জাতীয়

পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ
পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ

কুমিল্লার লাকসামে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লাকসাম পৌর এলাকার মিশ্রি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

নিহত দুই শিশু হলো- মিশ্রি গ্রামের অ্যাডভোকেট শামসুল হকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (৩) এবং তার বড় ভাই দুবাই প্রবাসী নাসির উদ্দিনের ছেলে সুফিয়ান (আড়াই বছর)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।

স্থানীয়রা জানান, পৌর এলাকার মিশ্রি উত্তর পাড়ার নিজ বাড়ির পুকুরপাড়ে দুই শিশু খেলাধুলা করছিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের পায়ের স্যান্ডেল পুকুরে ভাসতে দেখে স্বজনরা। পরে পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলি বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সকালে রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, আবার হতে পারে
সকালে রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, আবার হতে পারে

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আজ রোববার। এদিন সকালে রাজধানীবাসীর ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে। সকাল সাতটার পরপরই কর্মস্থলগামী মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাড়া থাকে বেশি। ঠিক এ সময়টাতেই আজ ঝুম বৃষ্টি। নিজস্ব পরিবহন যাদের আছে, তাদের কষ্ট কম। কিন্তু যাদের নেই তারা রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা অন্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যানবাহনের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা দেখা গেছে।রাজধানীর আসাদগেটে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আসাদগেটের মাথায় সকাল পৌনে আটটার দিকে দেখা গেল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যারা কষ্ট করে স্কুলগুলোর কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে, তারাও সেগুলো থেকে নেমে কোনো রকমে ছাতা মাথায় ছুটছিল। এই বৃষ্টি রাস্তায় পানি জমিয়েছিল। তাতে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়ে। এত কষ্ট আর ভোগান্তি দেওয়া বৃষ্টি শেষ হয় সকাল সোয়া আটটার দিকে। তারপর ঝলমলে রোদ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকালে আজ ১৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। আজ দুপুরের দিকে আবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, বললেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। তিনি আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৬টা থেকে ৯টা—এই তিন ঘণ্টার মধ্যে ১৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তা খুব বেশি না–ও হতে পারে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।ওমর ফারুক বলছিলেন, বৃষ্টি বেশি হতে পারে দেশের উত্তরাঞ্চলেও। তবে তা ভারী বৃষ্টি হবে না। একনাগাড়েও হবে না। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এসব এলাকায়।এই মেঘ এই বৃষ্টি—এ সময়ের বৈশিষ্ট্য। তবে বৃষ্টি মাঝেমধ্যে হলেও গরম কমছে না। ভ্যাপসা গরম শুধু রাজধানীতে নয়, আছে সারা দেশেই।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম, ভর্তির বিস্তারিত জেনে নিন

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম, ভর্তির বিস্তারিত জেনে নিন

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নেবে ৮৫ জন, আবেদন ফি ১০০, কর্মস্থল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-কুমিল্লা

পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নেবে ৮৫ জন, আবেদন ফি ১০০, কর্মস্থল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-কুমিল্লা

তামিম হত্যা: ৯ জনের অব্যাহতির বিরুদ্ধে শুনানি আজ

তামিম হত্যা: ৯ জনের অব্যাহতির বিরুদ্ধে শুনানি আজ

বাহাত্তর–তেহাত্তর: স্বপ্ন, সংকট ও সময়ের দিনলিপি
বাহাত্তর–তেহাত্তর: স্বপ্ন, সংকট ও সময়ের দিনলিপি

