জাতীয়

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে সচল তেলের বাজার, তবে শঙ্কা বাড়ছে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে সচল তেলের বাজার, তবে শঙ্কা বাড়ছে
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে সচল তেলের বাজার, তবে শঙ্কা বাড়ছে

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে জ্বালানির দাম। তবে যুদ্ধের শুরুতে যে ধরনের তেলসংকটের আশঙ্কা করা হয়েছিল, এখনো তা দেখা যায়নি। বিকল্প সরবরাহপথ, মজুত তেল ও জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের কাটছাঁট—এ তিন কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো সচল। তবে এ ব্যবস্থা কত দিন টিকবে, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

ইরান যুদ্ধ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চললেও বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহন, বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে তেল সরবরাহ আর সর্বোপরি বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ–ঘাটতি তৈরি হয়নি।

তবে এ ভারসাম্য বেশ নড়বড়ে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে মজুত কমে যেতে পারে, বিকল্প সরবরাহপথের সক্ষমতা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাতে পারে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় তেল পরিবহনের বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই না–ও হতে পারে। তখন তেলের দাম আবার দ্রুত বাড়তে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারগুলোর বার্ষিক জ্বালানি খরচ গড়পড়তা প্রায় ৮০০ ডলার বেড়েছে। তবে তেলের দাম এখনো সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠেনি।

তিন কারণে তেলের বাজার এখনো সচল

জেপি মরগ্যানের প্রধান পণ্যবাজার বিশ্লেষক নাতাশা কানেভার সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত তিনটি কারণে তেলের বাজার বড় ধরনের সরবরাহ–ধাক্কা সামলে নিতে পেরেছে।

প্রথমত, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল ইরানের নাগালের বাইরে থাকা বন্দরে পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো মিলে সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে।

তবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক বিজয়ে এ বিকল্প পথগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, গায়ানা ও কানাডা—এ দেশগুলো সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে।

কানেভার ভাষায়, তেলের ব্যারেলগুলো শেষমেশ কোনো না কোনো পথ খুঁজে নেয়।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া অধিকাংশ দেশ মজুত থেকে যে তেল ব্যবহার করেছে, তা প্রত্যাশার তুলনায় কম। ফলে প্রয়োজনের সময় বাজারে সরবরাহ করার মতো উল্লেখযোগ্য মজুত এখনো আছে।

তৃতীয়ত, যুদ্ধের সময়ে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কমেছে। ভ্রমণ কমে যাওয়া, গণপরিবহন ব্যবহার ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে যেমন তেলের চাহিদা কমেছে, তেমনি অনেক প্রতিষ্ঠানের বাড়ি থেকে কাজের ধারায় ফিরে যাওয়ার কারণেও তা কমেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও চীনের তেল পরিশোধনাগারের সক্ষমতায় ঘাটতি থাকায় অপরিশোধিত তেলের চাহিদা কমেছে।

যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমেছে ঠিকই, তকে এর বিপরীতে চাহিদা কমেছে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল। বিকল্প সরবরাহ ও মজুতের ব্যবহার মিলিয়ে বাজারে একধরনের নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

নতুন বাস্তবতা কত দিন থাকবে

জেপি মরগানের হিসাবে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম শেষ পর্যন্ত ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ ডলারে স্থিতিশীল হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হলে দাম নেমে আসতে পারে ৬৪ ডলারে।

তবে র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকনালি আরও সতর্ক। তাঁর পূর্বাভাস, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৯ ডলার হতে পারে।

ম্যাকনালির মতে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে—তেমন সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে থাকলে তেল ও গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও তীব্র হবে।

মজুত কমে গেলে বড় ঝুঁকি

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তেলের মজুত। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে নিজেদের মজুত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ব্যবহার করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার কুশিংয়ে যে তেলের মজুত আছে, গত জুলাই মাসে তা ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, পরিচালনাগত দিক থেকে। ওই পর্যায়ের নিচে নামলে পাইপলাইনের মাধ্যমে শোধনাগারে তেল পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি মজুত কিছুটা বেড়েছে। ফলে আবার তা ঝুঁকিপূর্ণ সীমার ওপরে উঠেছে।

চীনের তেল আমদানিও সম্প্রতি কিছুটা বেড়েছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় দেশটির দৈনিক আমদানি এখনো কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল কম। চীনের সরকারি মজুতের প্রকৃত পরিমাণ জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, দেশটির হাতে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসাইনের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে একপর্যায়ে এসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে। তখন তেলের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং মনে করেন, মজুত কমলেই যে সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়বে, বিষয়টি তেমন নয়। তবে বাজারে অস্থিরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। তাঁর ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এ ঝুঁকি চলতি বছর নয়, বরং আগামী বছরের শেষ দিকে বেশি স্পষ্ট হতে পারে।

কারণ হিসেবে ড্যান বলেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য বিকল্প পাইপলাইন রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়। একইভাবে ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন দিয়েও দীর্ঘ মেয়াদে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাও প্রশ্নের মুখে

বর্তমান তেলবাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা। রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডার বৈশ্বিক পণ্যবাজার বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফটের মতে, বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়, বরং মার্কিন সামরিক শক্তিই এখন তেল সরবরাহ সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

হেলিম আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাও সীমাহীন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দেওয়া ব্যয়বহুল; কঠিন কাজও বটে।

ক্রফটের মতে, ইরান যুদ্ধ যেমন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, তেমনি সেখানে স্বাভাবিক শান্তির পরিবেশও নেই। বড় ধরনের উত্তেজনার পর কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তবে আবারও বড় ধরনের হামলার ঝুঁকি আছে।

২০১৯ সালে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ওই হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল।

যুদ্ধের ‘নতুন বাস্তবতা’

বড় এক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সম্ভবত ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ রূপ নিতে পারে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে বাজারে অস্বস্তি থাকবে। তবে একপর্যায়ে সবাই বিষয়টিকে নতুন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করবে।

মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোও দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) বলেছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সীমিত থাকবে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি আরও সতর্ক পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, আগামী বছরের শেষ নাগাদও মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরবে না।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের অপরিশোধিত তেলবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান জিম বারখার্ডের ভাষায়, তেলের বাজার আর আগের স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছে না; বরং অমীমাংসিত সংঘাত ও স্থায়ী নৌপথের ঝুঁকি কেন্দ্র করে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

অর্থাৎ এখন পর্যন্ত তেলের বাজার যুদ্ধের ধাক্কা সামলে নিয়েছে। তবে এই স্থিতিশীলতার অনেকটাই বিকল্প পথ, মজুত ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, এ তিন ক্ষেত্রে চাপও তত বাড়বে। শেষ পর্যন্ত মজুত ফুরিয়ে গেলে বা হরমুজ ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের হামলা হলে তেলের বাজারে আবার বড় ধাক্কা আসতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লার মুরাদনগরে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহতের স্ত্রীও গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নই গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি ছিলেন এবং পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য ও মুরাদনগর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ জন ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫২৪, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার

চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫২৪, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার

রিকশার হ্যান্ডেল ছেড়ে এখন নোবিপ্রবির শ্রেণিকক্ষে কাউসার

রিকশার হ্যান্ডেল ছেড়ে এখন নোবিপ্রবির শ্রেণিকক্ষে কাউসার

পথশিশুদের স্বপ্ন ও ভালোবাসা নিয়ে কাজল ব্যানার্জির ‘রাজকুমার’

পথশিশুদের স্বপ্ন ও ভালোবাসা নিয়ে কাজল ব্যানার্জির ‘রাজকুমার’

চট্টগ্রামে ডোবা থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামে ডোবা থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সড়কের পাশের এক ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তির বয়স ৪৫ বছর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পটিয়া বাইপাস সংলগ্ন গাজী বাড়ির রাস্তার মাথা এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ৪০ স্থানীয়রা জানান, সকালে সড়কের পাশের ডোবায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পটিয়া থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় মরদেহটি পচে-গলে বিকৃত হয়ে গেছে। এ কারণে তাৎক্ষণিক নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন একমাস আগেই বাংলাদেশের কাছে ইলিশ চায় ভারত, এখন কেন উল্টো যাত্রা? স্থানীয়দের ধারণা, ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হতে পারে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয়। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এমআরএএইচ/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
চাঁদপুরে ৩ বিচারকের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব আইনজীবী সমিতি

চাঁদপুরে ৩ বিচারকের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব আইনজীবী সমিতি

শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ-সরঞ্জাম সংকটে রাবির চারুকলা

শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ-সরঞ্জাম সংকটে রাবির চারুকলা

মধুমতি-চিত্রা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ

মধুমতি-চিত্রা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সেবা পেলেন ৮৬১ জন
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা, সেবা পেলেন ৮৬১ জন

দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের জনসাধারণের জন্য খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে সেনাবাহিনী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজিত এ চিকিৎসা কার্যক্রমে ৮৬১ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসা কার্যক্রমে সার্জারি, মেডিসিন, চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ ও চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। দুর্গম এলাকার শত শত পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষ এ কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হন। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার রোগীদের খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। এতে দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা গ্রহণের সুযোগ সহজতর হয়। আইএসপিআর আরও জানায়, ভৌগোলিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ নিয়মিতভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর। টিটি/জেএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে

বাড়ির মাটি খুঁড়তেই মিলল ভাইকিংদের ‘সবচেয়ে বড়’ রৌপ্যভাণ্ডার

বাড়ির মাটি খুঁড়তেই মিলল ভাইকিংদের ‘সবচেয়ে বড়’ রৌপ্যভাণ্ডার

‘আমি তোমার বাবার টাকায় খাই না’, অভিনেত্রীর কড়া জবাব

‘আমি তোমার বাবার টাকায় খাই না’, অভিনেত্রীর কড়া জবাব

0 Comments