খুলে ফেলা যায় এমন অংশ ধুয়ে ভালো ধুয়ে নিন। সূত্র: এনডিটিভি, উইকিহাউ এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন হামেস রদ্রিগেজ

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন হামেস রদ্রিগেজ

ভলভোর নতুন হাইব্রিড এসইউভিতে আরও স্মার্ট নিরাপত্তা

ভলভোর নতুন হাইব্রিড এসইউভিতে আরও স্মার্ট নিরাপত্তা

যত্রতত্র নয়, বৃক্ষরোপণ হোক পরিকল্পিত

যত্রতত্র নয়, বৃক্ষরোপণ হোক পরিকল্পিত

দোকান নেই তবুও এমএফএস অ্যাকাউন্ট, অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন
দোকান নেই তবুও এমএফএস অ্যাকাউন্ট, অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন

দোকানের অস্তিত্ব নেই, অথচ সেই দোকানের তথ্য ব্যবহার করে খোলা হয়েছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট। এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেনের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতাররা হলেন- সজীব দে (৩৭) ও মো. মাসুদ রানা (৩০)। ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর একই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পায়। চক্রটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করতো। তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে সিআইডি জানায়, চক্রটি ভুয়া কিংবা অস্তিত্বহীন দোকানের তথ্য ব্যবহার করে এমএফএস উদ্যোক্তা সিম ও অ্যাকাউন্ট খুলতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দোকান না থাকলেও এসব অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হতো। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ পরে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করা হতো। এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে গত ৩১ আগস্ট পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামপুরার ৬৭, পূর্ব হাজীপাড়ার এসএস কর্পোরেশনে (নগদ হাউজ) অভিযান চালায় সিআইডি। সেখান থেকে সজীব দে ও মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহারে সহযোগিতা এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। টিটি/এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
রাশেদ খাঁনকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, এডিসি ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

রাশেদ খাঁনকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, এডিসি ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