  (পূর্ব প্রকাশের পর- পর্ব ১৫) ষাটের দশকে ডাকসু, বিভিন্ন হল, বিভাগীয় সংসদ অথবা শ্রেণি-প্রতিনিধি বাছাই করার নিমিত্তে নির্বাচন হতো। এই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল, যা আজকাল বিলুপ্তই বলা চলে। তা হচ্ছে, সংসদের বিভিন্ন পদে, বিশেষত ভিপি-জিএস পদে, কোন ছাত্র সংগঠন কত বেশি মেধাবীকে মনোনয়ন দিতে পারে, তার একটি প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতা। এবং মেধার বিচার শুধু লেখাপড়ার মাপে নয়—বাগ্মিতা, আচার-আচরণ, আদর্শ ইত্যাদি সব মিলে। এতে করে ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্ররাজনীতিতে জায়গা পাওয়ার অপার সম্ভাবনা থাকত এবং ইতিহাস বলে, সেই সময়টায় ছাত্ররাজনীতির মুকুট ছিল মেধাবীদের মাথায়। গ্রেশামসের বিখ্যাত সূত্র উল্টিয়ে বললে অবস্থাটা দাঁড়িয়েছিল এমন যে, ভালো ছাত্র খারাপ ছাত্রকে রাজনীতির নেতৃত্ব থেকে বের করে দিত। এই ‘ট্যালেন্ট হান্ট’-এর দৌড়ে এমনকি তৎকালীন সরকার-সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এনএসএফও বাদ ছিল না। বস্তুত, আমাদের জানাশোনার মধ্যে অনেক মেধাবীকে এনএসএফ করতে দেখেছি। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, আইয়ুব স্বৈরশাসকের সেই জমানায়ও সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বেশ কটি হলের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো। মনে পড়ে, মুহসিন হলে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের ছাত্র খন্দকার মোশাররফ হোসেন (পরবর্তীতে বিএনপির মন্ত্রী ও নেতা)। তিনি এনএসএফের প্রার্থী মোমতাজ উদ্দিনকে পরাজিত করেন (পরবর্তীতে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ)। রোকেয়া হলের ভিপি ছিলেন আয়েশা খানম এবং ইকবাল হলের তোফায়েল আহমেদ। অবিসংবাদিত নেতা তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি। সেই হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক এবং ঊনসত্তরের গণজাগরণের অন্যতম প্রধান নায়ক। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে জেল থেকে মুক্তি দিতে সরকার বাধ্য হয়। সেই সময় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত জনসভায় তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্পণ করেন। তখনকার দিনে ইকবাল হল ছিল ছাত্রলীগ নামে সংগঠনটির দুর্জয় ঘাঁটি। শুনতাম সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, আ স ম আবদুর রব, নূর এ আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ ইত্যাদি নেতার সংগ্রামী আলেখ্য; এস এম হল মূলত বামপন্থীদের এবং অন্যান্য হলে এনএসএফ কিংবা মিশ্র। অবশ্য, সময়ের আবর্তনে এবং বাস্তবতার নিরিখে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান তথা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের ন্যায্য দাবির প্রতি বেশ কিছু এনএসএফ সমর্থক একাত্মতা প্রকাশ করেছিল। সম্ভবত ১৯৬৮ সালে এনএসএফ বিভক্ত হয়। একদিকে মাহবুবুল হক দোলন, অন্যদিকে জমির আলী। মাহবুবুল হক দোলনের পথ ধরে জিন্নাহ হলের নাজিম কামরান চৌধুরী, বদিউল আলম, লুতফর রহমান চৌধুরী এবং অনেকেই এনএসএফের তাবু ত্যাগ করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। যাই হোক, এমএ ক্লাসে উঠে শ খানেক ছাত্রছাত্রীর সরাসরি ভোটে আমি শ্রেণি প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলাম। এর ফলে নানা প্রয়োজনে বিভাগের তৎকালীন সভাপতি এম এন হুদা এবং অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক শানিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে হলে উঠলাম। দীর্ঘ নয় মাস বিচ্ছেদের পর বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে। প্রাপ্তি এবং হারানো—উভয় কারণেই অশ্রুসিক্ত উভয় পক্ষ। সবার কামনায় তখন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্যবাদী এক বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী)-এর এক নেতার রুমে গেলাম সৌজন্য সাক্ষাতে। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে হলে উঠলাম। দীর্ঘ নয় মাস বিচ্ছেদের পর বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে। প্রাপ্তি এবং হারানো—উভয় কারণেই অশ্রুসিক্ত উভয় পক্ষ। সবার কামনায় তখন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্যবাদী এক বাংলাদেশ। দেখি, পড়ার টেবিলে বিএলএফ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের জন্য এক গাদা সনদপত্র রাখা আছে। আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘নেবে নাকি একটা, নাও না।’ আমি বললাম, ‘না, আমার আগ্রহ নেই, কারণ মুক্তিযুদ্ধে আমি সরাসরি অংশগ্রহণ করিনি।’ পরে জেনেছি, তাঁর কাছ থেকে সনদপত্র নিয়েছে অনেকে, যারা বহাল তবিয়তে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের ভেতরেই ছিল। একটা নজিরবিহীন ঘটনার উল্লেখ করতেই হয়। আমি প্রায়ই প্রতিবেশী হল জিন্নাহ হলে যেতাম আমার অত্যন্ত প্রিয় এক ঝাঁক ‘বড় ভাই’-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। মাঝেমধ্যে আলাপচারিতায় উঠে আসত বদিউল আলম নামে অর্থনীতি বিভাগের আমাদের এক বছরের সিনিয়র ছাত্রের প্রসঙ্গ। উনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে স্ট্যান্ড করা, এনএসএফের ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয় ফ্রন্টেই ‘লড়াকু’ কর্মী ছিলেন। ১৯৭২ সালে হলে ফিরে এসে অনেকের মধ্যে তাঁর খবরও নিলাম। শোনা যায়, সেই বদির জীবন পাল্টে দিয়েছিল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং বিশেষত ২৫ মার্চের ভয়াল রাত্রি। সব পরিত্যাগ করে তিনি মুক্তিবাহিনীর ‘ক্র্যাক প্লাটুনে’ যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় কয়েকটি অবিস্মরণীয় অপারেশন চালানোর পর একদিন অস্ত্র হাতে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। অস্ত্রের উৎস বের করতে তাঁর ওপর প্রবল নির্যাতন চালালে বদি মৃত্যুবরণ করেছিলেন বটে, কিন্তু মুখ থেকে একটা কথাও বের করেননি। সেই থেকে তিনি ‘শহীদ বদি’—হাইকোর্ট-সংলগ্ন একটি রাস্তা যার নামে রাখা—মরণোত্তর বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত। মুহসিন হল থেকে বেশ কয়েকজন সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, যার মধ্যে এম সাঈদ (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) এবং আবদুর রউফ (পরবর্তীতে কর্নেল) অন্যতম। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য ১৯৭২ সালটি ছিল নানান দিক থেকে ঘটনাবহুল, তাৎপর্যপূর্ণ, আলোচনা ও সমালোচনামুখর। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লন্ডন থেকে নয়াদিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পৌঁছান। লাখ লাখ সাধারণ মানুষ তাঁকে অশ্রুসিক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে তিনি এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন ভাষণ দেন। এই বছরেই শেষের দিকে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ধারণ করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সংবিধান রচিত হয়। ১৯৭২ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয়করণ কর্মসূচির আওতায় ব্যাংক, বিমা এবং শিল্প ইউনিটসহ প্রায় ৯০ ভাগ সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়। এর প্রথম কারণ হিসেবে বলা হতো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্য এবং দ্বিতীয় কারণ, এগুলো চালানোর মতো শক্তিশালী ব্যক্তি খাত, বিশেষত পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের প্রস্থানের পর, তখনকার বাংলাদেশে ছিল না। তবে এ সমস্ত ইউনিট পরিচালনায় যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ ছিল দলীয় রাজনৈতিক কর্মী এবং অচিরেই এদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ উঠতে থাকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, অদক্ষতা এবং দুর্নীতির কারণে শিল্পকারখানাগুলো অচিরেই রুগ্ণ হওয়ার পথ ধরে। ১৯৭২ সালে গঠিত হয় জাতীয় রক্ষীবাহিনী। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালান রোধ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা—এমনকি আমার নিজ এলাকা মতলব উত্তরেও—গণসংযোগ করতেন সশস্ত্র রক্ষীবাহিনীর সদস্য সঙ্গে নিয়ে। অভিযোগ ছিল যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য রক্ষীবাহিনীকে ব্যবহার করা হতো। সেই সময়কার সরকারবিরোধী পক্ষ মনে করত, তাদের অনেক রাজনৈতিক কর্মী রক্ষীবাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত বা গুম হয়েছিল এবং সারা দেশে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠে। অপরদিকে, ১৯৭২ সালে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সশস্ত্র গণবাহিনী এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া সিরাজ শিকদারের ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি’র সশস্ত্র সদস্যদের হাতেও অনেক মানুষ, বিশেষত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, নিগৃহীত বা নিহত হওয়ার খবর চাউর ছিল। সরকারি পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উঠল যে, বস্তুত এই দুই দলের লক্ষ্য ছিল অস্ত্রশক্তির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। একদিকে সরকারি রক্ষীবাহিনী এবং অন্যদিকে বেসরকারি গণবাহিনী ও সর্বহারা পার্টির সাঁড়াশি আক্রমণে সাধারণ জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে অবকাঠামোগত পুনর্গঠন, খাদ্য ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অস্ত্রের ঝনঝনানি দেশটির স্থিতিশীলতার পক্ষে অন্তরায় হয়ে উঠেছিল। (চলবে) লেখক : অর্থনীতিবিদ, কলামিস্ট। সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীনরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এইচআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
৪৮ ঘণ্টায় ১২৯ হামলা, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের অভিযোগ

