জাতীয়

সকালে রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, আবার হতে পারে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সকালে রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, আবার হতে পারে
সকালে রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, আবার হতে পারে

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আজ রোববার। এদিন সকালে রাজধানীবাসীর ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে। সকাল সাতটার পরপরই কর্মস্থলগামী মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাড়া থাকে বেশি। ঠিক এ সময়টাতেই আজ ঝুম বৃষ্টি। নিজস্ব পরিবহন যাদের আছে, তাদের কষ্ট কম। কিন্তু যাদের নেই তারা রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা অন্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যানবাহনের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা দেখা গেছে।

রাজধানীর আসাদগেটে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আসাদগেটের মাথায় সকাল পৌনে আটটার দিকে দেখা গেল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যারা কষ্ট করে স্কুলগুলোর কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে, তারাও সেগুলো থেকে নেমে কোনো রকমে ছাতা মাথায় ছুটছিল। এই বৃষ্টি রাস্তায় পানি জমিয়েছিল। তাতে ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়ে। এত কষ্ট আর ভোগান্তি দেওয়া বৃষ্টি শেষ হয় সকাল সোয়া আটটার দিকে। তারপর ঝলমলে রোদ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকালে আজ ১৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। আজ দুপুরের দিকে আবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, বললেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। তিনি আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৬টা থেকে ৯টা—এই তিন ঘণ্টার মধ্যে ১৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তা খুব বেশি না–ও হতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।

ওমর ফারুক বলছিলেন, বৃষ্টি বেশি হতে পারে দেশের উত্তরাঞ্চলেও। তবে তা ভারী বৃষ্টি হবে না। একনাগাড়েও হবে না। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এসব এলাকায়।

এই মেঘ এই বৃষ্টি—এ সময়ের বৈশিষ্ট্য। তবে বৃষ্টি মাঝেমধ্যে হলেও গরম কমছে না। ভ্যাপসা গরম শুধু রাজধানীতে নয়, আছে সারা দেশেই।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সৌদিতে হুতিদের আক্রমণ মক্কা চুক্তির প্রথম অগ্নিপরীক্ষা  
সৌদিতে হুতিদের আক্রমণ মক্কা চুক্তির প্রথম অগ্নিপরীক্ষা  

