জাতীয়

‘কে হতে চায় কোটিপতি’ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা-আর্সেনাল-ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
‘কে হতে চায় কোটিপতি’ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা-আর্সেনাল-ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ
‘কে হতে চায় কোটিপতি’ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা-আর্সেনাল-ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ

মানুষের জীবন নাকি থ্রিলার সিনেমার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর। একমুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে পুরো জীবনের গতিপথ। আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফসির কোচ ভালদাস ডামব্রকাস যেন নিজের জীবনের গল্প লিখছেন থ্রিলার সিনেমার মতো করেই। কে হতে চায় কোটিপতির মঞ্চ থেকে তিনি নিজের দলকে নিয়ে পৌঁছে গেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। অথচ এটি এমন এক দল, যার সূচনাই হয়েছে আজ থেকে মাত্র ৯ বছর আগে।

কে হতে চায় কোটিপতি থেকে ফুটবল কোচ

ক্লাবের গল্প বলার আগে কোচের গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। লিথুয়ানিয়ার ভালদাস ডামব্রকাস ছিলেন শখের ফুটবলার। তৃতীয় আর চতুর্থ বিভাগে খেলেই কেটেছে তাঁর ক্যারিয়ার। ২৩ বছর বয়সে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে শুরু করেন পড়াশোনা। এমন সময়ই সুযোগ পান ‘কে হতে চায় কোটিপতি’র লিথুয়ানিয়ান ভার্সনে। সেখানে জিতে পেয়েছিলেন চার হাজার লিতাস। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৬ হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে লিথুয়ানিয়া ছেড়ে পাড়ি দেন ইংল্যান্ডে, কোচিং লাইসেন্সের জন্য শুরু করেন ট্রেনিং। একদিকে চলছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা, অন্যদিকে ফুটবল কোচ হিসেবে ফুলহাম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলে ট্রায়াল।

কে হতে চায় কোটিপতির লিথুয়ানিয়া ভার্সনে কোচ ভালদাস ডামব্রকাস

অবশেষে ২০০৭ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়ে শুরু করেন ফুটবল কোচিং। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন, কোথাও থিতু হতে পারেননি। ছোটখাটো দলে কোচিং করিয়েই কেটেছে তাঁর ক্যারিয়ার। অবশেষে ২০২৫ সালে এসে তাঁর হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেয় আজারবাইজানের সাবাহ।

৯ বছর আগের ছোট্ট ক্লাব সাবাহ

এ রকম একজন কোচের অপেক্ষাতেই ছিল আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ। আজ থেকে ৯ বছর আগে, এই নামে কোনো দলের অস্তিত্বই ছিল না। ২০১৭ সালের এই সময়ে সাবাহ এফসি নামে কোনো দলই ছিল না। ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তারা নেমেছিল নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে। মূলত আজারবাইজানের ব্যবসায়ী ইয়াগুব হুসেনোভ চেয়েছিলেন নিজের শহরের একটি ক্লাব তৈরি করতে। মাসাজির শহরের বিখ্যাত গোলাপি লেকের পাশে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন নিজের ক্লাব। সেই চিন্তা থেকেই সূচনা সাবাহ এফসির। অঢেল টাকা নিয়ে শুরু করা ক্লাবটাকে শুরু থেকেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বরং প্রথম বছর থেকেই প্রথম বিভাগে খেলার সুযোগ মিলেছিল তাদের।

৯ বছর আগেও অস্তিত্ব ছিল না ক্লাবটির

টাকা থাকলেই তো আর সব হয় না, জেতার জন্য দরকার কঠোর পরিশ্রম আর পরিকল্পনা। সেটাই যেন ছিল না তাদের কাছে। কোচ ভালদাস ডামব্রকাস আসার পরেই যেন ধীরে ধীরে খুঁজে পেল নিজেদের। আগের মৌসুমেই আজারবাইজান কাপ জিতে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল সাবাহ। শেষ ১২ মৌসুমের মধ্যে ১১ মৌসুমেই শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে কারাবাগ, তাদের মনোপলি ভাঙতেই উঠেপড়ে লেগেছিল সাবাহ এফসি। নতুন কোচ আর ভুল করেননি। ৩৩ ম্যাচের ২৪ জয়, ৬ ড্র নিয়ে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছেন তাঁরা। ৯ বছর আগে জন্ম নেওয়া ক্লাবটা লিগ শিরোপার পাশাপাশি জিতে নিয়েছে আজারবাইজান কাপও। বিশাল অর্জন তাদের নাম লিখিয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বে।

