জাতীয়

ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা
ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা

স্মার্টফোনের পাশাপাশি ক্যামেরা দিয়েও এখন দারুণ মানের ভিডিও তৈরি করছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভ্লগিং করে অনেকেই তৈরি করছেন নিজের পরিচিতি। ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।

তবে ভালো ভিডিওর জন্য ক্যামেরা বাছাই করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভ্লগিংয়ের ক্ষেত্রে ক্যামেরার আকার, ভিডিওর মান, স্ট্যাবিলাইজেশন এবং অডিও সবই দেখতে হয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি ক্যামেরা সম্পর্কে, যেগুলো ভ্লগিংয়ের জন্য কাজে লাগতে পারে।

১. ইন্সটা৩৬০ এস প্রো ২

হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে ভ্লগ করতে চাইলে ইন্সটা৩৬০ এস প্রো ২ হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। এটি তুলনামূলক কমপ্যাক্ট এবং ক্রিয়েটরদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি। এতে রয়েছে ২.৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে। অ্যাক্টিভ এইচডিআর এবং পিওেভিডিও মোড বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভালো মানের ভিডিও ধারণে সাহায্য করে। উন্নত মাইক্রোফোন ও উইন্ড গার্ড থাকায় বাইরের পরিবেশেও অডিও রেকর্ডিংয়ে সুবিধা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে

২. গোপ্রো হিরো০১৩ ব্ল্যাক

অ্যাডভেঞ্চার বা বাইরে ঘুরে ঘুরে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গোপ্রো হিরো০১৩ ব্ল্যাক নজরে রাখতে পারেন। সামনে ও পেছনে ডিসপ্লে থাকায় শুটিংয়ের সময় ফ্রেম দেখা সহজ। ক্যামেরাটি ৫.৩কে ভিডিও এবং ২৭এমপি ছবি তুলতে পারে। হাইপারস্মুথ ৬.০ স্ট্যাবিলাইজেশন চলন্ত অবস্থায় তুলনামূলক স্থির ফুটেজ পেতে সাহায্য করে। এইচএলজি এইচডিআর-এর পাশাপাশি ব্লুটুথ অডিও সাপোর্টও রয়েছে।

৩. সনি জেডভি-১

ভ্লগিংকে গুরুত্ব দিয়েই তৈরি সনি জেডভি-১। এতে রয়েছে ৩ ইঞ্চির সাইড-ফ্লিপ এলসিডি স্ক্রিন, যা নিজের ভিডিও করার সময় বেশ কাজে আসে। ২০ মেগাপিক্সেলের ১ ইঞ্চি এক্সমর আরএস সেন্সর এবং জাইস ২৪-৭০মিমি এফ/১.৮-২.৮ লেন্স ভালো মানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সাহায্য করে। এতে ৪কে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। উইন্ডস্ক্রিনসহ ডিরেকশনাল ৩-ক্যাপসুল মাইক্রোফোন অডিও রেকর্ডিংয়ের মান বাড়ায়।

৪. ডিজেআই ওসমো পকেট ৪

ছোট আকারের ক্যামেরা পছন্দ হলে ডিজেআই ওসমো পকেট ৪ দেখতে পারেন। এতে রয়েছে ২ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন এবং ১ ইঞ্চির সিএমওএস সেন্সর। এটি ৪কে ভিডিও ও ৩৭ মেগাপিক্সেলের ছবি ধারণ করতে পারে। তিনটি মাইক্রোফোন, ডিজেআই মাইক-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং থ্রি-অ্যাক্সিস মেকানিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ভ্লগিংকে আরও সহজ করে। দ্রুত অটোফোকাস ও এআই সাবজেক্ট ট্র্যাকিং-ও রয়েছে।

আরও পড়ুন

আইফোন ১৭ সিরিজে কমলা, ১৮-তে কোন রং জনপ্রিয়?

৫. ক্যানন ইওএস আর৫০ ভি

যারা একটু বেশি প্রফেশনাল সেটআপ চান, তাদের জন্য ক্যানন ইওএস আর৫০ ভি একটি বিকল্প হতে পারে। এটি একটি মিররলেস ক্যামেরা, যাতে রয়েছে ২৪.২ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন। ১৪-৩০ মিমি পাওয়ার জুম লেন্স, ডুয়াল পিক্সেল সিএমওএস এএফ II এবং ডিজিটাল স্থিতিশীলতা ভ্লগিংয়ের সময় সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি থ্রি-ক্যাপসুল মাইক্রোফোনের মাধ্যমে পরিষ্কার অডিও রেকর্ড করা সম্ভব।

