ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি হওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইয়েমেন ও তার আশপাশের অঞ্চলে নিজেদের সামরিক আধিপত্য বিস্তারে বড় ধরনের অভিযানে নেমেছে হুতিরা। মঙ্গলবার ইরানপন্থী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদি আরবে একযোগে একঝাঁক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এরপর বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূলে তীব্র লড়াইয়ের পর সৌদি–সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরটি দখল করে নেয় তারা। পরের দিন শুক্রবার হুতিরা বাব আল–মানদেব প্রণালির মুখে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
গত সপ্তাহ পর্যন্ত মোখা বন্দরটি ছিল হুতিবিরোধী জোটের একটি শক্ত ঘাঁটি এবং তাদের আগ্রাসন ঠেকানোর প্রধান প্রতিরক্ষা প্রাচীর। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে হুতিরা উত্তরাঞ্চলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করার পথ তৈরি করেছে। তবে এই বিজয়ের আসল লাভ ইরানের।
মোখা বন্দর বাব আল–মানদেব থেকে ৫০ মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত। ফলে এই বন্দর এবং পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় হুতিরা এখন কৌশলগত এই প্রণালির নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারছে, যা তাদের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির পথ আরও সহজ করে দেবে।
জুলাই মাসে সৌদি স্বার্থে আঘাত হানার মাধ্যমে হুতিরা যে তৎপরতা শুরু করেছিল, তার প্রভাব বেশ সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে সৌদি তেল পরিবহনের জন্য লোহিত সাগর যখন বিকল্প পথ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই হুতিরা এই পদক্ষেপ নেয়।
হুতি নেতারা তাঁদের এই অভিযানকে স্থানীয় লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও তেহরানের সঙ্গে তাঁদের সামরিক ও কৌশলগত অক্ষ যে আরও শক্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট।
সৌদি আরব ও দেশটির তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে হুতিরা কার্যত ইরান যুদ্ধের এক নতুন রণক্ষেত্র বা ‘দ্বিতীয় ফ্রন্ট’ খুলে দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই সামরিক জোটগুলোর কার্যকারিতা কতটুকু, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ছিল এই চুক্তির প্রথম পরীক্ষা। এ পর্যন্ত এর ফলাফল বেশ হতাশাজনক। তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং ইসলামাবাদ নিশ্চিত করেছে যে মক্কা চুক্তিটি এই যুদ্ধের জন্য প্রযোজ্য নয়।
ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ তুলতে হবে। যার সহজ অর্থ হলো, রাজধানী সানাসহ হুতি–নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর থেকে সৌদি আরবের যাবতীয় যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইয়েমেন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করা।
অঞ্চলের এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে একটি নতুন বাস্তবতার জন্ম দিতে চাইছে ইরান ও তার মিত্ররা।
হুতিদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাতে থাকা বিকল্পগুলো দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হুতিদের পুরোপুরি দমন করা সম্ভব নয়।
হুতিদের এই সামরিক সাফল্য একটি কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। রণক্ষেত্রে জয়ের পর এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি তাদের মূল দাবি ও লোহিত সাগরে আধিপত্য বিস্তারের নীতিতে এখন আরও বেশি অনড় অবস্থান নেবে, সেটাই স্বাভাবিক। সহজ কোনো সমাধান এই মুহূর্তে কারও হাতে নেই।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রায় পাঁচ মাস হুতিরা একপ্রকার নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সেই আপেক্ষিক শান্তি ভেঙে যায়। তেহরান থেকে হুতিদের একটি প্রতিনিধিদলকে বিমানে করে সানায় উড়িয়ে নিয়ে আসে ইরান, যা ছিল ইয়েমেনের আকাশসীমার ওপর সৌদি জোট ও ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
বিমানটিকে অবতরণে বাধা দিতে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার সানা বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েতে বোমা হামলা চালায়। বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বন্দরে অবতরণ করলেও, সৌদি বাহিনীর ওই হামলা হুতিদের অস্ত্রবিরতি চুক্ত ভেঙে ফেলার একটি নিখুঁত বাহানা এনে দেয়।
ঠিক এরপরই গোষ্ঠীটি সৌদি স্বার্থে নতুন করে হামলা শুরু করে এবং ইয়েমেনে মোতায়েন থাকা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে জোরদার সামরিক অভিযান চালায়।