ওয়েলসের নিউ সেন্টস, ফিনল্যান্ডের কুপিএস আর নরওয়ের এজিএফকে হারিয়ে উঠে এসেছিল বাছাইপর্বের ফাইনালে। ইসরায়েলের হাপোই শেভা ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়েছিল ২-১ গোলে। নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে দরকার ছিল দুই গোলের ব্যবধানে জয়; কিন্তু সেটা হয়নি। ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের ২-২ গোলে সমতা, শেষ মিনিটের কর্নার কিক শেষ হলেই ম্যাচের সমাপ্তি। এমন সময় ত্রাতা হয়ে এলেন পোল্যান্ডের টিমোটোজ পুজাকস। তার কর্নার লক্ষ্য থেকে ছিল অনেক দূরে; কিন্তু তেলুর মুতালিমোভের ভলি জড়িয়ে গেল জালে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাসাজিরবাসী ফেটে পড়ল উল্লাসে। ৩০ মিনিটের জন্য আবারও সুযোগ পেল সাবাহ।

চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল মঞ্চে সাবাহ এফসি

নিজেদের মাটিতে সেই ৩০ মিনিটকে পরিণত করল পূর্ণদৈর্ঘ্য এক সিনেমায়। ১০১ মিনিটে চতুর্থ আর ১১৫ মিনিটে পঞ্চম গোল দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের পথ খুঁজে নিল সাবাহ। মাত্র ছয় হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মাঠটি পৌঁছে গেল চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল মঞ্চে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের অভিষেক হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের মতো বিখ্যাত স্টেডিয়ামে ৪-০ গোলে হেরে সূচনা হয়েছে বৈকি। কিন্তু এখনও বাকি আছে বার্সেলোনা, আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচ। বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড, নাপোলি, ভিয়ারিয়াল — তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম লিখিয়েছে ইউরোপের প্রতিটি হেভিওয়েট দল। এদের ভীড়ে হয়তো সাবাহকে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে, কিন্তু ইউরোপের পরিপূর্ণ স্বাদ পাওয়া থেকে সাবাহ এফসিকে রুখতে পারবে না কেউ। স্বাগতম সাবাহ, ইউরোপের বিশাল মঞ্চে। 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বাড়ির মাটি খুঁড়তেই মিলল ভাইকিংদের ‘সবচেয়ে বড়’ রৌপ্যভাণ্ডার
বাড়ির মাটি খুঁড়তেই মিলল ভাইকিংদের ‘সবচেয়ে বড়’ রৌপ্যভাণ্ডার