৪৮ ঘণ্টায় ১২৯ হামলা, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের অভিযোগ

ওয়াকআউট করার অধিকার যদি তাঁদেরও থাকত

ওয়াকআউট করার অধিকার যদি তাঁদেরও থাকত

দোয়েল কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হলো

দোয়েল কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হলো

রাবিতে নবীনবরণে গোলাম আযমের বই, ‘পুনর্বাসনের চেষ্টা’ বলছেন বাম নেতারা
রাবিতে নবীনবরণে গোলাম আযমের বই, ‘পুনর্বাসনের চেষ্টা’ বলছেন বাম নেতারা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির তাদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজ দিন’ বই উপহার দিয়েছে। এতে নবীনবরণের নামে একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল বাম সংগঠনগুলোর। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে বইটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। বইটি উপহার হিসেবে দেওয়ায় সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের নর্মালাইজেশনের প্রক্রিয়া চলছে। শিবিরের নবীনবরণে মাথাপিছু সহস্রাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এটা কোনো শিক্ষার্থী সুলভ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নয়। এখানে দেশি-বিদেশি বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির বিনিয়োগ নেই- তার নিশ্চয়তা কী?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হস্তক্ষেপমুক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন চাই। তবে দেশবিরোধী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি জরুরি।’ বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের রাবি শাখার সদস্য সচিব ওয়াজিদ শিশির অভি বলেন, ‘গোলাম আযমের বই বিতরণকে আমরা নিছক বই উপহার হিসেবে দেখছি না। এটি তার রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক পুনর্বাসনের চেষ্টা। ক্যাম্পাসে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান ঠেকাতে লেজুড়বৃত্তিমুক্ত ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।’ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‌‌‘এটা নিয়ে আমরা এখন কথা বলতে চাচ্ছি না। যখন এটা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হবে, তখন আমরা এটার ক্লিয়ারেন্স দেব। যতক্ষণ বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে না, ততক্ষণ এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি না।’ মিরাজ হোসেন/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
কবির ফ্যাশন: কেমন ছিল আশির দশক

কবির ফ্যাশন: কেমন ছিল আশির দশক

ইউটিউব দেখে গড়ে তুললেন মিশ্র ফলের বাগান

ইউটিউব দেখে গড়ে তুললেন মিশ্র ফলের বাগান

ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা

ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা

0 Comments