জাতীয়

শৈশব বাঁচুক, স্বপ্ন বাঁচুক

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
শৈশব বাঁচুক, স্বপ্ন বাঁচুক
শৈশব বাঁচুক, স্বপ্ন বাঁচুক

শিশুর হাসি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি। ছোট্ট দুটি চোখে যখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন জ্বলে ওঠে, তখন সেই স্বপ্ন শুধু একটি পরিবারের নয়—একটি সমাজ, একটি দেশ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। শিশুরা আমাদের আগামী দিনের নাগরিক। আজ আমরা তাদের যেভাবে গড়ে তুলব, আগামী দিনের সমাজও সেভাবেই গড়ে উঠবে। তাই শিশুদের শুধু ভালো ফলাফল করানো নয়, তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শৈশব জীবনের সবচেয়ে কোমল সময়। এই সময়ে একটি শিশু যা দেখে, যা শোনে এবং যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তার গভীর প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিত্বে। অথচ কী নিদারুণভাবে কত শিশুর শৈশব যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে! বই, খাতা, কোচিং, পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা, সেলফোন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যস্ততার মধ্যে অনেক শিশু যেন বাধ্য হয়েই মাঠে দৌড়ানোর আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার আনন্দ কিংবা পরিবারের সঙ্গে নির্ভার সময় কাটানোর সুখ হারিয়ে ফেলছে!

আমরা অনেক সময় সন্তানের ভালো চাইতে গিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দিই। পরীক্ষায় ভালো করতে হবে, সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে, ভালো স্কুলে পড়তে হবে—এমন নানা প্রত্যাশা শিশুর কোমল মনে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু প্রতিটি শিশুর মেধা, আগ্রহ ও সক্ষমতা এক নয়। কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ ছবি আঁকতে ভালোবাসে, কেউ গান গায়, কেউ খেলাধুলায় দক্ষ, আবার কেউ হয়তো অসাধারণভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ প্রতিভা থাকে। আমাদের দায়িত্ব সেই প্রতিভাটিকে খুঁজে বের করা, তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

শিশুরা ভুল করবে—এটাই স্বাভাবিক। একটি শিশু যখন কোনো ভুল করে, তখন তাকে অপমান না করে ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে। বারবার বকাঝকা, অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা কিংবা ‘তুমি কিছুই পারো না’—এ ধরনের কথা একটি শিশুর আত্মবিশ্বাসকে ধীরে ধীরে ভেঙে দিতে পারে। তার পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘ভুল হয়েছে, আবার চেষ্টা করো।’ এই একটি বাক্যই হয়তো একটি শিশুর মনে নতুন সাহস তৈরি করতে পারে।

আজকের দিনে শিশুদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু দামি খেলনা বা আধুনিক প্রযুক্তি নয়; প্রয়োজন বাবা-মায়ের সময়। অনেক বাবা-মা সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেন, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে বসে দুটো কথা বলার সময় পান না। অথচ শিশুর কাছে বাবা-মায়ের সময়ের মূল্য অনেক বেশি। দিনের শেষে সন্তানকে জিজ্ঞেস করা—‘আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?’—এই ছোট্ট প্রশ্নটিই তার মনে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

শিশুর মানসিক জগতকে বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি। সে কেন চুপ করে আছে, কেন রেগে যাচ্ছে, কেন পড়তে চাইছে না, কেন বারবার মোবাইলের দিকে যাচ্ছে—এসবের পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে। শুধু শাসন না করে তার সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলতে হবে। সন্তান যেন ভয় না পেয়ে নিজের কথা বাবা-মায়ের কাছে বলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা দরকার। যে পরিবারে ভালোবাসা ও পারস্পরিক বিশ্বাস থাকে, সেখানে শিশুরাও ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের মোবাইল ও ইন্টারনেট থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা হয়তো সবসময় সম্ভব নয়। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার যেন তাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং তারা যেন প্রযুক্তিকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে শেখে—এটি শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইলের পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

শিশুর শৈশব যেন চাপের কাছে হারিয়ে না যায়। তার হাসি যেন প্রতিযোগিতার ভারে ম্লান না হয়। তার স্বপ্ন যেন আমাদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার নিচে চাপা না পড়ে। কারণ একটি শিশুর হাসি শুধু আজকের আনন্দ নয়—সেটিই আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশার আলো।

শিশুদের চরিত্র গঠনে পরিবারের পাশাপাশি বিদ্যালয় ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; একজন ভালো শিক্ষক একটি শিশুর জীবনকে বদলে দিতে পারেন। একটি উৎসাহের বাক্য, একটি বিশ্বাসের হাত কিংবা একটি ভালো পরামর্শ কখনো কখনো শিশুর ভবিষ্যৎ পথচলার শক্তি হয়ে ওঠে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা শুধু পরীক্ষার খাতা নয়। তারা অনুভূতিশীল মানুষ। তাদেরও কষ্ট হয়, অভিমান হয়, ভয় হয়, স্বপ্ন হয়। তারা ভালোবাসা চায়, প্রশংসা চায়, নিরাপত্তা চায়। তাই সন্তানকে বড় করার অর্থ শুধু তাকে বড় ডিগ্রি অর্জনের পথে এগিয়ে দেওয়া নয়; বরং তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যে অন্যকে সম্মান করবে, অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে, নিজের দায়িত্ব বুঝবে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার সাহস রাখবে।

একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা মানে শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা নয়; বরং একটি দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা। আজকের শিশুরাই একদিন শিক্ষক হবে, চিকিৎসক হবে, প্রকৌশলী হবে, কৃষক হবে, শিল্পী হবে, লেখক হবে, প্রশাসক হবে কিংবা কোনো সাধারণ পেশায় থেকেও সমাজের জন্য অসাধারণ কাজ করবে। তাদের হাতেই থাকবে আগামী দিনের দেশ।

তাই আসুন, আমরা শিশুদের শুধু সফল হওয়ার শিক্ষা না দিয়ে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিই। তাদের স্বপ্নকে ছোট না করি, বরং স্বপ্ন দেখার সাহস দিই। তাদের ভুলকে অপরাধ না বানিয়ে শেখার সুযোগ দিই। তাদের হাতে শুধু মোবাইল নয়, বই তুলে দিই; শুধু পরীক্ষার প্রশ্ন নয়, জীবনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শেখাই।

শিশুর শৈশব যেন চাপের কাছে হারিয়ে না যায়। তার হাসি যেন প্রতিযোগিতার ভারে ম্লান না হয়। তার স্বপ্ন যেন আমাদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার নিচে চাপা না পড়ে। কারণ একটি শিশুর হাসি শুধু আজকের আনন্দ নয়—সেটিই আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশার আলো।

লেখক : স্বত্বাধিকারী, উষার স্বাদকাহন

এইচআর/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইসলামী ব্যাংকের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে দুই পক্ষ
ইসলামী ব্যাংকের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে দুই পক্ষ

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং বক্তব্য রাখছেন ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও সনদ যাচাইয়ের পর চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা জানান, প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের এক দফা দাবি বকেয়া বেতন-ভাতাদিসহ কোনো শর্ত ছাড়াই চাকরিতে পুনর্বহাল। এর আগে গ্রাহক ফোরাম ব্যাংক খাতের সুশাসন ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। আজকের কর্মসূচিতেও তারা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এদিকে দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইএআর/জেএইচ  

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
স্থগিতের ১০ মাস পর ঢাকায় হচ্ছে পাকিস্তানি ব্যান্ডের কনসার্ট

স্থগিতের ১০ মাস পর ঢাকায় হচ্ছে পাকিস্তানি ব্যান্ডের কনসার্ট

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে মানদেব, কী প্রভাব দেশের বাণিজ্যে

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে মানদেব, কী প্রভাব দেশের বাণিজ্যে

এশিয়ান গেমসের পরই নারী দলের দায়িত্বে আসছেন নতুন হেড কোচ

এশিয়ান গেমসের পরই নারী দলের দায়িত্বে আসছেন নতুন হেড কোচ

খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে...
খালি পায়ে ৬,৮০৫ কিমি হেঁটে...

পায়ের তলা ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। কাঁটা ও কাচের টুকরাও বিঁধেছে। এমনকি কাঁটাঝোপের আঘাতে সংক্রমণ হয়ে এক সপ্তাহ হাঁটাও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবু থামেননি। আয়ারল্যান্ডের ইমন কেভেনি এমন কষ্ট সয়েই খালি পায়ে ৩৬৯ দিনে পাড়ি দিয়েছেন ৬ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পথ।এভাবে সবচেয়ে বেশি পথ হাঁটার নিজের আগে রেকর্ডটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কেভেনি।নিজের রেকর্ড পুনরুদ্ধারে কেভেনি এবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন। ৩৬৯ দিন পর গত ৭ মার্চ আয়ারল্যান্ডের মায়ো কাউন্টির নিজ শহর ক্ল্যারিমরিসে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ এ পথে কেভেনিকে নানা চড়াই-উতরাই ভূখণ্ড পাড়ি দিতে হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে।২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডজুড়ে ২ হাজার ৮০ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে প্রথমবার এই রেকর্ড গড়েছিলেন কেভেনি। ২০২৪ সালে তাঁর সেই রেকর্ড ভাঙেন পোল্যান্ডের পাওয়েল দুরাকিয়েভিচ। তিনি ৩ হাজার ৪০৯ কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটেছিলেন।কেভেনি এবার দুরাকিয়েভিচের রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ পথ হেঁটেছেন। অবশ্য এটাই কেভেনির একমাত্র দুঃসাহসিক যাত্রার রেকর্ড নয়। ২০২৩ সালে মাত্র ৫ দিন ৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে ইউনিসাইকেলে (এক চাকার সাইকেল) আয়ারল্যান্ড পাড়ি দিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়েন তিনি।৩৪ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা ইমন কেভেনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে বলেন, ‘খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটার রেকর্ডটি প্রথমবার গড়ার পর থেকেই আমি আবার বড় কোনো যাত্রায় বের হওয়ার কথা ভাবছিলাম। একটি দেশ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার পর একটি মহাদেশ অতিক্রম করাই পরবর্তী পদক্ষেপ বলে আমার মনে হয়েছিল। তাই ইস্তাম্বুল থেকে হেঁটে নিজ দেশ আয়ারল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
জগদীশপুরের তেঁতুলগাছ

জগদীশপুরের তেঁতুলগাছ

সন্তান অন্তর্মুখী হলে কীভাবে তার মন বুঝবেন

সন্তান অন্তর্মুখী হলে কীভাবে তার মন বুঝবেন

রবিশস্য হিসেবে চিয়া বীজ চাষ করবেন যেভাবে

রবিশস্য হিসেবে চিয়া বীজ চাষ করবেন যেভাবে

বিয়েতে নাচতে ডেকে দুই শিল্পীকে ধর্ষণ, সংস্কৃতি চর্চায় মন্দ হাওয়া
বিয়েতে নাচতে ডেকে দুই শিল্পীকে ধর্ষণ, সংস্কৃতি চর্চায় মন্দ হাওয়া

বিনোদনজগতের আলো ঝলমলে মঞ্চে দর্শকের চোখে থাকে শিল্পীর পরিবেশনা, পোশাক, নাচের ছন্দ আর হাততালির শব্দ। কিন্তু সেই মঞ্চের আড়ালে শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তা, যাতায়াত ও কাজের পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত- সেই প্রশ্নটি খুব কমই সামনে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সম্প্রতি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের কথা বলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি সেই অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। অতি সম্প্রতি সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে প্রান্তিক শিল্পীদের নানাভাবে হেনস্তার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমার প্রদর্শনী, কনসার্ট স্থগিতের বিষয়গুলো সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য উদ্বেগের। এরমধ্যেই এবার এলো জেলাটির সরাইলে দুই নৃত্যশিল্পীর ধর্ষণের খবর। জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই নারী নৃত্যশিল্পী। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতারও করেছে সরাইল থানা পুলিশ। বিষয়টি সংস্কৃতিকর্মীদের মনে অস্বস্তি ও তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এর প্রভাবটাও নেতিবাচক হবে বলে মনে করছেন অনেকে। শোবিজে অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী কিংবা নৃত্যশিল্পীদের কাজের ধরন অনেকটাই চুক্তিনির্ভর। বিশেষ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিয়ে, করপোরেট আয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা শিল্পীদের অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই কাজের প্রস্তাব আসে। পরিচিতি, পারিশ্রমিক ও অনুষ্ঠানের স্থান এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিল্পীরা কাজ গ্রহণ করেন। কিন্তু সমস্যাটা তৈরি হয় তখনই, যখন কাজের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তি বা আয়োজকের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না। কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আয়োজকের পরিচয়, অনুষ্ঠানের প্রকৃতি, সঠিক ভেন্যু এবং সেখানে কারা উপস্থিত থাকবেন- এসব বিষয় নিশ্চিত না করলে একজন শিল্পী অজান্তেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া কাজের প্লাটফর্ম হলেও যাচাই বাছাই জরুরিসরাইলের ঘটনাটিতে পুলিশের ভাষ্য ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে যোগাযোগের পর বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য দুই নৃত্যশিল্পীকে ডাকা হয়েছিল। নির্ধারিত পারিশ্রমিকের কথা বলে তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে নৌকায় তোলা এবং সেখানে তাদের ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু অপরাধের ভয়াবহতা নয়; বরং একজন শিল্পী কীভাবে একটি পেশাগত কাজের সূত্র ধরে এমন একটি অনিরাপদ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেলেন, সেটিও বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এই ঘটনাটি এটা বলছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের প্রস্তাব পেলেই সেগুলো যাচাই বাছাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয়। বর্তমানে শোবিজের অনেক শিল্পীর জন্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কাজ পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নতুন শিল্পীদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি কার্যকর। কোনো এজেন্সি বা পরিচিত প্রযোজকের মাধ্যমে নয়, সরাসরি ফোন নম্বর সংগ্রহ করে কাজের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। এই ব্যবস্থার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ অনলাইনে একজন ব্যক্তি নিজের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে তথ্য দেন, তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে। তাই শিল্পীর নিরাপত্তার জন্য একটি ভেরিফিকেশন সংস্কৃতি তৈরি হওয়া জরুরি। কাজের প্রস্তাব এলেই শুধু পারিশ্রমিক ও অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে আলোচনা না করে আয়োজকের পরিচয়, ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং অনুষ্ঠানের বিস্তারিত যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপরিচিত কোনো আয়োজকের সঙ্গে কাজ হলে একা না গিয়ে সহকারী, ম্যানেজার কিংবা বিশ্বস্ত কাউকে সঙ্গে রাখা এবং যাতায়াতের বিষয়টি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। নৃত্যশিল্পীরা কি শোবিজের তুলনামূলক অরক্ষিত কর্মী?বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে নৃত্যশিল্পীদের অবদান দীর্ঘদিনের। টেলিভিশন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সিনেমা, মিউজিক ভিডিও, স্টেজ শো ও ব্যক্তিগত আয়োজন- বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তারা কাজ করছেন। তবে সব নৃত্যশিল্পী সমান সাংগঠনিক সুরক্ষা পান না। অনেকেই ফ্রিল্যান্স বা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ করেন। ফলে কাজের সময় নিরাপত্তা, যাতায়াত, পারিশ্রমিক, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিংবা অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট কাঠামো সবকিছু সবসময় পরিষ্কার থাকে না। এ কারণেই এই শ্রেণির শিল্পীদের নিয়ে পেশাগত সংগঠন, ইভেন্ট আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একজন শিল্পী মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন মানেই তিনি আয়োজকের কাছে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় থাকবেন- এমন মানসিকতা বদলাতে হবে। শিল্পীর পারফরম্যান্স যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার নিরাপত্তাও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। ‘অনুষ্ঠানে নাচ’ মানেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু শিল্পীর নয়প্রায়ই কোনো নারী শিল্পী ঝুঁকির মুখে পড়লে তার পোশাক, পেশা, কোথায় গিয়েছিলেন কিংবা কার সঙ্গে গিয়েছিলেন- এসব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অথচ কোনো পেশার কারণে কেউ সহিংসতার শিকার হওয়ার দায় তার ওপর বর্তায় না। এই ঘটনাটিও সেই জায়গা থেকে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, তবে অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর। একজন নৃত্যশিল্পী কোনো অনুষ্ঠানে নাচতে গেছেন মানে এটি তার পেশাগত কাজ। সেই পেশাগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তার প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংস্কৃতিকর্মীদের দরকার নিরাপদ কাজের পরিবেশএই ঘটনা বিনোদন অঙ্গনের জন্য একটি বড় প্রশ্ন রেখে যায় শিল্পীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে আমরা কতটা প্রস্তুত? প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, নৃত্যদল ও শিল্পী সংগঠনগুলো চাইলে কিছু মৌলিক নিয়ম চালু করতে পারে। যেমন- কাজের লিখিত চুক্তি, আয়োজকের পরিচয় যাচাই, নির্দিষ্ট ভেন্যু নিশ্চিত করা, যাতায়াতের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তথ্য রাখা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রেও শিল্পীদের জন্য সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। নতুন শিল্পীরা যেন শুধু কাজ পাওয়ার আশায় যেকোনো প্রস্তাবে রাজি না হন, সে বিষয়ে পেশাগত গাইডলাইন থাকা দরকার। বিনোদনের আড়ালে যে বাস্তবতাদর্শক যখন কোনো অনুষ্ঠানে একজন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনা দেখেন, তখন সাধারণত তার পেছনের গল্পটি জানেন না। একজন শিল্পী কত দূর থেকে এসেছেন, কীভাবে অনুষ্ঠানে পৌঁছেছেন, কে তাকে নিয়ে এসেছে কিংবা অনুষ্ঠান শেষে কীভাবে ফিরবেন- এসব প্রশ্ন দর্শকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। কিন্তু শিল্পীর নিরাপত্তার জন্য এগুলোই কখনো কখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। সরাইলের ঘটনাটি তাই শুধু একটি অপরাধের অভিযোগ নয়; এটি বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের অনানুষ্ঠানিক ও চুক্তিভিত্তিক কাজের পরিবেশ নিয়েও ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নারী নৃত্যশিল্পীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সম্মান ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা এখন আর উপেক্ষা করার বিষয় নয়।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
পণ্যের আলোচনা করলেই বিজ্ঞাপন আসছে! ফোনের আড়ি পাতা বন্ধ করুন

পণ্যের আলোচনা করলেই বিজ্ঞাপন আসছে! ফোনের আড়ি পাতা বন্ধ করুন

শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার আইনগত বৈধতা নেই

শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার আইনগত বৈধতা নেই

বাড্ডায় চাঁদা না দেওয়ায় বাসায় ঢুকে যুবককে গুলি

বাড্ডায় চাঁদা না দেওয়ায় বাসায় ঢুকে যুবককে গুলি

0 Comments