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি হওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইয়েমেন ও তার আশপাশের অঞ্চলে নিজেদের সামরিক আধিপত্য বিস্তারে বড় ধরনের অভিযানে নেমেছে হুতিরা। মঙ্গলবার ইরানপন্থী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদি আরবে একযোগে একঝাঁক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।এরপর বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূলে তীব্র লড়াইয়ের পর সৌদি–সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরটি দখল করে নেয় তারা। পরের দিন শুক্রবার হুতিরা বাব আল–মানদেব প্রণালির মুখে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।গত সপ্তাহ পর্যন্ত মোখা বন্দরটি ছিল হুতিবিরোধী জোটের একটি শক্ত ঘাঁটি এবং তাদের আগ্রাসন ঠেকানোর প্রধান প্রতিরক্ষা প্রাচীর। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে হুতিরা উত্তরাঞ্চলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করার পথ তৈরি করেছে। তবে এই বিজয়ের আসল লাভ ইরানের।হুতিদের হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি এখন কী করতে পারেমোখা বন্দর বাব আল–মানদেব থেকে ৫০ মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত। ফলে এই বন্দর এবং পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় হুতিরা এখন কৌশলগত এই প্রণালির নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারছে, যা তাদের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির পথ আরও সহজ করে দেবে।জুলাই মাসে সৌদি স্বার্থে আঘাত হানার মাধ্যমে হুতিরা যে তৎপরতা শুরু করেছিল, তার প্রভাব বেশ সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে সৌদি তেল পরিবহনের জন্য লোহিত সাগর যখন বিকল্প পথ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই হুতিরা এই পদক্ষেপ নেয়।হুতি নেতারা তাঁদের এই অভিযানকে স্থানীয় লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও তেহরানের সঙ্গে তাঁদের সামরিক ও কৌশলগত অক্ষ যে আরও শক্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট।সৌদি আরব ও দেশটির তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে হুতিরা কার্যত ইরান যুদ্ধের এক নতুন রণক্ষেত্র বা ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ খুলে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।এই সামরিক জোটগুলোর কার্যকারিতা কতটুকু, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ছিল এই চুক্তির প্রথম পরীক্ষা। এ পর্যন্ত এর ফলাফল বেশ হতাশাজনক। তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং ইসলামাবাদ নিশ্চিত করেছে যে মক্কা চুক্তিটি এই যুদ্ধের জন্য প্রযোজ্য নয়।ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ তুলতে হবে। যার সহজ অর্থ হলো, রাজধানী সানাসহ হুতি–নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর থেকে সৌদি আরবের যাবতীয় যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করা।অঞ্চলের এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে একটি নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে চাইছে ইরান ও তার মিত্ররা।হুতিদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাতে থাকা বিকল্পগুলো দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হুতিদের পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয়।হুতিদের এই সামরিক সাফল্য একটি কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। রণক্ষেত্রে জয়ের পর এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি তাদের মূল দাবি ও লোহিত সাগরে আধিপত্য বিস্তারের নীতিতে এখন আরও বেশি অনড় অবস্থান নেবে, সেটাই স্বাভাবিক। সহজ কোনো সমাধান এই মুহূর্তে কারও হাতে নেই।হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে একটি সাঁজোয়া যানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা। প্রণালি থেকে সাগরেগত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রায় পাঁচ মাস হুতিরা একপ্রকার নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সেই আপেক্ষিক শান্তি ভেঙে যায়। তেহরান থেকে হুতিদের একটি প্রতিনিধিদলকে বিমানে করে সানায় উড়িয়ে নিয়ে আসে ইরান, যা ছিল ইয়েমেনের আকাশসীমার ওপর সৌদি জোট ও ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল।বিমানটিকে অবতরণে বাধা দিতে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার সানা বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েতে বোমা হামলা চালায়। বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বন্দরে অবতরণ করলেও, সৌদি বাহিনীর ওই হামলা হুতিদের অস্ত্রবিরতি চুক্ত ভেঙে ফেলার একটি নিখুঁত বাহানা এনে দেয়।