বাড়ির মাটি খুঁড়তে গিয়ে হঠাৎ যেন খুলে গেল ইতিহাসের দরজা। মাটির নিচে কী লুকিয়ে আছে, তা জানতেন না বাড়ির মালিক। প্রতিদিনের মতো সাধারণ খোঁড়াখুঁড়ি চলছিল, কিন্তু মাটি সরাতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকল বহু শতাব্দী আগের রুপার নিদর্শন। যতই খোঁড়া হচ্ছিল, ততই বাড়ছিল বিস্ময়। পরে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বুঝতে পারেন, মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এ রুপার ভাণ্ডারের গল্প আরও অনেক পুরোনো। সম্প্রতি ডেনমার্কের রেবিল্ড এলাকায় বাড়ির পেছনের বাগানে টেরেস তৈরির জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন বাড়ির মালিক। হঠাৎ মাটির নিচে চোখে পড়ে পুরোনো কিছু রুপার জিনিস। খবর পেয়ে সেখানে যান প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরীক্ষা করে তারা বুঝতে পারেন, এগুলো কোনো সাধারণ পুরোনো জিনিস নয়। বরং মাটির নিচে লুকিয়ে ছিল ডেনমার্কে পাওয়া ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় রৌপ্যভান্ডার। এ ভাণ্ডার থেকে একে একে বেরিয়ে এসেছে প্রায় ৭০০টি রুপার তৈরি জিনিস। সব মিলিয়ে এসবের ওজন প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি। এর মধ্যে ছিল রুপার দণ্ড, নানা ধরনের অলংকার ও মুদ্রা। এমনকি থরের হাতুড়ির মতো দেখতে ছোট একটি রুপার জিনিসও পাওয়া যায়। এত বিপুল পরিমাণ রুপার তৈরি সামগ্রী একসঙ্গে পাওয়ার ঘটনা ডেনমার্কে খুবই বিরল। আরও পড়ুন মৃত্যুর পরও প্রকৃতির অংশ! মাশরুমের কফিনে সমাহিত অস্ট্রেলীয় নারী প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন, নিদর্শনগুলো ভাইকিং যুগের। অর্থাৎ এগুলো প্রায় এক হাজার বছর আগের সময়ের। দীর্ঘ সময় ধরে মাটির নিচে পড়ে থাকলেও অনেক নিদর্শন বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই আবিষ্কারটি প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভাইকিংদের ইতিহাসের সঙ্গে রুপার সম্পর্ক ছিল খুবই গভীর। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালানোর পাশাপাশি তারা বাণিজ্যও করতেন। রুপা ছিল তাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া মুদ্রা ও রুপার সামগ্রী তাদের চলাচল ও বাণিজ্যের বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তাই এই আবিষ্কার শুধু বিপুল পরিমাণ রুপা পাওয়ার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে ভাইকিংদের জীবনযাপন, বাণিজ্য, সম্পদের ব্যবহার এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এতগুলো নিদর্শন একই জায়গায় পাওয়া যাওয়ায় এর পেছনে বিশেষ কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। আরও পড়ুন ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর কোনগুলো? বাড়ির মালিকের জন্য অবশ্য শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ। তিনি জানতেন না, নিজের বাড়ির মাটির নিচেই কয়েক শতাব্দী ধরে লুকিয়ে রয়েছে ভাইকিং যুগের এমন মূল্যবান নিদর্শন। খোঁড়াখুঁড়ির সময় একের পর এক রুপার সামগ্রী বেরিয়ে আসার পরই বিষয়টি সবার নজরে আসে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এখন খুঁজছেন এ রৌপ্যভান্ডারের রহস্য। কেন এটি সেখানে রাখা হয়েছিল, কার ছিল এবং কীভাবে এত বছর মাটির নিচে রয়ে গেল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। নিদর্শনগুলো পরীক্ষা ও গবেষণার পর এসব রহস্যের কিছুটা সমাধান হতে পারে। একই সঙ্গে ভাইকিং যুগের ডেনমার্ক ও সে সময়ের মানুষের জীবন সম্পর্কেও নতুন তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টএমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
‘আমি তোমার বাবার টাকায় খাই না’, অভিনেত্রীর কড়া জবাব