হুতিদের এই পুরো কৌশলের মূলে রয়েছে সৌদি আরবের বর্তমান দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া। ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলায় লোহিত সাগরই হয়ে উঠেছিল সৌদি তেলশিল্পের প্রধান ভরসা। কিন্তু জুলাইয়ে হুতিরা নতুন করে আক্রমণ শুরু করার পর বাব আল–মানদেব দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানি প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ হুতিদের চরমপন্থী লক্ষ্যগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০২২ সালের অস্ত্রবিরতির পর তৈরি হওয়া ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এমন ঝুলন্ত পরিস্থিতিতে গোষ্ঠীটি হতাশ হয়ে পড়েছিল এবং ১২ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমাধান ঝুলিয়ে রাখার জন্য তারা রিয়াদকে দায়ী করে আসছিল।
২০২৩ সালে জাতিসংঘ একটি সমঝোতার খসড়া তৈরি করে, যার মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক আলোচনা শুরুর বিনিময়ে হুতিরা সব সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন মেটানো এবং দেশের তেল-গ্যাসের রাজস্বের একটি অংশ পাওয়ার সুযোগ পেত।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং দেশে কোনো তেল-গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকা হুতিদের জন্য এটি ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে তারা গাজায় হামাসের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা চালানো শুরু করে।
গাজা যুদ্ধের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইয়েমেনে হুতিদের ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক আঘাত হানে। এর কয়েক মাস পর ইসরায়েলি বাহিনী হুতিদের মূল অবকাঠামো ধ্বংস করে এবং তাদের ডি ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক প্রধানকে হত্যা করে।
কিন্তু এসব অভিযান হুতিদের দমানোর বদলে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে আঘাত হেনে হুতিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অক্ষশক্তি’তে নিজেদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছে।
সম্প্রতি ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হুতিরা বর্তমানে নিজেদের দেশে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। ফলে ইরান থেকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ না পেলেও তারা নিজেদের অস্ত্রাগারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পেরেছে।

লোহিত সাগরের ওপর সৌদি আরবের চরম নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে হুতিরা হয়তো ভেবেছিল রিয়াদ দ্রুত তাদের সব দাবি মেনে নেবে। কিন্তু নতজানু হওয়ার বদলে হুতিদের এই আগ্রাসন রিয়াদকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।
ওয়াশিংটনের অস্থিতিশীল নীতির কথা মাথায় রেখে সৌদি আরব বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটের দিকে জোর দিয়েছে। গত ৩০ জুলাই রিয়াদ তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান, জিবুতিসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে লোহিত সাগরে একটি যৌথ নৌ জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।
এর এক সপ্তাহ পর মক্কায় এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ক্রাউন প্রিন্স একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
তবে এই সামরিক জোটগুলোর কার্যকারিতা কতটুকু, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ছিল এই চুক্তির প্রথম পরীক্ষা। এ পর্যন্ত এর ফলাফল বেশ হতাশাজনক। তুরস্ক বা পাকিস্তান কেউই ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং ইসলামাবাদ নিশ্চিত করেছে যে মক্কা চুক্তিটি এই যুদ্ধের জন্য প্রযোজ্য নয়।
সৌদি আরব হয়তো হুতিদের এই সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নতুন মিত্রদের নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে।
পাশাপাশি সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমাগত সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে। গত ২৮ জুলাই হুতিদের অনুগত ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর সৌদি ও মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে হামলা চালায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সৌদিদের পাশে এসে দাঁড়াবে। তবে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