ঠিক এরপরই গোষ্ঠীটি সৌদি স্বার্থে নতুন করে হামলা শুরু করে এবং ইয়েমেনে মোতায়েন থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে জোরদার সামরিক অভিযান চালায়।হুতিদের এই পুরো কৌশলের মূলে রয়েছে সৌদি আরবের বর্তমান দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া। ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলায় লোহিত সাগরই হয়ে উঠেছিল সৌদি তেলশিল্পের প্রধান ভরসা। কিন্তু জুলাইয়ে হুতিরা নতুন করে আক্রমণ শুরু করার পর বাব আল–মানদেব দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানি প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।হুতিরা যে কারণে সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়ালঅন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ হুতিদের চরমপন্থী লক্ষ্যগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০২২ সালের অস্ত্রবিরতির পর তৈরি হওয়া ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এমন ঝুলন্ত পরিস্থিতিতে গোষ্ঠীটি হতাশ হয়ে পড়েছিল এবং ১২ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমাধান ঝুলিয়ে রাখার জন্য তারা রিয়াদকে দায়ী করে আসছিল।২০২৩ সালে জাতিসংঘ একটি সমঝোতার খসড়া তৈরি করে, যার মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক আলোচনা শুরুর বিনিময়ে হুতিরা সব সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন মেটানো এবং দেশের তেল-গ্যাসের রাজস্বের একটি অংশ পাওয়ার সুযোগ পেত।আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং দেশে কোনো তেল-গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকা হুতিদের জন্য এটি ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে তারা গাজায় হামাসের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা চালানো শুরু করে।  যুদ্ধের ধাক্কা সামলে কীভাবে টিকল ইরান গাজা যুদ্ধের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইয়েমেনে হুতিদের ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক আঘাত হানে। এর কয়েক মাস পর ইসরায়েলি বাহিনী হুতিদের মূল অবকাঠামো ধ্বংস করে এবং তাদের ডি ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক প্রধানকে হত্যা করে।কিন্তু এসব অভিযান হুতিদের দমানোর বদলে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে আঘাত হেনে হুতিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অক্ষশক্তি’তে নিজেদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছে।  সম্প্রতি ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হুতিরা বর্তমানে নিজেদের দেশে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। ফলে ইরান থেকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ না পেলেও তারা নিজেদের অস্ত্রাগারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পেরেছে।বাব আল মানদেব রিয়াদের জন্য রেডলাইনলোহিত সাগরের ওপর সৌদি আরবের চরম নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে হুতিরা হয়তো ভেবেছিল রিয়াদ দ্রুত তাদের সব দাবি মেনে নেবে। কিন্তু নতজানু হওয়ার বদলে হুতিদের এই আগ্রাসন রিয়াদকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।ওয়াশিংটনের অস্থিতিশীল নীতির কথা মাথায় রেখে সৌদি আরব বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটের দিকে জোর দিয়েছে। গত ৩০ জুলাই রিয়াদ তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান, জিবুতিসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে লোহিত সাগরে একটি যৌথ নৌ জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।এর এক সপ্তাহ পর মক্কায় এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ক্রাউন প্রিন্স একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।তবে এই সামরিক জোটগুলোর কার্যকারিতা কতটুকু, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ছিল এই চুক্তির প্রথম পরীক্ষা। এ পর্যন্ত এর ফলাফল বেশ হতাশাজনক। তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং ইসলামাবাদ নিশ্চিত করেছে যে মক্কা চুক্তিটি এই যুদ্ধের জন্য প্রযোজ্য নয়।সৌদি আরব হয়তো হুতিদের এই সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নতুন মিত্রদের নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে।পাশাপাশি সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমাগত সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে। গত ২৮ জুলাই হুতিদের অনুগত ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর সৌদি ও মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে হামলা চালায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সৌদিদের পাশে এসে দাঁড়াবে। তবে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।