জার্মান ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্টের তরুণ ডিফেন্ডার ফিন ইয়েলৎসকে দলে ভেড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ইংলিশ ফুটবলের তিন বড় ক্লাব-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল ও লিভারপুল। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘তুত্তো জুভে’-এর বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।
২০ বছর বয়সী ইয়েলৎস তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন এসভি রাইটার্সাইখের যুব দলে। মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি যোগ দেন এফসি নুরেমবার্গের একাডেমিতে। সেখানকার যুব কাঠামো পেরিয়ে কয়েক বছর আগে নুরেমবার্গের মূল দলে অভিষেক হয় তার।
বুন্দেসলিগা টু-তে তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে স্টুটগার্টের। গত বছরের শীতকালীন দলবদলে জার্মান ক্লাবটি তাকে দলে নিয়ে আসে। স্টুটগার্টে এখনো মূল একাদশের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠতে না পারলেও চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম পাঁচ ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছেন ইয়েলৎস।
তার সাম্প্রতিক উন্নতি নজর এড়ায়নি ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর। ‘তুত্তো জুভে’-এর দাবি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল ও লিভারপুলের পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখ ও জুভেন্টাসও এই ডিফেন্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে ইয়েলৎসকে পেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হতে পারে আগ্রহী ক্লাবকে। স্টুটগার্টের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। ফলে তাকে বিক্রি করার কোনো তাড়া নেই জার্মান ক্লাবটির। তবে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো বা ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব এলে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে জানা গেছে।
৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ডান পায়ের এই সেন্টার-ব্যাক প্রয়োজনে রাইট-ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন। দুই পায়েই স্বচ্ছন্দ হওয়ায় বল পায়ে তার সক্ষমতাও বেশ ভালো। দ্রুতগতি, শারীরিক শক্তি, পেছন থেকে আক্রমণ শুরু করার দক্ষতা এবং ডিফেন্স থেকে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ইয়েলৎসকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে তিনি প্রতিপক্ষকে গভীর থেকে সামলানোর বদলে সামনে উঠে ‘ফ্রন্ট-ফুট’ ডিফেন্ডিং করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কেন প্রয়োজন?
সেন্টার-ব্যাক পজিশন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। হ্যারি ম্যাগুয়ার ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের চুক্তির মেয়াদ মৌসুম শেষে শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে ম্যাথিয়াস ডি লিটের ফিটনেস সমস্যাও ক্লাবের জন্য উদ্বেগের কারণ।
এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য একজন তরুণ ও বহুমুখী ডিফেন্ডার দলে আনার ক্ষেত্রে ইয়েলৎস ইউনাইটেডের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারেন।
লিভারপুলও নজর রাখছে
লিভারপুলের কাছেও নতুন সেন্টার-ব্যাকের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। দলে জেরেমি জ্যাকেতে, জিওভানি লিওনি, জো গোমেজ, ভার্জিল ফন ডাইক ও রোনাল্ড আরাউহোর মতো খেলোয়াড় থাকলেও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।
লিওনি ও গোমেজ সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন। অন্যদিকে বার্সেলোনা থেকে ধারে আসা আরাউহোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফন ডাইকও ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। ফলে লিভারপুল নতুন সেন্টার-ব্যাকের বাজারে সক্রিয় হতে পারে।
আর্সেনালের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন
আর্সেনালও ইয়েলৎসের প্রতি আগ্রহী হলেও এই মুহূর্তে তাদের জরুরি ভিত্তিতে নতুন ডিফেন্ডার কেনার প্রয়োজন তুলনামূলক কম। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে এজরি কনসাকে দলে নেওয়ার পর রক্ষণভাগে তাদের বিকল্প বেড়েছে। তবে কোনো ডিফেন্ডার দল ছাড়লে ইয়েলৎসের মতো তরুণ খেলোয়াড়কে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে গানাররা।
সব মিলিয়ে, ২০ বছর বয়সী ইয়েলৎসকে ঘিরে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর সম্ভাব্য মূল্য ট্যাগের কারণে তাকে দলে পেতে হলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল কিংবা আর্সেনাল-যে কোনো ক্লাবকেই বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হতে পারে।
এমএমআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন বাড়ি উপহার পাচ্ছে পুলিশের গুলিতে নিহত ফেনীর যুবদল নেতা শহীদ মো. হারুনুর রশিদের পরিবার। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও মানবিক দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও পরিকল্পনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে বাড়িটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকার কালিদাস পাহালিয়া নদীর পাশে নির্মিত বাড়িটির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে শহীদ হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে দক্ষিণ ফরহাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যারা বিরোধী ছিল, তাদের বাঁচার অধিকার ছিল না। বিএনপি মানবতার রাজনীতি করে, মানুষের রাজনীতি করে। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের পাশে সবসময় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত ও নিপীড়িত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব। নতুন বাড়ি পেয়ে শহীদ হারুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরা আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিনের কষ্টের পর নতুন এই আশ্রয় তাদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়েছে বলে জানান তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। দলের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের খোঁজ রাখছেন তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ কাজ করে যাচ্ছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে অবরোধের সমর্থনে মিছিলে অংশ নেন যুবদল নেতা মো. হারুনুর রশিদ। ওই সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট সামনে রেখে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। রোববার থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্পে স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে তাদের কেউ পরে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন, আবার কেউ এখনো দেশের বাইরে রয়েছেন। ছুটিতে থাকা পেসার শরিফুল ইসলাম ১৫ সেপ্টেম্বর দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলা হাসান মাহমুদ এখনো দেশে ফেরেননি। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা ক্রিকেটাররাও প্রথম দিনের ক্যাম্পে ছিলেন না। দুই ম্যাচের চার দিনের সিরিজ ও তিন ম্যাচের আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে আজই দেশে ফেরার উদ্দেশে দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার কথা রয়েছে তাদের। এবারের এশিয়ান গেমস বসবে জাপানের আইচি ও নাগোয়ায়। ২০তম আসরটি চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। পুরুষদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। র্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে। ফলে গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না টাইগারদের। ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান। এই তিন দলের লড়াই থেকে যে দল গ্রুপসেরা হবে, কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে তারা। এশিয়ান গেমসের আগে তাই হাতে থাকা সময়টুকু কাজে লাগিয়ে পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুতি সারাই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য। দেশের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা ফিরলে অনুশীলনে দলের শক্তি আরও বাড়বে। এসকেডি/এমএমআর