জাতীয়

সংস্কার প্রশ্নে দূরত্ব আরও স্পষ্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সংস্কার প্রশ্নে দূরত্ব আরও স্পষ্ট 
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে
সংস্কার প্রশ্নে দূরত্ব আরও স্পষ্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে

সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রশ্নে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আরও স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সংসদের অন্যতম কাজ হবে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়নের ভিত্তি তথা আইন তৈরি করা—এমনটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি করা সংস্কার প্রস্তাবগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন হবে বা প্রকৃতপক্ষে কতটা পরিবর্তন আসবে, সে প্রশ্ন সামনে এনেছে এই অধিবেশন।

মাত্র ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে টানাপোড়েন ছাড়াও আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া, পরমতসহিষ্ণুতার ঘাটতি—এসব বিষয় আবার সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অবশ্য জ্বালানি ও গ্যাস–সংকট, সারসংকটের মতো জনস্বার্থের বিষয় সংসদে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে সরকার নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, বিরোধী দল সমালোচনার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে।

তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়, শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনে মোট ছয়টি বিল পাস হয়েছে। বিভিন্ন বিধিতে সংসদ সদস্যরা ১৫০টির বেশি নোটিশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য দেওয়া ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে উত্তর দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৭৮টির। এ ছাড়া ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ৩৫টি গঠিত হয়েছে এই অধিবেশনে। বাকিগুলো আগে গঠিত হয়েছিল।

এই অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মূল টানাপোড়েন দেখা গেছে জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন এবং সংস্কার–সংশ্লিষ্ট তিনটি বিল পাসের প্রশ্নে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে কিছু আইনি সংস্কার আনা হয়েছিল। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। আর সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।

এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ছিল—সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।

প্রথম অধিবেশন শেষে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, বাদ পড়া বিষয়গুলো নিয়ে আরও শক্তিশালী বিল পরবর্তী সময়ে আনা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধে নতুন দুটি বিল পাস করা হয়। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ-সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, এর চেয়ে দুর্বল করে বিল দুটি আনা হয়েছে। এ দুটি বিল পাসের কোনো পর্যায়েই তারা অংশ নেয়নি। বিল দুটি উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউটও করেছিল বিরোধী দল। অবশ্য সরকার দাবি করেছে, আগের চেয়ে শক্তিশালী করেই বিল দুটি আনা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কমিশন এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগ তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। নতুন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এই তদন্ত করবে শৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ওই অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে না।

অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশন আইনে কমিশন গঠনের জন্য বাছাই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কমিশন এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে।

এর বাইরে র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের বিল নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক হয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ, নাম পরিবর্তন হলেও র‍্যাবের জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা ও কাঠামো নতুন বাহিনীতে চলে যাচ্ছে। এটি কেবল ‘সাইনবোর্ড’ বদল।

এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধে নতুন দুটি বিল পাস করা হয়। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ-সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল, এর চেয়ে দুর্বল করে বিল দুটি আনা হয়েছে। এ দুটি বিল পাসের কোনো পর্যায়েই তারা অংশ নেয়নি।

জুলাই সনদ অনুসারে হয়নি পদ বণ্টন

তৃতীয় অধিবেশনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিরোধ ছিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে করার কথা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচনের প্রস্তাব রয়েছে। বিএনপি এই প্রস্তাবে একমত ছিল।

সংসদে বিরোধী দলের আসন প্রায় ২৬ শতাংশ। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে ১০টিসহ মোট ১৪টি সভাপতি পদ পাওয়ার কথা বিরোধী দলের। কিন্তু পেয়েছে একটি।

এসব বিষয়ে সংসদ যদি সমঝোতা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের জায়গা হয়ে উঠতে না পারে, তাহলে সংস্কারের রাজনৈতিক বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এই পদ বণ্টন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দল বলেছে, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিলে তাদের জুলাই সনদ অনুযায়ী সভাপতি পদ দিতে আপত্তি নেই। অন্যথায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার পর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারের পক্ষে।

দ্বিতীয় অধিবেশনে (১৩ জুলাই) সংবিধান সংশোধন–সংক্রান্ত ওই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তৃতীয় অধিবেশনেও এই কমিটিতে বিরোধী দল নাম দেয়নি।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এই সংসদ শেষ পর্যন্ত কতটা ঐকমত্যের পথে যেতে পারবে। কারণ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বা সংবিধান সংশোধন নিছক আইন পাস নয়। সেখানে ক্ষমতার কাঠামো, প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সংসদীয় ব্যবস্থার মতো মৌলিক প্রশ্ন জড়িত। এসব বিষয়ে সংসদ যদি সমঝোতা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের জায়গা হয়ে উঠতে না পারে, তাহলে সংস্কারের রাজনৈতিক বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

সংসদীয় কমিটি নিয়ে প্রশ্ন

জুলাই সনদ অনুযায়ী ৫০টি কমিটির পদ বণ্টন না করায় শেষ দিনেও বিরোধী দলের অসন্তোষ ছিল। অন্যদিকে কিছু সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা, চিফ হুইপ ও হুইপদের সভাপতি করা হয়েছে। নিজের মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি নয়, এমন কমিটিতেও প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে।

কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, এভাবে কমিটি গঠনে বাধা নেই। কিন্তু সংসদীয় কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হলো নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহি করা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই এভাবে কমিটি গঠন নিয়ে দুই দফা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর ভাষায়, নির্বাহী বিভাগ জবাবদিহি করবে আইনসভার কাছে। নির্বাহী বিভাগ যদি নিজেই কমিটির সভাপতি হয়, তাহলে কার কাছে জবাবদিহি করবে? এটিকে সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনার আলোকে দেখা উচিত।

আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া

চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাস হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য সময়সীমা নির্ধারিত ছিল বিধায় সে সময় বিল পাসে তাড়াহুড়া করতে হয়েছিল। কিন্তু তৃতীয় অধিবেশনে এসেও একই ধরনের তাড়াহুড়া দেখা গেছে, যদিও এখন আর সময়সীমার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ৬টি বিল উত্থাপন করে সেগুলো পাস করা হয়েছে। সময়স্বল্পতাকে বারবার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন মন্ত্রীরা।

এসআরবি বিল ছাড়া অন্য বিলগুলোর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে বিল পরীক্ষার জন্য দুদিন করে সময় দেওয়া হয়। বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি বিলের ক্ষেত্রে সময় দেওয়া হয়েছিল ৪ দিন। অবশ্য সংসদীয় কমিটিগুলোও একটি বিল পরীক্ষায় একটি করে বৈঠক করেছিল।

এ ছাড়া কোনো কোনো বিল বিধি অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের তিন দিন আগে সদস্যরা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নিজেও এ বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিল আইনসভায় পাঠানো উচিত। যাতে সব সংসদ সদস্য আইনটি ভালোভাবে পড়ে আসতে পারেন। এর কিছুটা ব্যত্যয় হচ্ছে। এ জন্য তিনি সংসদে হতাশাও ব্যক্ত করেন।

ঘটনাটি সংসদে ভিন্নমত প্রকাশ ও তা সহ্য করার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অধিবেশনের শেষের দিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলও একই প্রশ্ন সামনে আনে।

পরমতসহিষ্ণুতার ঘাটতি

অধিবেশনের প্রথম দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যাপক হইচই করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণার পরও বিরোধী দলের প্রতিবাদ থামেনি। একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত।

ঘটনাটি সংসদে ভিন্নমত প্রকাশ ও তা সহ্য করার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অধিবেশনের শেষের দিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলও একই প্রশ্ন সামনে আনে। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যরা প্রতিবাদ করতে থাকেন। একপর্যায়ে রুমিনের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তখন বলেন, একজন সদস্যের বক্তব্যে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।

জনস্বার্থের আলোচনাও হয়েছে

তৃতীয় অধিবেশনকে শুধু রাজনৈতিক সংঘাতের অধিবেশন বললে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট এবং সারসংকটের মতো জনস্বার্থের বিষয়েও নোটিশ দিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। জ্বালানিসংকটের জন্য সরকার অতীতের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে সমাধানের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরেছে। সারসংকট নিয়ে সরকার পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলেছে। অপর দিকে বিরোধী দল বলেছে, কৃষকের কাছে সার না পৌঁছানোর মাধ্যমে সরকারের বিতরণব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে।

তৃতীয় অধিবেশন কাজের হিসাবে সক্রিয় ছিল; আইন পাস হয়েছে, কমিটি গঠিত হয়েছে, জনস্বার্থের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আইন, সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব এবং ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দলের দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব বিষয়ে আরও ভালো আইন করবে বলে সেগুলো অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ আইন করতে এই অধিবেশনে যে রকম বিল পাস করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সরকার অনেক ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটছে। সুপ্রিম কোর্ট–সংক্রান্ত কোনো বিল এই অধিবেশনেও আনা হয়নি। সামনে হয়তো আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত সংস্কার প্রশ্নে সরকারের ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ হতাশাজনক।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কবির ফ্যাশন: কেমন ছিল আশির দশক
কবির ফ্যাশন: কেমন ছিল আশির দশক

কবি শুনলেই কফি হাউসের আড্ডার ‘কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ’–এর কথা মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। অথবা কবিমাত্রই যেন চেহারায় উষ্কখুষ্ক ভাব, পোশাকে-আশাকে এলোমেলো একটি মলিন মুখ। সমাজে প্রচলিত এই ছবিটাকেই যেন স্পষ্ট করে তুলেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ‘কবি’ উপন্যাসে। তরুণ কবি আতাহারের চিরচেনা ও প্রধান পোশাক পাঞ্জাবি। উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ সেই পোশাকের বর্ণনা দিয়েছেন, ‘পাঞ্জাবিতে ইস্তিরি নেই, দলামোচা ভাব। সেটা কোনো ব্যাপার না—নতুন জামাইদের ক্ষেত্রেই ইস্তিরি করা পাঞ্জাবি বাধ্যতামূলক, সে নতুন জামাই নয়। সমস্যা একটাই—পাঞ্জাবির পেটের কাছে হলুদ দাগ। মনে হয় গোশত দিয়ে ভাত খাবার পর কেউ একজন হাত না ধুয়ে পাঞ্জাবিতে হাত মুছে ফেলেছে।’তবে অবহেলা, অনাদরে ক্রমশ ম্রিয়মাণ হলেও কবি নিতাইয়ের যে অবয়ব তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ‘কবি’ উপন্যাসে দাঁড় করিয়েছেন, সেখানে অনিশ্চিত জীবনের বিপরীতেও নিতাই সগৌরবে নিজেকে দেখতে চেয়েছে মর্যাদার আসনে। তাই ডাকাত বংশে জন্মেও স্বভাব-কবি নিতাইচরণ নিজের কবিসত্তাকে সমাজের বুকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে গায়ে একটি চাদর জড়াত। এক জোড়া নতুন জুতাও সে কিনেছিল। কারণ, নিতাই জানত, ‘চাদর না হইলে কবিয়ালকে মানায় না’। বিশ্বাস করত, ‘ভেক নহিলে ভিখ মিলে না’...‘নগ্নপদ জনের পদবি মানুষ সহজে স্বীকার করিতে চায় না।’ অর্থাৎ, সমাজে কবির স্বীকৃতি পেতেই নিতাই নিজেকে সাজিয়ে তুলেছিল চাদর ও জুতোয়। আর পোশাকের কদর বুঝেছিল বলেই যাযাবর কবিয়াল জীবনেও সেই ধারাটি বজায় রেখেছিল।হুমায়ুন আজাদ তাঁর ‘কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ’ উপন্যাসের নায়ক কবি হাসান রশিদকে উপস্থাপন করেছেন একজন আধুনিক মানুষ হিসেবে। দৈনন্দিন জীবনে সে খুব সাদামাটা ও সাধারণ পোশাকে অভ্যস্ত হলেও খাঁটি ও শুদ্ধতায় বিশ্বাসী। ফলে তার পোশাকে-আশাকে নেই কৃত্রিমতা।