হুতিদের মোখা ও পেরিম দ্বীপ দখল ওয়াশিংটনকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করলেও ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো সামরিক জটিলতায় জড়াতে রাজি নয়। বৃহস্পতিবারের হুতি আগ্রাসনের পর সৌদি আরবের বিমান হামলার অনুরোধ ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হুতিরা যদি মোখা ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলে, তবে তা সরকারি বাহিনীর মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেবে এবং নিজেদের ভেতরের ফাটল আরও চওড়া করবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা। যুদ্ধের অধিকাংশ সময় সৌদি আরব লোহিত সাগরের বন্দরগুলো দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সচল রেখেছিল।
কিন্তু হুতিদের ব্যবহার করে ইরান এখন রিয়াদের সেই বিকল্প পথটিও বন্ধ করার শক্ত সুযোগ পেয়ে গেছে।
তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো—একদিকে বাব আল–মানদেবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই কৌশল সফল হলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যের ট্রিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে।
যদিও তেহরান সরাসরি হুতিদের দৈনন্দিন সামরিক আদেশ দেয় না, তবে তাদের ওপর ইরানের প্রভাব অপরিসীম। সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি মিলিশিয়াদের যুক্ত করার হুতিদের সিদ্ধান্ত ইয়েমেন সংকটকে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সঙ্গে পেঁচিয়ে ফেলেছে।
এ ছাড়া সোমালিয়া ও সুদানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হুতিদের সাম্প্রতিক যোগাযোগ ইঙ্গিত দেয় যে এই সংঘাত খুব দ্রুত পুরো হর্ন অব আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বর্তমান ইরান যুদ্ধ, হুতিদের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং জ্বালানি বাণিজ্যে তাদের যৌথ বাধা দেওয়ার ক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি এখন আরও ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে রূপ নিচ্ছে। আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই পার হয়ে ইয়েমেন এখন বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সংঘাতের একটি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

সংঘাতের এই মারাত্মক চক্র শুরু হওয়ার পর এখন পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সৌদি আরব হয়তো হুতিদের এই সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নতুন মিত্রদের নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে।
কিন্তু স্থলভাগের দুর্বলতা দূর না করে শুধু বিমান হামলা চালালে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে, যা মূলত হুতি ও ইরানের কৌশলকেই জয়ী করবে। দীর্ঘস্থায়ী ইয়েমেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সঙ্গে সামরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পথকেও জটিল করে তুলবে।
তবে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাত থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার একটি ক্ষীণ সুযোগ এখনো রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারকে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের খসড়া তৈরি করতে হবে।
এমন একটি রাজনৈতিক চুক্তিতে হুতিদের আনতে হলে সৌদি ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সামরিকভাবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে হুতিরা বুঝতে পারে যে অস্ত্রের মুখে তারা সব দাবি আদায় করতে পারবে না।
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্ভিক্ষের কারণে হুতিদের ওপরও চাপ রয়েছে, তাই তাদের যদি বোঝানো যায় যে সামরিকভাবে জয় অসম্ভব, তবে তারা আলোচনায় ফিরতে বাধ্য হতে পারে।
একটি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করা হয়তো সহজ হবে না এবং রাতারাতি তা সম্ভবও নয়। কিন্তু এর বিকল্প আরও ভয়াবহ—একটি অনিয়ন্ত্রিত, দীর্ঘস্থায়ী ও আঞ্চলিক যুদ্ধ, যা শুরু করা সহজ হলেও শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।
এপ্রিল লংলে অ্যালে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো; অ্যালিসন মাইনর আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক।
ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আরএমএম/
কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকা চেয়ে মাকে মারধর করেন ছেলে। তা দেখে বাধা দিতে এগিয়ে আসেন বড় ভাই। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেবকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গেন্দু মিয়া (৩০) ওই গ্রামের কালাচান মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক্টরচালক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন। শনিবার রাতে মাদকের টাকা চেয়ে তিনি মায়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন। বিষয়টি দেখে বড় ভাই হৃদয় মিয়া বাধা দিলে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হৃদয় মিয়া ছুরি দিয়ে গেন্দু মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা দ্রুত গেন্দু মিয়াকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নিহত গেন্দু মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এসকে রাসেল/কেজে/জেআইএম
পোশাক নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ভারতের দক্ষিণি সিনেমার অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। গত মে মাসে একটি হীরার গয়নার প্রদর্শনীতে পরা পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, অনুষ্ঠানের জন্য তাঁর পোশাকটি উপযুক্ত ছিল কি না।সম্প্রতি রাজিনি হরিদাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, পোশাকের কারণে নয়, অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রীদের আচরণে তিনি অস্বস্তি বোধ করেছিলেন। তাঁর দাবি, আলোকচিত্রীরা তাঁর মুখের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর কোণ থেকে ছবি তুলছিলেন।ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীঐশ্বরিয়া বলেন, ‘তারা আমার মুখের দিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন না। আমি অস্বস্তি বোধ করেছিলাম। অস্বস্তি বোধ করলে শরীরী ভাষাতেও তার প্রভাব পড়ে। আমার মনে হয়েছিল, আমার ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হয়েছে।’অনুষ্ঠানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অস্বস্তির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকেই বিষয়টির কারণ হিসেবে তাঁর পোশাককে দায়ী করেন। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, পোশাকটি যদি অস্বস্তিকরই হয়, তাহলে তিনি সেটি পরেছিলেন কেন।এসব মন্তব্যের জবাবে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘সংস্কৃতি কি শুধু নারীর ক্লিভেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ? আমরা যেভাবে আচরণ করি, সেখানেও তো সংস্কৃতি আছে।’অভিনেত্রীর ভাষ্য, নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা বা তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলার বিষয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। অথচ একজন নারী কী পরছেন, তাঁর গলার অংশ কতটা ঢাকা—এসব নিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের সমালোচনা।ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীশুরুতে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে হওয়া ট্রলকে গুরুত্ব দেননি ঐশ্বরিয়া। প্রথম ২৪ ঘণ্টা এসব নিয়ে হেসেছেন তিনি। কিন্তু পরে আলোচনা বাড়তে থাকলে বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে।ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘প্রথম ২৪ ঘণ্টা আমি বিষয়টি নিয়ে হেসেছিলাম। কিন্তু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে পরিমাণ আলোচনা তৈরি হলো, তাতে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমরা কেন আমাদের জিডিপি নিয়ে আলোচনা করতে পারি না? কত বৃদ্ধ মা–বাবাকে পরিত্যক্ত হতে হচ্ছে, তা নিয়ে কেন কথা বলতে পারি না? আমার ক্লিভেজ নিয়ে এত তীব্র আলোচনা কেন হতে হবে?’এর কয়েক সপ্তাহ আগে একই ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। একটি গয়না প্রতিষ্ঠানের রক্ষাবন্ধনের বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়ে সমালোচনা হয়। পরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তখন কৃতি বলেছিলেন, একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান শুধু তাঁর পোশাক দিয়ে মাপা উচিত নয়।ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীচিকিৎসা পেশা ছেড়ে অভিনয়ে আসেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ২০১৭ সালে মালয়ালম সিনেমা ‘নজান্ডুকালুডে নাট্টিল ওরিদাভেলা’ দিয়ে তাঁর অভিনয়ে অভিষেক। ‘মায়ানাধি’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘ভারাথান’, ‘আম্মু’, ‘কুমারী’, ‘গাটা কুস্তি’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মণি রত্নমের ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজের সিনেমার মাধ্যমেও তামিল দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি।ঐশ্বরিয়ার সর্বশেষ সিনেমা ‘আশা’। উর্বশী ও জোজু জর্জ অভিনীত সিনেমাটি ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে।ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে