
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুর ১টার দিকে কর্মসূচি শেষ করে চলে গেছেন। তবে দুই পক্ষই আগামীকাল (সোমবার) আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে। এদিকে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাংক পাড়ায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আরও পড়ুন ইসলামী ব্যাংকের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে দুই পক্ষ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একদিকে ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নেন ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, যে কোনো আন্দোলন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এবং এমন স্থানে করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে মানুষের যাতায়াত কম ও জনদুর্ভোগ কম হয়। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের কর্মসূচি চলছে। চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে ব্যাংকের ভেতরে গেছে। তারা স্মারকলিপি দিয়ে চলে এলে আজকের জমায়েত শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এক জায়গায় জমায়েত হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলা ও হতাহতের আশঙ্কা থাকে। তাই পুলিশ এ ধরনের জমায়েত নিরুৎসাহিত করছে। ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রিক এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্প্রতি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচির সংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংক পাড়ায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইএআর/এসএনআর
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হুতিদের শক্ত অবস্থান আরও পাকাপোক্ত হলো। একসময় হুতিদের তুলনামূলক বিচ্ছিন্ন একটি ধর্মীয় ও সামরিক সংগঠন হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু তারা এখন ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশও হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়হুতিরা জায়দি সম্প্রদায়ভুক্ত। জায়দিরা শিয়াদের একটি শাখা। ইয়েমেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সুন্নি। আর দেশটিতে জায়দিরা সংখ্যালঘু।গত শতকের নব্বই দশকে জায়দিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে হুতিরা প্রতিরোধে নামে। জায়দিদের বেশির ভাগই ইয়েমেনের দারিদ্র্যপীড়িত উত্তরাঞ্চলে বসবাস করে।হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। এর অর্থ ‘আল্লাহর সমর্থক’। প্রয়াত ধর্মীয় নেতা বদরেদ্দিন আল-হুতির নামানুসারে এই সংগঠনের নামকরণ হয়। তাঁর ছেলে হুসেইনও এই আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তিনি ২০০৪ সালে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত হন।বদরেদ্দিনের আরেক ছেলে আবদুলমালিক পরে সংগঠনের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন। জ্বালাময়ী বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠী তাঁর নেতৃত্বে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিতে পরিণত হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবেও তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে।এখন হুতিদের হাজার হাজার যোদ্ধা রয়েছে। ইয়েমেনের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় লড়াইয়ের জন্য তারা প্রশিক্ষিত। দীর্ঘদিনের যুদ্ধেও তারা অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে।ইয়েমেনের জনসংখ্যার বড় অংশ যে এলাকাগুলোতে বসবাস করে, হুতিরা সেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এখনো দেশটির বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের জন্যও তারা হুমকি। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা বারবার ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্রকয়েক দশক ধরে উত্থান২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হুতিরা ইয়েমেনের তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ছয়টি যুদ্ধে লড়েছে। আর ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের সঙ্গেও তারা লড়াই করে। সে সময় তারা সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে ঢুকে পড়েছিল।আরব বসন্তের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে ইয়েমেনের তৎকালীন শাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাতে হুতিরা অংশ নেয়। পরে অবশ্য তারা সালেহর সঙ্গে জোট গড়ে। তবে আবার তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ২০১৭ সালে হুতিরা সালেহকে হত্যা করে।হুতিদের বড় ধরনের উত্থান ঘটে ২০১৪ সালে। সে বছর তারা রাজধানী সানা দখল করে। এর জেরে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হয়। এরপর ইয়েমেনে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়। ইয়েমেনে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়।২০২২ সালে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুতিদের একটি যুদ্ধবিরতি হয়। তবে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ তখনো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।গত জুলাইয়ে আবার সংঘাত শুরু হয়। সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা অমান্য করে হুতিরা একটি ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণের অনুমতি দেয়। এর জবাবে বিমানবন্দরে হামলা হয়। এই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে হুতিরা।হুতি কারা, কেন গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে বড় হামলা শুরু করলেন ট্রাম্প‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর সঙ্গে সম্পর্কহুতিরা তেহরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ। এই অক্ষে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে।সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের ইরানের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে দেখে আসছে। তাদের অভিযোগ, তেহরান হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ করে। ইরান অবশ্য এই অভিযোগ অতীতে অস্বীকার করেছে।হিজবুল্লাহর মতো হুতিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ‘চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে মানে না। তবে বছরের পর বছর ধরে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।২০২৪ সালে হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, এসব জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক রয়েছে। গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা এসব হামলা চালানোর কথা জানায়।এই হামলার কারণে অনেক জাহাজকে গন্তব্যে যেতে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।গত মার্চে ইরানের সমর্থনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে হুতিরাও যোগ দেয়। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে। তবে এসব হামলায় ইসরায়েলের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও হুতিরা তাদের সমর্থনদাতা দেশটির কাছ থেকে কিছুটা স্বাধীনতা বজায় রাখতে পেরেছে। সামরিক সহায়তার জন্যই তারা মূলত ইরানের ওপর নির্ভর করে।সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিবাব আল-মানদেব দখলের লড়াইলোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হামলা চালিয়ে হুতিরা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে সক্ষম হয়েছে।সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়াকে যুক্ত করেছে লোহিত সাগর। সৌদি আরবের জন্যও এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহন অনেকটাই বন্ধ করে দেয়। এরপর তেল রপ্তানি চালু রাখতে সৌদি আরব এই জলপথের ওপর নির্ভর করছে।গত জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথ অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজে বারবার হামলা চালিয়েছে।ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আবার সংঘাত শুরুর কিছুদিন পর ৩ সেপ্টেম্বর হুতিরা বাব আল-মানদেব দখলের লক্ষ্যে বড় ধরনের হামলা শুরু করে।এক সপ্তাহের মধ্যেই হুতিরা পুরো লোহিত সাগর উপকূল এবং প্রণালিটির ভেতর ও আশপাশের কৌশলগত দ্বীপগুলো দখল করে নেয়। এতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সৌদির তেলবাহী জাহাজে হুতিদের হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও বেড়েছে।হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্যহুতিদের অগ্রগতিতে সংকট বাড়বে সৌদিরবাব আল-মানদেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেহুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরানহুতিদের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র
কোনো শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তি বছরের সবচেয়ে হাস্যকর বা বিতর্কিত কাজটি করলেন আর তার শাস্তি হলো নদীতে খাঁচাবন্দি করে ডুবিয়ে দেওয়া! তিনি কোনো ধনী ব্যবসায়ী হন কিংবা কোনো নেতা-রাজনীতিবিদ। শুনতে যেন মধ্যযুগের কোনো ভয়ংকর কাহিনি। কিন্তু উত্তর ইতালির ট্রেন্টো শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে সত্যিই জড়িয়ে আছে এমন দৃশ্য। নাম ‘লা তোঙ্কা’। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পের সঙ্গে বাস্তবতার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। এখানে কোনো জীবিত রাজনীতিবিদ বা সেলিব্রিটিকে সত্যিই খাঁচায় ঢুকিয়ে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় না। পুরো আয়োজনটি একটি ব্যঙ্গাত্মক নাট্য পরিবেশনা, যেখানে অতীতের কঠোর শাস্তির অনুকরণ করা হয় প্রতীকীভাবে। এতে বলা হয় ‘লা তোঙ্কা’। লা তোঙ্কা অনুষ্ঠিত হয় ট্রেন্টোর ঐতিহ্যবাহী ফেস্ট ভিজিলিয়ান উৎসবের অংশ হিসেবে। প্রতি বছর জুনে শহরের পৃষ্ঠপোষক সাধু সান ভিজিলিওকে ঘিরে এই উৎসব হয়। ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা, নদীতে নৌকা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের পাশাপাশি ‘ট্রিব্যুনাল ডি পেনিটেনজা’ বা ‘শাস্তির আদালত’ও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। ২০২৬ সালের উৎসবও ১৯ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আদালত অবশ্য কোনো বাস্তব আদালত নয়। এটি মূলত হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও নাটকের মাধ্যমে সাজানো একটি কাল্পনিক বিচার। শহরের সংবাদে আলোচিত কোনো ব্যক্তি বা ঘটনাকে নিয়ে সেখানে অভিযোগ তোলা হয়। বিচারক ও তার সহযোগীরা মজার ছলে সেই ‘অপরাধ’ নিয়ে শুনানি করেন। শেষ পর্যন্ত কাউকে প্রতীকীভাবে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করা হলে তার জন্য অপেক্ষা করে লা তোঙ্কা। আরও পড়ুন প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের ফাঁদে পড়ে রেজিনা, অতঃপর.. খাঁচা নামবে নদীতে, কিন্তু কে থাকবে ভেতরে? এই জায়গাটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল গল্পের সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি। আধুনিক অনুষ্ঠানে যে ব্যক্তিকে ‘দণ্ডিত’ করা হয়, তিনি নিজে নদীতে নামেন না। ট্রেন্টোর সরকারি সংস্কৃতি বিষয়ক সূত্র এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একজন স্টান্ট ডাবল বা প্রতিনিধি সেই ব্যক্তির ভূমিকায় খাঁচায় থাকেন। সান লোরেঞ্জো সেতুর কাছ থেকে প্রতীকীভাবে সেই খাঁচা আদিজে নদীর পানিতে নামানো হয়। একই সময়ে বিচারকের মাধ্যমে ‘শাস্তির রায়’ পাঠ করা হয়। অর্থাৎ এটি কোনো বাস্তব শাস্তি নয়, বরং দর্শকদের সামনে পরিবেশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক নাটক। সেখানে রাজনীতিবিদ থাকতেই পারেন, আবার অন্য কোনো জনপরিচিত ব্যক্তি বা সামাজিকভাবে আলোচিত বিষয়ও ব্যঙ্গের লক্ষ্য হতে পারে। এমনকি একাধিক ব্যক্তিকেও প্রতীকীভাবে ‘দণ্ডিত’ করা সম্ভব। এই রীতির রয়েছে ভয়ংকর অতীত লা তোঙ্কার মজার বর্তমান রূপের পেছনে অবশ্য রয়েছে বেশ অন্ধকার ইতিহাস। ট্রেন্টোর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই রীতি চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যে প্রচলিত একটি শাস্তির পুনর্নির্মাণ। সেই সময় ধর্মনিন্দা বা ব্লাসফেমির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খাঁচায় বন্দি করে আদিজে নদীর পানিতে নামানোর শাস্তি দেওয়া হতো বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। তখন আদিজে নদী শহরের প্রাচীরের আরও কাছ দিয়ে প্রবাহিত হতো। বন্দিকে খাঁচাসহ নদীতে নামানো হতো টোরে ভের্দে বা ‘গ্রিন টাওয়ার’ এলাকা থেকে। বর্তমান উৎসবের আয়োজকরাও এই প্রাচীন শাস্তির কথাই উল্লেখ করেন। তবে আধুনিক লা তোঙ্কা সেই ভয়াবহ শাস্তিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন এটি হাস্যরস ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে ইতিহাসকে স্মরণ করার একটি আয়োজন। আরও পড়ুন রাজার অবৈধ সন্তান থেকে সফল শাসক, অবিবাহিত রানির বিতর্কিত জীবন ভুলের হিসাব নেয় ব্যঙ্গাত্মক আদালত আধুনিক লা তোঙ্কার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সামাজিক ব্যঙ্গ। বছরের বিভিন্ন সময়ে সংবাদে আলোচিত কোনো বিতর্ক, অদ্ভুত সিদ্ধান্ত কিংবা হাস্যকর কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠানের ‘বিচার’ পর্বে উঠে আসতে পারে। অর্থাৎ এখানে শাস্তির চেয়ে ব্যঙ্গটাই আসল। কাউকে অপমান করার জন্য নয়, বরং হাসির মাধ্যমে জনজীবনের নানা অসঙ্গতি সামনে আনার একটি সাংস্কৃতিক রীতি হিসেবে অনুষ্ঠানটি টিকে আছে। সরকারি পর্যটন তথ্যেও একে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ বা ব্যঙ্গাত্মক আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আরও মজার বিষয় হলো, এই ঐতিহ্য শুধু ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ্য করে না। ট্রেন্টোর মানুষের কোনো দৃশ্যমান সামাজিক দুর্বলতা বা স্থানীয় কোনো আচরণও কখনো কখনো ব্যঙ্গের বিষয় হতে পারে। তাই ‘সবচেয়ে খারাপ রাজনীতিবিদকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়’ এমন সরল ব্যাখ্যা লা তোঙ্কার প্রকৃত চরিত্রকে পুরোপুরি তুলে ধরে না। ইতিহাস, হাসি আর জনসম্পৃক্ততার মিশেল আজকের ট্রেন্টোতে লা তোঙ্কা তাই মধ্যযুগীয় শাস্তি ফিরিয়ে আনার কোনো প্রচেষ্টা নয়। বরং ভয়ংকর অতীতকে হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরার একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন। একদিকে পুরোনো ইতিহাসের স্মৃতি, অন্যদিকে সমসাময়িক সমাজ ও জনজীবন নিয়ে ব্যঙ্গ দুইয়ের মিশেলেই তৈরি হয়েছে এই অদ্ভুত অনুষ্ঠান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই যদি দেখা যায়, ‘ইতালির একটি শহরে বছরের সবচেয়ে ভুল করা রাজনীতিবিদকে খাঁচায় ভরে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়’, তাহলে গল্পটির পুরোটা বিশ্বাস করার আগে একটু থামা দরকার। খাঁচা সত্যি, নদীও সত্যি, অনুষ্ঠানও সত্যি কিন্তু আধুনিক সময়ে নদীতে নামেন একজন অভিনয়শিল্পী বা স্টান্ট ডাবল, কোনো শাস্তিপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ নন। আর এখানেই লা তোঙ্কার আসল মজা একটি ভয়ংকর মধ্যযুগীয় শাস্তি কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে পরিণত হয়েছে হাসি, ব্যঙ্গ ও শহরের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশে। কেএসকে