ড. রাগিব হাসানের ‘গবেষণায় হাতেখড়ি’ বই নিয়ে পাঠের আসর করেছে নোবিপ্রবি বন্ধুসভা। ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বইটিতে গবেষণার মতো জটিল একটি বিষয়কে লেখক অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। কীভাবে গবেষণার বিষয় নির্বাচন করতে হয়, লিটারেচার রিভিউ করতে হয়, রিসার্চ পেপার পড়তে ও লিখতে হয়—এসব বিষয়ে রয়েছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য ফান্ডিংয়ের বিষয়টিও বইটিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

পাঠচক্রে বইটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। বিশেষ করে গবেষণায় নতুনদের জন্য ‘গবেষণায় হাতেখড়ি’ বইটি কীভাবে একটি কার্যকর পথপ্রদর্শক হতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়। জ্ঞানচর্চা, অনুসন্ধিৎসা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে বইটির গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে।
সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসীর বলেন, ‘বই পড়ার মাধ্যমে আমরা শুধু জ্ঞান অর্জন করি না, বরং নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখি। গবেষণার প্রতি তরুণদের আগ্রহ তৈরি করতে এমন পাঠচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
বন্ধু ফারিহা হোসেন বলেন, ‘গবেষণায় হাতেখড়ি’ বইটি গবেষণার প্রাথমিক বিষয়গুলোকে সহজভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। পাঠচক্রের আলোচনার মাধ্যমে বইটির বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার সুযোগ হয়েছে।
সহসভাপতি, নোবিপ্রবি বন্ধুসভা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের জাপানি বাজার জিয়া সরণি খালের পাড় এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক নির্মূল, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কার উন্নয়ন এবং নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসন যেমন কাজ করবে, তেমনই নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। খাল-ড্রেন দখল ও দূষণ বন্ধ, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা, মাদক প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডিএসসিসির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে ১৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি ড্রেনের দুই পাশে জায়গা রেখে পাড় তৈরি করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ড্রেন দখল হওয়ার সুযোগ না থাকে। প্রশাসক বলেন, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করে দেওয়ার পর আবার সেখানে ময়লা ফেলা হলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই খাল-ড্রেন দখল ও দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও নিতে হবে। তিনি অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে খাল-ড্রেনের জায়গায় অবৈধ দোকানপাট না করার আহ্বান জানান। মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং এ কাজে পুলিশ ও প্রশাসনকে নাগরিকদের সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃক্ষরোপণ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়; নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ থাকলে অনেক সমস্যাই ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে। মতবিনিময় সভায় এলাকার পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতৃবৃন্দ, ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এমএমএ/এমকেআর
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বাড়ার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ সময় পানি বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার। বন্যায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তাই এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০ কেজি করে ১৮ টন চাল পাবেন ১ হাজার ৮০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এছাড়াও ২ লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে আরও ২৫০টি পরিবারকে। সোমবার ও মঙ্গলবার (১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর) এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। সরকারি হিসাবে, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। শনিবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। সে হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার। পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির হার কমে ১ সেন্টিমিটারে নেমেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ তিনি জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত নতুন করে পানি বাড়েনি। এদিকে পানি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষির ক্ষতি বাড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ইতোমধ্যে ৪৭০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ ও কলাচাষিরা। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে পানি ওঠায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় জানিয়েছে। দুর্গত এলাকায় পানি ওঠায় রান্নার স্থান ও নলকূপ তলিয়ে গেছে। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। এ বিষয়ে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘নতুন করে পানি তেমন বাড়েনি। তবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সোমবার থেকে আমার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় আমাদের কাছে বরাদ্দ কম এসেছে। এ কারণে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। দ্রুতই নতুন বরাদ্দ আসবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে যে সহায়তা পেয়েছি, তা মঙ্গলবারের (১৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যে বিতরণ শেষ করা হবে।’ শুভাগত বিশ্বাস আরও বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নতুন করে অতিরিক্ত পানি বাড়ার আশঙ্কা কম। এক-দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর কমতে শুরু করতে পারে।’ এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকে আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করব। প্রথম দিন চিলমারী ইউনিয়নে এবং মঙ্গলবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ আল-মামুন সাগর/কেজে/এএসএম
মাদ্রাসার পঞ্চম ও দাখিলের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ানো হয়েছে। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে পঞ্চম ও দাখিলের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যাবে। তবে এর আগে অনলাইনে বোর্ড ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর। বোর্ড ফি সিস্টেমে সফলভাবে জমা হওয়ার পরই কেবলমাত্র তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রি অপশন চালু হবে।ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত মাদ্রাসার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ইবতেদায়ি পঞ্চম ও দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফরম পূরণের সময় বিশেষ বিবেচনায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। পরে আর সময় বৃদ্ধি করা হবে না।যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