জাতীয়

ওসমান হাদির বোনের চোখে কারা দেশপ্রেমিক, কারা মীর জাফর?

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ওসমান হাদির বোনের চোখে কারা দেশপ্রেমিক, কারা মীর জাফর?
ওসমান হাদির বোনের চোখে কারা দেশপ্রেমিক, কারা মীর জাফর?

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি কাউকে দেশপ্রেমিক আবার কাউকে মীর জাফর বলে অভিহিত করেছেন। ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে এমন একটি পোস্ট করেন। তার এই পোস্টে নেটেজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।

মাসুমা হাদি লিখেছেন, ‌‘এই অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে মিশে আছে ১৭৫৭ সালের ইতিহাস। এখানে যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ, হাবিলদার রজব আলী, মঙ্গল পান্ডে, মওলানা ভাসানী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম জিয়া, শহীদ ওসমান হাদির মতো সাচ্চা দেশপ্রেমিক আছেন।

ঠিক তেমনি দেশদ্রোহী মীর জাফর, ঘষেটি বেগম, শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবের মতো ক্ষমতা লোভীরাও রয়েছে। যারা শুধু ক্ষমতার মসনদে থাকার জন্য বারবার নিজের দেশকে ভিনদেশিদের কাছে বর্গা দেয়। আর দেশ মাতৃকাকে বাঁচানোর জন্য বারবার এই অঞ্চলের সূর্যসন্তানদের জীবন দিতে হয়। যতবার এই অঞ্চলের ওপর বর্গীদের কুনজর পড়েছে; ততবারই এই অঞ্চলের বিপ্লবীরা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশকে হায়েনাদের কবল থেকে রক্ষা করেছে।

আরও পড়ুন

মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য ‌‘মাথা গরম ছুটি’ রাখার অনুরোধ

কিন্তু এর শেষ কোথায়? কতবার আর সাধারণ মানুষ জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে বাঁচাবে। কেন বিপ্লবীরা বাঁচতে পারে না? কারা দায়ী? এই অঞ্চলের ইতিহাসটাই এমন, সব সময় সাধারণ মানুষ জীবন দেবে, আর স্বার্থলোভী রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। তাহলে কি এই অঞ্চলে জন্ম নেওয়াই আজন্ম পাপ?

সেই ১৭৫৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। তাও এই অঞ্চলকে মীর জাফর মুক্ত করা গেল না। সেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ থেকেই গেল। যারা সরকার গঠন করছে, তারা শুধু নিজেদের সাময়িক সুবিধার জন্য জুলাই সনদ অস্বীকার করছে, আর বিরোধী দল ভাবছে, নাই মামার চেয়ে তো কানা মামাও ভালো। তারা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করার মতো কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি।

সবশেষে গিয়ে কী দাঁড়ালো? যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, আর কোনো ভাবে যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তাহলে যারা এমপি-মন্ত্রী হইছে, তারা তো বিদেশে পারি জমাবে, কিন্তু নিরস্ত্র, ক্ষমতার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কী জুটবে? যারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেনি, শুধু দেশ মাতৃকাকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করতে রাস্তায় নেমেছিল, তাদের দায়িত্ব কারা নেবে? রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থের কারণেই সিপাহী বিদ্রোহের পরে এই অঞ্চলের সাধারণ জনগণের যে করুণ পরিণতি হয়েছিল, তার চেয়েও করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে, সাধারণ মানুষের জন্য।

আরও পড়ুন

অনবরত আমাকে ট্যাগ দিয়ে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে: ঢাবি শিক্ষক মোনামী

তাই সরকারকে হাতেপায়ে ধরে বলছি, শুধু ৫ বছরের ক্ষমতার মোহে দেশটারে আর জাহান্নাম বানাইয়েন না। অতি দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। বাংলাদেশের মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক ১৬ কোটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। জাস্টিস ফর হাদি।’

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
শাপলা তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের
শাপলা তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই চাচাতো বোনের

