দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণায় বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে আর বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল ধারায় রাখার সুযোগ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও সমতাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানান, দেশের ২০ কোটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি জাতীয় ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম, হেলথ কার্ড এবং সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
হাসপাতালের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি নিরসনে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকাল আটটায় গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে শত শত অসুস্থ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতালগুলোতে অ্যাপভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের স্লটে সিরিয়াল নেওয়ার পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। তরুণ প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবকদের তৈরি আধুনিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব।

একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বাইরে বিক্রি হয়ে যাওয়া বা অনিয়ম ঠেকাতে আধুনিক সাপ্লাই চেইনে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে গবেষণাকে ‘ব্যয় নয়, বরং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য একটি বিশেষ গবেষণা তহবিল বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলকে (বিএমআরসি) শক্তিশালীকরণ এবং সরকারি উদ্যোগে আধুনিক মলিকুলার ল্যাব স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ম্যাচ্যুরিটি লেভেল ৩ (এমএল-৩)’ অর্জনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও লার্ভা নির্মূল পদ্ধতির ট্রায়াল বাড়ানো হচ্ছে। দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সক্ষমতা গড়ে তুলতে একটি জাতীয় ভ্যাকসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বিদেশে কর্মরত সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগাতে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ প্রক্রিয়া জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
এসইউজে/কেএসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে আলুর দাম কমছে। উভয় সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষকের মুখে এখন হতাশার ছাপ। শুধু কৃষক নন, আলুর বাজারে দরপতনের প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ী ও হিমাগারের মালিকদের ওপরও। ফলে আলুর বাজারে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ত্রিমুখী সংকট। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। এ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মৌসুমের শুরু থেকেই আলুর বাজারে দামের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ। কৃষক ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ সবমিলে প্রতি বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে থেকে ৮৭০ টাকা পর্যন্ত। এতে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। যে কারণে এত সংকট আলুচাষি মিজানুর রহমান তরিকুল ইসলামসহ একাধিক কৃষকের ভাষ্য, এ বছর ৫০ শতকে প্রতি বিঘা জমিতে আলুর বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ দেওয়াসহ সব মিলিয়ে কৃষকের খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা জমিতে আলু উত্তোলনের সময় বিক্রি করেছিলেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এতে করে ভরা মৌসুমেই আলুতে লোকসান হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কৃষকদের দাবি, কৃষকের প্রথম সংকট উৎপাদন খরচ ওঠানো। মাঠে যে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকের হাতে নতুন করে বিনিয়োগের অর্থ থাকছে না। লোকসান ও পুঁজি আটকে সংকটে ব্যবসায়ীরা মো. আয়ুব আলী, জাকারিয়া ও বকুল হোসেনসহ একাধিক মৌসুমি ও আলুর পাইকারি বিক্রেতাদের ভাষ্য, এ বছর আলুর দরপতনের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। বাজারদর কমে যাওয়ায় মজুত করা আলু প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। ফলে হিমাগারে রাখা আলুর পেছনে বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃষকের ঘর থেকে শুরু করে হিমাগারে আলু রাখা পর্যন্ত তাদের খরচ হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে হিমাগার থেকে স্টিক প্রজাতির আলু বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৭০ টাকা পর্যন্ত। এতে করে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান পোহাতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে দাম আরও কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে আলু কিনতে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শঙ্কায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ কালাইয়ের এম ইসরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক আবু রায়হান ও পাঁচবিবির কুসুম্বা আফিয়া কোল্ড স্টোরের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমানের ভাষ্য, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বাড়লেও তারা ভাড়া বাড়াননি। আগের ভাড়াই নিচ্ছেন তারা। তারা বলেন, এ বছর আলুর দরপতনের কারণে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি করছেন না কৃষকরা। এতে করে একদিকে যেমন পাইকাররা অলস সময় পার করছেন, অন্যদিকে হিমাগার থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আলু খালাস হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। এতে করে সময় মতো হিমাগার থেকে আলু খালাস নিয়েও শঙ্কায় আছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ৩০℅ আলু হিমাগার থেকে খালাস হয়েছে। জয়পুরহাট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানসহ কৃষি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জেলার ২২টি হিমাগারে এ বছর প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রাখা হয়। এখন পর্যন্ত হিমাগার থেকে আলু খালাস হয়েছে ৩০ শতাংশ। আলুর দরপতন ঠেকাতে আলুর বহুমুখী ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে রপ্তানি হলে আলুর দাম বৃদ্ধি পাবে। কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। আল-কারিয়া চৌধুরী/এফএ
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে আব্দুল মাবুদ (৫৮) নামের এক হাজতি মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল মাবুদ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন মরছে প্রাণী, ধুঁকছে গাজীপুর সাফারি পার্ক কারারক্ষী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মাবুদ কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার হামিমপুর এলাকার আব্দুল সোবাহানের ছেলে। তবে কোন মামলার কারাবন্দি ছিলেন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আরও পড়ুন কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান পুলিশ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। কাজী আল-আমিন/কেএসআর