রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে এবং শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন তারা।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। এর আগে টানা চারদিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে—‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও চাকরিচ্যুত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন তারা।
গ্রাহক ফোরামের দাবি
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অপচেষ্টা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক নুরুন্নবী আরও বলেন, অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধাগুলো সমন্বয় করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, পরে চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরির জন্য একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। যারা ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকে বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত। কিন্তু আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের অনেকেই ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাই তাদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ফোরামের আপত্তি রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং তারা এস আলম গ্রুপের সময় ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
চাকরি ফেরতের দাবিতে আন্দোলন
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর তাদের কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।’
গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
টিপু আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে তারা তা মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।
ইএআর/জেএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁনের ওপর ২০১৮ সালে নির্যাতন এবং মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাশেদ খাঁনকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এরইমধ্যে রাশেদ খাঁনের লিখিত অভিযোগ ও জবানবন্দি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে রাশেদ খাঁনের ওপর ওই নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমিনুল ইসলাম বলেন, ভিন্নমত দমনে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশের অসহিষ্ণুতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ সে সময় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। একই ধরনের পদ্ধতিতে আন্দোলনকারীসহ অনেককে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, সাবেক এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিনকে অপহরণ, দীর্ঘদিন হেফাজতে আটকে রাখা এবং পরে হত্যার পর মরদেহ গুম করার অভিযোগে গুরুতর প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মাওলানা আলামিন হত্যা মামলায় এরইমধ্যে এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। প্রসিকিউশন মনে করছে, একই ধরনের পদ্ধতিতে একাধিক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো ব্যাপক ও পদ্ধতিগত (ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক) অপরাধের অংশ কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এফএইচ/এসএনআর
শরত এলে প্রকৃতি অন্য রকম সুন্দর হয়ে ওঠে। গত ২৮ ভাদ্র, শরতের এমন একটি দিন যেন স্বপ্নের মতো কাটালাম আমরা সাতজন। গিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। জিন্দা পার্ক পেরিয়ে গ্রামের আরও ভেতরে যেতে চোখে পড়ল রাস্তার দুই ধারে পদ্ম ও শাপলা ফুল ফোটা বিলগুলো। যেন ছবির মতো দৃশ্য। সকালটা সেখানে কাটিয়ে কাশবন ঘুরে দুপুর নাগাদ ফিরে এলাম জিন্দা পার্কে। পার্কে ঢুকেই রেস্তোরাঁর সামনে দেখা পেলাম এক সুদর্শন উদ্ভিদের।বিচিত্র রঙের বাহারি পাতা, কাণ্ডের শীর্ষে একটা আঁটসাঁট লাল মঞ্জরিতে ফুটে আছে সাদা ফুল। চিনতে মোটেও কষ্ট হয় না। ফুল ও পাতা দেখে চিনে ফেললাম কেমুক বা কেঁউগাছকে। এ দেশের বন–জঙ্গল, নালা ও ডোবার ধারে এই গাছ বেশ দেখা যায়। বুনো গাছ, আগাছার মতো জন্মে। তবে শরতে সেসব ঝোপালো গাছের মাথায় সাদা ফুলগুলোকে দূর থেকে দেখে ভীষণ ভালো লাগে। মনে হয় যেন ডানা ভাঁজ করে সাদা সাদা পরি শিশু বসে আছে; এ গাছেও সে রকম ফুল।শরতের মাঝামাঝি, মঞ্জরি দেখে মনে হলো সে গাছে আরও আগে থেকেই ফুল ফুটছে। আমরা হয়তো শেষ দৃশ্যের সাক্ষী হলাম। ফুলের চেয়ে মুকুটের মতো ফুলখসা শক্ত বৃতিগুলোও কম সুন্দর নয়। বুনো কেঁউগাছের ফুল ও মঞ্জরি সুন্দর, তবে বিচিত্রা কেঁউগাছের সবই সুন্দর। বিশেষ করে কাণ্ডের ওপর সজ্জিত বর্ণিল পাতাগুলোর বাহার দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন।বুনো কেঁউ ও বিচিত্রা কেঁউ দুটিই একই প্রজাতি ও গোত্রের। বুনো কেঁউ জন্মে প্রাকৃতিকভাবে বনজঙ্গলে। বিচিত্রা কেঁউ জন্মে লালিত বা রোপিত হয়ে বাগান ও উদ্যানে। এ দুটি গাছ সহজে চেনার উপায় হলো ওগুলোর পাতা। বুনো কেঁউয়ের পাতা একহারা সবুজ। বিচিত্রা কেঁউয়ের পাতা নানা রঙে চিত্রিত। বিচিত্রা কেঁউগাছের পাতাগুলোর দৃষ্টিনন্দন বর্ণ ও সজ্জার জন্য এটি আলংকারিক উদ্ভিদের মর্যাদা পেয়েছে। বিচিত্র কেঁউয়ের কাণ্ডÐলালচে মেরুন রঙের বেতের মতো, যা ওপরের দিকে একটি বিশেষ সর্পিলাকার বা আঁকাবাঁকা বিন্যাসে প্যাঁচানো থাকে। পাতা সরল, লম্বাটে-আয়তাকার। অগ্রভাগ সরু। ফলকের কিনারা অখণ্ডিত ও মসৃণ, চকচকে সবুজ, যার কিনারা ও ফলক ঘিয়ে সাদা-সবুজ রঙের রেখা দ্বারা চিত্রিত। পাতার নিচের পিঠ নরম ও সূক্ষ্ম রোমে ঢাকা। গাছের উচ্চতা প্রায় দুই মিটার। উজ্জ্বল লাল রঙের মোচাকৃতির শীর্ষমুকুল বা প্রান্তীয় কৌণিক শম্বুকাকার মঞ্জরিতে কুঁচকানো টিস্যু পেপারের মতো সাদা রঙের চোঙা আকৃতির ফুল ফোটে, যার কেন্দ্রভাগ থাকে হলুদ। ফুল উভলিঙ্গী। ফোটা ফুলের পাপড়ির ব্যাস বা বিস্তার প্রায় আট সেন্টিমিটার। ফোটা ফুল এক-দুই দিন স্থায়ী হয়। ফুল খাওয়া যায়। ফল লাল বা বাদামি, ক্যাপসুল ধরনের।বৈচিত্র্যময় পাতার কারণেই এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম রাখা হয়েছে Hellenia speciosa ‘Variegatus’ Syn. Cheilocostus speciosusÔ‘Variegatus’, গোত্র কোস্টেসি। পাতাগুলোর সর্পিল বিন্যাসের কারণে এর ইংরেজি নাম হয়েছে ‘ভেরিগেটেড স্পাইরাল জিঞ্জার’। আদাগোত্রীয় উদ্ভিদ না হয়েও একে আদা বলা হয় এর আদার মতো মূলের কারণে। আদার মতো কেঁউকন্দের আছে দারুণ উপকারিতা। গ্রামের মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এই গাছের কন্দ (শিকড়), পাতা ও ফুল বিভিন্ন লৌকিক উপায়ে ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে শিশুদের পেটে গুঁড়া কৃমির উপদ্রব হলে গ্রামে অনেকে এ গাছের মূল বা কন্দ বেটে তার রস শিশুকে সকাল-বিকেল খাওয়ান। জ্বর, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করতে এর কন্দের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। গায়ে চুলকানি, পাঁচড়া বা একজিমা হলে কেমুকের মূল বেটে তার রস ত্বকে লাগানো হয়। লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, এটির নিয়মিত ব্যবহারে শরীরের শ্বেতী রোগ বা সাদা দাগের প্রকোপ কমে। তবে এসব ঔষধি গুণ আছে বুনো কেঁউগাছের। ধারণা করা যায়, বিচিত্রা কেঁউগাছের কন্দেরও সেরূপ ঔষধি গুণ আছে। তাই এ গাছের ঔষধি গুণ নিয়ে আরও গবেষণা হতে পারে।বিচিত্রা কেঁউ বাড়ি, বাগান ও উদ্যানের ভূদৃশ্য রচনা বা ল্যান্ডস্কেপিংয়ের জন্য একটি চমৎকার গাছ। বিশেষ করে বাগানের প্রবেশপথে, আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে এরূপ স্থান অথবা দৃষ্টিকটু এলাকাকে আড়াল করার জন্য নিচু বেড়ার মতো এ গাছ ব্যবহার করা যায়। আধো ছায়া জায়গায় এ গাছ ভালো জন্মে। এর মোথা বা কন্দ চিরে ভাগ করে লাগালে তা থেকে নতুন গাছ জন্মে। বুনো কেঁউগাছের চেয়ে বিচিত্রা কেঁউগাছের বৃদ্ধি কিছুটা মন্থর।মৃত্যুঞ্জয় রায়: কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক
সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্য আরোপ করা সতর্কতা হালনাগাদ করেছে ওয়াশিংটন। এখন ‘সতর্কতা লেভেল ৩’ জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। হালনাগাদ সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।মূলত ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ এবং আঞ্চলিত অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন প্রশাসন।আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ ভ্রমণ সতর্কতার কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে।সেই সঙ্গে সৌদি আরবের কিছু এলাকায় হামলার ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার কথাও সতর্কতায় উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকেই ‘সতর্কতা লেভেল ৪’ জারি রয়েছে। এতে ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার কথা বলা হয়েছে।পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারিইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের লড়াই চলছে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে হুতিদের সঙ্গে এ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবও।চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ কারণে শহরটিতে গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি আরব সরকার।সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন কেন বৈশ্বিক তেলের বাজারে এত গুরুত্বপূর্ণসর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র এ নগরীতে হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো। তবে জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা তুলে নেয় সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।মারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র