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে লামিয়া আক্তার (৮) ও জান্নাত আক্তার (১১) নামের দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দারিয়াতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লামিয়া (৮) উপজেলার দারিয়াতলা গ্রামের মোস্তাক শেখের মেয়ে এবং জান্নাতি (১১) একই গ্রামের মোস্তাইন শেখের মেয়ে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোল্লা জসিম উদ্দিন জানান, সকালে বাড়ির কাছের একটি মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে যায় জান্নাতী ও লামিয়া। একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে তাদের পানি থেকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত চুনখোলা এলাকার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নাহিদ ফরাজী/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম ও গবেষণায় বড় বরাদ্দের পরিকল্পনা

ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম ও গবেষণায় বড় বরাদ্দের পরিকল্পনা

অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেবে এসিআই মটরস

অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেবে এসিআই মটরস

গাড়ি কিনলেন দিব্য-সৌম্য, ছেলেদের আশীর্বাদ করে যা লিখলেন শাহনাজ খুশি

গাড়ি কিনলেন দিব্য-সৌম্য, ছেলেদের আশীর্বাদ করে যা লিখলেন শাহনাজ খুশি

৭ মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে না পারলেই বাদ ক্রিকেটার
৭ মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে না পারলেই বাদ ক্রিকেটার

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) এবার ফিটনেসের পরীক্ষায় আরও কঠিন মানদণ্ড পেরোতে হবে ক্রিকেটারদের। ১৬০০ মিটার বা এক মাইল দৌড়াতে হবে সর্বোচ্চ ৭ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দূরত্ব শেষ করতে না পারলে এবারের এনসিএলে খেলার জন্য ওই ক্রিকেটারকে বিবেচনা করা হবে না। আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামের অ্যাথলেট টার্ফে হবে এনসিএলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা। জাগো নিউজকে বিসিবির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় ফেল করা ক্রিকেটারদের সরাসরি খেলার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের অ্যারোবিক সক্ষমতা ও দীর্ঘ সময় মাঠে পারফর্ম করার সামর্থ্য যাচাই করতেই এবার দৌড়ের এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অর্থাৎ শুধু স্কিল নয়, এনসিএলের দলে জায়গা পেতে ফিটনেসেও নির্দিষ্ট মানে পৌঁছাতে হবে ক্রিকেটারদের। ২০২৬-২৭ মৌসুমের চার দিনের এনসিএল শুরু হবে আগামী ৩ অক্টোবর। লাল বলের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে দেশের আটটি বিভাগ। প্রতিটি দলের প্রধান কোচ, সহকারী কোচসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফও এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে বিসিবি। এনসিএলকে সামনে রেখে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন দলের কোচদের অধীনে ইতোমধ্যে ক্যাম্প চলছে। পরবর্তী ধাপে শুরু হবে স্কিল ক্যাম্প। এরপর আট বিভাগের ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হবে ফিটনেস ক্যাম্প, যার অংশ হিসেবেই ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের দৌড়ের পরীক্ষা। এরপর ৩ অক্টোবর পর্দা উঠবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের এবারের আসর।  এবারের ফিটনেস পরীক্ষায় বিসিবির বার্তাটা বেশ পরিষ্কার-নির্ধারিত মানে পৌঁছাতে না পারলে শুধু প্রস্তুতি ক্যাম্পেই থাকা নয়, এনসিএলের ম্যাচেও খেলার সুযোগ মিলবে না। ৭ মিনিটে এক মাইল দৌড় তাই এবারের এনসিএলের ক্রিকেটারদের জন্য হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ এক মাপকাঠি। এসকেডি/এমএমআর 

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
নোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘গবেষণায় হাতেখড়ি’

নোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে ‘গবেষণায় হাতেখড়ি’

বাণিজ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র 

বাণিজ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র 

২০ বছরের ফুটবলারকে নিয়ে ম্যানইউ-আর্সেনাল-লিভারপুলের টানাটানি

২০ বছরের ফুটবলারকে নিয়ে ম্যানইউ-আর্সেনাল-লিভারপুলের টানাটানি

0 Comments