এ তো গেল সমাজের ধারণা ও কবিদের নিয়ে বাংলাসাহিত্যের প্রধান তিনটি উপন্যাসের কথা। কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কিছুটা সামঞ্জস্য রয়েছে বলেই হয়তো গল্প-উপন্যাসের অনেক কথাই সমাজে প্রতিফলিত নানান কাহিনি ও চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায়। কবিদের বেলাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।কবি সাজ্জাদ শরিফকবিদের দীনভাবে দেখার প্রবণতা ঠিক কোথা থেকে এসেছে, সেই ঠিকুজি হয়তো খুঁজে পাবেন সমাজতাত্ত্বিকেরা। তবে কবির কদরের কথাও কিন্তু অবিদিত নয়। মহাকবি ফেরদৌসীকে মহাকাব্য ‘শাহনামা’র জন্য গজনীর সুলতান মাহমুদ ৬০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদিও তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে প্রথমে পাঠিয়েছিলেন ৬০ হাজার রৌপ্যমুদ্রা। তবে ইরান-তুরানই নয় শুধু, সভাকবিদের কথাও তো অজানা নয়। প্রাচীন ও মধ্যযুগে মধ্যপ্রাচ্য-মধ্যএশিয়াতেও কবির যথাযথ সম্মানের ঘাটতি হয়নি। গ্রিক সভ্যতাই হোক আর ইংরেজ, সেখানেও একই কথা। আবার প্রাচ্যে-হিন্দুকুশ পর্বতমালার নিম্নভূমিতে রাজা-মহারাজাদের আমল তো বটেই, মোগল-পাঠানদের সময়েও রাজদরবারে কবির কদরের কথা মুখে মুখেই এত দূরে এসেছে। আরাকান রাজসভাতেও কবিদের আদরের কথা সুবিদিত। তাই কবিমাত্রই মলিন মুখ, কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগের যে অবয়ব দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে উদাহরণ সর্বার্থে খাটে না। আমাদের বাংলাদেশেও কবিদের ফ্যাশনসচেতনতা, তাদের গাম্ভীর্য-মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান রীতিমতো ঈর্ষণীয়ও। গত শতকের চল্লিশের দশকের কবি ফররুখ আহমদ, আহসান হাবীব, সৈয়দ আলী আহসান, পরবর্তী সময়ে পঞ্চাশের দশকের শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফজল শাহাবুদ্দীন, তার ওপরে—রফিক আজাদ, আসাদ চৌধুরী, ফরহাদ মজহার, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, রবিউল হুসাইন, আবদুল মান্নান সৈয়দসহ অনেক কবির ফ্যাশনসচেতনতা উদাহরণ হয়ে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শতকের আশির দশকের কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, বিষ্ণু বিশ্বাস, কাজল শাহনেওয়াজ, রিফাত চৌধুরী, মাসুদ খান, তপন বড়ুয়া, সাজ্জাদ শরিফ, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, ফরিদ কবির, গোলাম কিবরিয়া পিনু, রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, মজিদ মাহমুদসহ ফ্যাশনসচেতন অনেকের নামই সামনে আসতে পারে।হালে-আশির দশকের ট্রেন্ড বলে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সেই আমলের নায়ক-নায়িকাদের পোশাক-আশাকে মোড়ানো ছবি তৈরির হিড়িক পড়েছে, যা ছড়িয়ে যাচ্ছে অন্তর্জালে। স্বাভাবিকভাবেই তখন মনের মধ্যে উঁকি দেয়, ওই সময়ের বাংলা কবিতাকে যাঁরা শাসন করতে চেয়েছেন, যাঁদের হাত ধরে বেরিয়ে এসেছে প্রেম-ভালোবাসা-রাজনীতি-দর্শন-দেশপ্রেমের অব্যর্থ সব পঙ্ক্তিমালা, যাঁদের কথামালা হৃদয়ে ধারণ করে প্রেয়সীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে চিরকুট, তাঁরা কেমন ছিলেন ফ্যাশনে? তাঁদের পোশাকে-আশাকে কতটুক ধরা ছিল সময়?আশির কবিরা, বাম দিক থেকে রিফাত চৌধুরী, কাজল শাহনেওয়াজ, তাদের এক বন্ধু ও কফিল আহমেদআজকের মতো তখন কিন্তু দ্রুত ছুটতে শেখেনি সময়। প্রয়োজন নেই বলেই কারও হাত ছেড়ে দিতেও শেখায়নি কেউ। তার মাঝেও গতি ছিল, তবে সেই গতির ঢেউকে তীরে আছড়ে পড়তে সময় নিতে হতো। তখন ফ্যাশনের উৎসমুখ ছিল হলিউড। বাঙালি পুরুষের পোশাকে একসময়ের ধুতি-পাঞ্জাবি, লুঙ্গি-পাঞ্জাবি-ফতুয়া, ঢোলা পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে তখন ঢুকে পরেছে শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট। সিনেমা, টেলিভিশন আর পপতারকাদের অনুসরণ থাকলেও তার গতি শ্লথ। পরিবর্তন ছিল ধীরলয়ে। কখনো বেলবটম প্যান্ট, বড় কলারের শার্ট, শার্টে দুটো বুকপকেট—তা কখনো ঢাকনাওয়ালা, আবার কখনো ঢাকনাবিহীন, আবার শার্টে বুকের বোতাম খুলে রাখার প্রবণতা, নাভির ওপরে চওড়া বেল্টের সঙ্গে ঢোলা প্যান্ট, পপতারকাদের অনুসরণে প্যান্টের ভেতরে গুঁজে রাখা শার্ট। রোদচশমার সঙ্গে ঘড়ি তখনো ফ্যাশনের অনুষঙ্গ। ব্যবহৃত চশমার ফ্রেম, সেই সঙ্গে রঙিন ঝলঝলে পোশাক, গরমের দিনে বুশশার্ট, টাইট প্যান্ট, বেল্ট; আর শীতে ব্লেজার, ডেনিম জ্যাকেটের বাহারি ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। ফ্যাশনেবল পোশাকে নিজেকে মানানসই করে তুলতে চুলের স্টাইলও রাখত বড় ভূমিকা। কবিদের ছবিতেও ধরা রয়েছে সে সময়।তবে আজকের দিনে ছবি তোলার জন্য আলাদা করে যেমন কোনো উপকরণের প্রয়োজন হয় না। শুধু একটি মুঠোফোন থাকলেই হলো। অথচ আশির দশকে একটি ছবি তোলার হ্যাপা, এখন সহ্য করে কেউ ছবি তোলাতে আগ্রহী হবেন, তা কষ্টকল্পনাই মনে হয়।কবি কাজল শাহনেওয়াজইয়াসিকা ক্যামেরার রমরমা বাজারে ফুজি ও কনিকার দাপটে অন্য কোনো ফ্লিমের নাম শোনা যেত না। এই দুইয়ের জুড়ি মেলাও ছিল ভার। সামর্থ্যের সঙ্গে রুচির মেলবন্ধন ঘটলেই ঘরে আসত ইয়াসিকা। যাতে ফুজি বা কনিকা ফ্লিম তোলা হলে সাকল্যে ছবি হতো ছত্রিশটা। তাই একটা বাজে ক্লিক মানেই আফসোস। আর এই আফসোস থেকে বাঁচাতেই জেলা শহরগুলোতে গড়ে উঠতে শুরু করে সাদাদেয়ালে ফুটে ওঠা শিল্পীর তুলির আঁচড়ে পাহাড়-নদী-ফুল-পাখির স্টুডিও। সাদাকালোর যুগ ফসকে সৈয়দ শামসুল হকের ‘বকুল রঙিন স্টুডিও’ তখন পাড়ায় পাড়ায় মুখ দেখাচ্ছে। সেই ইয়াসিকা অথবা বকুল রঙিন স্টুডিওর হাত ধরেই আশির দশকের কবিদের মুখ ধরা রয়েছে সময়ের ছাপচিত্রে। সমাজ তাদের মলিন ও ধূসরতায় মুড়িয়ে রাখতে চাইলেও-স্থিরচিত্রে তো আমরা সেই সময়কেই দেখি। আর কল্পনার পাখা মেলে-মন থেকে কবি মাত্রেই মলিন মুখের ম্রিয়মাণ যে ছবি চোখের সামনে স্থির, তাকে সরিয়ে দিই, দিতে চাই দূর থেকে দূরে, বহুদূরে..

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ইউটিউব দেখে গড়ে তুললেন মিশ্র ফলের বাগান

ইউটিউব দেখে গড়ে তুললেন মিশ্র ফলের বাগান

ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা

ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় কনের ভাই–বোনসহ চারজন নিহত

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় কনের ভাই–বোনসহ চারজন নিহত

0 Comments