হুতিদের মোখা ও পেরিম দ্বীপ দখল ওয়াশিংটনকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করলেও ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সামরিক জটিলতায় জড়াতে রাজি নয়। বৃহস্পতিবারের হুতি আগ্রাসনের পর সৌদি আরবের বিমান হামলার অনুরোধ ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন।হুতিরা যদি মোখা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলে, তবে তা সরকারি বাহিনীর মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেবে এবং নিজেদের ভেতরের ফাটল আরও চওড়া করবে।সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে হুতিদের হামলা দ্বিমুখী চাপযুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা। যুদ্ধের অধিকাংশ সময় সৌদি আরব লোহিত সাগরের বন্দরগুলো দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সচল রেখেছিল।কিন্তু হুতিদের ব্যবহার করে ইরান এখন রিয়াদের সেই বিকল্প পথটিও বন্ধ করার শক্ত সুযোগ পেয়ে গেছে।তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো—একদিকে বাব আল–মানদেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই কৌশল সফল হলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যের ট্রিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে।যদিও তেহরান সরাসরি হুতিদের দৈনন্দিন সামরিক আদেশ দেয় না, তবে তাদের ওপর ইরানের প্রভাব অপরিসীম। সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি মিলিশিয়াদের যুক্ত করার হুতিদের সিদ্ধান্ত ইয়েমেন সংকটকে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সঙ্গে পেঁচিয়ে ফেলেছে।এ ছাড়া সোমালিয়া ও সুদানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হুতিদের সাম্প্রতিক যোগাযোগ ইঙ্গিত দেয় যে এই সংঘাত খুব দ্রুত পুরো হর্ন অব আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।বর্তমান ইরান যুদ্ধ, হুতিদের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং জ্বালানি বাণিজ্যে তাদের যৌথ বাধা দেওয়ার ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি এখন আরও ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে রূপ নিচ্ছে। আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই পার হয়ে ইয়েমেন এখন বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সংঘাতের একটি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।হুতি যোদ্ধা, সানা, ইয়েমেন সামরিক অভিযান বনাম রাজনৈতিক সমাধানসংঘাতের এই মারাত্মক চক্র শুরু হওয়ার পর এখন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সৌদি আরব হয়তো হুতিদের এই সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নতুন মিত্রদের নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে।কিন্তু স্থলভাগের দুর্বলতা দূর না করে শুধু বিমান হামলা চালালে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে, যা মূলত হুতি ও ইরানের কৌশলকেই জয়ী করবে। দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সঙ্গে সামরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পথকেও জটিল করে তুলবে।তবে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাত থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার একটি ক্ষীণ সুযোগ এখনো রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারকে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের খসড়া তৈরি করতে হবে।মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য কি ইরানএমন একটি রাজনৈতিক চুক্তিতে হুতিদের আনতে হলে সৌদি ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সামরিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে হুতিরা বুঝতে পারে যে অস্ত্রের মুখে তারা সব দাবি আদায় করতে পারবে না।অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষের কারণে হুতিদের ওপরও চাপ রয়েছে, তাই তাদের যদি বোঝানো যায় যে সামরিকভাবে জয় অসম্ভব, তবে তারা আলোচনায় ফিরতে বাধ্য হতে পারে।  একটি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করা হয়তো সহজ হবে না এবং রাতারাতি তা সম্ভবও নয়। কিন্তু এর বিকল্প আরও ভয়াবহ—একটি অনিয়ন্ত্রিত, দীর্ঘস্থায়ী ও আঞ্চলিক যুদ্ধ, যা শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।এপ্রিল লংলে অ্যালে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো; অ্যালিসন মাইনর আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক।ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
যে দোকানে এখনো মেলে হারিয়ে যেতে বসা বেতের পণ্য