মক্কায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: জামায়াত আমির

মক্কায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: জামায়াত আমির

দেড় বছর আগে সিট বাতিল, তবুও হলে থাকছেন ছাত্রদল নেতা

দেড় বছর আগে সিট বাতিল, তবুও হলে থাকছেন ছাত্রদল নেতা

বাব আল-মানদেব হুতিদের হাতে গেলে কী হবে
বাব আল-মানদেব হুতিদের হাতে গেলে কী হবে

যুদ্ধে কখনো একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বড় ধরনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করে। আবার বড় কৌশলগত পরিকল্পনাও যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইয়েমেনের সাম্প্রতিক লড়াই, বিশেষ করে হুতিদের মোকা শহরে প্রবেশের ঘটনা, এ বাস্তবতাই স্পষ্ট করে।ইয়েমেনের যুদ্ধকে শুধু স্থানীয় সংঘাত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে না। হুতিদের পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর লড়াই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সমুদ্রপথ ও কৌশলগত স্থানের নিয়ন্ত্রণের লড়াইও। মোকা শহর ও উপকূলের কাছের দ্বীপগুলো তাই শুধু একটি শহর দখলের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তায়েজ থেকে উপকূল, পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা, ধুবাব এবং শেষ পর্যন্ত বাব আল-মানদেব প্রণালির ইয়েমেনি অংশের নিয়ন্ত্রণ।মোকা দখলের ফলে তায়েজ ও ইয়েমেনের অভ্যন্তর থেকে পশ্চিম উপকূলে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিকভাবে এটি ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাব বাড়িয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।হুতিরা যে কারণে সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়ালহুতির হামলায় মক্কা চুক্তি কি কার্যকর হবেমোকা পতনের পর ধুবাবে হুতিদের পৌঁছে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। ধুবাব সরাসরি বাব আল-মানদেবের দিকে তাকিয়ে আছে। ফলে লড়াইটি এখন শুধু একটি শহর বা বন্দরের জন্য নয়; বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের স্থল ও সমুদ্রপথের প্রবেশাধিকার নিয়েও।হুতিদের এই অগ্রযাত্রা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। ৩ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের সংঘর্ষে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রকল্পের হিসাবে ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি, মার্কিন এবং সম্ভবত ইসরায়েলি পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি বাহিনী ইতিমধ্যে মোকা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব রাখার পাশাপাশি হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মানদেবেও চাপ সৃষ্টি করতে পারলে সৌদি আরব তার তেল রপ্তানির তুলনামূলক নিরাপদ পথ—দুই দিক থেকেই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে রিয়াদ সরাসরি হস্তক্ষেপে বাধ্য হতে পারে।পরিস্থিতি তিনটি দিক থেকে দেখা দরকার। প্রথমত, কে কোন ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। দ্বিতীয়ত, বাব আল-মানদেবের কাছের উপকূল ব্যবহার করে সমুদ্রবাণিজ্য, যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরিতে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা কার হাতে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সংঘাতে বাব আল-মানদেবকে কতটা চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।হুতিরা ইতিমধ্যে হোদেইদার দক্ষিণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ শক্ত করেছে। তায়েজ ও পশ্চিম উপকূলের সরবরাহপথ দুর্বল করেছে। মোকা দখলের মাধ্যমে তারা হুতিবিরোধী বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও সরবরাহকেন্দ্রও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এরপর পেরিম দ্বীপ ও বাব আল-মানদেবের দিকে অগ্রসর হয়ে তারা নজরদারি, চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তবে এর অর্থ পুরো সমুদ্রপথের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নয়।হুতিবিরোধী পক্ষ তায়েজ, হোদেইদা, আদ-দালি, আল-বায়দা, মারিব, শাবওয়া ও আল-জাওফকে ঘিরে একাধিক ফ্রন্টে অভিযান চালিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের ক্লান্ত করা এবং পশ্চিম উপকূলে তাদের শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে না দেওয়া। কিন্তু এতে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সুসংহত আঞ্চলিক সামরিক কৌশলের অভাবও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও নির্ভুল হামলার কার্যকারিতা বারবার দেখা গেলেও সৌদি আরব সেই শিক্ষা যথেষ্ট গ্রহণ করেনি। ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারাযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে অভিযান শুরুর সময়টিও ইরানকে ঘিরে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য দেখায় না; বরং তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সমন্বয় বাড়ছিল। গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা।তবে হুতিদের অগ্রযাত্রা তাদের জন্যও কঠিন পরীক্ষা। দক্ষিণে এগোলে তাদের সরবরাহপথ দীর্ঘ হবে এবং অবস্থান বিমান হামলা, সমুদ্র অভিযান ও পাল্টা আক্রমণের কাছে বেশি উন্মুক্ত হবে। মোকা ও ধুবাব নিয়ন্ত্রণের অর্থ শুধু যুদ্ধ করা নয়; সড়ক, বন্দর ও অবকাঠামো নিরাপদ রাখা এবং স্থানীয় ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী সামলানোও। মোকা বিমানবন্দরে সৌদি হামলার লক্ষ্য সম্ভবত হুতিদের জনবল, ড্রোন ও গোলাবারুদ জড়ো করার সক্ষমতা কমানো।মোকা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর প্রত্যাহার বাহিনী পুনর্গঠনের জন্য সামরিকভাবে যুক্তিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু এর রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য অনেক। এর ফলে হুতিরা দ্রুত গতি পেয়ে বাব আল-মানদেবের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।হুতিবিরোধী শিবিরের বড় দুর্বলতা হলো অভ্যন্তরীণ বিভাজন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ, তারেক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স, তায়েজের বিভিন্ন বাহিনী, দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী এবং বিভিন্ন উপজাতীয় ও স্থানীয় গোষ্ঠীর লক্ষ্য এক নয়। হরমুজ সংকটের মধ্যেই কেন উত্তপ্ত হচ্ছে বাব–এল-মান্দেবসৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইয়েমেন-ভাবনাও পুরোপুরি এক নয়। কেউ কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়, কেউ দক্ষিণের স্বায়ত্তশাসন চায়, কেউ বন্দর, উপকূল ও স্থানীয় প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বাব আল-মানদেবের দিকে যুদ্ধ যত এগোবে, এই বিভাজনের মূল্য তত বাড়বে। মূল প্রশ্ন তাই হুতিদের থামানো নয় শুধু; রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক কমান্ড গড়ে তোলা সম্ভব কি না।হুতিদের ধুবাবে পৌঁছানো সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব রাখার পাশাপাশি হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মানদেবেও চাপ সৃষ্টি করতে পারলে সৌদি আরব তার তেল রপ্তানির তুলনামূলক নিরাপদ পথ—দুই দিক থেকেই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে রিয়াদ সরাসরি হস্তক্ষেপে বাধ্য হতে পারে।অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুতিদের ওপর হামলা চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প আপাতত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি হননি। তবে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এতে বোঝা যায়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে নতুন সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও অযুদ্ধ সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।এর ফলে সৌদি আরব যেন ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুতে ফিরে যাচ্ছে। অতীতে বাইডেন প্রশাসন এই যুদ্ধকে সৌদি আরবের ওপর চাপ তৈরিতে ব্যবহার করেছিল। এখন ট্রাম্পের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করাও রিয়াদের জন্য সম্ভব হচ্ছে না। হুতিরা চাইলে সৌদি আরবের গভীরে জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় আঘাত করতে পারে। তখন রিয়াদকে অতীতের মতোই অনিচ্ছায় পরিস্থিতি মেনে নিতে হতে পারে।শাদি ইব্রাহিম ইস্তাম্বুল সাবাহাত্তিন জাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষণা সহযোগীমিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শরতে সুদর্শন বিচিত্রা কেঁউ

শরতে সুদর্শন বিচিত্রা কেঁউ

‘ক্যারিয়ারকে সর্বপ্রথম টার্গেট করবা’—জবি নবীনবরণে ছাত্রদল নেতা সুমন

‘ক্যারিয়ারকে সর্বপ্রথম টার্গেট করবা’—জবি নবীনবরণে ছাত্রদল নেতা সুমন

‘গুলি কর’ বলে হুমকি, ঘরে ঢুকে হামলা, গ্রেপ্তার ৩

‘গুলি কর’ বলে হুমকি, ঘরে ঢুকে হামলা, গ্রেপ্তার ৩

0 Comments