‘আমি তোমার বাবার টাকায় খাই না’, অভিনেত্রীর কড়া জবাব

ঢাবির শিক্ষক মূল্যায়নে অশোভন লেখা, ঢেকে দেওয়া হলো ওয়েবসাইট

ঢাবির শিক্ষক মূল্যায়নে অশোভন লেখা, ঢেকে দেওয়া হলো ওয়েবসাইট

নগদের সাবেক এমডি মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ

নগদের সাবেক এমডি মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ

ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’, বিচার চলাকালে দাবি পলকের
ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’, বিচার চলাকালে দাবি পলকের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসের কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে দাবি করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।আজ রোববার বিচারকাজ চলাকালে ট্রাইব্যুনাল-১-এর উদ্দেশে পলক এ কথা বলেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আজ নবম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। এই সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা আসামি পলক কথা বলেন।ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক বলেন, নবম সাক্ষীকে জেরা করার আগে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি নামাজ পড়বেন। দুপুরের খাবার খাবেন। এসব কারণে সাক্ষীকে জেরা শুরুর আগে দুই ঘণ্টা সময় চান তিনি।পলক বলেন, তাঁকে আজ হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁর হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। মাথায় ভারী কিছু না দেওয়ার জন্য তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাজতখানায় আনার সময় তাঁকে এভাবে আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল নিরাপদ জায়গা। এই অল্প জায়গার জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।পরে পলক বলেন, ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকিতে আছে। এখানকার কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালে যেন লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়।ট্রাইব্যুনাল তখন এসব বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানাতে বলেন। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম তখন আসামি যে সময় চেয়েছেন, তার বিরোধিতা করেন।প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, আসামি পলককে যে নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার। ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের কিছু করার নেই। আর উইন্ডোজের বিষয়টি দেখা হবে। তাঁরা আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন।তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, পাইরেটেড সফটওয়্যার যাতে ব্যবহার না করা হয়।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
৪১ বছর বয়সে মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মাহিরা

৪১ বছর বয়সে মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মাহিরা

জুবায়েরের অনুসারীরা মিথ্যাচার করছেন, বললেন সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা

জুবায়েরের অনুসারীরা মিথ্যাচার করছেন, বললেন সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা

শাপলা তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের

শাপলা তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের

ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম ও গবেষণায় বড় বরাদ্দের পরিকল্পনা
ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম ও গবেষণায় বড় বরাদ্দের পরিকল্পনা

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণায় বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে আর বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল ধারায় রাখার সুযোগ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও সমতাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে ‌‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান। আরও পড়ুন বাতের কষ্টে ভুগছেন দেশের ৩০% মানুষ, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছেন নিঃস্ব প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান, দেশের ২০ কোটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি জাতীয় ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম, হেলথ কার্ড এবং সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। হাসপাতালের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি নিরসনে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকাল আটটায় গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে শত শত অসুস্থ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতালগুলোতে অ্যাপভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের স্লটে সিরিয়াল নেওয়ার পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। তরুণ প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবকদের তৈরি আধুনিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বাইরে বিক্রি হয়ে যাওয়া বা অনিয়ম ঠেকাতে আধুনিক সাপ্লাই চেইনে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে গবেষণাকে ‘ব্যয় নয়, বরং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য একটি বিশেষ গবেষণা তহবিল বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলকে (বিএমআরসি) শক্তিশালীকরণ এবং সরকারি উদ্যোগে আধুনিক মলিকুলার ল্যাব স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। আরও পড়ুন মুগদা মেডিকেল / রোগীর পরীক্ষা হয় বাইরে, হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ম্যাচ্যুরিটি লেভেল ৩ (এমএল-৩)’ অর্জনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও লার্ভা নির্মূল পদ্ধতির ট্রায়াল বাড়ানো হচ্ছে। দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সক্ষমতা গড়ে তুলতে একটি জাতীয় ভ্যাকসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। বিদেশে কর্মরত সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগাতে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ প্রক্রিয়া জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। এসইউজে/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেবে এসিআই মটরস

অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেবে এসিআই মটরস

গাড়ি কিনলেন দিব্য-সৌম্য, ছেলেদের আশীর্বাদ করে যা লিখলেন শাহনাজ খুশি

গাড়ি কিনলেন দিব্য-সৌম্য, ছেলেদের আশীর্বাদ করে যা লিখলেন শাহনাজ খুশি

কাকরাইল মসজিদ বুঝিয়ে দেওয়াসহ সাদপন্থীদের ৭ দাবি

কাকরাইল মসজিদ বুঝিয়ে দেওয়াসহ সাদপন্থীদের ৭ দাবি

0 Comments