যে দোকানে এখনো মেলে হারিয়ে যেতে বসা বেতের পণ্য

দিয়োমান্দে অবিশ্বাস্য প্রতিভা, তবে শিখতে হবে অনেক: মোরিনিও

দিয়োমান্দে অবিশ্বাস্য প্রতিভা, তবে শিখতে হবে অনেক: মোরিনিও

চর আষাড়িয়াদহের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরবন্দি ২০ পরিবার

চর আষাড়িয়াদহের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরবন্দি ২০ পরিবার

এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী
এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী

দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন বিদায়ের বার্তা। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের নাম পৌঁছেছিল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। তাঁর সঙ্গে বর্তমান দুই শীর্ষ নেতার দেখা করার পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা ছিল; কিন্তু এরপর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘোষণা আসেনি। শেষ মুহূর্তে কী কারণে আটকে গেল ছাত্রদলের নতুন কমিটি? বিএনপি, ছাত্রদলসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিবেচনা শুরু হয়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণদের সামনে আনা হবে, নাকি দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকা অভিজ্ঞ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে—মূল আলোচনা এখন তা নিয়েই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া থেমে নেই। তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে। এর সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সংগঠনের ফল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা।শেষ মুহূর্তে যে পরামর্শনতুন কমিটি গঠনের আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার পরপরই নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল। প্রথমে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছিল।কিন্তু এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তারেক রহমানকে বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন–জি’ শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে নেতৃত্ব গঠনের পরামর্শ দেন।সূত্রটির ভাষ্য, এরপর সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনা এবং দীর্ঘদিন আন্দোলন–সংগ্রামে থাকা অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন মত আসে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কে হবেন, সেটি তারেক রহমান মোটামুটি ঠিক করে রেখেছেন। মূল বিবেচনা এখন সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য শীর্ষ পদগুলো নিয়ে। অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে ভূমিকা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন বিষয় মিলিয়ে নেতৃত্ব সাজানোর চেষ্টা চলছে।তবে অন্য সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ দুই পদে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। কোন পদে কাকে রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।তরুণ না অভিজ্ঞ, নাকি দুইয়ের সমন্বয়নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলেছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ে ছাত্রদলকে আরও তারুণ্যনির্ভর করার পক্ষে মত রয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে অপেক্ষাকৃত পুরোনো শিক্ষাবর্ষের নেতাদের প্রাধান্য নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনাও আছে।বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেতৃত্বের বয়স ও শিক্ষাজীবনের ব্যবধান কমানো এবং নতুন প্রজন্মের ভাষা ও প্রত্যাশা বোঝার জন্য অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের সামনে আনার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।তবে তারেক রহমান যাঁদের পরামর্শ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই এই মতের সঙ্গে একমত নন। সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র বলেছে, গত ১৫ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠে থাকা নেতাদের একটি অংশ মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। ছাত্রলীগকে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে। ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কৌশল সম্পর্কেও তাঁরা জানেন। এই নেতাদের পুরোপুরি বাদ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব তুলনামূলক জুনিয়রদের হাতে দেওয়া ঠিক হবে না—এমন মতও তারেক রহমানের কাছে গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই অবস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। শীর্ষ দুই পদে একজন তুলনামূলক সিনিয়র ও আরেকজন জুনিয়র নেতাকে রাখার চিন্তা রয়েছে। সিনিয়র নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।তবে ‘সিনিয়র’ ও ‘জুনিয়র’ বলতে ঠিক কোন শিক্ষাবর্ষ বোঝানো হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শীর্ষ পদে আগ্রহীদের মধ্যে ২০০৮–০৯, ২০০৯–১০ ও ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেমন রয়েছেন, তেমনি ২০১৪–১৫ ও ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষেরও অনেকে আছেন।বিবেচনায় ক্যাম্পাসের ভোটওছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে সংগঠনের ফলও নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনায় এসেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো ফল করেছেন। সেই তুলনায় ছাত্রদলের ফল ছিল দুর্বল। ফলে আগামী ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে সংগঠন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, এমন নেতৃত্ব আনার পক্ষে মত এসেছে, যাঁরা শুধু দলীয় কর্মসূচিতে নেতা–কর্মীদের সক্রিয় রাখবেন না; সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছেও সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারবেন।শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইনতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় সংগঠনের ভেতরের শৃঙ্খলা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের সক্ষমতার বিষয়টিও এসেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনের মূল্যায়ন—ছাত্রশিবিরে কেন্দ্র থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত তুলনামূলক সুসংগঠিত নির্দেশনা ও তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। বিপরীতে ছাত্রদল এবং অতীতে ছাত্রলীগে বিভিন্ন নেতা ও পক্ষকেন্দ্রিক গ্রুপ–উপগ্রুপের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তাঁর ভাষ্য, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে শুধু কেন্দ্রীয় কমিটি পরিচালনা করলে হবে না; বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও কলেজ পর্যায়ের সংগঠনকেও একই সাংগঠনিক ধারায় পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে।অন্য সংগঠন থেকে এসে ছাত্রদলে জায়গা নেওয়া ঠেকানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। একটি সূত্র বলেছে, অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার ক্ষেত্রে তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ভালোভাবে যাচাইয়ের পক্ষে মত রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা নেতাদের সাংগঠনিক নিবেদনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।ছবিতে উপরে ডান থেকে আমান উল্লাহ আমান, মনজুরুল রিয়াদ, মমিনুল ইসলাম জিসান ও ইব্রাহিম খলিল; নিচে বাঁ থেকে রাজু আহমেদ, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, নাহিদুজ্জামান শিপন ও আবিদুল ইসলাম খানঘোষণা কবেরাকিবুল ইসলাম–নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ মার্চ। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে গত ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, সে বিষয়ে তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায় থেকে নাম ও মতামত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নিজেই।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক দুটি সূত্র জানায়, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ছাত্রদলের নতুন কমিটি ‘যেকোনো সময়’ ঘোষণা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় তাঁরা জানাতে পারেননি।এই অপেক্ষার সঙ্গে এখন প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নিতে তারেক রহমান নিউইয়র্কে যাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির আরেকটি সূত্র বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার আগে নতুন কমিটি ঘোষণার সুযোগ এখনো রয়েছে। সফরের আগে সিদ্ধান্ত না এলে দেশে ফেরার পর কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি হয়ে যাবে। নতুন কমিটি হওয়ার আগে আমরা স্বাভাবিক গতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি, শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যারা