ক্যামেরা কেনার আগে অবশ্যই নিজের ভ্লগিংয়ের ধরন, বাজেট, বহন করার সুবিধা এবং অডিও-ভিডিওর প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। দামি ক্যামেরা থাকলেই ভিডিও ভালো হবে এমন নয়; ভালো গল্প, পরিষ্কার উপস্থাপনা এবং নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্টই শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।

কেএসকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইউএনও অফিসের সামনে লুটের বালু, ছবি-ভিডিও ছড়ানোর পর জব্দের নির্দেশ
ইউএনও অফিসের সামনে লুটের বালু, ছবি-ভিডিও ছড়ানোর পর জব্দের নির্দেশ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইজারাবিহীন শান্তিপুর নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মজুতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই নদী থেকে উত্তোলন করা বালুর স্তূপ পাওয়া গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনেই। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বালুর স্তূপের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বালুর স্তূপটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক। পরে তিনি বালু জব্দ এবং এর মালিককে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন অর রশিদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইজারাবিহীনভাবে তাহিরপুর উপজেলার শান্তিপুর নদী থেকে প্রভাবশালী একটি চক্র কোটি কোটি টাকার বালু লুট করেছে। বালু উত্তোলন ঠেকাতে মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযান চালালেও কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলন। স্থানীয় এমপি কামরুজ্জামান কামরুল সমাবেশে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি নদীতে বাঁশের বেড়া দিলেও তা ঠেকানো যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিপুর নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ছোট ছোট নৌকায় করে বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। পরে দাম-দর করে সেগুলো বিক্রি করা হয়। বালু উত্তোলনের সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই বালুকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘শুক্রবার প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় উপজেলা পরিষদ এলাকায় বালু রাখার বিষয়টি তার নজরে পড়েনি। বালু জব্দ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এর মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’ লিপসন আহমেদ/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
গর্ভে থাকতেই দাম ঠিক, জন্মের পর হস্তান্তর

গর্ভে থাকতেই দাম ঠিক, জন্মের পর হস্তান্তর

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কি সত্যি আর ১৪ দিন চলার মতো তেল অবশিষ্ট আছে

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কি সত্যি আর ১৪ দিন চলার মতো তেল অবশিষ্ট আছে

পায়রার ভাঙনে বিলীন বাহেরচর গ্রাম, রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে ২০ পরিবার

পায়রার ভাঙনে বিলীন বাহেরচর গ্রাম, রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে ২০ পরিবার

শুরুর আগেই এশিয়ান গেমস শেষ নবীরণের
শুরুর আগেই এশিয়ান গেমস শেষ নবীরণের

১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। তবে ফুটবল শুরু হচ্ছে এর আগেই। আগামীকাল প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এরই মধ্যে বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার নবীরণ খাতুন।দল সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর চায়নিজ উইমেন্স সুপার লিগের দল গুয়াংডং এফসির বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হাঁটুতে গুরুতর চোট পান নবীরণ। চোটের কারণে তাঁকে আর এশিয়ান গেমসে পাওয়া যাচ্ছে না।২০২২ থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলেছেন নবীরণ। এরপর জাতীয় দলে জায়গা করে নেন তিনি। গত বছরের মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় এই সেন্টারব্যাকের। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও হয়ে ওঠেন নবীরণ।গত বছরের মার্চে অভিষেক হয় নবীরণেরতাঁর চোটে রক্ষণভাগ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচ পিটার বাটলারকে। দলে থাকা অন্য চার সেন্টারব্যাক হলেন শিউলি আজিম, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও অর্পিতা বিশ্বাস। তাঁদের মধ্যে কোহাতি ও আফঈদাকে আগামীকাল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে।পাঁচ বছর পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরছে ঘরোয়া ফুটবল, সূচি ঘোষণাদ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। এবারও কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপে প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া ছাড়াও আছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার।আগামীকাল উত্তর কোরিয়া ম্যাচের পর ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২১ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা একটায়।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
এআই–যুগে টিকে থাকতে কী করবেন, পড়ুন কম্পিউটারবিজ্ঞানীর পরামর্শ

এআই–যুগে টিকে থাকতে কী করবেন, পড়ুন কম্পিউটারবিজ্ঞানীর পরামর্শ

সৌদিতে হুথিদের হামলা, মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

সৌদিতে হুথিদের হামলা, মসজিদসহ বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

টাঙ্গাইলের সুমি হত্যায় হাইকোর্টে রায় আজ

টাঙ্গাইলের সুমি হত্যায় হাইকোর্টে রায় আজ

0 Comments