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ইতালির ভেনিসে সেরা হলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী

ইতালির ভেনিসে সেরা হলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী

ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ, মিলছে না সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ, মিলছে না সন্ধান

মসজিদের কার্পেটের নকশায় মাথার আকৃতি থাকলে কি নামাজ হবে?

মসজিদের কার্পেটের নকশায় মাথার আকৃতি থাকলে কি নামাজ হবে?

রিমোর্টের সাইন জানাবে এসির কোথায় কী সমস্যা, জানতেন আগে?
রিমোর্টের সাইন জানাবে এসির কোথায় কী সমস্যা, জানতেন আগে?

গরমের দিনে এসি চালু করে হঠাৎ রিমোটের ডিসপ্লেতে অপরিচিত কোনো চিহ্ন দেখা গেলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। এসির রিমোটে থাকা প্রতিটি প্রতীকের আলাদা অর্থ রয়েছে। কোনোটি শুধু এসির নির্দিষ্ট মোড চালু থাকার কথা জানায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সংকেত বা ইরোর কোড যন্ত্রে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই রিমোটের ডিসপ্লেতে কী দেখাচ্ছে, সেটি জানা থাকলে অনেক সময় সমস্যার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। বরফের চিহ্ন রিমোটে বরফের টুকরোর মতো চিহ্ন সাধারণত কুল মোড বোঝায়। অর্থাৎ এসি ঘর ঠান্ডা করার জন্য কাজ করছে। এটি নিজে কোনো সমস্যার সংকেত নয়। তবে কুল মোড চালু থাকা সত্ত্বেও এসি ঠান্ডা না করলে ফিল্টার নোংরা, রেফ্রিজারেন্টের সমস্যা বা অন্য কোনো ত্রুটি থাকতে পারে। আরও পড়ুন এসি থেকে বাষ্পের মতো ধোঁয়া বের হলে যা করবেন সূর্যের চিহ্ন সূর্যের প্রতীক সাধারণত হিট মোড নির্দেশ করে। যেসব এসিতে গরম বাতাস দেওয়ার সুবিধা রয়েছে, সেখানে এই মোড ব্যবহার করা হয়। গরমের সময় ভুল করে এই মোড চালু হয়ে গেলে ঠান্ডার বদলে উষ্ণ বাতাস আসতে পারে। তাই রিমোটে সূর্যের চিহ্ন দেখা গেলে প্রথমেই মোড সেটিং পরীক্ষা করুন। পানির ফোঁটার চিহ্ন পানির ফোঁটার প্রতীক সাধারণত ড্রাই মোড বোঝায়। এই মোডের মূল কাজ ঘরের আর্দ্রতা কমানো। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি কাজে আসতে পারে। তবে এই চিহ্ন দেখালেই এসিতে পানি জমেছে বা লিক হচ্ছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ফ্যানের চিহ্ন ফ্যানের প্রতীক সাধারণত ফ্যান মোড নির্দেশ করে। এ অবস্থায় এসি মূলত বাতাস সঞ্চালন করে, কিন্তু সবসময় কম্প্রেসর চালিয়ে ঘর ঠান্ডা করে না। ফলে এই চিহ্ন দেখা গেলে এসি নষ্ট হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। চাঁদের চিহ্ন চাঁদের প্রতীক থাকলে সাধারণত স্লিপ মোড চালু রয়েছে। রাতে আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং অনেক মডেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এই মোড ব্যবহার করা হয়। তাই রিমোটে চাঁদের চিহ্ন দেখলে সেটিকে ত্রুটি হিসেবে ভাববেন না। তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন রিমোটে সেট করা তাপমাত্রা এবং ঘরের বাস্তব তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে। অনেক এসিতে টেম্পারেচার ডিসপ্লে থেকে সেটিং দেখা যায়। কিন্তু এসি দীর্ঘ সময় চলার পরও ঘর ঠান্ডা না হলে শুধু রিমোটের তাপমাত্রা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ফিল্টার, আউটডোর ইউনিট বা কুলিং সিস্টেম পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। আরও পড়ুন সারারাত এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না ইরোর বা অস্বাভাবিক কোড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরোর কোড। কিছু এসিতে ই১, ই২, ই৩, পি১, এফ১-এর মতো কোড দেখা যেতে পারে। এগুলোর অর্থ ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে আলাদা হতে পারে। কোনো মডেলে সেন্সরের সমস্যা, আবার অন্য মডেলে যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন বা অন্য কোনো ত্রুটি বোঝাতে একই ধরনের কোড ব্যবহার করা হতে পারে। তাই শুধু কোড দেখে নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যাটারির চিহ্ন রিমোটে ব্যাটারির আইকন দেখা গেলে সাধারণত রিমোটের ব্যাটারি দুর্বল হয়ে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তখন এসির কমান্ড ঠিকমতো কাজ না করা, ডিসপ্লে অস্পষ্ট হওয়া বা রিমোট থেকে সিগন্যাল না যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। ব্যাটারি বদলানোর পরও সমস্যা থাকলে রিমোট বা এসির সেন্সরে সমস্যা থাকতে পারে। তাহলে কোন সাইন দেখলে কী করবেন? রিমোটের বরফ, সূর্য, ফোঁটা, ফ্যান বা চাঁদের প্রতীক সাধারণত মোড নির্দেশ করে, এগুলোকে সরাসরি এসির ত্রুটি ভাবার কারণ নেই। অন্যদিকে ইরোর কোড, বারবার সতর্ক সংকেত, অস্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা দেখানো কিংবা রিমোটের কমান্ডে এসি সাড়া না দেওয়া হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো এসির ব্যবহারবিধি বা ম্যানুয়ালে দেওয়া কোডের তালিকা দেখে অর্থ নিশ্চিত করা। সমস্যা থেকে গেলে নিজে এসি খুলে পরীক্ষা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়াই ভালো। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
রূপলাল হাউস: রাজকীয় অতীতের এমন পরিণতি কেন

রূপলাল হাউস: রাজকীয় অতীতের এমন পরিণতি কেন

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বন্ধুত্ব ও নেটওয়ার্কিংটা যেমন

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বন্ধুত্ব ও নেটওয়ার্কিংটা যেমন

হুটহাট বৃষ্টিতে ইলেকট্রিক স্কুটার ভালো রাখতে যেসব ভুল করবেন না

হুটহাট বৃষ্টিতে ইলেকট্রিক স্কুটার ভালো রাখতে যেসব ভুল করবেন না

0 Comments